সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার আগে সৈনিকদের বিয়ে, ক্ষতিপূরণ পেতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্র

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:৩৬
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন
রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন

রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর আগে কিছু নারী সৈনিকদের দ্রুত বিয়ে করে পরে তাদের মৃত্যুর পর সরকারি ক্ষতিপূরণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন নারীদের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে ঘিরে একাধিক পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। 

 

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি সের্গেই খানদোঝকোর। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ৪০ বছর বয়সী এই রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরের দিন এলেনা সোকোলোভাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে যান এবং কয়েক মাস পর নিহত হন। পরে তার স্ত্রী সামরিক মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন। 

খানদোঝকোর পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্বামীর মৃত্যু বা আহত হওয়ার পর সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে রায় দেওয়া হয়। পরে বিয়েটি বাতিল করা হয়। তবে ওই নারী আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থ কয়েক মিলিয়ন রুবল থেকে ১০০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ফলে যুদ্ধকবলিত দরিদ্র অঞ্চলে এসব অর্থকে ঘিরে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

অভিযোগের ধরনও প্রায় একই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্য চুক্তিতে সই করার পরপরই সৈনিকরা অল্প পরিচিত কোনো নারীকে বিয়ে করছেন। এরপর তারা যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে ওই নারী আইনগত স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুকালীন সুবিধা পাওয়ার দাবি করছেন। কিছু ঘটনায় নিহত সৈনিকের পরিবার দাবি করেছে, তারা ওই বিয়ের কথাই আগে জানত না। 

২০২৬ সালের একটি তদন্তে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের একাধিক কথিত বিয়ের ঘটনা এবং আদালতের মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কিছু ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং পরিবারগুলো আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিলের চেষ্টা করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা কত, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। 

 

বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, বিয়ের আইন এবং নিহত সেনাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের সময় দ্রুত বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ এবং বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে কি না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ
ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ

ইংল্যান্ডের সোলিহালে একটি পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ এবং সেখানে আর না আসার হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত টহলদল ‘চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে বর্ণবাদী আচরণ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং চেলমসলে উড এলাকায় টহল বাড়িয়েছে।    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে মেরিডেন পার্কে দলটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে জানতে চান, তাঁরা কেন ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং পার্কে কী করছেন। প্রকাশিত ভিডিওর বর্ণনা অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা আগে বার্মিংহামে থাকতেন এবং সেদিনই ওই এলাকায় এসেছেন। আরেকজন বলেন, মাস্টার্স পড়তে তিনি ইংল্যান্ডে এসেছেন এবং দুই বছর ধরে সেখানে আছেন।  এরপর দলটির একজন তাঁদের পার্ক থেকে দূরে থাকতে বলেন। ভিডিওতে তাঁকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সেখানে আর না আসার ‘শেষ সতর্কতা’ দিতে শোনা যায়। দলটির প্রকাশ করা ভিডিওটি পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।    চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টস নিজেদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় টহল দেওয়ার দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির বক্তব্য, রাতে পার্কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেছিল তারা। তবে শিক্ষার্থীরা বেআইনি কিছু করছিলেন, এমন তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি।  সোলিহাল গ্রিন পার্টি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক কাউন্সিলর শেশ শেশাভাত্তর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের বাইরে দেখা করা বা হাঁটার অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গায়ের রং ছাড়া তাঁদের এভাবে থামানোর অন্য কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না।  ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে, চেলমসলে উড প্যাট্রিয়টসের সঙ্গে তাদের কোনো অংশীদারত্ব নেই। কাউকে থামিয়ে তল্লাশি করার ক্ষমতা নির্দিষ্ট আইনের অধীনে শুধু পুলিশের। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা দলটির একজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো উদ্বেগ থাকলে নিজেরা লোকজনকে থামানোর বদলে পুলিশকে জানাতে বলেছে বাহিনীটি।    পুলিশের ১৫ অক্টোবরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় টহল চলাকালে একটি বাড়ির জানালা ভাঙার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে ওই ঘটনার সঙ্গে পার্কে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার কোনো যোগসূত্র উল্লেখ করা হয়নি।     

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১০:১৫
হিন্দু মন্দিরে হা মলার পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রে প্তা র

‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘিরে উত্তেজনা

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় পাঁচজন নি হ ত, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঝুঁকিতে

আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি বিতর্কের মাঝে হিজাবের পক্ষে শিশু কারবালাই খাদিজার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘হিজাব আমার শিক্ষার বাধা নয়, আমি শহীদ কন্যা, কখনো হিজাব ছাড়ব না’: আজারবাইজানে পোশাকবিধি বিতর্ক

ইউএইর ভিসামুক্ত তালিকায় ইউরোপের ৪৬ দেশ
আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের যোগ্যতা রয়েছে ইউরোপের ৪৬টি দেশের নাগরিকদের। প্রকাশিত একটি তালিকায় এসব দেশের নাম তুলে ধরা হয়েছে। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি মোনাকো, সান মারিনো ও ভ্যাটিকান সিটির মতো ছোট রাষ্ট্রও রয়েছে। তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।   তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের ইউএই ভ্রমণের আগে আগাম ভিসার আবেদন করতে হয় না। ফলে ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক কাজে যাওয়া কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন—এমন ভ্রমণকারীদের জন্য ভ্রমণপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে আগাম ভিসা না লাগার অর্থ এই নয় যে সব ভ্রমণকারী একই মেয়াদে থাকার সুযোগ পাবেন কিংবা প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত মানতে হবে না। প্রকাশিত তালিকায় ইউরোপের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলো স্থান পেয়েছে। উত্তর ইউরোপের ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস রয়েছে। এ ছাড়া মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় থাকা ৪৬টি দেশ হলো—আলবেনিয়া, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কসোভো, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মলদোভা, মোনাকো, মন্টেনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সান মারিনো, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও ভ্যাটিকান সিটি। তালিকায় ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও রয়েছে। আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো, মলদোভা, মন্টেনেগ্রো, সার্বিয়া ও ইউক্রেনের নাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বেলারুশ, জর্জিয়া ও রাশিয়াও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই তালিকা সরাসরি প্রযোজ্য নয়। ইউরোপের কোনো দেশে বসবাস করলেই একজন বাংলাদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই দেশের নাগরিকদের মতো ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবেন না। ইউএইতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মূলত পাসপোর্টের জাতীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ভিসাবিধি বিবেচনা করতে হয়। তাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণের আগে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভিসামুক্ত প্রবেশ, বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা পাওয়ার সুবিধা এবং ভ্রমণের আগে ভিসা সংগ্রহের নিয়ম এক নয়। কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য আগাম ভিসা না লাগলেও তাঁদের প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হতে পারে। একইভাবে, অনুমোদিত অবস্থানকালের মেয়াদও নাগরিকত্ব ও প্রবেশের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ইউএই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই টিকিট বুকিংয়ের আগে সর্বশেষ ভিসাবিধি যাচাই করা উচিত। দেশটির সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট ইউএই দূতাবাস থেকে প্রবেশের যোগ্যতা, পাসপোর্টের মেয়াদ এবং অবস্থানের শর্ত সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে, ইউএইতে প্রবেশের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্টের ধরন এবং অবস্থানের সম্ভাব্য মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে কোনো তালিকায় দেশের নাম থাকা মানেই সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য নিঃশর্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সব মিলিয়ে, ইউরোপের ৪৬ দেশের নাগরিকদের জন্য ইউএইতে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা রয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। ইউএই যাওয়ার আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের নিজেদের জন্য প্রযোজ্য ভিসার নিয়ম ও সর্বশেষ প্রবেশশর্ত নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:৬
প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি টিকটকে প্রকাশের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পান তরুণী মিলাগ্রোস। ছবি: সংগৃহীত

টিকটকে প্রেমিকের ছবি পোস্ট করলেন তরুণী, ২০ জনের বেশি নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ

কানাডার টরন্টোয় ভুয়া শিক্ষার্থী সেজে স্কুলে ঢুকে দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক শাফফাত হুসেইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

টরন্টোয় শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ঢুকে যৌ ন নিপীড়নে গ্রে প্তার বাংলাদেশি শাফফাত হুসেইন

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা প্রতিযোগিতাকে ভয় পাই না’, ইলন মাস্কের অভিযোগের জবাব দিল আম্বানির রিলায়েন্স

রিয়াদে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে আবাসিক এলাকায় চারজন আহত ও ১৫টি বাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত মানেই বিপদ শেষ নয়, ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি এড়াতে থাকুন নিরাপদ আশ্রয়ে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আকাশে প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এতে ১৫টি বাড়িতে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর। পরদিন বুধবার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়।    সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী, এক পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রিয়াদের দিকে ছোড়া হুতিদের দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর টুকরা আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে নির্ধারিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে।    এদিকে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা পেলে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। আজেল নিউজের প্রতিবেদনে সংস্থাটির নির্দেশনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর শান্ত থেকে নিকটবর্তী ভবনের ভেতরে অথবা জানালা থেকে দূরে কোনো অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করতে হবে। বিপদ কেটে যাওয়ার আগে আশ্রয়স্থল ছেড়ে বের হওয়া যাবে না।    নির্দেশনায় খোলা জায়গা ও কাচ থেকে দূরে থাকতে এবং বারান্দা বা ছাদে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বাইরে থাকলে কাছের ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। ঘটনা দেখতে ভিড় করা কিংবা ছবি তোলার জন্য বাইরে অবস্থান করতেও নিষেধ করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ সব বাসিন্দার জন্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ০:৪৪
শিক্ষক আবুসালি রহমান

ইংল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার দায়ে বাঙালি বংশোদ্ভূত শিক্ষকের ছয় বছরের কারাদণ্ড

নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী

নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরতে হয়েছে ১২ হাজার ৭০০ প্রযুক্তিকর্মী

অনলাইন নজরদারি

অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে নজরদারির প্রমাণ মিলেছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ঘিরে

0 Comments