জর্জিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, আটলান্টায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ইসাইয়াস। এর প্রভাবে জর্জিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত, প্রবল দমকা বাতাস, আকস্মিক বন্যা এবং টর্নেডোর তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আটলান্টা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে উত্তর ও মধ্য জর্জিয়ার আবহাওয়া রাতের দিকে চরম আকার ধারণ করতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে রবিবারের শুরুর দিক পর্যন্ত কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে শহরাঞ্চলের নিচু এলাকা, দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা থাকা সড়ক এবং নদী ও খালের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, উত্তর ও মধ্য জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল বা তারও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। প্রবল এই বাতাসের কারণে গাছপালা ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও হারিকেনের কেন্দ্র সরাসরি আটলান্টায় আঘাত হানার পূর্বাভাস নেই, তবে উপকূলে আছড়ে পড়ার পর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ঝড়ের সঙ্গে টর্নেডো সৃষ্টির প্রবল ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। টর্নেডোর সতর্কতা জারি হলে বাসিন্দাদের দ্রুত জানালার কাছ থেকে সরে ভবনের ভেতরের নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধ রাস্তা দিয়ে গাড়ি না চালিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারেরও নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আটলান্টা ও এর আশপাশে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে অনেকের কেনাকাটা, সামাজিক অনুষ্ঠান বা বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলোতে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে মুঠোফোন চার্জ করে রাখা, টর্চলাইট প্রস্তুত রাখা এবং স্থানীয় জরুরি সতর্কতাগুলোর (অ্যালার্ট) দিকে নজর রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার কিছু এলাকাতেও ঝড়ের সম্ভাব্য আঘাতের কারণে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যের ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হ্যাশট্যাগ:
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির বা সিআইএ এর এক সাবেক কর্মকর্তা সরকারি তহবিলের প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ডেভিড জে. রাশ নামের ৪৯ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। আত্মসাৎ করা এই অর্থ দিয়ে তিনি ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল সম্পত্তি, শত শত স্বর্ণের বার এবং দামি গাড়ি কিনেছিলেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তার এসব অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআইয়ের তদন্তে এই নজিরবিহীন দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ডেভিড রাশ সিআইএ এর একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পদে কর্মরত ছিলেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের গোপনীয় তথ্য বা টপ সিক্রেট ক্লিয়ারেন্সের অধিকারী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, সিআইএতে এই উচ্চ পদে পৌঁছানোর জন্য তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামরিক অভিজ্ঞতার বিষয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শ্রেণিবদ্ধ কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগ পান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একটি ভুয়া স্পেশাল অ্যাক্সেস প্রোগ্রাম তৈরি করেন। অত্যন্ত গোপনীয়তার অজুহাত দেখিয়ে তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের এই প্রকল্পের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া থেকে বিরত রাখেন। ভুয়া এই গোপন কর্মসূচির আওতায় ডেভিড রাশ কয়েকজন সরকারি ঠিকাদারকে নিযুক্ত করেন এবং তাদের বোঝান যে তারা একটি বৈধ ও অতি গোপনীয় সরকারি প্রকল্পের অংশ। আদালতের নথিতে এটিকে স্যাপ নাম্বার ওয়ান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি সরকারি কাজে যুক্ত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। সংবেদনশীল সরকারি কাজের কথা বলে একটি স্বাধীন সাবকন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে তিনি এই হোল্ডিং কোম্পানি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি খুলেছিলেন। পরবর্তীতে এই তহবিলের অর্থ দিয়ে তিনি দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল আবাসন কেনা এবং সংস্কারের কাজ শুরু করেন। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে ফ্লোরিডায় অন্তত চারটি বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি কিনেছিলেন এই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এর মধ্যে পাম বিচ এলাকায় ১৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন, ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন এবং ২৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তিনটি বাড়ি ও জমি রয়েছে। এছাড়া হোপ সাউন্ড এলাকায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরও একটি জমি কেনেন তিনি। পাশাপাশি এক লাখ ৭২ হাজার ডলারের বেশি দামের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৬৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের একাধিক দামি ঘড়ি কেনেন। এফবিআই তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৯৮টি স্বর্ণের বার, ২১ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থ, এক লাখের বেশি ইউরো এবং রোলেক্সসহ অন্তত ৩০টি দামি ঘড়ি উদ্ধার করে। ডেভিড রাশ মিথ্যা দাবি করে এসব স্বর্ণের বার কিনেছিলেন এই বলে যে, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সরকারি কাজের জন্য এগুলো প্রয়োজন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাশ তার নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সরকারের কোটি কোটি ডলার প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত বিলাসের জন্য তা ব্যয় করেছেন। তিনি তার শপথ, সহকর্মী এবং আমেরিকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, সেই সাথে তাকে জরিমানা প্রদান ও অবৈধভাবে অর্জিত সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্তের সম্মুখীন হতে হবে। উৎস: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং রিয়েল্টর ডটকম
জর্জিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে হারিকেন ইসাইয়াস, আটলান্টায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা
নিউইয়র্কে আইসের অভিযানে গ্রেপ্তার শিশু নির্যাতনকারী, খুনের আসামিসহ একাধিক অপরাধী
‘আমার কাঁধে ৩ হাজার ডলারের পার্স, আমি কীভাবে চুরি করতে পারি?’ গ্রেপ্তারের পর নারীর সাফাই
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরে এক উন্মত্ত ব্যক্তির বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশু। গত বুধবার ভরদুপুরে রাস্তায় মায়ের সঙ্গে থাকা অবস্থায় শিশুটির ওপর এই নৃশংস হামলা চালান নেলসন ব্লাঙ্কো নামের ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। হামলায় মা ও শিশু দুজনকেই ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শিশুটির অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে শুক্রবার জানিয়েছে প্রভিডেন্স পুলিশ বিভাগ। পুলিশপ্রধান অস্কার পেরেজ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন মা তার অন্য সন্তানদের স্কুল থেকে আনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং ছোট মেয়েটি একটি স্ট্রোলারে বসা ছিল। ওই সময় ভবঘুরে প্রকৃতির ব্লাঙ্কো সেখানে উপস্থিত হয়ে মাকে উদ্দেশ্য করে অকারণে গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মা রাস্তা পার হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ব্লাঙ্কো তাকে টেনে ধরে মা ও শিশু দুজনের ওপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী দ্রুত পালিয়ে যান এবং এক বয়স্ক নারীর বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে বেসমেন্টে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্লাঙ্কোর সঙ্গে ভুক্তভোগীদের আগে থেকে কোনো পরিচয় ছিল না। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শিশুদের ওপর ব্লাঙ্কোর এমন হামলা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৩ সালেও পার্কিং লটে খেলাধুলা করার সময় সাত বছর বয়সী দুই শিশুকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু সে সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ও সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাকে আর বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। প্রায় ৩০ বছর ধরে চুরি, হামলা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো অসংখ্য অপরাধের রেকর্ড রয়েছে তার। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্লাঙ্কোর বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং অবৈধভাবে অনুপ্রবেশসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বারবার অপরাধ করেও এমন একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি কীভাবে রাস্তায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়
ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার
ট্রাম্পের হাতে কালশিটে, স্যুটের নিচে রহস্যময় ফোলা অংশ, স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে নিজের পরিবারকে সম্ভাব্য তদন্তের হাত থেকে রক্ষা করতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হতে পারে। এমন আশঙ্কায় ট্রাম্প তাঁর ‘মাগা ইনক’ (MAGA Inc.) সুপার প্যাকের ৪০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার সরিয়ে একটি নিজস্ব আইনি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করছেন। যদিও রিপাবলিকানদের প্রত্যাশা ছিল, এই অর্থ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যয় করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলে ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগগুলোকে সামনে আনবেন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা। এর আগে প্রথম মেয়াদে দুই দফায় অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প এবারও পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে আইনি ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ব্যারন ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের সাথে তাঁর কথিত যোগাযোগ এবং প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে অ্যামাজনের চার কোটি ডলারের তথ্যচিত্র নিয়ে ইতোমধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সৌদি তহবিল গ্রহণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতাও ডেমোক্র্যাটদের নজরে রয়েছে। তবে এসব তৎপরতাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটরা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা বানিয়ে আসছে। প্রশাসন যখন মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছে, তখন বিরোধীরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরিতে মগ্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস মিলছে, ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির জয় হলে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষভাগে এসে গুরুতর আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আ ত্মহ ত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের ম রদেহ দেখলেন মা