সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মর্টগেজ রেট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মর্টগেজ রেট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মদদপুষ্ট মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ফ্রেডি ম্যাকের প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ গড় হার। ওই সময় ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক বছর আগে এই গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সুদের হার বাড়লেও আবাসন বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটের বলেন, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ক্রেতাদের অব্যাহত আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

 

মর্টগেজ রেট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদিও মর্টগেজ রেট সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ট্রেজারি ইয়েল্ডের হার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

 

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সুদের হার ক্রমশ বাড়ছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং তা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, যখন মনে হচ্ছিল সংঘাতের সমাধান হতে চলেছে, তখন বন্ড ইয়েল্ড কমেছিল এবং মর্টগেজ রেটও নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং ইয়েল্ড ও মর্টগেজ রেট আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

সূত্র: ফক্স বিজনেস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চেয়েছে ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল ইনক। ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগাম জানানো হয়নি বলে প্রকাশিত সংবাদে তারা উদ্বিগ্ন।   বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মঈন চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথি সরবরাহ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং দুই নাগরিকের কনস্যুলার অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া সৌদি আদালতের রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়ার পর সরকার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে অবহিত ছিল না বলে সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছিল।   সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর তা কার্যকর করা হয়। তবে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গ্রেপ্তারের সময় কিংবা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।   ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের কথা উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার এবং ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার দপ্তরকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। তবে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাসকে আগাম জানানোর বিষয়ে কনভেনশনে নিঃশর্ত বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়েছে।   সংগঠনটি সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সরকারকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর কনস্যুলার যোগাযোগ, উপযুক্ত আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিষয়টি পর্যালোচনার কথাও বলা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও বিদেশে ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২২:১৭
নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা সমন্বয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পৃথক বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় জোর দিতে ট্রাম্পের নির্দেশ, গঠন হচ্ছে বিশেষ বিভাগ

অপরাধ, সড়ক নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আর্থিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮২টি শহরের মূল্যায়ন করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপদ ২০ শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে আলাস্কার জুনো

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসে আলরাহমা মসজিদের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জানাজা চলাকালীন মসজিদের পাশে গোলাগুলি, নিহত এক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসে একটি মসজিদের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় মসজিদে জানাজার আয়োজন চলছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনাটি মসজিদ বা সেখানে জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ঘটানো হয়নি। মসজিদসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   কলম্বাস ডিভিশন অব পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আলরাহমা মসজিদ থেকে জানাজায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বের হওয়ার পর গুলির শব্দ শোনা যায়। মসজিদটি শহরের ২২২৬ অ্যালবার্ট অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। প্রথম দিকে কতজন গুলি চালিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে তদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, গুলিবর্ষণের ঘটনাটি মসজিদের ভেতরে চলা ধর্মীয় আয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।   কলম্বাস পুলিশের সার্জেন্ট জেমস ফুকুয়া বলেন, মসজিদে তখন এমন একটি অনুষ্ঠান চলছিল, যার সঙ্গে বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদ বা সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক হালনাগাদ তথ্যে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।   ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরোর বিশেষ এজেন্টরা। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কী কারণে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারজনিত সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের বিষয়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪০৮টি নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে ৩৯৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ৮৬৭ জন আহত হন। সংস্থাটি চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে, হামলাকারীকে বাদ দিয়ে, নির্বিচার গুলিবর্ষণ হিসেবে গণনা করে। তবে কলম্বাসের এই ঘটনাটি ওই শ্রেণিতে পড়ে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), কলম্বাস ডিভিশন অব পুলিশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২০:৩৭
নিউইয়র্কের ম্যাকআর্থার বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট বিমানবন্দর, সম্প্রসারণে ব্যয় ১৫ কোটি ডলার

নিউইয়র্কের ম্যাকআর্থার বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট বিমানবন্দর, সম্প্রসারণে ব্যয় ১৫ কোটি ডলার

মাত্র ২২ হাজার ডলারে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ নিউইয়র্কে, চলছে আবাসন লটারি

মাত্র ২২ হাজার ডলারে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ নিউইয়র্কে, চলছে আবাসন লটারি

নিউইয়র্কে ৬২ বছর বয়সীদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী আবাসন, আয় না থাকলে ভাড়া শূন্য ডলার

নিউইয়র্কে ৬২ বছর বয়সীদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী আবাসন, আয় না থাকলে ভাড়া শূন্য ডলার

লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) ক্যাম্পাসের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তাঁর ফায়ারফাইটার হবু স্বামী। রোববার ভোরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় মদ্যপ এক তরুণী চালকের গাড়ির ধাক্কায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।   ব্যাটন রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নিহত ওই জুটির নাম লেয়া ফন্টে (২১) এবং শেন হার্স্টিয়াস (২১), যাঁরা একে অপরের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঘটনায় মিয়া ডসন (২০) নামের এক তরুণী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, হিট-অ্যান্ড-রান এবং গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডসন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে উঠে যান এবং সেখানে হাঁটতে থাকা ওই জুটিকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই ফন্টের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্স্টিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিভার রিজ ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক ফেসবুক পোস্টে শেন হার্স্টিয়াসকে স্মরণ করে জানিয়েছে, শেন কেবল একজন ফায়ারফাইটারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ, যাঁর অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল।   অন্যদিকে, লেয়া ফন্টে ছিলেন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস এক বিবৃতিতে ফন্টের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ধৈর্য ধারণের প্রার্থনা করেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৭:১৫
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক

ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ

0 Comments