লং আইল্যান্ডে ম্যানহোলে পাঁচজনের রহস্যময় প্রবেশ, এক সপ্তাহ পর ফের একই ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাঁচজনকে একটি ম্যানহোল খুলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। ওয়ান্টাঘ এলাকার ওয়ান্টাঘ অ্যাভিনিউ ও জেরুজালেম অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ম্যানহাটনের পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের ঘটনায় তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা গিয়েছিল।
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি একসঙ্গে ম্যানহোলের ভারী ঢাকনা সরান। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একে একে নিচে নেমে যান এবং ঢাকনাটি আবার বন্ধ করে দেন। তাদের গন্তব্য ছিল সড়কের নিচে থাকা স্টর্ম ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
ঘটনাটি দেখে দুই প্রত্যক্ষদর্শী নাসাউ কাউন্টি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পরে ওই ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে অনুসন্ধান চালালেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কেন সেখানে ঢুকেছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্ক সিটির পেন স্টেশনের কাছে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ আগস্ট ভোরে ৩২তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ এলাকায় হেডল্যাম্প পরা তিনজনকে ম্যানহোল থেকে বের হতে দেখা যায়। স্থানটি পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কাছেই। ওই ঘটনাও এনওয়াইপিডি তদন্ত করছে।
নিউইয়র্কের ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থায় এর আগেও মানুষ প্রবেশ বা বের হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত লং আইল্যান্ডের পাঁচজনের সঙ্গে ম্যানহাটনের আগের ঘটনার কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেননি।
নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন সতর্ক করে জানিয়েছে, স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে বিষাক্ত বা প্রাণঘাতী গ্যাস, অস্থিতিশীল জায়গা, আকস্মিক বন্যা এবং সংকীর্ণ স্থানের মতো গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণে সাধারণ মানুষকে কোনো পাইপ, ড্রেন, ক্যাচ বেসিন, ম্যানহোল বা আউটফলের ভেতরে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লং আইল্যান্ডের সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তবে ওই পাঁচজন কেন গভীর রাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআগামী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্ক থেকে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন। ১৬৮ বছর ধরে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী বাহনটি নিয়ে কয়েক দশক ধরে নগর নেতৃত্বে মতবিরোধ ছিল। গত জুন মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। তার পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই বাহনটি নিষিদ্ধ করতে আগামী ২২ অক্টোবর 'রোমাঞ্চস ল' (Romanch's Law) নামের একটি নতুন আইন পাস হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে মেয়র মামদানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, "নিউইয়র্ক সিটিতে ঘোড়ার গাড়ির যুগ শেষ হতে চলেছে। তবে আমাদের প্রশাসন এটা নিশ্চিত করবে যেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মী ও মালিকরা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন এবং ঘোড়াগুলোও নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।" সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, ক্রমবর্ধমান ব্যস্ত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি এখন জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, মামদানী প্রশাসনকে এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে ঘোড়ার গাড়ির চালকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের ব্যবস্থা করা যায় এবং ঘোড়াগুলোর জন্য উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। বিলের পৃষ্ঠপোষক ও সিটি কাউন্সিল সদস্য ক্রিস্টোফার মার্টে এই সিদ্ধান্তকে উভয় পক্ষের জন্যই একটি 'উইন-উইন' পরিস্থিতি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঘোড়ার গাড়ির মালিক ও চালকদের সংগঠন 'ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০'। সংগঠনের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা হ্যানসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই বিল পাস হলে চালক ও মালিকদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে এবং অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়বেন। তিনি একে অসাংবিধানিক দাবি করে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি জন স্যামুয়েলসন প্রস্তাবিত আইনে কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় একে "লজ্জাজনক রাজনৈতিক সুবিধাবাদ" বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, এই আইনের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও প্রাণিকল্যাণ সংগঠন 'নাইক্লাস' (NYCLASS) এবং সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল, এর মধ্যেই স্ত্রী-কন্যাকে গুলি করে হ ত্যা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার
ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডজনেরও বেশি গহনা চুরির অভিযোগে রোমানিয়ার এক অবৈধ অভিবাসী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিনব কায়দায় চুরির কারণে এই জুটিকে কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জুটি 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'-এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির অভিযোগে নাসাউ কাউন্টি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে এই দম্পতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হেফাজতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই জুটির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ও ট্রাম্প-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের মতো নেতাদের 'স্যাংচুয়ারি' বা অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় আশ্রয় নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, হোকুলের মতো রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করলে এই অপরাধীরা এতদিনে আইনি ফাঁকফোকর গলে আবারও রাস্তায় ফিরে আসত এবং সাধারণ আমেরিকানদের সর্বস্বান্ত করত। একইসঙ্গে ওই পোস্টে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশের আইন সমুন্নত রাখা এবং আমেরিকাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও আইসিইর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী
ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব
ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা
ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল কলার দাম অচিরেই আকাশছোঁয়া হতে পারে। গুয়াতেমালার গাছ থেকে ছিঁড়ে আমেরিকানদের স্মুদি গ্লাস পর্যন্ত কলার এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। ডেল মন্টে নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ড্যানি ডুমাস সার্বিক পরিস্থিতিকে রীতিমতো একটি 'সংকট' বলে আখ্যায়িত করেছেন। কলার বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী হিসেবে পরিচিত। একটি পুষ্টিকর কলার দাম যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মাত্র ১৫ সেন্টের মতো হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সেই সস্তা দাম চরম হুমকির মুখে। বিখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' সম্প্রতি মধ্য আমেরিকা থেকে পেনসিলভানিয়ায় আসা কয়েক মিলিয়ন কলার একটি চালান ট্র্যাক করে এই ফলটির যাত্রাপথে নানা বিপত্তির কথা তুলে ধরেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্যাংকারের দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে তৈরি কলার সারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ট্রাক চালকের তীব্র সংকট। মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে 'এল নিনো' (El Niño) আবহাওয়া পরিস্থিতি, যা শিপিং ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। উত্তর আমেরিকার বানানা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম স্টেনজেল জানান, এই একাধিক কারণ মিলে একটি বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং কলার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে পূর্বচুক্তি অনুযায়ী দাম নির্ধারিত থাকলেও কৃষকরা ইতোমধ্যেই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করছেন। এক উৎপাদকের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর তার খরচ ৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় এত বেশি বেড়েছে যে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কলা চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফলের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী ডিসেম্বরে কলার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, এরপর কতজন মুদি দোকানি দাম বাড়াতে দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে কলার দাম প্রতি পাউন্ড ৬৭ সেন্ট ছুঁয়েছিল, যা ছিল গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস এবং কোস্টারিকা থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের কারণেই মূলত এই দাম বেড়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। তবুও গত আগস্টে কলার দাম আগের বছরের তুলনায় ২.২ শতাংশ বেশি ছিল। জ্বালানির দাম ও শুল্কের ওঠানামা ছাড়াও এই শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় শঙ্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'পানামা ডিজিজ' নামক এক ক্ষতিকর ছত্রাক। অতীতে এই রোগটি 'গ্রস মিশেল' (Gros Michel) জাতের কলাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে এই রোগটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলার জাত 'ক্যাভেন্ডিশ'-এর (Cavendish) জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান
গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের অনুরোধ, ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন বিতর্ক