চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি
ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আসছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে আসবে।
ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক।
নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে। এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন।
আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর দশ দিনের ব্যবধানে মারা গেছে তার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইও। বাংলাদেশি পরিবারটির বড় ছেলে আরদি গত ৩ অক্টোবর দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে ছোট ছেলে শাহ মো. ওয়ার্দির মৃত্যু হয়।জানা গেছে, নিউমোনিয়াজনিত অসুস্থতায় শিশুটি মারা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। ব্রঙ্কসের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ছোট ভাই ওয়ার্দির মৃত্যুতে পরিবারটি আরেক দফা শোকের মুখে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য জানান, বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে আরদি ছিলেন বড়। তাঁর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোট সন্তানকেও হারালেন তাঁরা। দুই ভাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের শাহ মো. আসাদ মিয়ার সন্তান। তাঁদের চাচা শাহ মো. ছাদেক মিয়া চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
নিউইয়র্কে ফ্রি ট্যাক্স ফাইলের সুযোগ, বাংলা সহায়তা পাবেন যেভাবে! জেনে নিন
আমেরিকানদের ‘লিবারেল’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের নতুন মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান
হুইলচেয়ার আর জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিয়েই ছেলেকে নিয়ে পৃথিবী দেখাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দম্পতি
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক নতুন যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোটার নিবন্ধনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন নাগরিকেরা। তাই ভোটারদের দ্রুত নিজেদের নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি নাগরিকদের সুবিধার্থে বেশ সহজ ও বহুমুখী করা হয়েছে। আগ্রহীরা চাইলে অনলাইনে, সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের ভোটার নিবন্ধন পোর্টাল বা ডিএমভি (DMV) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি 'এনওয়াই.গভ' (NY.Gov) আইডির প্রয়োজন হবে। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি দিয়ে, অন্যথায় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। যারা সরাসরি নিবন্ধন করতে চান, তারা নিজ কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশনস অফিস, অনুমোদিত সরকারি সংস্থার নিবন্ধন কেন্দ্র বা ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের (DMV) মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে ডাকযোগে আবেদনের ক্ষেত্রে ফর্মটি পূরণ করে, স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন অফিসে পাঠাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাকযোগে পাঠানো আবেদনও অবশ্যই ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং নির্বাচনের দিন তার বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ৩০ দিন বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা আগাম নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নিউইয়র্কের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নন-ড্রাইভার আইডি নম্বর, অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) শেষ চারটি সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে। বাংলাভাষী প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইটে বাংলা ভাষায় ভোটার নিবন্ধন ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রিন্ট করে সহজেই পূরণ করে জমা দেওয়া সম্ভব। স্প্যানিশ, চীনা ও উর্দুর পাশাপাশি এটি অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সুবিধা। নিবন্ধনের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নিউইয়র্কে সাধারণত কোনো দলের প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নির্দিষ্ট দলের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ দিন ১৯ অক্টোবর। ভোটার নিবন্ধন ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইট (elections.ny.gov/register-vote) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (vote.gov) পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগ্য নাগরিকদের নিজেদের তথ্য যাচাই করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট
নেব্রাস্কার পার্কে ছয় বছরের শিশুর বিরল জীবাশ্ম আবিষ্কার, এমন নমুনা মেলেনি ৫৫ বছরেরও বেশি সময়
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু না করায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা ও আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বুধবার, ১৪ অক্টোবর দেওয়া এই আদেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অন্যতম একটি পথ আবারও চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধনপর্ব প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে এবং অন্তত ৩০ দিন আবেদন গ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত আবেদনকারীদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণও চালিয়ে যেতে হবে। তবে মোট ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে অথবা ২০২৭ অর্থবছর শেষ হলে—যেটি আগে ঘটবে, সে অনুযায়ী প্রক্রিয়া সীমিত হবে। আদালতের নির্দেশের আগে ডিভি-২০২৭ লটারির নিবন্ধন শুরুর কোনো নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণত প্রতিবছর এই কর্মসূচির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এবার নতুন নিবন্ধনপর্ব চালু না হওয়ায় আগ্রহী আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পুরো কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক প্রথমে নির্দেশ দেন, ১৫ অক্টোবর মধ্যরাতের মধ্যে নিবন্ধনপর্বের ঘোষণা দিতে হবে। ঘোষণায় আবেদন শুরুর ও শেষের তারিখ, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ওয়েবসাইট এবং অংশগ্রহণের শর্ত উল্লেখ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রচলিত সরকারি যোগাযোগমাধ্যম এবং ফেডারেল রেজিস্টারের মাধ্যমেও তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পরবর্তী সময়ে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ও মামলাকারী পক্ষ যৌথভাবে আবেদন করে। মামলাকারী প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী কার্টিস মরিসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন চালুর সময়সূচি এবং নির্বাচিতদের জানানোর সময়সীমা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে আদালত সম্মতি দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিক আদেশে উল্লেখ করা সময়সূচির পরিবর্তন হয়েছে। আবেদনকারীদের তাই নিবন্ধন শুরুর চূড়ান্ত তারিখ জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গ্রিন কার্ড লটারি চালু না করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা এমন একটি কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু না করে সরকার কার্যত সেটি স্থগিত রেখেছে। এতে সম্ভাব্য আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পাশাপাশি ডিভি আবেদনকারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমসংক্রান্ত আইনের আওতায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে। তাদের যুক্তি ছিল, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার অজুহাতে লটারি পুরোপুরি বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কংগ্রেসের অনুমোদিত কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, সরকারের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, নিবন্ধন চালুর স্বাভাবিক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে আবেদন গ্রহণ শুরু করা ফেডারেল বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে আদালতের নির্দেশেও তা চালু করা আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিচারক ওহতা সরকারের এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর পর্যবেক্ষণে, নিবন্ধন না খোলার কারণে কংগ্রেস অনুমোদিত কর্মসূচিটি কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা আইনবহির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালত আপাতত কর্মসূচিটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের আদেশ; চূড়ান্ত রায় নয়। ডিভি লটারিতে কীভাবে সুযোগ পাওয়া যায় ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি চালু করে। এর উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই কেউ সরাসরি গ্রিন কার্ড পেয়ে যান না। নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, যোগ্যতা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। সব শর্ত পূরণ করে ভিসা অনুমোদন পেলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, কোন দেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ কোনো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। এবারের বিলম্বের কারণে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচির সময়সূচি স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সংকুচিত হতে পারে। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর পথ তৈরি হলেও আবেদন গ্রহণ, নির্বাচিতদের জানানো এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হাতে সময় তুলনামূলক কম থাকবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে বরাদ্দ শেষ হওয়া অথবা ২০২৭ অর্থবছরের সমাপ্তি—এই দুই সীমার মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া চালাতে হবে। অর্থবছরটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে নির্বাচিত সবাই যে ভিসা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিবন্ধন শুরুর সরকারি ঘোষণা, আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা এবং যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করা। আদালতের আদেশ লটারি চালুর সুযোগ তৈরি করেছে, তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ
আমেরিকায় বিনামূল্যে খাবার দরকার? কাছের ফুড প্যান্ট্রি খুঁজবেন যেভাবে, জেনে নিন