ফ্লোরিডায় স্টোর থেকে শিশুখাদ্য চুরি করে বিক্রি, ১১ লাখ ডলারের চক্রের মূল হোতা দম্পতি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চুরি করা শিশুখাদ্য বা বেবি ফর্মুলা কেনাবেচার ১১ লাখ ডলারের এক বিশাল চক্রের মূল হোতা হিসেবে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন ৫৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলসাইদি এবং ৪৯ বছর বয়সী জেইনা আব্দুল-হাসান সু জাবিব। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার এবং পাম বিচ শেরিফ অফিস গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চুরি করা সম্পত্তি কেনাবেচার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে লেক ওয়ার্থের একটি বাড়ি এবং ডেভি এলাকার একটি গুদাম থেকে এই অবৈধ চক্রটি পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ পায় কর্তৃপক্ষ। চক্রের সাথে জড়িত পেশাদার চোরেরা (যাদের বুস্টার বলা হয়) পুবলিক্স, টার্গেট, ওয়ালমার্ট, সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনসের মতো বড় স্টোর থেকে বেবি ফর্মুলা চুরি করে আনত।
এরপর তারা বাজারদরের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ দামে, অর্থাৎ প্রতি কৌটা ১০ ডলারে সেগুলো ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিত। পরবর্তীতে আলসাইদি এবং জাবিব বেশি লাভের আশায় এই শিশুখাদ্যগুলো গুদামে মজুত করে পুনরায় চড়া দামে বিক্রি করতেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফ্লোরিডাজুড়ে ১৫০টিরও বেশি চুরির ঘটনার সাথে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এই ন্যক্কারজনক অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেন, যেসব বাবা-মা সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বেবি ফর্মুলার ওপর নির্ভরশীল, তাদের কাছ থেকে এটি চুরি করা অত্যন্ত বিবেকহীন কাজ।
পাম বিচ শেরিফ রিক ব্র্যাডশ জানান, স্টোরগুলোতে শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিলে তা সাধারণ পরিবারগুলোর মধ্যে মারাত্মক ভীতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার সাথে জড়িত কেনেথ এল. জোন্স জুনিয়রসহ মোট ৯ জন পেশাদার চোরকে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু কেনেথই ৭০ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের শিশুখাদ্য চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপ (SNAP) ও সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেইডের সুবিধা ধরে রাখতে বাসিন্দাদের সহায়তায় নতুন ওয়েবপেজ চালু করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। এতে ফেডারেল সরকারের নতুন কাজের শর্ত, কারা এসব শর্ত থেকে ছাড় পেতে পারেন এবং সুবিধা চালু রাখতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওয়েবপেজটি ব্যবহার করে বাসিন্দারা নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে NYC.gov/workrules ঠিকানায়। নতুন ওয়েবপেজে বয়স, চাকরি, পড়াশোনা ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ব্যবহারকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কাজের শর্ত প্রযোজ্য কি না। সম্ভাব্য ছাড়ের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন বা তথ্য জমা দেওয়ার পদ্ধতিও সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্ন্যাপ ও মেডিকেইডের সহায়তা নম্বর, চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের তথ্য রয়েছে। যাঁরা খাদ্যসহায়তা বা স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প সহায়তা পাওয়ার পথও তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে স্ন্যাপের আওতায় কিছু প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ফেডারেল কাজের শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী, যাঁদের সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকে না এবং যাঁদের কাজ করতে শারীরিক বা মানসিক বাধা নেই, তাঁদের একটি অংশ নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন। সাধারণভাবে তাঁদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, অথবা অনুমোদিত প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, স্বেচ্ছাসেবা কিংবা চাকরি খোঁজার কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। তবে সব স্ন্যাপ গ্রহীতার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় পেতে পারেন। নতুন নিয়মের কারণে যাঁরা স্ন্যাপের সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের আবার আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ চালু হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এ বছর ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সহায়তা করে খাদ্যসহায়তা ধরে রাখতে সাহায্য করা হয়েছে। তবে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ বাসিন্দা নতুন কাজের শর্তের কারণে সুবিধা হারিয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে। যোগ্যতা বা ছাড় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বাসিন্দারা ৭১৮-৭৬২-৭৬৬৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ACCESS HRA-এর মাধ্যমে তথ্য দেখতে পারেন। মেডিকেইডের ক্ষেত্রেও নতুন ফেডারেল নিয়ম আসছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের জন্য কাজ, প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের প্রমাণ জমা দেওয়ার শর্ত চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণভাবে ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা যোগ্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়া অথবা পরিবারের মাসিক আয় নির্দিষ্ট সীমায় থাকার প্রমাণ দিতে হতে পারে। গর্ভাবস্থা, অক্ষমতা, ছোট শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির দেখাশোনার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ছাড়ের সুযোগও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিয়মের কারণে শহরের প্রায় ৯ লাখ মেডিকেইড গ্রহীতা স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বাসিন্দাদের সহায়তায় সিটি প্রশাসন হেলথ অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবিলিটি রিসোর্স টিম বা HART নামের একটি দলও চালু করেছে। দলটি স্বাস্থ্যবিমায় নিবন্ধন ও সুবিধা ধরে রাখা, খাদ্যসহায়তা, নগদ সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং হাসপাতালের বিলসংক্রান্ত সহযোগিতা পেতে বাসিন্দাদের পথ দেখাবে। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, এ উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় সংগঠনগুলো যুক্ত রয়েছে। সিটির লক্ষ্য হলো, জটিল নিয়ম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে যোগ্য কেউ যেন জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও নতুন ওয়েবপেজটি কাজে আসতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা খাদ্যসহায়তা বা মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল। তবে ওয়েবপেজে তথ্য দেখা বা প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা যাচাই করা মানেই সুবিধা নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থা আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই বাসিন্দাদের নিজেদের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি না এবং কী কী নথি জমা দিতে হবে, তা সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নগর প্রশাসন। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিউইয়র্ক নাকি লস অ্যাঞ্জেলেস, উবার চালিয়ে কোথায় বেশি আয় হয়?
মিশিগানের ডেট্রয়েটে বাড়ির মালিকদের ১০০% পর্যন্ত কর মওকুফের সুযোগ, আবেদন শেষ ৬ নভেম্বর
কৃষ্ণাঙ্গদের গ্রেপ্তারের গোপন প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ফুটবল খেলায় দারুণ পারদর্শিতা দেখানো তিন বছরের এক শিশুকে ঘিরে বিরোধের জেরে মাঠে পুলিশ ডাকার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। নেভাডা নামের শিশুটি পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি ফুটবল লিগে খেলছিল। ম্যাচে তার একের পর এক গোল করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুটির পরিবার দাবি করে, ভালো খেলার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল লিগ কর্মকর্তা ও শিশুটির পরিবারের মধ্যে বিরোধ, কোনো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা নয়। ঘটনাটি ঘটে উইন্টার পার্ক শহরের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র পার্কে, গত শনিবার সকালে। আই৯ স্পোর্টসের ওই যুব ফুটবল লিগের পরিচালক থমাস হেইস জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে জানান, সেখানে এক অভিভাবক খুবই বিশৃঙ্খল আচরণ করছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রকাশিত ফোনালাপ অনুযায়ী, হেইস অভিযোগ করেন, ওই অভিভাবক তাকে অনুসরণ করছিলেন এবং অন্যদের সামনে অপমানজনক কথা বলছিলেন। পরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নেভাডার মা মার্টাসিয়া হাফপোস্টকে বলেন, তার ছেলে পুরো মৌসুমজুড়েই অন্যদের তুলনায় বেশি ভালো খেলার কারণে সমস্যার মুখে পড়ছিল। তার দাবি, ম্যাচের দিন কয়েকজন অভিভাবক, কোচ ও লিগ পরিচালককে একসঙ্গে আলোচনা করতে দেখে তিনি ছেলের পক্ষে কথা বলতে এগিয়ে যান। এরপরই পুলিশ ডাকা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মার্টাসিয়ার ভাষ্য, ঘটনাটির পর নেভাডা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে এখনো ফুটবল খেলতে চায়, তবে ওই মাঠে আর ফিরতে চায় না। শিশুটি মনে করছে, সে বুঝি কোনো ভুল করেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি লিগ কর্মকর্তা ও পুলিশের বিবরণও সামনে এসেছে। পুলিশের নথিতে বলা হয়েছে, লিগ কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবারকে জানায় যে তাদের সন্তানকে আর ওই লিগে খেলতে দেওয়া হবে না। পরিবারের সদস্যরা মনে করেছিলেন, নেভাডা ভালো খেলছে বলেই তাকে খেলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, লিগ কর্মকর্তারা অভিভাবকদের আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। দুই পক্ষের বক্তব্যে এই মতবিরোধের কারণ নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। উইন্টার পার্ক পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল দেওয়ানি পর্যায়ের বিরোধ, ফৌজদারি অপরাধ নয়। পুলিশ বলেছে, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, পার্কে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়নি এবং কাউকে জোর করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়নি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারটি সহযোগিতা করেছিল এবং খেলা শেষ হওয়ার পর নিজেরাই চলে যাওয়ার কথা জানায়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাদের পরিধেয় ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওও তাদের বিবরণকে সমর্থন করে। এদিকে, আই৯ স্পোর্টসের স্থানীয় শাখা জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। শিশু ও পরিবারের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং তাদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। নেভাডার মা জানিয়েছেন, লিগ কর্তৃপক্ষ তাদের অংশগ্রহণের ফি ফেরত দিয়েছে। তবে বিরোধের সব দিক এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চললেও, লিগের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কী বিষয় কাজ করেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, উইন্টার পার্ক পুলিশ বিভাগ, আই৯ স্পোর্টসের বিবৃতি।
নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৭৩২ ডলারে বাসা ভাড়ার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারি
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছরের কম বয়সীদের কয়েক ধরনের ক্যানসার বাড়ছে, কারণ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা
কাজের জন্য লাস ভেগাসে ছয় দিনের সফর, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ায় গ্রেপ্তার মা
নিজের চেহারা ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ করেছেন নিউইয়র্কের উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল ফিউইংস। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৬ টাকা ধরলে। স্তন অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে বোটক্স, ত্বকের চিকিৎসা, চুল ও নখের পরিচর্যা, দাঁতের সৌন্দর্য বাড়ানোসহ নানা পদ্ধতিতে অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। তবে এত টাকা খরচ করেও তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। বরং নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন ৪০ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রতিবেদনে নিজের সৌন্দর্যচর্চার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ড্যানিয়েল। ডিজিটাল বিপণন খাতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিজের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পর সেটি বিক্রি করে দেন। ২০২৬ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘গেট ক্লিয়ার বিউটি’ নামে সৌন্দর্যচিকিৎসাসেবা খুঁজে পাওয়ার একটি বাজারভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। ড্যানিয়েলের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই নিজের চেহারায় কিছু একটা অপূর্ণতা অনুভব করতেন তিনি। সেই অনুভূতি থেকেই ২০১৩ সালে প্রথম সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা নেন, এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হন। ড্যানিয়েলের প্রথম বড় অস্ত্রোপচার ছিল স্তন ছোট করার চিকিৎসা। ২৭ বছর বয়সে তাঁর স্তনের আকার ছিল ৩২জি, যা তিনি নিজের জন্য অস্বস্তিকর মনে করতেন। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরও চিকিৎসা নেওয়ার সাহস পান বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ার ফলে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং নিজের ব্যবসার প্রচারেও পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচারমূলক বিষয়বস্তু তৈরি করা এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সামনে নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই আত্মবিশ্বাস কাজে এসেছে। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যের চাপ ছিল না বলে দাবি করেন ড্যানিয়েল। তাঁর বক্তব্য, নিজের পছন্দ অনুযায়ী চেহারায় পরিবর্তন আনতেই তিনি অর্থ ব্যয় করেছেন। চোখের পাতার অতিরিক্ত চামড়া অপসারণের অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন, যদিও তাঁর মতে, অন্যরা হয়তো মনে করবেন এই চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু নিজের চোখের পাতা ভারী মনে হওয়ায় তিনি পরিবর্তনটি চেয়েছিলেন। বয়সের ছাপ কমাতে নিয়মিত পরিচর্যার প্রতিও আগ্রহী তিনি। প্রতি তিন মাসে বোটক্স নেন এবং বছরে একবার ঠোঁটে ফিলার করান। ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে মুখের ত্বক টানটান করার অস্ত্রোপচারও করাতে চান। নিজের হিসাব অনুযায়ী, এককালীন অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য সৌন্দর্যচিকিৎসায় প্রায় ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন ড্যানিয়েল। এর মধ্যে ছিল পেটের অতিরিক্ত চামড়া অপসারণ, ত্বক টানটান করার চিকিৎসা, লাইপোসাকশন, অস্ত্রোপচারের দাগ সংশোধন, চোখের পাতার অস্ত্রোপচার, ফিলার এবং ত্বকের বিভিন্ন চিকিৎসা। উল্লেখযোগ্য একটি চিকিৎসা করিয়েছিলেন ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে। বড় ধরনের ওজন কমার পর পেটের অস্ত্রোপচার, ত্বক টানটান করা এবং স্তনে আরও দুটি অস্ত্রোপচারসহ ওই চিকিৎসাগুলোর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে স্তনে মোট তিনবার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি। নিয়মিত সৌন্দর্যচর্চার খরচও কম নয়। গত ১০ বছর ধরে প্রতি দুই সপ্তাহে ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করান ড্যানিয়েল। প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতি তিন সপ্তাহে চোখের পাপড়ির পরিচর্যা, পাশাপাশি বোটক্স, ফিলার, ত্বকের বিভিন্ন চিকিৎসা, চুল কাটা ও অন্যান্য পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব নিয়মিত খাতে সময়ের সঙ্গে তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ এককালীন অস্ত্রোপচারের তুলনায় দীর্ঘদিনের নিয়মিত পরিচর্যাতেই তাঁর খরচ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সৌন্দর্যচর্চার প্রকৃত ব্যয় হিসাব করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠানের ধারণার পেছনেও এই অভিজ্ঞতা কাজ করেছে বলে জানান ড্যানিয়েল। ড্যানিয়েলের মতে, নিয়মিত পরিচর্যার উদ্দেশ্য হলো কম সময় ও পরিশ্রমে নিজেকে পরিপাটি রাখা। চোখের পাপড়ি, নখ, ঠোঁটের রং এবং ভ্রুর পরিচর্যা করানোর কারণে তাঁকে প্রতিদিন খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করতে হয় না। অন্যদিকে, শরীরের ওজন ওঠানামা করায় কিছু বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন তিনি। পায়ের ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়ার কারণে মর্ফিয়াস৮ নামের একটি ত্বকচিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কুলস্কাল্পটিং নামের চর্বি কমানোর পদ্ধতি কিংবা নাকের অস্ত্রোপচারে তাঁর আগ্রহ নেই। নিজের নাক নিয়ে এখন সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিজের চেহারা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবসায়িক সাফল্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন ড্যানিয়েল। সপ্তাহে প্রায় ১৫টি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং ব্যবসার জন্য নিয়মিত ভিডিও ধারণ করার সময় নিজের উপস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, নিজের চেহারা নিয়ে স্বস্তিতে থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করা যায় এবং নিজের দক্ষতাও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়। ওজন কমানোর জন্য জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহার, বিভিন্ন অস্ত্রোপচার এবং নিয়মিত পরিচর্যার সমন্বয়ে বর্তমান চেহারা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে তাঁর এই অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত; সৌন্দর্যচিকিৎসার প্রয়োজন, ফলাফল ও ঝুঁকি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।
নার্সিং হোমে চাকরি করেন? ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মসূচিতে পেতে পারেন ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা
ভিসার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনায় স্ত্রী-সন্তান, প্রতিদিন পরিবার থেকে দূরে মার্কিন বাবা