নিউইয়র্কের ৯/১১ স্মৃতিসৌধে সাব্বির আহমেদের পরিবারের শ্রদ্ধা, ২৫ বছর পরও অমলিন শোক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশির একজন ছিলেন সাব্বির আহমেদ। হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে তার পরিবারের সদস্যরাও নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেখানে প্রিয়জনের স্মৃতি ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফিরে আসে সেই ভয়াবহ দিনের শোক ও বেদনা।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজ২৪ জানায়, ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। সেখানে সাব্বির আহমেদসহ হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যায়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে। দুটি টাওয়ারই পরে ধসে পড়ে। আরেকটি বিমান আঘাত করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়।
সেদিনের হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন বাংলাদেশি। তারা হলেন শাকিলা ইয়াসমিন, নুরুল হক মিয়া, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ২০২৬ সালের ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানে তাদের স্বজনদের উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
সাব্বির আহমেদের জীবন ও পরিবারের বিষয়ে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে ৯/১১ হামলার নিহতদের তালিকায় তার নাম রয়েছে এবং তার স্বজনরা গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সাব্বিরের পরিবারের জন্য নিউইয়র্কের এই স্থান শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং ২৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একজন আপনজনের স্মৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জায়গা।
গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়ালে সাবেক টুইন টাওয়ারের জায়গায় দুটি বিশাল রিফ্লেক্টিং পুল রয়েছে। চারপাশের ব্রোঞ্জের প্যারাপেটে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা হয়েছে। ২০১১ সালে হামলার দশম বার্ষিকীতে মেমোরিয়ালটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। নিহতদের নামের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের অনেকেই প্রতিবছর প্রিয়জনকে স্মরণ করেন।
২৫ বছর পর নিউইয়র্কের আকাশরেখা বদলে গেছে। টুইন টাওয়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স এবং ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। কিন্তু নিহতদের পরিবারের কাছে উন্নত ভবন বা পুনর্গঠিত শহর সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। সাব্বির আহমেদের পরিবারের জন্যও ৯/১১-এর স্মৃতি তাই কেবল ইতিহাস নয়, একজন আপন মানুষকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী বেদনা।
২০২৬ সালের স্মরণ অনুষ্ঠান সেই ইতিহাসকেই আবার সামনে এনেছে। ২৫ বছর পরও গ্রাউন্ড জিরোর স্মৃতিফলকে খোদাই করা নামগুলো স্বজনদের কাছে শুধু নাম নয়, প্রতিটি নামের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন এবং অপূরণীয় এক শূন্যতার গল্প।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ এখন নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচও সামলাতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁদের কখনো কখনো খাবার বাদ দিতে হয়েছে। শুধু খাবারের পরিমাণ কমানো নয়, স্বাস্থ্যকর খাবার কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপে উঠে আসা এই তথ্য দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ জানান, খাবারের দাম বাড়ার কারণে তাঁরা খাবার বাদ দিয়েছেন। আরও ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, খরচ সামলাতে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ও লিঙ্গের অনুপাত যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে এই ফলাফল থেকে দেশের অর্ধেক মানুষই খাবার বাদ দিচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর গ্রোসারি খরচ বেড়েছে। যাঁদের খরচ বেড়েছে, তাঁদের মাসে গড়ে অতিরিক্ত ১৫২ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে বছরে অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮২৪ ডলার। একই আয়ে বাড়তি এই ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে অন্যান্য খরচ কমাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ রেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির কিস্তি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে চলে যায়, তাদের জন্য গ্রোসারি খরচ বৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। খাবারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবারের মাসিক বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, বেশি দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে কেনাকাটার সময় তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছেন কিংবা খাবারের পরিমাণ কমাচ্ছেন। জরিপে খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে উঠে এসেছে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মূল্যস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রোসারি পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্রাউন্ড বিফের দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং কফির দাম প্রায় ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব খাদ্যপণ্যের দাম একই হারে বাড়েনি। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পার্থক্যের কারণে পরিবারের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটার ধরনের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণও ভিন্ন হচ্ছে। খাবারের দাম নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অন্য জরিপেও উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোস পরিচালিত জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানান, তাঁদের কাছে গ্রোসারি পণ্যের দাম অসহনীয় মনে হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ। বছরে ৫০ হাজার ডলারের কম আয়ের পরিবারের মধ্যে ৮২ শতাংশ খাবারের দামকে অসহনীয় বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের পরিবারের মধ্যেও ৫৬ শতাংশ একই মত দিয়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের অক্টোবরের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত পরিচালিত ওই জরিপে ৭৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক খাবার ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ৬৯ শতাংশ হেলথ কেয়ারের খরচ এবং ৬৬ শতাংশ আবাসন ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, শুধু গ্রোসারি নয়, পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খরচ একসঙ্গে সামলানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও খাবারের দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি কিংবা একাধিক নির্ভরশীল সদস্য রয়েছেন, সেখানে মাসিক গ্রোসারি বাজেটের পরিবর্তন সরাসরি পারিবারিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ডিসকাউন্ট স্টোর থেকে কেনাকাটা, সাপ্তাহিক অফার ব্যবহার এবং তুলনামূলক কম দামের পণ্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আয় ও অন্যান্য শর্ত পূরণকারী পরিবারগুলো স্ন্যাপের মতো সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও পেতে পারেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। তবে খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে ঠিক কত মানুষ নিয়মিত খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তা নির্ধারণে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণা প্রয়োজন। সেলফ ফাইন্যান্সিয়ালের জরিপটি অন্তত এটুকু দেখাচ্ছে, উচ্চমূল্যের চাপ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কেনাকাটার অভ্যাস বদলানোর বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন খাবার গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা
কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেদের বাড়ি ও প্রায় সব সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। পরিকল্পনা ছিল বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজে বসবাস করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার। কিন্তু যাত্রা শুরুর ১৭ মাসের মাথায় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে সেই ক্রুজের কার্যক্রম। ফলে কম্বোডিয়ায় জাহাজ ছেড়ে নামতে হয়েছে তাঁদের। বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এমন পরিস্থিতিতে পড়লেও নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন দম্পতি পল ও লিন মন্টোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন পল ও লিন। দীর্ঘদিনের বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা পূরণ করতে তাঁরা নিজেদের বাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন। এরপর ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত ওডিসি নামের একটি ক্রুজ জাহাজে থাকার ব্যবস্থা করেন। জাহাজটির একটি কেবিনের জন্য তাঁরা খরচ করেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছরের এই যাত্রায় বিশ্বের চার শতাধিক বন্দরে থামার কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু গত ২৭ অক্টোবর ক্রুজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে। এর ফলে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত জাহাজটির বাসিন্দাদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দুপুর দুইটার মধ্যে জাহাজ ছাড়তে হবে। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁরা মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পান। লিন মন্টোয়া জানান, আকস্মিক এই ঘোষণায় জাহাজের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটিই ছিল তাঁদের বাড়ি। পল ও লিনও নিজেদের অধিকাংশ জিনিসপত্র কেবিনে রেখে মাত্র চারটি স্যুটকেস ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে নেমে আসেন। তাঁদের সঙ্গে নেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। বাকি জিনিসপত্র ফেরত নিতে আবার জাহাজে ওঠার সুযোগ পাবেন কি না, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা পাননি তাঁরা। তবে ক্রুজটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই কিছু সমস্যার আভাস পেয়েছিলেন বলে জানান পল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার জাহাজের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিল পরিশোধ না করায় স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি খাবারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছিল। এমনকি যাত্রা চালিয়ে যেতে বাসিন্দাদের কাছে কয়েক দফায় অতিরিক্ত অর্থও চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। দম্পতি জানান, তাঁরা স্বেচ্ছায় সেই অর্থের কিছু অংশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া জাহাজে থাকার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার ডলার রক্ষণাবেক্ষণ খরচও পরিশোধ করছিলেন। এখন সেই অর্থের কতটা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পল মনে করছেন, তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থের একটি বড় অংশ হয়তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না। ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, জ্বালানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আগের মতো কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেবিনের বিপরীতে জ্বালানি বাবদ ঐতিহাসিক গড় খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার। সেটি বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে বেশি সময় অবস্থান করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবসা পুনর্গঠন এবং নতুন মূলধন সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন বিনিয়োগ বা মালিকানা পরিবর্তনের কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ক্রুজটি আবার চালু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ সময় জাহাজের বাসিন্দা, ক্রু এবং কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন না পল ও লিন। তাঁদের মতে, এই ১৭ মাসে তাঁরা বিশ্বের অনেক সুন্দর জায়গা দেখেছেন এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা অন্যভাবে হয়তো কখনো সম্ভব হতো না। পল জানান, শুরুতেই যদি জানতেন ভ্রমণটি মাত্র ১৮ মাস চলবে, তাহলেও তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করতেন না। লিনও একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর এভাবে যাত্রা থেমে যাওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে ভ্রমণের সময় পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বিশ্বভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কোনো অনুশোচনা নেই। আপাতত কম্বোডিয়া থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এই দম্পতি। সেখানে আট থেকে নয় দিন থাকার কথা রয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে তাঁরা আশা করছেন, নতুন বিনিয়োগকারী কিংবা জাহাজের বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ক্রুজটির কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: ল্যাডবাইবেল
ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ
নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ কমাতে সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান ফেডারেল তদন্তের সমালোচনা করে দেওয়া এক চিঠিতে সই করেননি ডেমোক্রেটিক পার্টির ৪০ জন প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টেনি হোয়ার, জশ গটহাইমার, হেনরি কুয়েলার ও জ্যারেড গোল্ডেন। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ তাঁরা তদন্তকে সমর্থন করছেন বা চিঠির বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ২৬ অক্টোবর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ১৭৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ১২ অক্টোবর ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েইন মুলিনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগে একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের বাসায় তল্লাশি এবং তদন্তসংক্রান্ত খবর ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাক্ষরকারী আইনপ্রণেতারা। তাঁরা ওমরের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তদন্তের কারণে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত না করার আহ্বান জানান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্বাক্ষরকারীদের তালিকার সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে ৪০ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। পেলোসি ও হোয়ার ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন জশ হার্ডার, কেটি ক্যাস্টর, জ্যারেড মোসকোভিটজ, এড কেইস, জেক অচিনক্লস, ক্রিস পাপাস, টম সুওজি, ডন ডেভিস, মার্সি ক্যাপ্টর, হেনরি কুয়েলার ও মারি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ। নিউজউইক জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওমর, পেলোসি, হোয়ারসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত তাঁর পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে। ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসায় আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে তল্লাশি চালান। তদন্তকারীরা ওমর বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ঘোষণা আসেনি। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা তল্লাশির বৈধতা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বিচার বিভাগের আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, তল্লাশির পরোয়ানা কার্যকরের কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় পরোয়ানার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি এখনই প্রকাশ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪০ জনের মধ্যে আটজন এমন আসনে নির্বাচন করছেন, যেগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থা কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত চিঠি।
পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন
ফ্লোরিডায় গাঙচিলকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ হারালেন দুই সন্তানের বাবা