সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কি না জানালেন ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৯:৪০
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের ওপর পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একই সঙ্গে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ওই প্রশ্নকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

 

তবে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। এরপর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও এলএনজি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

 

ট্রাম্পের অবস্থান এখন স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতেও দেওয়া হবে না।

 

সূত্র: গালফ নিউজ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জর্ডানে নি হত মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা, সেনাবাহিনীর আচরণে হতাশ
জর্ডানে নি হত মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন মা, সেনাবাহিনীর আচরণে হতাশ

জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত নিউইয়র্কের কুইন্সের সেনা স্টাফ সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারাহ রামপারসাদের মা প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন। গত জুলাই মাসে ২৮ বছর বয়সী সারাহ নিহত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ককে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর মা ক্যারল আসেভেদো নিজের সীমাহীন শোক, যন্ত্রণা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন।   আসেভেদো জানান, সেই রোববারের সকালটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। দরজায় দুজন সামরিক চ্যাপলেইনকে (ধর্মযাজক) দেখেই তিনি মর্মান্তিক দুঃসংবাদটি আঁচ করতে পেরেছিলেন। কুইন্সের ওজোন পার্কের বাড়িতে এখনো সারাহর সামরিক ইউনিফর্ম সাজিয়ে রাখা আছে।   মা হিসেবে মেয়ের জন্য তীব্র গর্ববোধ করলেও আসেভেদো বলেন, “আমি আর কখনোই ওর মুখ দেখতে পাব না, কথাও বলতে পারব না।” ক্ষতিপূরণ হিসেবে সামান্য কিছু সুবিধা পেলেও সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। কেবল কিছু কাগজে সই করানো ছাড়া সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে বা মানসিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ এই শোকাহত মায়ের।   পেন্টাগন প্রাথমিকভাবে সারাহকে ইরান সংঘাতে নিহত সেনাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন পরই তাঁর ও আরও তিন সেনার নাম সরিয়ে ‘বিদেশি অভিযান’ (ওভারসিজ অপারেশন) নামের আলাদা একটি ক্যাটাগরিতে যুক্ত করা হয়। মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়ে যাওয়ায় সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এই প্রাণহানিগুলোকে এখন বিদেশি অভিযান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।   তবে সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সারাহর মৃত্যুর শ্রেণিবিভাগের বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।   নিজের মেয়ের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আরও বড় ও সম্মানজনক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন আসেভেদো। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পেন্টাগনের কাছে তাঁর মেয়ে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর আসল যন্ত্রণা শুধু পরিবারকেই আজীবন সইতে হয়। ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী ও কুইন্সে বেড়ে ওঠা সারাহ ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল, দয়ালু ও হাস্যোজ্জ্বল।   আসেভেদোর কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে কঠিন দিন হলো রোববার, কারণ এই দিনটিতেই তিনি মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে লম্বা সময় ধরে কথা বলতেন। ক্ষোভ, হতাশা ও কষ্টে ভেঙে পড়া এই মায়ের এখন একটাই প্রশ্ন—কেন তাঁকে এমন করুণ ও মর্মান্তিক উপায়ে নিজের সন্তানকে হারাতে হলো?

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১০:১২
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের

ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৪০০ ডলার, একই ব্যবহারেও খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের

২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া

২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রির নতুন বিজ্ঞাপনের হিড়িক! চার বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
রিসিপশনিস্ট থেকে বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান! বাংলাদেশি আলামিনের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

নিউইয়র্কে চিকিৎসকের চেম্বারে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে রোগীর তথ্য ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাপনার জটিলতা দেখেছিলেন আলামিন উদ্দিন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়ালিদ আসিফকে নিয়ে গড়ে তোলেন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথ। ২০২২ সালে নতুন বিনিয়োগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন পৌঁছায় ১০০ কোটি ডলারে।   আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২২ সালের ৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেক্সহেলথ সে সময় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসক ও রোগীর ডিজিটাল যোগাযোগ সহজ করা এবং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ তৈরিতে কাজ করে। এর সেবার মধ্যে রয়েছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, নিরাপদ বার্তা আদানপ্রদান ও অনলাইনে বিল পরিশোধ।    নেক্সহেলথের নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রি-মেড প্রোগ্রামে পড়ার সময় মেডিকেল রিসেপশনিস্টের কাজ করেন আলামিন। তখন তিনি দেখেন, রোগী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক কাজ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা চিকিৎসকদের চেম্বারের কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে সংযোগ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে নেক্সহেলথ প্রতিষ্ঠিত হয়।   প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ‘সিনক্রোনাইজার এপিআই’। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ব্যবস্থার তথ্যের সঙ্গে সফটওয়্যারের সংযোগ তৈরি করে। এর ফলে নতুন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি সেবাকে চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যবহৃত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হয়।   ২০২২ সালের সিরিজ সি বিনিয়োগপর্বে নেতৃত্ব দেয় বাকলি ভেঞ্চারস। ওই সময়ের ঘোষণায় নেক্সহেলথ জানায়, তারা ছয় কোটি ৮০ লাখ রোগীর রেকর্ড ব্যবস্থাপনা করছে। এটি সেই বিনিয়োগ ঘোষণার সময়কার পরিসংখ্যান, ২০২৬ সালের হালনাগাদ হিসাব নয়। একইভাবে ১০০ কোটি ডলারের মূল্যায়নও ২০২২ সালের বিনিয়োগপর্বের তথ্য।    উদ্যোক্তা হিসেবে আলামিন ও ওয়ালিদের প্রস্তুতির একটি অংশ শুরু হয়েছিল কলেজজীবনেই। নিউইয়র্ক ইনোভেশন কর্পসের বিবরণ অনুযায়ী, সিটি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তাঁরা ২০১৪ সালে জাহ্‌ন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের প্রথম সামাজিক উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে চিকিৎসক ও রোগীর অভিজ্ঞতা ডিজিটাল করার প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কাজ করেন।   ওই প্রতিষ্ঠান নেক্সহেলথকে সিটির ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বেসরকারি স্টার্টআপের মূল্যায়ন অন্তত ১০০ কোটি ডলার হলে তাকে সাধারণভাবে ইউনিকর্ন বলা হয়।    এর আগেই ২০১৮ সালে ফোর্বসের স্বাস্থ্য খাতের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় স্থান পান দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফোর্বসের পরিচিতিতে তাঁদের উদ্যোগকে রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাগজপত্র, বিল ও ইন্স্যুরেন্সসংক্রান্ত কাজ সহজ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়।    নেক্সহেলথের যাত্রার কেন্দ্রে ছিল চিকিৎসকের চেম্বারের দৈনন্দিন একটি সমস্যা। রোগীকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, যোগাযোগ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ কীভাবে সহজ করা যায়, সেই প্রশ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গড়ে উঠেছে। কোম্পানির ঘোষিত লক্ষ্য, রোগী, চিকিৎসক ও সফটওয়্যার নির্মাতাদের সংযোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সহজ করা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৮:২৮
আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

আমেরিকায় লিভিং উইল কেন করবেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্তে যেভাবে কাজে আসে জেনে নিন

আশ্রয় আবেদন অভিভাবকহীন শিশু

২৪ ঘণ্টারও কম নোটিশে অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকার, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব,

টেক্সাসের মন্দিরে নবরাত্রি উৎসব, প্রার্থনা ও নাচে শত শত মানুষ

মার্কিন দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীও হতে পারে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।    দূতাবাস জানিয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আগের ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারেন। অতীতে নিয়ম লঙ্ঘনের তথ্যও তাঁদের নজরে আসতে পারে। তাই ভ্রমণকারীদের ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ আর যুক্তরাষ্ট্রে একবার প্রবেশ করে কত দিন থাকার অনুমতি পাওয়া গেছে, তা এক নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবেশের সময় নির্ধারিত সময়সীমা বা আই-৯৪ নথিতে থাকা তথ্য দেখে অবস্থানের শেষ দিন নিশ্চিত করতে হয়।    অনুমোদিত সময় পার হলেই সবার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, এমন নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অননুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ও ব্যক্তির পরিস্থিতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর তিন বা দশ বছরের ভিসা অযোগ্যতাও প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৫:২৪
বিয়ের সাত মাস আগে মারা যান ২৫ বছর বয়সী দিয়েগো হার্নান্দেজ

বিয়ের কয়েক মাস আগে বরের মৃত্যু, ১৬ হাজার ডলার ফেরত দিতে নারাজ বিয়ের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

ক্যালিফোর্নিয়ার সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকায় দাবানলের কারণে হাজারো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ল একাধিক বাড়ি, ১৬ হাজার মানুষকে সরানোর নির্দেশ

0 Comments