সহকর্মীর মৃত্যুর পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ, ক্ষোভে কারখানা ছাড়লেন শতাধিক শ্রমিক
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় এক কর্মীর মৃত্যুর পর কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন প্রায় ১০০ শ্রমিক। কর্মীদের দাবি, মৃত্যুর ঘটনা জানার পরও সেদিন উৎপাদন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানায় কর্মরত এক ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রের একটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। কোম্পানি পরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মিলে ঘটনার তদন্ত করছেন। নিহত কর্মীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে কর্মীদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে কারখানায় সেদিন কাজ শুরুতে দেরি হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মীরা কারখানায় পৌঁছে জানতে পারেন, সেখানে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
কারখানার এক কর্মী কেডব্লিউকিউসিকে জানান, কর্মীরা তখন স্বাভাবিকভাবে কাজে না গিয়ে মধ্যাহ্নভোজের কক্ষে জড়ো হন। সেখানে কয়েকজনকে কাঁদতে এবং অন্যদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে তিনি জানান।
ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মীদের একাংশ কারখানার ব্যবস্থাপকের কাছে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর ঘটনার পরও কেন তাঁদের কাজে থাকতে হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাজ বন্ধ রাখার দাবিও জানান। ব্যবস্থাপক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান বলে ওই কর্মী দাবি করেন।
তবে কর্মীদের দাবি, এরপরও সেদিন উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মী জানান, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধায়ককে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে। এরপর তিনি মানবসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে কারখানা থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও অনেক কর্মী কারখানা থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে সেটি বড় আকারের কর্মী ওয়াকআউটে পরিণত হয়। ওই কর্মীর হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জন সেদিন কাজ ছেড়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কর্মীদের একজন বলেন, তাঁদের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সহকর্মীর পাশাপাশি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অন্যান্য কর্মীদের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলে তাঁদের মনে হয়েছে। তবে এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং কোম্পানি এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।
স্মিথফিল্ড ফুডস পরে জানায়, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, একজন সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং ঘটনার তদন্তে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে তদন্তে অংশ নিচ্ছেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবারের ঘটনাটি একটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওএসএইচএ, ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে ওই কর্মী আহত হন এবং মৃত্যুর জন্য ঠিক কী কারণে দায়ী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওই কারখানার এক কর্মী দাবি করেন, মনমাউথ কারখানায় এটি তাঁর জানা মতে চতুর্থ কর্মীর মৃত্যু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তিনটি মৃত্যু স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। এবারের ঘটনাটিই যন্ত্রপাতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যু বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানাটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিকে মনমাউথ এলাকার অন্যতম বড় নিয়োগদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানাটি শূকরের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি শূকরের অন্ত্র বা আবরণজাত পণ্য সরবরাহ করে।
ঘটনার পর কর্মীদের ওয়াকআউট এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং উৎপাদন চালুর সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহত কর্মীর নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: কেডব্লিউকিউসি, গ্রে নিউজ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য দিবালোকে ১৫ বছর বয়সী এক ঘানাইয়ান অভিবাসী কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে তিন মুখোশধারী দুর্বৃত্তের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারায় জ্যাভিটস ফ্রিমপং নামের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। শনিবার ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক স্মরণসভায় নিহত কিশোরের বাবা থমাস ফ্রিমপং কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকাহত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের শিথিল অস্ত্র আইন এবং কাঠামোগত ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্কের পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস আক্ষেপ করে বলেন, একটি চমৎকার অভিবাসী সাফল্যের গল্পের বদলে আজ আমেরিকার ব্যর্থতার কারণে এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরের অকাল মৃত্যুর কথা বলতে হচ্ছে। মাত্র এক বছর আগে উন্নত শিক্ষা ও ভবিষ্যতের আশায় ঘানা থেকে বাবার কাছে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল মেধাবী জ্যাভিটস। তার স্বপ্ন ছিল একজন চিকিৎসক হওয়ার। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর বুলিংয়ের শিকার হয়েছিল সে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সেই ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। এদিকে জ্যাভিটসের মা এখনও ঘানায় অবস্থান করছেন। সন্তানের শেষকৃত্যে তিনি যেন অংশ নিয়ে শেষ বিদায় জানাতে পারেন, সেজন্য নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির বিশেষ অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই শেষকৃত্যের ব্যয়ভার মেটাতে ইতিমধ্যেই 'গোফান্ডমি' পেজে সাত লাখ পনেরো হাজার ডলারের বেশি তহবিল সংগৃহীত হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ড্রিম ইয়ার্ড প্রিপারেটরি স্কুলে যাওয়ার পথে জ্যাভিটসের পিছু নেয় সার্জিক্যাল মাস্ক পরা তিন হামলাকারী এবং সুযোগ বুঝে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডারসেল ক্লার্ক এবং বরো প্রেসিডেন্ট ভ্যানেসা গিবসন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে নিউইয়র্ক পুলিশের ক্রাইম স্টপার্স নম্বরে যেকোনো ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হ্যালোইনের ২৫তম পার্টিতে বিশাল রক্তাক্ত হাত সেজে হাজির ‘হ্যালোইনের রানি’ হেইডি ক্লাম
বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিকি মিনাজকে নিয়োগের প্রস্তাবে সায় ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুকে বাড়ির বাইরে পুকুরের পানিতে একা অবস্থায় পাওয়ার পর তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ডেলটোনা শহরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা শিশুটিকে পানি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অবহেলায় রাখা একটি কুকুর দেখতে পান তাঁরা। এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডেলটোনা শহরের একটি রিটেনশন পন্ড বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের জন্য তৈরি জলাধারের কাছে অভিভাবক ছাড়া একটি শিশুকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয় কেউ। বিষয়টি জরুরি সেবায় জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে পৌঁছে চার বছর বয়সী শিশুটিকে পানির মধ্যে দেখতে পান তাঁরা। কর্মকর্তারা দ্রুত পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে শিশুটি নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তার বাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে সে কতক্ষণ পানিতে ছিল, কীভাবে একা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কিংবা কেউ তাকে জলাধারের কাছে রেখে গিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান বলে জানিয়েছে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ প্রাণীর মলমূত্র জমে ছিল। পাশাপাশি তেলাপোকার উপদ্রব এবং ছত্রাক বা মোল্ডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের মতে, বাড়িটির পরিবেশ শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য উদ্বেগজনক ছিল। তদন্তের সময় বাড়িতে একটি খাঁচাবন্দি কুকুরও দেখতে পান কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, কুকুরটিকে যথাযথ পরিচর্যা ছাড়াই রাখা হয়েছিল। পরে ডেলটোনা অ্যানিমেল কন্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুকুরটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ২৫ বছর বয়সী ফারমিন মেদ্রানো-পেরেজ এবং মা ২৪ বছর বয়সী জেনেইক্সা রদ্রিগেজ-ক্রেসপোকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের একজন দাদা-দাদি বা নানা-নানির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। সংস্থাটি শিশুটির নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করবে। ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিচর্যার দায়িত্ব সম্পর্কে আইন রয়েছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে রাখা, যেখানে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা শিশু অবহেলার অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধের দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, প্রমাণ ও আইনি শর্ত বিবেচনা করতে হয়। রিটেনশন পন্ড মূলত বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়। ফ্লোরিডার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এ ধরনের জলাধার রয়েছে। এগুলোর পানি কখনো অগভীর হলেও কোথাও গভীর হতে পারে। ফলে ছোট শিশুরা অভিভাবক ছাড়া এসব জলাধারের কাছে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে চার বছরের মতো কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দার সতর্কতা এবং শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সে কীভাবে একা জলাধারে পৌঁছেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে বাড়িতে পাওয়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রাণীর প্রতি অবহেলার অভিযোগও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হবে। ফ্লোরিডার ডেলটোনা শহরে চার বছরের শিশুকে পানির মধ্যে একা অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের অন্য সদস্যের হেফাজতে দিয়েছে এবং তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সূত্র: ফক্স৩৫ অরল্যান্ডো ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য;
নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে নিহত ছাত্রের মাকে ভিসা দিতে রাজি ট্রাম্প, জানালেন মামদানি
জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ
খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরে ৫ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী কমেছে। ২০২৬ সালের শরৎকালীন ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ১০৭ জনে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজের (এমএএসইউ) প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র তিনটিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেনি। এগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান-ফ্লিন্ট এবং ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি। বাকি ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমেছে। গত কয়েক বছর ধরে ভর্তি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২৬ সালের এই পতনে সাম্প্রতিক অগ্রগতি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ২০২২ সালে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৬ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩০ জনে পৌঁছেছিল। শিক্ষার্থী হারানোর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। গত বছরের তুলনায় সেখানে ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী কমেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী হারিয়েছে লেক সুপিরিয়র স্টেট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ থেকে কমে ১ হাজার ২৩২ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশের পতন। নর্দার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটিতেও প্রায় ৬ শতাংশ করে শিক্ষার্থী কমেছে। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৬৯৩ জন বা প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ১৮১ জনে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান-ফ্লিন্টে শিক্ষার্থী বেড়েছে ১৩৯ জন, যা প্রায় ২ শতাংশ। ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী বেড়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৮২ জনে। তবে এই সামান্য বৃদ্ধিকে বড় ধরনের সম্প্রসারণ না বলে প্রায় স্থিতিশীল পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশিগানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা কমার পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যান হার্লির মতে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে কমে আসা এই সংকটের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ভ্রমণ ও শিক্ষার্থী ভিসাসংক্রান্ত নীতির প্রভাবেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তিতে বাধা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন ইন্টারস্টেট কমিশন ফর হায়ার এডুকেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে মিশিগানে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী ধরে রাখা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো আগামী বছরগুলোতে মিশিগানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: হায়ার এড ডাইভ, মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ইউনিভার্সিটিজ এবং ব্রিজ মিশিগান।
নিউ ইয়র্কে সন্ধ্যায় জগিংয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নারী, হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে না খেয়ে থাকতেন নিউ ইয়র্কের তরুণী, শেষ পরিণতি হাসপাতালে