সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:৭
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তাঁর প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো, বহিষ্কার অভিযান জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে ট্রাম্প প্রশাসন যখন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তখন ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা সামনে এল।
 

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের গতি আরও বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে প্রশাসন জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে।


পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও দ্রুতগতিতে ভিসা বাতিল করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি আইন ভঙ্গ করলে, জালিয়াতিতে জড়ালে কিংবা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার অভিযান জোরদার করার মূল উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো। তবে মানবাধিকারকর্মী ও অধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ সরকারের এই কঠোর নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা উদ্বেগ জানিয়েছে।


ভিসা বাতিলের যেসব ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হ ত্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে কয়েকজন বিদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।


অধিকারকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতের কারণে ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইন ভঙ্গ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ভিসা বাতিলের পাশাপাশি অভিবাসী ও ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাওয়া বিদেশিদের জন্যও প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠছে বলে সমালোচকেরা মনে করছেন।


মানবাধিকারকর্মীদের আরেকটি অভিযোগ হলো, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করে প্রশাসন সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে কিছু বিচ্ছিন্ন জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তাদের দাবি। মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়কে ঘিরে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গও এ ক্ষেত্রে সামনে এসেছে।


ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তাঁর প্রশাসন শুধু অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর উদ্যোগই নেয়নি, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার জন্য ব্যয়বহুল ফি আরোপ তার একটি উদাহরণ।


তবে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল হওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ বা একই আইনি প্রক্রিয়া ছিল, এমন নয়। প্রশাসনের প্রকাশিত মোট সংখ্যা থেকে কোন কোন দেশের নাগরিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বিভিন্ন দেশের ভিসাধারীদের ওপর কতটা পড়েছে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।


সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার এসব পদক্ষেপকে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা সতর্ক করছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা না করা হলে এসব পদক্ষেপ বৈধ অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো মার্কিন নাগরিকদের নতুন অভিজ্ঞতা
. ট্রাম্পের জয়ের পর দেশ ছেড়ে ইউরোপে, এবার কেন ফিরতে চাইছেন অনেক মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৮:১০
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল

অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে ভ্যান্স ও রুবিও

২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

রাশিয়ায় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন মার্কিন শিক্ষক

ট্রাম্পের অনুরোধের পর রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক

নির্বাচনী নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের গোপনে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন দেশটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য পর্যায়ে আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এসব আশঙ্কা সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ফেডারেল হস্তক্ষেপ ঘটেছে—এমন প্রমাণ নয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে অভিজ্ঞ প্রায় ১০ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি এবং কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রশাসনের প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের উদ্বেগের ভিত্তি কোনো গোপন গোয়েন্দা তথ্য নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিশ্লেষণ।   কর্মকর্তাদের আশঙ্কার একটি বিষয় হলো, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড কিংবা অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হতে পারে। এ ছাড়া ভোটের ব্যালট ও নির্বাচনী নথি জব্দ করা, ভোটার তালিকায় ফেডারেল সরকারের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম কঠোর করার সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।   নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো ফেডারেল এজেন্ট উপস্থিত হলে কী করতে হবে, পরিচয়পত্র কীভাবে যাচাই করতে হবে এবং আদালতের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা ছাড়া নির্বাচনী উপকরণ হস্তান্তর করা যাবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে তাদের প্রস্তুতি চলছে। ভোটের ব্যালট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নথিপত্রের হেফাজত ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার উদ্যোগও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপের পক্ষে নির্বাচনী জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ রাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্ব ও ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ফেডারেল সংস্থা সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) বাজেট ও জনবল কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।   এদিকে হোয়াইট হাউস এসব উদ্বেগের সঙ্গে একমত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কঠোর আইন কার্যকর করা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ করাই তাদের লক্ষ্য। প্রশাসন নির্বাচনে ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটকেন্দ্রে ফেডারেল এজেন্টদের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী যন্ত্রপাতি জব্দের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণের স্বাধীনতা এবং ব্যালটের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন রাজ্য কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।   নির্বাচনের আগে এসব প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। তবে কর্মকর্তারা যে পরিস্থিতিগুলোর আশঙ্কা করছেন, সেগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; সেগুলো ঘটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৫:৪৯
ডিভি লটারি চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ

ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ আদালতের, ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরুর সময়সীমা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

শৈশবে প্রায় সাত ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন শিল্পী আকিয়ানে ক্রামারিক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শৈশবে নিখোঁজ থাকার সময় স্বর্গ দেখার দাবি যিশুর ছবি আঁকা শিল্পীর

আধুনিক নকশা ও উন্নত যাত্রীসেবায় নতুন পরিচিতি পেয়েছে নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
টানা তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিমানবন্দর নির্বাচিত নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া

নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর টানা তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে। ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাতের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফোর্বস ট্রাভেল গাইডের ২০২৬ সালের ‘ভেরিফায়েড এয়ার ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস’-এ এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। আধুনিক নকশা, শিল্পকর্ম, খাবারের বৈচিত্র্য এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধার কারণে বিমানবন্দরটি আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।   ফোর্বস ট্রাভেল গাইডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের মূল্যায়নে ভ্রমণ ও আতিথেয়তা খাতের প্রায় ৯ হাজার অভিজ্ঞ ব্যক্তি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভ্রমণ পরামর্শক, আতিথেয়তা খাতের বিশেষজ্ঞ এবং গাইডটির মূল্যায়ন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিভিন্ন বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার যাত্রীসেবার মান, আরাম, নকশা ও সামগ্রিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর।   নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকায় অবস্থিত লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম খারাপ বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের রূপান্তর ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের পর বিমানবন্দরটির চেহারা ও যাত্রীসেবায় বড় পরিবর্তন আসে। নতুন টার্মিনাল, আধুনিক স্থাপত্য, শিল্পকর্ম এবং উন্নত খাবারের ব্যবস্থা বিমানবন্দরটিকে নতুন পরিচিতি দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।   ফোর্বস ট্রাভেল গাইডের প্রধান নির্বাহী হারমান এলগার বলেন, টানা তৃতীয়বার এই স্বীকৃতি পাওয়া বিমানবন্দরটির উল্লেখযোগ্য রূপান্তর এবং যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক সাড়ার প্রতিফলন। তাঁর মতে, উন্নত নকশা ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর যাত্রীদের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে উচ্চ মানদণ্ড তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন গার্সিয়াও বলেন, বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মান বজায় রাখার প্রচেষ্টাও এই স্বীকৃতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।   বিমানবন্দরটির উন্নয়নে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ডেল্টা এয়ারলাইনস ও লা গার্ডিয়া গেটওয়ে পার্টনার্সও যুক্ত ছিল। ফোর্বস ট্রাভেল গাইডের ২০২৬ সালের পুরস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে লা গার্ডিয়া আবারও দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে। একসময় নেতিবাচক পরিচিতি থাকা বিমানবন্দরটির ধারাবাহিক এই অর্জন আধুনিক অবকাঠামো ও যাত্রীসেবায় বিনিয়োগের গুরুত্বও সামনে এনেছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, ফোর্বস ট্রাভেল গাইড।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ২৩:৮
নথি দিতে প্রায় ৯ লাখ ৭৬ হাজার ডলার খরচ ও ২০৭৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার হিসাব দিয়েছে নেব্রাস্কার স্বাস্থ্য বিভাগ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি তথ্য চাওয়ায় ১০ লাখ ডলারের বিল, অপেক্ষা করতে হবে ৫০ বছর

নিউইয়র্কে ব্যক্তিগত পার্কিং লটে আইসের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি বন্ধে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্ক সিটিতে আইস এজেন্টদের পার্কিং সুবিধা না দেওয়ার আহ্বান মেয়র মামদানির

সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্তে নতুন পুরস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার, নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে

0 Comments