১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারে ১২ বছরের স্যামুয়েল, তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ নেট দুনিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ১২ বছরের স্যামুয়েল হেন্ডারসন ১০০টির বেশি পাখির ডাক হুবহু নকল করতে পারেন। নিজের কণ্ঠ, জিহ্বা ও শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করা তাঁর এসব শব্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক টেনেছে। ২০২৪ সালে তাঁর স্কুলের প্রতিভা প্রদর্শনীতে পাখির ডাক নকল করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর পরিচিতি আরও বেড়েছে।
স্যামুয়েল ওকলাহোমার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই পাখি ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। ৪ বছর বয়সে চিড়িয়াখানায় একটি গ্রেট-টেইলড গ্র্যাকলের ডাক নকল করার পর পাখিটি যেন পাল্টা সাড়া দিয়েছিল। সেই ঘটনাই পাখির ডাক শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় বলে স্যামুয়েল জানিয়েছেন। পরে বাইরে পাখির ডাক শোনা, ইউটিউবের ভিডিও দেখা এবং পাখি শনাক্ত করার বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তিনি একের পর এক ডাক অনুকরণ করতে শেখেন।
বর্তমানে স্যামুয়েল ১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর সংগ্রহে ১২০টির বেশি, এমনকি ১৩০টিরও বেশি ডাক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নকল করা ডাকের মধ্যে নর্দার্ন কার্ডিনাল, আমেরিকান রবিন, মর্নিং ডাভ, রেড-টেইলড হক, ব্যার্ড আউল, বাল্ড ঈগলসহ নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে।
তাঁর বিশেষত্ব শুধু অনেক পাখির ডাক নকল করতে পারায় নয়। স্যামুয়েলের তৈরি শব্দ এতটাই কাছাকাছি যে কখনো কখনো আশপাশের বন্য পাখিও তার জবাব দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে তাঁকে পাখির ডাক দেওয়ার পর কাছাকাছি থাকা পাখির প্রতিক্রিয়া পেতে দেখা গেছে। তাঁর কিছু নকল ডাক পাখি শনাক্ত করার অ্যাপেও আসল পাখির ডাক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যামুয়েল জানান, নতুন কোনো পাখির ডাক শেখার সময় তিনি সেটি বারবার শোনেন। এরপর শব্দটির বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বোঝার চেষ্টা করেন এবং নিজের গলা, জিহ্বা ও শ্বাসের ব্যবহার পরিবর্তন করে সেটি তৈরি করার অনুশীলন করেন। তবে সব পাখির ডাক নকল করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব হয় না। কিছু ডাক খুব জটিল বা অতিরিক্ত উচ্চস্বরের হওয়ায় সেগুলো অনুকরণ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাখির ডাকের প্রতি স্যামুয়েলের আগ্রহ অবশ্য শুধু শব্দ নকল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাখি দেখার সময় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির আচরণ, আবাসস্থল এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করেন। তাঁর প্রিয় পাখির মধ্যে রয়েছে রেজপ্লেনডেন্ট কুয়েটজাল। অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাইয়ের ডাকও তিনি পছন্দ করেন।
২০২৪ সালে স্কুলের একটি প্রতিভা প্রদর্শনীতে স্যামুয়েলের পাখির ডাক নকল করার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন তাঁর বয়স ছিল ১০ বছর এবং তিনি প্রায় ৫০ ধরনের পাখির ডাক নকল করতে পারতেন। অনুষ্ঠানে তিনি গ্রেট হর্নড আউল, ওয়াইল্ড টার্কি, কানাডা গুজ ও রেড-টেইলড হকের মতো পাখির ডাক নকল করে সহপাঠীদের চমকে দেন। তাঁর মায়ের প্রকাশ করা ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক পায়।
সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্যামুয়েলের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যাও কয়েক লাখে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্কুল, স্থানীয় অনুষ্ঠান ও প্রকৃতিবিষয়ক আয়োজনে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন। চলতি বছর তাঁর পাখির ডাক নকল করার দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আগস্টে আরকানসাসের হট স্প্রিংস কর্তৃপক্ষ জানায়, স্যামুয়েল অক্টোবরের একটি পাখি পর্যবেক্ষণ উৎসবে অংশ নেবেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁকে ১২০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে সক্ষম এক তরুণ পাখিপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফিলাডেলফিয়া ঈগলসও তাঁকে দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের সামনে পাখির ডাক নকল করে দেখান।
পাখির শব্দ মানুষের কণ্ঠে নকল করা সহজ নয়। পাখি মানুষের মতো স্বরযন্ত্র ব্যবহার করে না। তাদের শব্দ তৈরির বিশেষ অঙ্গের নাম সিরিংক্স, যা শ্বাসনালির গোড়ায় অবস্থিত। এর সাহায্যে অনেক পাখি অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যময় শব্দ তৈরি করতে পারে। মানুষের রয়েছে ল্যারিংক্স বা স্বরযন্ত্র। ফলে পাখির ডাকের কাছাকাছি শব্দ তৈরি করতে মানুষের কণ্ঠ, জিহ্বা, মুখ ও শ্বাসের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
স্যামুয়েলের এই প্রতিভা তাঁকে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখই করেনি, প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণ নিয়েও মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর ভবিষ্যৎ আগ্রহ হিসেবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার কথা উঠে এসেছে। পাখির প্রতি নিজের আগ্রহের মাধ্যমে অন্য শিশুদেরও বাইরে গিয়ে প্রকৃতি দেখা ও পাখি সম্পর্কে জানার উৎসাহ দিতে চান তিনি।
তাঁর গল্পটি শুরু হয়েছিল ছোট্ট একটি শখ থেকে। কয়েক বছর ধরে পাখির ডাক শুনে, পর্যবেক্ষণ করে এবং অনুশীলন করে সেই শখই এখন অসাধারণ এক দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। ১২ বছর বয়সেই ১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করার সক্ষমতা নিয়ে স্যামুয়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ পাখিপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত একটি নাম।
সূত্র: ইয়াহু নিউজ, এবিসি নিউজ, ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় পরিবারের বাড়ির বাইরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাড়িতে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর ৫ বছরের থিও সাবোর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে প্রায় ৫০ জন অতিথি নিয়ে পারিবারিক আয়োজন চলছিল। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা মিহাইল সাবো ও আনকা সাবোকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ১৩ সেপ্টেম্বর, রোববার। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা গির্জায় অন্য এক সন্তানের বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুপুর ১টার দিকে পিওরিয়ার বাড়িতে ফেরেন। এরপর বাড়িতে পারিবারিক আয়োজন চলতে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, থিওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে শিশুটির মা আনকা সাবো বাড়ির বাইরে থাকা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থিওকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিন পিওরিয়া এলাকায় তাপমাত্রা ১০৫ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি উঠেছিল। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ফিনিক্স এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিশুটিকে গাড়িতে কীভাবে এতক্ষণ রেখে দেওয়া হলো, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কে শিশুটিকে গাড়ি থেকে বের করে আনবেন, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আদালতে পরিবারের আইনজীবী লিয়া ডডের বক্তব্য অনুযায়ী, থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনার দায়িত্ব প্রথমে বাবার ওপর থাকার কথা ছিল। পরে মিহাইল সাবো তাঁদের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে থিওকে গাড়ি থেকে বের করে আনতে বলেছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেন। তবে আদালতে ওই কিশোর জানায়, তাকে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তার মনে নেই। এই বক্তব্যের কারণে ঘটনার দায়িত্ব কার ওপর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটির অনুপস্থিতি বুঝতে পারেন। এরপর খোঁজাখুঁজির সময় গাড়ির ভেতর তাকে পাওয়া যায়। থিওর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা মিহাইল ও মা আনকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি এবং মামলার কিছু নথি আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে। সোমবার মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে পৃথক শুনানিতে হাজির হন থিওর বাবা-মা। শুনানির সময় আনকা সাবো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। তাঁর আইনজীবী আদালতে বলেন, শিশুটিকে গাড়িতে পাওয়া যাওয়ার পর আনকাই জরুরি নম্বরে ফোন করেন, জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। আইনজীবী লিয়া ডড আরও বলেন, ঘটনাটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি অভিযোগ করেন, অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এ ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়িতে ছিল এবং ওই পুরো সময় বাবা-মা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতেন না। আদালত মিহাইল ও আনকা সাবোর প্রত্যেকের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের অন্য চার সন্তানের সঙ্গে তত্ত্বাবধানে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই চার সন্তানের বয়স ৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ বছর। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দম্পতির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাঁরা প্রায় ১৯ বছর ধরে বিবাহিত এবং ২০১১ সাল থেকে অ্যারিজোনায় বসবাস করছেন বলে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন। পরিবারের প্রতিবেশীরাও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দম্পতিকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না বলে জানিয়েছেন। অ্যারিজোনায় প্রচণ্ড গরমের কারণে গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরে থাকা তাপমাত্রার তুলনায় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। পিওরিয়া পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম কেনেডি পরিবারগুলোর প্রতি গাড়ি থেকে নামার আগে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণী কেউ ভেতরে রয়ে গেছে কি না তা নিশ্চিতভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশু নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কিডস অ্যান্ড কার সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে অ্যারিজোনায় গরম গাড়িতে অন্তত ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি শিশুদের গাড়িতে রেখে না যাওয়ার পাশাপাশি গাড়ি থেকে নামার পর শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়। থিওর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত এখনো চলছে। মিহাইল ও আনকা সাবো আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মারিকোপা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে আবার হাজির হবেন। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এজেডফ্যামিলি, কেজেডজেড, পিওরিয়া পুলিশ বিভাগ।
সহকর্মীর মৃত্যুর পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ, ক্ষোভে কারখানা ছাড়লেন শতাধিক শ্রমিক
১০০টির বেশি পাখির ডাক নকল করতে পারে ১২ বছরের স্যামুয়েল, তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ নেট দুনিয়া
নিউইয়র্কে বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণীসহ দুজনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ তদন্তে এবার নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তদন্তে ওই বাড়ির সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচজন নারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ফিলাডেলফিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিভিআই জানিয়েছে, নিখোঁজ ওই নারীদের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন নিকোল ফুসারো, যিনি ২০১৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল জানিয়েছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে চলতি সপ্তাহেই নতুন কোনো বড় আপডেট আসতে পারে। মূলত ৪৪ বছর বয়সী ইউজিন হর্শের বাড়িকে কেন্দ্র করেই গত জুন মাস থেকে এই ব্যাপক তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নিখোঁজ অন্য নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, যিনি ২০১২ সালে ২২ বছর বয়সে নিখোঁজ হন এবং মারিবেল ফ্রেসেস, যিনি ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। গত মাসে পুলিশ জানিয়েছিল যে, তদন্তে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে ওই দুই নারীকে দেখা গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা আর বেঁচে নেই। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী ব্লেয়ার টনজেলির অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে। ইউজিন হর্শকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে টনজেলির নাম লেখা একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, হর্শই তাকে ওই আইডি কার্ডটি দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ৪৪ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাকহেলকেও সর্বশেষ এই বাড়িতেই দেখা গিয়েছিল বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। ম্যাকহেল ছিলেন ইউজিন হর্শের প্রয়াত বাবা রেমন্ড হর্শের স্ত্রী। তদন্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন রেমন্ড হর্শ। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এমন একটি ভিডিও উদ্ধার করেছেন, যেখানে রেমন্ডকে এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে দেখা গেছে; যদিও ওই নারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলায় ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন ইউজিন হর্শ। গত ১৯ জুন রাতে ইনডিপেনডেন্স মলের কাছে একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি সন্দেহজনকভাবে পার্ক করা অবস্থায় দেখে এক পার্ক রেঞ্জার তাদের পরিচয় জানতে চাইলে পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রাসায়নিক পদার্থ, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র এবং পানির পাইপের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় ড্রাম উদ্ধার করে। বাড়ির সামনের মাটির নিচের পাইপগুলোও পরীক্ষার জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি ও লাশ গুম করার পদ্ধতি নিয়ে লেখা একটি নোটও ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গত জুলাইয়ের শুরুতে অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের দায়ে ইউজিন হর্শের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোনে ২৯ সেপ্টেম্বর ডেডলাইন, সেভ প্ল্যান ছাড়লেন ১৫ লাখ, অপেক্ষায় ৬০ লাখ
লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ বিলিয়ন ডলারের গৃহহীন তহবিল কেলেঙ্কারি, কংগ্রেসের তোপের মুখে মেয়র
মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ১৯ বছরের সর্বোচ্চ, ১০৫ ডলার ছাড়াল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে মাত্র ৯৭৭ ডলার বকেয়ার জেরে প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি হারানোর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মেসা শহরের বাসিন্দা টোবি নিউটন ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার খরচ করে চার বেডরুমের ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। কিন্তু দুই বছর পর চাকরি হারানো এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এর ফলে তিনি ‘সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ত্রৈমাসিক ১৭০ ডলারের ‘এইচওএ’ (HOA) বা হাউজিং ফি পরিশোধে ব্যর্থ হন। ধীরে ধীরে তার বকেয়া ফি ও সুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলারে। বকেয়া মেটাতে নিউটন মাসে ২০০ ডলার করে কিস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও, তা প্রত্যাখ্যান করে হাউজিং সমিতি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বাড়িটি ফোরক্লোজার বা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে সামান্য ওই বকেয়ার অঙ্কও লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বকেয়া ফি, বাদীর খরচ এবং আইনজীবীর ফিসহ নিউটনের মোট দেনা গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৫৭৯ ডলারে। শেষমেশ ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সরকারি নিলামে বাড়িটি মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলারে কিনে নেয় খোদ সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন! আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এমন ঘটনা ঠেকাতেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা 'সিনেট বিল ১৪৯৪' নামের একটি নতুন আইন পাস করেছিলেন। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো বাড়ির মালিকের বকেয়া অন্তত ১৮ মাসের পুরোনো হতে হবে অথবা তাকে ন্যূনতম ১০ হাজার ডলারের বেশি ফি বকেয়া রাখতে হবে, তবেই কেবল এইচওএ তার বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। এছাড়া বাজেয়াপ্ত করার আগে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিসঙ্গত কিস্তির প্রস্তাব দেওয়ারও নিয়ম করা হয়েছিল ওই আইনে। কিন্তু নিউটনের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই কাজে আসেনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়া নিউটনের জন্য তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেন বর্তমানে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe)-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নীতি আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম, সতর্ক করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প