সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:৫২
আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন। 

 

নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন। 

 

তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। 

 

নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। 

 

তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডার নর্থ লডারডেলে ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধ, গুলি করে ৬২ বছরের ব্যক্তিকে হত্যা: ফ্লোরিডার নারীকে করা হচ্ছে না মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক নারীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। তদন্ত শেষে প্রসিকিউটররা বলেছেন, ঘটনার সময় ওই নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য।   ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন নর্থ লডারডেলের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম বার্ট ডিগুগলিয়েলমো। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা একটি স্মারকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্কিংয়ের একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয় এবং পুরো ঘটনার বেশির ভাগ অংশই মুঠোফোন ও একটি টেসলা গাড়ির ক্যামেরাসহ একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার তথ্য ছিল।   স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী, গুলি চালানো নারীকে মেলিসা পেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি তার ভাতিজি ও ভাতিজির শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। পেইন ও ডিগুগলিয়েলমো একই পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়।   এরপর ডিগুগলিয়েলমো নিজের গাড়িটি চলাচলের পথে রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি গাড়িতে ফিরে আসেন। প্রসিকিউটরদের স্মারকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে পেইনের গাড়ি নিয়ে ক্ষতি করার কথা বলতে শুনেছেন। এরপর তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অন্য জায়গায় পার্ক করেন এবং হেঁটে পেইনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে তখন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।   পেইন তখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তার বাঁ হাতে ছিল মোবাইল ফোন এবং ডান হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডিগুগলিয়েলমোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যদি তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন, তাহলে তিনি গুলি করবেন। কিন্তু ওই সতর্কবার্তার পরও ডিগুগলিয়েলমো তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতেও তাকে পেইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ডিগুগলিয়েলমো এগিয়ে আসার সময় পেইন পেছাতে থাকেন। ভিডিওতে ডিগুগলিয়েলমোকে তার পিছু নিতে এবং চাবি দিয়ে পেইনের গাড়ির ক্ষতি করার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ফিরে গেলেও আবার পেইনের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পেইন গুলি চালান। গুলিটি ডিগুগলিয়েলমোর পেটে লাগে।   গুলি চালানোর সময় পেইন তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর পেইন তাকে পুলিশে ফোন করতে বলেন। পরে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতে নেন। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে পেইনের দেওয়া ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পরে আত্মরক্ষার দাবি করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   এরপর মামলাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যায়। প্রসিকিউটরদের পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময় পেইন যুক্তিসংগতভাবে নিজের জীবন বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন কি না।   ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের হোমিসাইড ট্রায়াল ইউনিটের প্রধান স্টিফেন জ্যাকর বলেন, পেইন একটি জনসমাগমস্থলে ছিলেন এবং ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করার আইনগত অধিকার তার ছিল। তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীও নন এবং আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার তার ছিল। ফলে গুলি চালানোর মুহূর্তে তিনি অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছিলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে তিনি মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরে না গিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রসিকিউটরদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেইনের ক্ষেত্রে তার ভয় অযৌক্তিক ছিল, এমন প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের হাতে নেই।   প্রসিকিউটর জ্যাকরের মতে, এই আইনের কারণে পেইনকে আগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। তার পক্ষে সরে যাওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল না, যদি তার আশঙ্কা যুক্তিসংগত হয়ে থাকে এবং বিপরীত প্রমাণ না থাকে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, এই ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো প্রমাণ নেই।   ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছিল, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং পেইন দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সে সময় তদন্ত চলছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল।   শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউটররা পেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধে ডিগুগলিয়েলমোর মৃত্যুর ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে না।   ঘটনাটি আবারও ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ক্লিয়ারওয়াটারে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের সময় গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও একই আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে বর্তমান নর্থ লডারডেল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তদন্ত-তথ্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: এবিসি নিউজ

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মর্টগেজ রেট। ছবি: সংগৃহীত

মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে

আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

টাম্পায় ৯৩ বছর বয়সী এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রস। ছবি: সংগৃহীত

টাম্পায় ৯৩ বছরের নারীর বিছানার পাশে অচেনা যুবক, ৯১১ কলে গ্রেপ্তার

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব
মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে শপথ নিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।   গত এপ্রিলে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই বিশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা।   রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা আয়েশা পরবর্তীতে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিবারে।   কংগ্রেসে তার প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এরা আমাদেরই মানুষ। আমরা যদি বিভাজনের বদলে সাধারণ উদ্দেশ্য এবং রাজনীতির বদলে মানুষকে বেছে নিই, তবে আমেরিকার স্বপ্নকে আবারও সত্যি করে তুলতে পারব।   কারণ এই স্বপ্ন কেবল রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং উন্নত আগামীর প্রত্যাশা করা প্রতিটি আমেরিকানের।”   ইস্ট বে ডিস্ট্রিক্টের এই বিশেষ নির্বাচনে বার্ট (BART) বোর্ড ডিরেক্টর মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে কংগ্রেসের টিকিট নিশ্চিত করেন আয়েশা ওয়াহাব।   তবে তাদের এই রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মেয়াদের জন্য আবারও ব্যালট যুদ্ধে মুখোমুখি হবেন এই দুই প্রার্থী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৯:১৩
নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান হলেন পারভেজ রহমান

নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান হলেন পারভেজ রহমান

বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ

বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে সিলেটের ইকবালের নতুন মাইলফলক, ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেলেন সিলেটের ইকবাল হোসেন

শিক্ষকতার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে ১৪ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষিকা
শিক্ষকতার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে ১৪ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক শিক্ষিকা আদালতে অঝোরে কেঁদেছেন। গত সোমবার রিভারসাইড সুপিরিয়র কোর্টে শুনানিকালে ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মা তাদের পারিবারিক ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ বছর বয়সী আমান্ডা লেই কুইনোনেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় চার বছর আগে নিজের ওই ছাত্রের সঙ্গে জঘন্য এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।   আমান্ডা কুইনোনেজ রিভারসাইডের এলেনর রুজভেল্ট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষিকা এবং ওয়াটার পোলো ও সাঁতারের কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়।   সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিকৃত যৌন নিপীড়ন এবং তাকে যৌন উদ্দীপক সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আদালতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা-মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চেয়ে আমান্ডা স্বীকার করেন যে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে তিনি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।   আদালতে ওই কিশোরের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, শিক্ষিকার এমন ঘৃণ্য আচরণের কারণে তার ছেলেকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।   ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি ও উপহাসের কারণে ভুক্তভোগী কিশোর ও তার বড় ভাইকে স্কুলের বেসবল দল ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়।   ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাকে বারবার বলতেন এই সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে (শিক্ষিকাকে) রক্ষা করতে হবে।   ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকা এই সাবেক শিক্ষিকাকে মঙ্গলবার পুনরায় আইনি হেফাজতে নেওয়ার কথা রয়েছে।   মানসিক মূল্যায়নের জন্য আপাতত তাকে স্টেট প্রিজনে পাঠানো হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার জন্য তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৭:১৪
ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন

ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন

খালাকে মা সাজিয়ে গ্রিন কার্ড নেওয়ার অভিযোগ, আসল মাকে স্পনসর করতে গিয়ে ধরা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য

খালাকে মা সাজিয়ে গ্রিন কার্ড নেওয়ার অভিযোগ, আসল মাকে স্পনসর করতে গিয়ে ধরা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডানবারিতে আইসিইর সাঁড়াশি অভিযান, ৫০ জনের বেশি গ্রেপ্তার I ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডানবারিতে আইসিইর সাঁড়াশি অভিযান, ৫০ জনের বেশি গ্রেপ্তার

0 Comments