আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন।
তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়।
নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে।
তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এই কর্মসূচি চালু করতে হবে। তবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন এখনো শুরু হয়নি। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয়, সরকার নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে বাদীপক্ষের যুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেন। বিচারক ওহতা তাঁর আদেশে বলেন, পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই নিবন্ধন শুরু না করায় সরকারের পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন চালু করলে কর্মসূচির সময়সীমা-সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণের অজুহাতে নিবন্ধন বন্ধ রাখলে ২০২৭ অর্থবছরের লটারি আয়োজনই সম্ভব হবে না। এ কারণে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালত নজরদারি বজায় রাখবেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা হবে অন্তত ৩০ দিন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। তবে নিবন্ধন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়, আবেদন করার ওয়েবসাইট ও যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ জারি হওয়া মানেই নিবন্ধন ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, এমন নয়। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে চালু হওয়া ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচিতে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই অবশ্য গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত সম্পন্ন করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে ভিসা প্রক্রিয়ায় মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলমান বা বিচারাধীন মামলা নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় কঠোরতা এনেছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লটারি চালুর আদালতের নির্দেশকে এখনই আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নিবন্ধনের তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিতভাবে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। সূত্র: নিউজউইক, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস, মার্কিন আদালতের সংশোধিত সময়সূচিসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জানাজা চলাকালীন মসজিদের পাশে গোলাগুলি, নিহত এক
নিউইয়র্কের ম্যাকআর্থার বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট বিমানবন্দর, সম্প্রসারণে ব্যয় ১৫ কোটি ডলার
মাত্র ২২ হাজার ডলারে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ নিউইয়র্কে, চলছে আবাসন লটারি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী এক চমৎকার ও সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা নিয়ে এসেছে 'লুনা গ্রিন' নামের একটি নতুন প্রকল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকার ৩০২৭ ওয়েস্ট ২১ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত এই নবনির্মিত আবাসিক ভবনটি থেকে সমুদ্রসৈকত ও বিখ্যাত বোর্ডওয়াক মাত্র কয়েক ব্লকের দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রবীণদের আরামদায়ক জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখে নকশা করা এই ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক নাগরিক জীবনের সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। শতভাগ প্রবীণদের জন্য নিবেদিত এই প্রকল্পে থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বড় জানালা ও আধুনিক ফিনিশিংযুক্ত প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য ও নির্মল বাতাস উপভোগ করা যায়। এছাড়া বাসিন্দাদের শারীরিক ও সামাজিক সুস্থতার জন্য ভবনের ভেতরেই থাকছে জিমনেসিয়াম, ফিজিক্যাল থেরাপি স্যুট, চমৎকার কমিউনিটি লাউঞ্জ এবং একটি উন্মুক্ত পাবলিক টেরেস। চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট, কেন্দ্রীয় লন্ড্রি রুম এবং সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা সুবিধাও রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা শ্রবণ ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে এমন প্রবীণদের জন্য এই ভবনে বিশেষায়িত অ্যাপার্টমেন্টও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ আবাসন প্রকল্পে আবেদনের প্রাথমিক শর্ত হলো, পরিবারের প্রধান বা যুগ্ম-প্রধানের বয়স অন্তত ৬২ বছর হতে হবে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ভাড়া কাঠামো, যা নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের প্রবীণদের জন্য ব্যাপকভাবে সহায়ক। এনওয়াইসিএইচএ সেকশন ৮ প্রজেক্ট-বেজড ভাউচার কাঠামোর আওতায় আবেদনকারীদের কোনো ক্রেডিট চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বাসিন্দাদের মাসিক আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ ভাড়া হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর কোনো ন্যূনতম আয়ের বাধ্যবাধকতা নেই; অর্থাৎ কারও আয় শূন্য হলে তাঁর ভাড়াও শূন্য ডলার হতে পারে, যা ভাউচার সাবসিডির মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। তবে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক চুলার খরচ বাসিন্দাদেরই বহন করতে হবে। যোগ্য প্রবীণরা নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় জমা দিতে পারবেন।
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো পরিপাটি পোশাক পরে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল অফিস) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্লোস অ্যান্থনি মিচেল (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি উডব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুরির সময় ওই ব্যক্তি ব্লেজার, সাদা শার্ট, গ্লাভস এবং টুপি পরে একদম পেশাদার ভদ্রলোকের বেশে ছিলেন। গত মে মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি পর্যন্ত মোট তিনটি বাণিজ্যিক চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে উইলো ওকস করপোরেট ড্রাইভ এলাকার একটি বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ঢুকে ওই ব্যক্তি ক্যামেরা, ক্যামেরার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে চুরি যাওয়া সেসব সরঞ্জাম বন্ধক রাখার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মিচেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর গত ৩ ও ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকলিন এবং ফেয়ার ওকস এলাকার আরও দুটি মেডিকেল অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। উভয় জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে ব্লেজার, সাদা শার্ট, নীল বাকেট হ্যাট, গ্লাভস এবং মেডিকেল মাস্ক পরা একই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পান গোয়েন্দারা। পোশাক ও চুরির ধরনের এই মিল থেকেই তিনটি ঘটনার যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মিচেলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাই মাল রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের চুরির অপরাধে এক থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অভিনব এই চোর আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন
যুক্তরাষ্ট্রে গরমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ লাখ পাউন্ড মাংস প্রত্যাহার, তালিকায় হটডগ-বেকন