সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে সৈনিকদের বিয়ে, ক্ষতিপূরণ পেতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্র

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:৩৬
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন

রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর আগে কিছু নারী সৈনিকদের দ্রুত বিয়ে করে পরে তাদের মৃত্যুর পর সরকারি ক্ষতিপূরণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন নারীদের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে ঘিরে একাধিক পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। 

 

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি সের্গেই খানদোঝকোর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৪০ বছর বয়সী এই রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরের দিন এলেনা সোকোলোভাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে যান এবং কয়েক মাস পর নিহত হন। পরে তার স্ত্রী সামরিক মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন। 

খানদোঝকোর পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বামীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার পর সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে রায় দেওয়া হয়। পরে বিয়েটি বাতিল করা হয়। তবে ওই নারী আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ কয়েক মিলিয়ন রুবল থেকে ১০০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে যুদ্ধকবলিত দরিদ্র অঞ্চলে এসব অর্থকে ঘিরে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

অভিযোগের ধরনও প্রায় একই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্য চুক্তিতে সই করার পরপরই সৈনিকরা অল্প পরিচিত কোনো নারীকে বিয়ে করছেন। এরপর তারা যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে ওই নারী আইনগত স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুকালীন সুবিধা পাওয়ার দাবি করছেন। কিছু ঘটনায় নিহত সৈনিকের পরিবার দাবি করেছে, তারা ওই বিয়ের কথাই আগে জানত না। 

২০২৬ সালের একটি তদন্তে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের একাধিক কথিত বিয়ের ঘটনা এবং আদালতের মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং পরিবারগুলো আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিলের চেষ্টা করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। 

 

বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন এবং নিহত সেনাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের সময় দ্রুত বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে কি না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় ছোট বোনকে পিঠে নিয়ে এক শিশুর এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার ধ্বংসস্তূপে ছোট বোনকে আগলে ভাই, নেপালের দৃশ্য মনে করাল ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট এক শিশুকে তার বোনকে পিঠে নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। মুখে আঘাতের চিহ্ন নিয়েও ছোট বোনকে আগলে রাখার ভাইয়ের দৃশ্যটি দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে জাপানি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর ভাইবোনের করুণ কাহিনি।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিপর্যস্ত পরিবেশের মধ্যে শিশুটি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুই শিশুর মুখেই আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বন্যার মধ্যে তারা বাবা-মাকে খুঁজছিল।   ভিডিওটি ৩০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আবেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ছোট বোনকে রক্ষা করতে বড় ভাইয়ের নিরন্তর চেষ্টা। দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও ভাইবোনের এই দৃশ্য অনেকের কাছে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে একে অপরকে আগলে রাখা ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেতা ও সেতসুকোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।   ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে এক ভাই ও তার ছোট বোনের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। বাবা-মাকে হারানোর পর ভাই সেতা তার ছোট বোন সেতসুকোকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি হলো, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভাইয়ের বোনকে রক্ষা করার চেষ্টা।   নেপালের ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি অবশ্য চলচ্চিত্রটির গল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। ভিডিওতে থাকা শিশুদের পরিচয়, তাদের বাবা-মায়ের বর্তমান অবস্থা কিংবা তারা সত্যিই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল কি না, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।   তবে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি বাস্তব। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক শিশু পরিবার বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কাজও চলছে।   বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও শিশু দুটির পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও, ছোট বোনকে আগলে রাখা ভাইয়ের দৃশ্যটি নেপালের দুর্যোগে শিশুদের অসহায়ত্ব এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক গভীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই দৃশ্যটি অনেকের মনে ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেই করুণ ভাইবোনের গল্পের প্রতিধ্বনি তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৪৮
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন

রাশিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে সৈনিকদের বিয়ে, ক্ষতিপূরণ পেতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্র

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস

যুক্তরাজ্যের সাসেক্সের হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, ১ হাজারের বেশি ঘটনা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিশন

ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’
ট্রাম্পের নির্দেশে গুগল ম্যাপে ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে রাখা হলো ‘লেক আমেরিকা’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের ম্যাপে 'লেক অন্টারিও'-এর নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' করেছে গুগল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পরপরই শনিবার গুগল এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   এর ফলে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা ম্যাপে এই বিশাল জলাশয়টিকে 'লেক আমেরিকা' হিসেবে দেখতে পাবেন। তবে কানাডায় অবস্থানরত ব্যবহারকারীদের জন্য পুরনো নাম 'লেক অন্টারিও'-ই বহাল থাকছে। অন্যদিকে, এই দুই দেশের বাইরের ব্যবহারকারীরা উভয় নামই দেখতে পাবেন, যেখানে 'লেক আমেরিকা' নামটিকে ব্র্যাকেটের ভেতর প্রদর্শন করা হবে।   গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত জলাশয়গুলোর ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের নীতি এবং মার্কিন সরকারি নাম নিবন্ধনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।   দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি বাণিজ্য নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও আগামী মাসে মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   মূলত কানাডার অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সাথে বাগযুদ্ধে জড়ানোর পর ট্রাম্প এই লেকের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বারগাম 'জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম'-এ (জিএনআইএস) নাম হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেন।   হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং এক্সে এই পরিবর্তনকে উদ্‌যাপন করলেও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক কখনোই এই জলাশয়কে নতুন নামে ডাকবে না।   উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বর্তমান মেয়াদের শুরুতে একইভাবে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে 'গালফ অব আমেরিকা' রেখেছিলেন। কানাডাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কানাডা দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে, যা এখন বন্ধ হতে যাচ্ছে।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, কানাডা একটি পূর্ণাঙ্গ অঙ্গরাজ্যের মতো আচরণ চাইলেও তারা আসলে তা নয়। অন্যান্য দেশের নেতাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তার দেখা সবচেয়ে বাজে নেতৃত্ব হলো কানাডার। গুগল ম্যাপে এই নতুন নাম যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিলেও, অন্যান্য দেশ মার্কিন এই একতরফা নামকরণের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৭:৫৮
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক খামেনির

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন আটকে থাকার পর, কান্নার শব্দ শুনে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

প্রবাসী বাংলাদেশি কামরুল জামান

সৌদির তায়েফে প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হ ত্যা, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েও রক্ষা পেলেন না

দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল
দুর্দান্ত ফলাফল নিয়েও ১৬ নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, সেই মেধাবী তরুণকেই লুফে নিল গুগল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোর এক বাসিন্দা কলেজ ভর্তিতে এশিয়ানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে করা নাগরিক অধিকারের মামলায় বড় এক আইনি জয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ফেডারেল বিচারক মামলাটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।   ন্যান ঝং এবং তার ছেলে স্ট্যানলি ঝং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির মতো অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্ণবাদী ভর্তি প্রক্রিয়ার চর্চা করে, যা অত্যন্ত যোগ্য এশিয়ান-আমেরিকান আবেদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির কিছু অংশ খারিজের আবেদন আংশিক নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক জেমস এল. রবার্ট।   ২১ বছর বয়সী স্ট্যানলি ঝং গত বছর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। কারণ, দুর্দান্ত একাডেমিক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আবেদন করা ১৮টি কলেজের মধ্যে ১৬টি থেকেই তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে গান হাই স্কুল থেকে স্নাতক করা স্ট্যানলি স্যাট (SAT) পরীক্ষায় ১৬০০-এর মধ্যে ১৫৯০ পেয়েছিলেন।   তার জিপিএ ছিল ৪.৪২ এবং একটি ফ্রি ই-সাইনিং স্টার্টআপ চালু করে তিনি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের নজরও কেড়েছিলেন। এতগুলো নামিদামি কলেজ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরপরই প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাকে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেয়।   অথচ এই পদের জন্য সাধারণত পিএইচডি বা সমমানের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। জানা যায়, মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই কোডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গুগলের নজরে ছিলেন এই তরুণ।   আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ের বিষয়ে বাবা ন্যান ঝং ফক্স নিউজকে বলেন, "এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ খবর। বিচারক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খারিজের আবেদন নাকচ করে মূলত আমাদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।" এই রায়ের ফলে এখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি, ইমেইল যোগাযোগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভর্তির ডেটা পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন।   অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সন্তুষ্ট যে আদালত মামলার কিছু অংশ খারিজ করেছে। তারা আরও জানায়, ওয়াশিংটনের ফ্ল্যাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা ভর্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশি অগ্রাধিকার দেয় বলেই বাইরের রাজ্যের বেশিরভাগ আবেদনকারী সুযোগ পান না।   স্ট্যানলি ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস-অস্টিনে ভর্তির সুযোগ পেলেও তা বাদ দিয়ে ২০২৩ সালের শরতে গুগলের চাকরিতেই যোগ দেন। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই নিয়ে ন্যান ঝং বলেন, "এই গল্পটি শুধু আমার ছেলের বা আমাদের পরিবারের চেয়েও অনেক বড়।" তার মতে, সাম্প্রতিক কিছু আইনি নজির থাকা সত্ত্বেও কলেজ ভর্তিতে এশিয়ান-বিরোধী বৈষম্য এখনো একটি পদ্ধতিগত সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।   তিনি জানান, তাদের এই লড়াই প্রকাশ্যে আসার পর সারা দেশ থেকে আরও অনেক এশিয়ান-আমেরিকান পরিবার একই ধরনের বঞ্চনার গল্প শেয়ার করে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই বৈষম্য দূর করতেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় এই পরিবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৬:৮
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজত থেকে ছবি প্রকাশ করলেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরো

ইয়াইর নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ইরানি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে ফেরানো হলো নেতানিয়াহু-পুত্রকে

প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

প্রচলিত অস্ত্রে ব্যর্থ হলে ইরানে পারমাণবিক হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা

0 Comments