সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জনসমর্থনে তলানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাড়ছে নিজ দলের ভেতরেও অসন্তোষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:১৩
সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অনুমোদনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অনুমোদনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আবারও বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে তার অনুমোদন হার ৩৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুলাইয়ের জরিপেও ট্রাম্পের চাকরির অনুমোদন ৩৪ শতাংশ পাওয়া যায়। 

 

নিউজউইকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তার জনসমর্থনে প্রভাব ফেলছে।

 

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে তার নিজ দলের সমর্থকদের মনোভাব। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ৮৪ শতাংশ রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানঘেঁষা ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অনুমোদন জানিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই হার কমে ৬৯ শতাংশে নেমেছে। 

 

অর্থাৎ, বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনে কিছুটা ভাটা দেখা যাচ্ছে। তবে দলীয় বিভাজন এখনও অত্যন্ত স্পষ্ট - ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট। 

 

বিশ্লেষকদের নজরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার জন্য অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিও ভোটারদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করছে।

 

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তার অনুমোদনের ব্যবধান প্রায় ৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সাত দশকের বেশি সময়ের সবচেয়ে বড় দলীয় বিভাজনগুলোর একটি। 

 

এদিকে সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থনে এই চাপ রিপাবলিকানদের জন্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও পররাষ্ট্রনীতি - এসব ইস্যুতে ভোটারদের মনোভাব আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এইচ-১বি ভিসার বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব কংগ্রেসে
এইচ-১বি ভিসায় বেতনের সীমা ৬০ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে নিতে চায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বেতনের শর্ত আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি প্রস্তাবিত বিলে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতাদের জন্য বর্তমানে কার্যকর বার্ষিক ৬০ হাজার ডলারের বেতনসীমা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে এইচ-১বি ভিসার ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম আরও কঠিন হতে পারে।   উইসকনসিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড একই বিষয়ে সিনেটে একটি সমজাতীয় বিল এনেছেন। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় থাকা কিছু শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা। তবে প্রস্তাবটি সব এইচ-১বি ভিসাধারীর জন্য ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা বলছে না। এখানে মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগদাতারা কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা এবং তাঁদের চাকরি সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। বর্তমান নিয়মে, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর সংখ্যা কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর তুলনায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘এইচ-১বি-নির্ভর নিয়োগদাতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা এবং বিদ্যমান মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে বিদেশি কর্মী দিয়ে তাঁদের জায়গা পূরণ না করার বিষয়ে শর্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। কোনো এইচ-১বি কর্মীর বার্ষিক বেতন অন্তত ৬০ হাজার ডলার হলে অথবা তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এসব শর্তের কিছু থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। নতুন বিলটি বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার সীমা পরিবর্তন করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রির ভিত্তিতে অব্যাহতির পথটি বাদ দেওয়ার কথা নেই। কেন বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি ১৯৯৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন এর পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে অঙ্কটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, কয়েক দশকে গড় মজুরি বেড়ে গেলেও পুরোনো সীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই বিদ্যমান শর্তের ব্যতিক্রমের সুবিধা নিতে পারছে। নতুন প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বশেষ জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সূচকের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার ডলার হওয়ায় নতুন সীমা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে বা কমলে এই সীমাও পরিবর্তিত হবে। গ্রথম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা ব্যবহার করে নিয়োগদাতাদের যোগ্য মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বেতনের সীমা সময়মতো হালনাগাদ করা হলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। সিনেটর হাস্টেডও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পুরোনো আইনের সুযোগ নিয়ে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বিলটির উদ্দেশ্য। বিলটি এখন কোন পর্যায়ে প্রস্তাবটি এখনো আইন হয়নি। সিনেটের সমজাতীয় বিলটি ৩০ সেপ্টেম্বর উত্থাপনের পর বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গ্রথম্যানের বিলটি ১৩ অক্টোবর উত্থাপন করা হয় এবং সেটিও বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বৃহত্তর এইচ-১বি নীতির পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ভিসার সংখ্যা কমানো, কর্মসূচির অপব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়তি শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা। নতুন বিলে বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজতে এইচ-১বি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তার প্রভাব সবার ওপর একইভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান নিয়মে বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপাতত এটি একটি আইনপ্রস্তাব; কার্যকর নিয়মে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৭:১৯
ওয়াশিংটন ডিসিতে সম্মানজনক ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন প্রায় ৪০০ অতিথি

জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ড্যানভিল শহরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাপে অবসর প্রাপ্তরা, পেনশন বাড়ানোর দাবি ভার্জিনিয়ার ড্যানভিলের কর্মীদের

যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ায় কম্পিউটার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলায় অচল হতে পারে হাসপাতাল! কম্পিউটার ছাড়াই চিকিৎসার প্রস্তুতির আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গ্রাহকদের তিন লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের মামলায় ঠিকাদার জেরেমি জেরড জেনোকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রিফর্মেশন কাজে গ্রাহকদের ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, ঠিকাদারের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্মাণ ও সংস্কারকাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে তিন লাখ ডলারের বেশি নিয়ে আত্মসাতের মামলায় এক ঠিকাদারকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জেরেমি জেরড জেনো নামের ওই ব্যক্তি ট্যারান্ট কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।    ফক্স ৪ ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, জেনো গ্রাহকদের কাছ থেকে চেক নিয়ে নগদ অর্থ তুলে নিতেন। পরে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বদলে নানা অজুহাত দেখাতেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামও ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ২০২৪ সালে টেরি স্টিভেনসন নামের এক গ্রাহক বেনব্রুক পুলিশ বিভাগে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। স্টিভেনসনের ভাষ্য, একটি ভবনের সংস্কারকাজের জন্য তিনি জেনোকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। কাজ সামান্য এগোনোর পরই জেনো যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বারবার নির্মাণসামগ্রী আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি।    অন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্লিংটনের লি রবিনসন আলভারাডোয় নির্মাণকাজের জন্য ৩৫ হাজার ডলার হারানোর কথা জানিয়েছেন। ডালাসের একটি প্রতিষ্ঠানের সেলভিন রোসা বলেছেন, হুড কাউন্টিতে একটি বাড়ির ভিত্তি নির্মাণ করেও তিনি পাওনা পাননি।   প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, হুড কাউন্টিতে একই ধরনের অপরাধের মামলায় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় এবং ট্যারান্ট কাউন্টির মামলায় জামিনে থেকেও জেনো একই কার্যক্রম চালিয়ে যান। ফক্স ৪ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের অর্থ ফেরত পাননি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২:১৭
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৭ সালের ফান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফে বেতনসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ, ১০–১২ সপ্তাহ ওয়াশিংটনে কাজের সুযোগ

প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর আকাশে লাফ দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রোডস্টার গাড়ি উন্মোচন করেছে টেসলা। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির ওপর দিয়ে লাফাবে টেসলা! আকাশে ওড়ার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন রোডস্টার উন্মোচন করলেন ইলন মাস্ক

নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতি বাড়ায় হিউস্টনের আবাসন খাতে কাজের সময় ও ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান বাড়ায় শ্রমিক সংকটে হিউস্টনের নির্মাণশিল্প, পিছিয়ে পড়ছে বাড়ি নির্মাণ

ওবামাকেয়ারের আওতায় স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ের যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জালিয়াতি রোধে ওবামাকেয়ারের করছাড়ে কড়াকড়ি, সুবিধা হারাতে পারেন অভিবাসীদের একাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে দেওয়া করছাড়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে বাড়তি শর্ত যুক্ত হবে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের একটি অংশসহ বর্তমানে করছাড় পাওয়া কিছু পরিবারের সুবিধা কমতে পারে বা তারা এই সুবিধার অযোগ্য হতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে দেওয়া করছাড় কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানো। ‘প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত এই সুবিধা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন, যা সাধারণভাবে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, তার আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করে। করছাড়ের অর্থ সরাসরি বিমার মাসিক খরচ কমাতে ব্যবহার করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস’ নামে পরিচিত কর ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।   প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, দেশটির জাতীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য কিছু অ-নাগরিক করছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশের নিচে থাকলেও, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইড সুবিধা না পেলে তারা প্রিমিয়াম করছাড়ের যোগ্য হতে পারতেন। নতুন প্রস্তাবে এই বিশেষ সুযোগ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কম আয়ের এমন কিছু পরিবার স্বাস্থ্যবিমার জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পেতে পারে। তবে পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত বিধিমালার অংশ, তাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।   একই পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান না করলে কিংবা করছাড় পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অভিবাসনগত যোগ্যতা পূরণ না করলে, তাঁর জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়ামের অংশটি পরিবারের করছাড়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ্য হলেও, অযোগ্য সদস্যের বিমা খরচের অংশের জন্য করছাড় দাবি করা যাবে না। এতে একই বিমা পরিকল্পনার আওতায় থাকা পরিবারের করছাড়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নিয়মটির লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকি যেন কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমার খরচে ব্যবহৃত হয়।   ২০২৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে নিবন্ধনের সময় যোগ্যতা যাচাই আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর বসবাসের তথ্য, স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর যোগ্যতা, নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী মেডিকেইড বা অন্য কোনো যোগ্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পড়েন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য, অননুমোদিত নিবন্ধন এবং অযোগ্য ব্যক্তির নামে ভর্তুকি দেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।   করছাড়ের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে আগাম করছাড় হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিমাণে সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বছরের শুরুতে যতটা করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, আয় বা অন্যান্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বছরের শেষে প্রকৃত যোগ্যতা কম হলে অতিরিক্ত পাওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হতে পারে। এতে করদাতাদের জন্য বছরের শেষে কর হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   করছাড়ের যোগ্যতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল আইনে যারা যোগ্য নন, তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, প্রস্তাবিত যাচাইব্যবস্থা অনুপযুক্ত দাবি কমাতে এবং যোগ্য করদাতাদের সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য প্রশাসনের অবস্থান; প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও তার প্রয়োগের ওপর।   স্বাস্থ্যবিমায় অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যার আওতায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের নাম ছিল। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব বাতিলের ফলে আগাম প্রিমিয়াম করছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের অস্তিত্ব বা নিবন্ধন যাচাই করা যায়নি, আবার এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা বাস্তব হলেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা বাজারের পরিকল্পনায় নিবন্ধিত। বিভাগটি ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কর্মসূচিতে নজিরবিহীন হারে নিবন্ধন বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি বা জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশাসন যাচাইব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক নিবন্ধনের সংখ্যা এবং নিশ্চিত জালিয়াতির সংখ্যা এক নয়, তাই এ ধরনের তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি।   প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের কাছে লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি জনশুনানি টেলিফোনের মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়ম নির্ধারণ করবে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং নিউজউইক।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ০:১
বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির কথা জানিয়েছেন আসমা আলী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মিসিসিপিটিতে বিচারক নিয়োগের পর সাবেক আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেলেন আসমা আলী

অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের মধ্যে রয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর ফোন জব্দ, পরিবারের সদস্যদের তলব

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির কারণে মুদি বাজার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, বাড়ছে নিত্যপণ্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ

0 Comments