সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভেনেজুয়েলা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মাদুরো আটকের পর ট্রাম্প-রদ্রিগেজের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

মাদুরোকে আটকের পর প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই বৈঠক হয়। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।   বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চেয়ে তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং নীতিবিষয়ক উপপ্রধান স্টিফেন মিলারও উপস্থিত ছিলেন। রদ্রিগেজের জন্য এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।   বৈঠকের পর রদ্রিগেজ এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তাসহ কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে জানান, বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ও আলোচনা হয়েছে।   রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিনিধিদলে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আলোচনায় জ্বালানি, খনিজ ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।   জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের এবারের সরাসরি বৈঠক সেই পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হলো।   দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির তেলসম্পদকে ঘিরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। রদ্রিগেজ ওই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও তেলশিল্প আধুনিকায়নের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রদ্রিগেজের সরকার ভেনেজুয়েলাকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অর্থনীতি, জ্বালানি, খনিজ ও ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।   তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রদ্রিগেজ সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাইরে একদল ভেনেজুয়েলীয় বিক্ষোভকারী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকরাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের যোগাযোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-রদ্রিগেজ বৈঠক তাই মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তা ও ঋণ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসায় দুই দেশের যোগাযোগের পরিধিও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা
বুলেট এখনো শরীরে ভেতরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছিনা: আইসিই গুলিতে ভেনেজুয়েলান অভিবাসী

টেক্সাসের অস্টিনে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ দাবি করেছেন, গুলি চালানোর আগে কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার ডেলিভারি দেওয়ার সময় একটি চিহ্নবিহীন গাড়ি তার গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং পরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ২০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়ার পর আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়।    পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে বুঝতে পারেননি যে চিহ্নবিহীন গাড়িটি আইসিই কর্মকর্তাদের। তার দাবি, গাড়িটি তার গাড়ির পাশে দুইবার ধাক্কা দেয়। এরপর তিনি ইউটার্ন করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। একটি ফ্রিওয়ের নিচে গাড়ি থামানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, পেছনে থাকা গাড়িটি তাকে থামানোর চেষ্টা করছে। তখন গাড়িটির নীল ও লাল আলো এবং সাইরেন চালু করা হয় বলে তিনি জানান।    পেরেজ বলেন, তিনি কর্মকর্তাদের কাছে যানজটের মধ্যে না থেমে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামানোর সুযোগ চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা তাকে সেখানে থামতে নিষেধ করার পরই তিনি পিঠে গুলির আঘাত অনুভব করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা মেরুদণ্ডের খুব কাছে থাকা বুলেটটি অপসারণ করেননি বলে পেরেজ জানিয়েছেন।    ঘটনার সময় ২৮ বছর বয়সী পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ এবং ডোরড্যাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরের কিছু আগে উত্তর অস্টিনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। অস্টিন ট্রাভিস কাউন্টি জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পেরেজকে গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।    পেরেজের আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তাকে দক্ষিণ টেক্সাসের পিয়ারসালে অবস্থিত আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি শরীরে বুলেট থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ব্যথানাশক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন বলে তিনি জানান।    তবে ঘটনার বিষয়ে আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য পেরেজের বর্ণনা থেকে ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, পেরেজের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ ছিল এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্ত করছে। পেরেজের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছিলেন এবং তার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।    অস্টিন পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ওই অভিযানে বা গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন না। ঘটনার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও টেক্সাস রেঞ্জার্সের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অস্টিনের মেয়র কির্ক ওয়াটসন। তিনি আইসিইর অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ঘটনাটি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।    পেরেজের বক্তব্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল, কর্মকর্তারা কখন নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন, গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পরিস্থিতি কী ছিল এবং কেন গুলি চালানো হয়েছিল, এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে নেওয়া হতে পারে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারজনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন। তবে তাঁর সরকার চাইলেই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না। বরং এই স্বর্ণকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুনে হওয়া দুটি বড় ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনকাজে অর্থায়নের জন্য ওই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    এই স্বর্ণ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস প্রায় সাত বছরের। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এরপর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালত পর্যন্ত গড়ায়।    ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালত নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা স্বর্ণের হিসাব নিয়ে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ব্যাংকটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব কার, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান মামলায় যুক্তরাজ্য সরকার পক্ষ নয় এবং দেশটির আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে।    ভেনেজুয়েলা ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা স্বর্ণ ব্যবহারের পথ খুলতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ তখন বিদেশে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানান। প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বর্ণ সরাসরি বিক্রি না করে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা নতুন অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে।    এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তরের আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ফলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সম্ভাব্য সমাধানটি দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।   তবে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। স্বর্ণ স্থানান্তরের আগে আইনি কর্তৃত্ব, তদারকি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। ফলে ৪০০ কোটি ডলারের এই স্বর্ণ কবে এবং কীভাবে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।   মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন।   অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন।   ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে।   মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে।   এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।   নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে থাকার পর ২৫ পাউন্ডের বেশি ওজন কমেছে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের
কারাগারে গিয়ে আরও অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী হৃদরোগের চিকিৎসায় চাইলেন মুক্তি

ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের কারাগার থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার আইনজীবীরা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, কারাগারে থাকার পর থেকে তার হৃদরোগের সমস্যা আরও বেড়েছে। তাই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস ও তার স্বামী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি। মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার আগামী বছরের জুনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকলেও ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদন ছাড়া তিনি কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তবে ফ্লোরেসের এই আবেদনের বিষয়ে এখনো ফেডারেল প্রসিকিউটররা কোনো জবাব দেননি এবং বিচারকও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফ্লোরেস দীর্ঘদিন ধরে মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপ্স নামের হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনও তিনি পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে অ্যাসপিরিন, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে থাকার সময়ে তার আরও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রাইটিসে ভুগছেন, দুটি দাঁতের মোলার হারিয়েছেন এবং ২৫ পাউন্ডেরও বেশি ওজন কমেছে। চিকিৎসকেরা তাকে হৃদযন্ত্রের ক্যাথেটারাইজেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার পর আরও কিছু হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, হৃদযন্ত্রের কোনো প্রক্রিয়া বা অস্ত্রোপচার হলে সুস্থ হয়ে উঠতে তার পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হলেও সেখানে অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের পরিবেশ পাওয়া কঠিন। তবে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা কারাগারের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তারা আদালতে জানিয়েছেন, কারাগারের কর্মীরা ফ্লোরেস ও তার স্বামীর সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং সেখানে ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভালো চিকিৎসাও পেয়েছেন। কিন্তু তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ নয়। মাদুরো ও ফ্লোরেসকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাড়ি থেকে মার্কিন বাহিনী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। দুজনেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এর আগে মাদুরো ও ফ্লোরেস তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিলের আবেদনও করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে তাদের আইনি দায়মুক্তি রয়েছে। তবে সেই আবেদনেরও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
হৃদরোগের অবনতি হওয়ায় বিচারকের কাছে নিউইয়র্কের একটি বাসায় গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন মাদুরোপত্নী সিলিয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, উন্নত চিকিৎসার দাবি

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় তার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ কারাগারে নেই দাবি করে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।   বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তর করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে, ইলেকট্রনিক নজরদারি করা হবে, তার চলাচল সীমিত থাকবে এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।   ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ওষুধের ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না।   তবে কারাবন্দির পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে তার প্রতিরক্ষা দল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা হয়েছিল, যা হালকা মাত্রার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্‌স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে।   তার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মূল যুক্তি হলো, সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না। এ কারণে তারা ব্যক্তিগত বাসভবনে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন।   প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। আইনজীবীরা নিজেরাই কঠোর নজরদারির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভ্রমণ নথি আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরেস ও মাদুরো দুজনকেই ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।   মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলেরও চেষ্টা করছেন। তাদের অন্যতম যুক্তি হলো মাদুরো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ফ্লোরেসের আইনজীবীরাও তার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তাদের আটক ও দেশ থেকে নিয়ে আসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা দল।   ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন।   মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিল। একই সময়ে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের অংশ।   নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন এখনো ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৭ নভেম্বর তাদের আইনজীবীদের মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীদের আবেদনের মূল বিষয় এখন তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না। আদালত তার চিকিৎসা পরিস্থিতি, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
তেল উৎপাদন চুক্তি
চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি

ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আসছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে আসবে।   ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক। নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে। এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো।   কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।   তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ব্রুকলিনের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে নিকোলাস মাদুরোকে হাতে ক্যাসিও ঘড়ি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি।   ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে।   তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।   মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।   মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।   মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে।   তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের! ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদে এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিশাল এক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ট্রাম্প জানান, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে। ট্রাম্প এটিকে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুদ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমতেও পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে নতুন করে উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে।   ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সরকারের হিসাবে, তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিপুল তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও পুরোনো অবকাঠামো, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত তেল মজুদ পুনরায় পূরণের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নে ভেনেজুয়েলার আইন ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির তেল খাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্কারের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়ানো হলেও নতুন চুক্তির বাস্তবায়নে আরও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশটির অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার করে।   তবে নতুন চুক্তির সুফল মার্কিন ভোক্তারা কত দ্রুত পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগবে। ফলে চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং তেল উৎপাদন বাড়ানোর গতির ওপর।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।   ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে।   ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।   ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে।   গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায়  অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন
ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন

মিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।   ৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।   মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি।   মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন।   তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন।   অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত।   মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি।   মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত।   আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১৩ দেশের টিপিএস সুবিধা বাতিল বা বাতিলের পথে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি 'টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) ১৩টি দেশের জন্য বাতিল বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এর ফলে বহু মানুষ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই সুরক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শেষ হওয়ার পথে।   টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবিক কর্মসূচি, যা ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে চালু হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মেয়াদ সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস হলেও অতীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নবায়ন করা হয়েছে।   ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সময় ১৭টি দেশের জন্য টিপিএস কার্যকর ছিল। এরপর প্রশাসন ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল বা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেনেজুয়েলা, হাইতি এবং হন্ডুরাসের নাগরিকরা।   বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস হারানোদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। দুই দফায় দেওয়া টিপিএস সুবিধার আওতায় থাকা ৬ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভেনেজুয়েলান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হাইতির নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার।   এদিকে ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসনের জন্য অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের জন্য টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়; এটি সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছিল।   তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ অনেক দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিপিএস বাতিল করলে হাজারো মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বেন। কিছু সংগঠন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেছে।   অনেক টিপিএসধারী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। উদাহরণ হিসেবে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অনেকে ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে টিপিএস পান। তারা প্রায় তিন দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন।   বর্তমানে চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য টিপিএস এখনো কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো এল সালভাদর, ইউক্রেন, লেবানন ও সুদান। এসব দেশের প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এসব সুবিধার মেয়াদও ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো আবার নবায়ন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এদিকে টিপিএস হারানো অনেক অভিবাসী এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। কেউ আশ্রয়ের আবেদন করছেন, কেউ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন কিছু অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের অনুমতিও বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জুনের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ তা সমর্থন করেছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যতগুলো দেশের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায়, পাঁচ ঘণ্টা পরই ভূমিকম্পে প্রাণ গেল প্রেমিকের

মাসের পর মাস অনলাইনে কথা বলার পর অবশেষে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় যান এক তরুণী। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সাক্ষাতের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান তার প্রেমিক। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই তরুণীর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, "lobita_xx94" নামে পরিচিত ওই তরুণী গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফুল ও উপহার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান তার প্রেমিক ভিক। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সেদিনই প্রথম বাস্তবে রূপ নেয়।   কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তরুণীর দাবি, সাক্ষাতের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকম্প। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনায় ভিক নিহত হন, আর তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন।   ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তরুণী লিখেছেন, "জীবন আমাদের একসঙ্গে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল।" এই একটি বাক্যই যেন তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসার পুরো গল্প তুলে ধরে। বহুদিনের অপেক্ষার পর যে সম্পর্ক বাস্তবে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায়।   সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই অভিজ্ঞতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, ভাগ্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করলেও, তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় মাপা হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা ছবি শেয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোস্টে চাঞ্চল্য, যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে ভেনেজুয়েলার মানচিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ছবি শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিটিতে ভেনেজুয়েলার মানচিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশায় দেখানো হয়েছে এবং তার ওপর বাংলায় ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ লেখা রয়েছে। তবে পোস্টটির সঙ্গে তিনি কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য দেননি।   এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এবং অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশায় ভেনেজুয়েলার মানচিত্র দেখানো হয়েছে। তবে এটি কোনো নীতিগত বার্তা, রাজনৈতিক ইঙ্গিত নাকি প্রতীকী প্রকাশ—এ বিষয়ে ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যাখ্যাহীন পোস্ট আন্তর্জাতিক পরিসরে নানা ধরনের জল্পনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক, মাদুরো সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং লাতিন আমেরিকাবিষয়ক নীতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার মতো কোনো নীতি, পরিকল্পনা বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাম্পের এই পোস্টের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। পরে বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসা উইডম নতুন জীবন শুরু করতে ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ’ করা মার্কিন নাগরিকের মরদেহ মিলল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে!

ভেনেজুয়েলায় গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু উইডমের মরদেহ। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা উইডমে, যিনি অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু উইডমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা কয়েক বছর আগে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে একটি পৃথক আইনি জটিলতার পর আইনজীবীর পরামর্শে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে চলতি বছরের ৪ মে অ্যান্ড্রুও ভেনেজুয়েলায় চলে যান।    দম্পতি ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট খাদ্য ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন উত্তর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুইরা এলাকার তাদের আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ দাহ করা হয় এবং অ্যান্ড্রুর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।    ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।    অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসার মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পে ভবন ধসকেই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।   তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার স্ব শানের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩,৫৩৫, হাজারো মানুষ এখনো গৃহহীন ও আশ্রয়কেন্দ্রে

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জনেরও বেশি এবং প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৪ জন এখনো নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারেননি।   দেশটির রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে।   ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, সহায়তা প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাচ্ছে না।   এদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক সংস্থাগুলো।   গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Unknown জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও উদ্ধারকাজ চলমান
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ১৩ দিন পরও উদ্ধারকাজ চলমান, মৃত ৩,৫৩৫—নিখোঁজের খোঁজে স্বজনদের আহাজারি

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি উদ্ধার তৎপরতা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় নিভে এসেছে।   সর্বশেষ সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রতিদিন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার।   ভূমিকম্পের পরদিন মঙ্গলবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ও সমন্বয় ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিদেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন।   স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাদা-দাদির সন্ধানে সহায়তা চেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে বসবাস করতেন পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ। ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   স্পেনে থাকা ভ্যালেরিয়া ভেলোজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের বলেছেন, ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সম্ভাব্য জীবিত বা মৃতদের খুঁজে পেতে হলে অন্তত ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে। এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ক্রেনের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেদ্রো ভেলোজ বলেন, “ভবনটি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে ক্রেন ছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানো প্রায় অসম্ভব।”   উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে গত রোববার নতুন একটি সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ। এই ইউনিট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করবে।   এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি—প্রায় ৫৯ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।   ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দুর্বল জনসেবা ব্যবস্থা, খাদ্যসংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। এই ভূমিকম্প সেই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। ওই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী।”   উদ্ধারকাজের ধীরগতি, বিপুল প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংস—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখন নজর কেবল নিখোঁজদের খোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দিকে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে মৃত প্রায় ৩ হাজার, নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অপেক্ষা স্বজনদের

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৯৫৪ জনে।   শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও তিন শতাধিক বেড়েছে, যা দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।   গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই দুই ভূকম্পন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত হয়, যা মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে।   তবে হতাশার মাঝেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো আশায় বুক বেঁধে দুর্ঘটনাস্থলগুলোর আশপাশে অবস্থান করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খোঁজ বা চিহ্ন পাওয়ার অপেক্ষায় তারা দিন গুনছেন।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং নিখোঁজ আরও হাজার হাজার মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   এদিকে, প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশটির আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৯৪২টি আফটারশক বা মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশটির সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পের আট দিন পরও হার মানেননি হার্নান গিল। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর হার্নান গিলকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।   গত ২৪ জুন দেশটির উত্তর উপকূলে আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে অবস্থিত একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন হার্নান গিল। ভবন ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন তিনি।   উদ্ধারকারীরা জানান, দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর গিলের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তার কাছে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসস্তূপের বিশাল চাপ, অস্থিতিশীল কাঠামো এবং উদ্ধারপথ বারবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপদ করিডোর তৈরি করে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।   উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চিলির এক দমকল কর্মকর্তা বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি। ছোট ক্যামেরা, বিশেষ অনুসন্ধান যন্ত্র এবং সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে গিলের অবস্থানে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।   কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রথমে ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। পরে সহকর্মীরাও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে নিচে একজন জীবিত রয়েছেন। এরপরই উদ্ধার অভিযান নতুন গতি পায়।   উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অবস্থায় গিলকে সরু একটি নলের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে শিরায় স্যালাইনও দেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি বলে তিনি উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় যে কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেটি ধসে পড়া ভবনের ভেতরে তার চারপাশে একটি সুরক্ষিত ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এ কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।   এই উদ্ধার অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল অংশ নেয়। কয়েকবার উদ্ধারপথ ধসে পড়লেও তারা অভিযান চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সফল হন।   ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু ক্লিয়েবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার | ছবি: রয়টার্স
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার, ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক ঘটনা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের দীর্ঘ ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল অলৌকিকভাবে এই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ছেলেশিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি ভেঙে পড়া ভবনের নিচে সে আটকে ছিল।   উদ্ধারের পর ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনেন, তখন চারপাশের মানুষ আনন্দে উল্লাস ফেটে পড়েন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে দেশের এই চরম বিপর্যয়ের মাঝে একটি 'আশার আলো' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুত রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বা 'গোল্ডেন আওয়ার' মনে করা হয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ারও তিন দিন পর ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার করা এক প্রকার অলৌকিক বিষয়। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের জীবিত থাকার আশা ফুরিয়ে যায়নি। দেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাই এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   গত ২৪ জুন বুধবার ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নাসার স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।   জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, উপদ্রুত এলাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং মৌলিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ত্রাণের খাবারের জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য আসতে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৪৭ টন মানবিক ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছেছে। আগামী ৬ মাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০