মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঘোষণায় তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সমালোচনা করে ট্রাম্প এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য প্রচারের অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। এই সিদ্ধান্তের ফলে হোয়াইট হাউস কভার করা এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মকাণ্ড কভার করা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলন, প্রেস পুল এবং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি সংবাদ কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, নতুন ঘোষণার পর সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।
সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে কাভার করে। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হলে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিষয়টি আদালতে গড়ালে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, তা পরবর্তী developments-এর ওপর নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া একটি পোস্টের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কোনো কথা না লিখে মাত্র ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে ভ্যান্সের দাবিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে দুই নেতার এই অনলাইন পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের তৈরি একটি গ্রাফিক পোস্ট করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো, কর্মজীবী পরিবারের কর ছাড় এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরা হয়। পোস্টের সঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, নিউইয়র্কের মানুষের পাশে রয়েছে তাঁর প্রশাসন। গ্রাফিকে অপরাধের হার কমা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়। ভ্যান্সের ওই পোস্টের জবাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা অলি বি। এতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের মতো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন, যেন তাঁর নির্দেশেই ট্রেনটি থামছে। এরপর যাত্রীদের ওঠার জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার সময়ও তিনি সেটি নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওর শেষ অংশে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ভান করেন। পুরো দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের কৃতিত্ব তিনি নিজেই নিতে চাইছেন। মামদানি ভিডিওটির সঙ্গে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাফল্যের কৃতিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়ার দাবির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন অলি বি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। মামদানি সেই পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভ্যান্সের পোস্টের জবাব দেওয়ার পর সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অলি বিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মেয়রের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান। এদিকে ভ্যান্সের প্রকাশিত গ্রাফিকের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্সের ব্যবহারকারীদের দেওয়া কমিউনিটি নোটে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা ৪৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির সবটাই নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে মাইক্রন ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বিনিয়োগও রয়েছে। একইভাবে হত্যাকাণ্ড কমার একটি পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের কৃতিত্ব নিয়ে এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সাফল্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র মামদানির এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে তাঁর ভিডিওতে ভ্যান্সের দাবি করা প্রতিটি তথ্যের সরাসরি খণ্ডন করা হয়নি। সংবাদসূত্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এক্স পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির এক্স পোস্ট ।
নিউইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন যেসব হাসপাতালে
করোনা মহামারির সময়ে সরকারি সহায়তার ২১ লাখ ডলার আত্মসাৎ , ব্যবসায়ীর সাড়ে ছয় বছর কারাদণ্ড
জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় কম খরচে ডেন্টাল সেবার দিচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ওয়ালী খান
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করার পর তাঁর সম্মতি ছাড়াই গর্ভপাতের ওষুধ প্রয়োগের ঘটনা সামনে এসেছে। এতে ওই নারীর গর্ভপাত হয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্টে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাবেক ক্যাডেট ক্যালেব টি সুহ চলতি বছরের জুনে ফেডারেল আদালতে অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। নিউইয়র্ক পোস্ট ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ওয়েস্ট পয়েন্টে পড়াশোনার সময় দুজনের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওই নারী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি সন্তান জন্ম দিতে চাইলেও সুহ গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে গর্ভপাত না করালে আত্মহত্যার হুমকিও দেন সুহ। তবে পরে প্রেমিকার সামনে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন তিনি। সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়ার ভান করে গোপনে গর্ভপাত ঘটানোর পরিকল্পনা করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রেমিকার পরিচয় ব্যবহার করে একটি অনলাইন ফার্মেসিতে অ্যাকাউন্ট খোলেন সুহ। সেখান থেকে তাঁর অজান্তে গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি এক বন্ধুর কাছ থেকে জ্যানাক্স নামের ঘুমের ওষুধও নেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিকার থাকার কক্ষে গিয়ে তাঁকে বিশেষ প্রোটিন শেক হিসেবে একটি পানীয় পান করতে দেন সুহ। পানীয়টিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। সেটি পান করার পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে চেতনা হারাতে থাকেন। এই অবস্থায় তাঁর মুখে ও যৌনাঙ্গে গর্ভপাতের ওষুধ প্রয়োগ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু সময় পর ওই নারী তীব্র পেটব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। সাহায্যের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর ২০২২ সালের মে মাসে ওয়েস্ট পয়েন্টে মার্কিন সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগকে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী। তবে সামরিক একাডেমির তদন্তে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। চলতি বছরের জুনে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে সুহের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। ৩০ জুন তিনি প্রেমিকার ওপর হামলা এবং তাঁর গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার দায় স্বীকার করেন। এদিকে, ঘটনার পর ওয়েস্ট পয়েন্ট ছেড়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন সুহ। সেখান থেকে চলতি বছর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। আদালতে অপরাধ স্বীকারের পরও তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভর্তির সময় সুহ আগের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ লিখেছিলেন। ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকেও তাঁকে ভালো একাডেমিক অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী অবস্থান স্পষ্ট নয়। গত ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের আদালতে সুহের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালতের নথিতে তাঁর পরিচয় গোপন রেখে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। মামলায় শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর আইনজীবী রাসেল কর্নব্লিথ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তিনি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন। এদিকে, সুহের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সেমিস্টার শেষ করার সুযোগ দিতে তাঁর আইনজীবী সময় চেয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা এতে আপত্তি জানাননি। অপরাধের দায় স্বীকার করলেও সুহের চূড়ান্ত সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফেডারেল আদালতের নথি ও দেওয়ানি মামলার অভিযোগপত্র।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোটি ডলারের প্রতারণা, ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের আশঙ্কা
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী নারী কর্মীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু বিশেষ সুবিধা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে গর্ভপাত, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি নভেম্বরেই নতুন বিধিমালার প্রস্তাব প্রকাশ করা হতে পারে। ২০২২ সালে পাস হওয়া প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্টের আওতায় তৈরি বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। এই আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে ১৫ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান এবং সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যার জন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিয়োগকর্তার জন্য অতিরিক্ত গুরুতর অসুবিধা তৈরি হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। বর্তমান বিধিমালায় গর্ভবতী কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিশ্রাম, পানি পান ও বাথরুম ব্যবহারের বিরতি, ভারী কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি এবং চিকিৎসার জন্য কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের সুবিধা চাইতে পারেন। সন্তান জন্মদানের পর শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার সময়ও প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্রের সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় তৈরি বিধিমালায় গর্ভপাত, গর্ভপাতের পর চিকিৎসা, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অবস্থাকেও নির্দিষ্ট সুরক্ষার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন মূলত এসব বিধানের পরিধি পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। মার্কিন ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের (ইইওসি) চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়া লুকাসের মতে, আগের প্রশাসনের কিছু বিধান কংগ্রেসের পাস করা আইনের মূল উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভপাতসংক্রান্ত সুবিধার বিষয়ে আপত্তি রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এসব বিধান পরিবর্তন করা হলে প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে লুইজিয়ানার একটি ফেডারেল আদালত গর্ভপাতকে প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্টের আওতাভুক্ত চিকিৎসাগত অবস্থা হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল করেন। তবে গর্ভাবস্থায় কর্মীদের যুক্তিসংগত সুবিধা দেওয়ার মূল আইনি ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বিধিমালার প্রস্তাব প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত গ্রহণের সুযোগ রাখা হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিস্তারিত প্রকাশিত হলে কোন কোন চিকিৎসা ও কর্মক্ষেত্রের সুবিধা নতুন নিয়মের আওতায় থাকবে, তা স্পষ্ট হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি আলাদা আইনি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। দেশটিতে সব বেসরকারি কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক জাতীয় বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা নেই। তবে ফ্যামিলি অ্যান্ড মেডিকেল লিভ অ্যাক্টের আওতায় যোগ্য কর্মীরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের বেতনবিহীন, চাকরির সুরক্ষাসহ ছুটি পেতে পারেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পৃথক বেতনসহ ছুটির কর্মসূচিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসা, কাজের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সন্তান জন্মদানের পর কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুবিধাগুলো জানা প্রয়োজন। নতুন বিধিমালার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। সূত্র: নিউজউইক, নিউইয়র্ক টাইমস,
গর্ভবতী কর্মীদের সুরক্ষা কমানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ, বাড়ছে উদ্বেগ
বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন বাবা-মা, হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু