ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতির তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করাতে সহায়তা করলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরস্কারটি শুধু আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, অতীতের নির্বাচনসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কীভাবে তথ্য জমা দিতে হবে, কোন সংস্থা তা যাচাই করবে এবং পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনেও পুরস্কারের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ, ভোটের নিয়ম কঠোর করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমালোচকদের একাংশ এসব পদক্ষেপকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্বের ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্প অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর তিনি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন। তবে তাঁর সেই দাবির পক্ষে ব্যাপক জালিয়াতির এমন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর অতীতের নির্বাচনী দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বর্তমান ঘোষণার ক্ষেত্রেও অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।
একই দিনে ট্রাম্প ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হওয়ার পর সোমবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনটি তাঁর কাছে কারচুপিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তিনি নির্বাচনের ভোট গণনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তাঁর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এই রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সম্পর্ক বা কোনো নেতার বক্তব্য নিজে থেকে নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন এখন শুধু পুরস্কারের ঘোষণা নয়; বরং অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছ হবে এবং তথ্যদাতাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত ভোট জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। নির্ভরযোগ্য তদন্ত, প্রাসঙ্গিক নথি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হয়।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ লাখ ডলারের পুরস্কারের অর্থায়ন, তথ্য জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং পুরস্কার বাছাইয়ের দায়িত্বে কোন কর্তৃপক্ষ থাকবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। ফলে ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগ ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমে কর্মরত যোগ্য নার্সদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি চালু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর যৌথ উদ্যোগে ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য নার্সিং হোমগুলোতে কর্মীসংকট কমানো, নার্স নিয়োগ বাড়ানো এবং অভিজ্ঞ নার্সদের পেশায় ধরে রাখা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নার্স ও নার্সিং শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নার্সদের জন্য, নার্সিং হোমের সব কর্মীর জন্য নয়। নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ নামের এই কর্মসূচিতে যোগ্য নিবন্ধিত নার্স (আরএন) এবং লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল বা ভোকেশনাল নার্স (এলপিএন/এলভিএন) সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা এবং ১০ হাজার ডলার ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী পুরো ৫০ হাজার ডলার পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, শিক্ষাঋণ এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের ওপর। অর্থ একবারে দেওয়া হবে না; যোগ্যতা বজায় রেখে নির্ধারিত কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস অন্তর কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে। এই সহায়তা পেতে হলে যোগ্য নার্সিং হোমে চাকরি করতে হবে এবং সেখানে তিন বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজ করার শর্তও রয়েছে। কর্মসূচির আওতায় অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু নার্সিং হোম পরিদর্শকের পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ পরিশোধের সহায়তা পেতে হলে যোগ্য শিক্ষাঋণ থাকতে হবে। যাঁদের যোগ্য শিক্ষাঋণ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক স্নাতক হওয়ার মতো বিকল্প শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। নার্সিং হোমে সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএনএ) বা অন্যান্য সহায়ক পদে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিরা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের এই আর্থিক প্রণোদনার যোগ্য হবেন না। তবে সিএমএসের বৃহত্তর নার্সিং হোম কর্মীসংকট মোকাবিলার উদ্যোগে নার্সিং সহকারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পৃথক সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কর্মসূচির জন্য মোট ২৭৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিএমএস দিচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং অঙ্গরাজ্যগুলো দিচ্ছে আরও ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং যেখানে নার্সের ঘাটতি বেশি, সেসব নার্সিং হোমে কর্মী নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় নার্সিং হোমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত নার্স না থাকলে বাসিন্দাদের নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে নার্স নিয়োগ ও ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্রহী নার্সরা সিএমএসের ‘নার্সেস ফর নার্সিং হোমস’ কর্মসূচির সরকারি আবেদন পোর্টালে নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর লাইসেন্স, চাকরির স্থান, কর্মঘণ্টা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাঋণের তথ্য যাচাই করা হবে। আবেদন শুরু করার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও তিন বছরের কর্ম-অঙ্গীকারের শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
ভিসার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনায় স্ত্রী-সন্তান, প্রতিদিন পরিবার থেকে দূরে মার্কিন বাবা
বাবাকে ছাড়া রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন ছয় সন্তান, অভিবাসন জটিলতায় অনিশ্চিত পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ
ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতিপত্র নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা আর থাকছে না। আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হলে কারও কারও কাজের অনুমতিতে সাময়িক বিরতি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর এই পরিবর্তন কার্যকর করে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধিতেও পরিবর্তনটি বহাল রাখা হয়েছে। এই নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এমন অভিবাসীদের ওপর, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্ম-অনুমতিপত্র বা এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট—ইএডি ব্যবহার করেন। আগে যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। নতুন বিধি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু আবেদন জমা দেওয়ার কারণে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, অথচ নবায়নের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কোনো কর্মীর ইএডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং তাঁর ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে, নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও কাজের অনুমতি তাঁর অভিবাসন-অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, আবার কারও আলাদা ইএডি প্রয়োজন হয়। তাই এই পরিবর্তন প্রত্যেক অভিবাসী বা প্রত্যেক ভিসাধারীর ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁরা ইএডির মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেয়েছেন, তাঁদের বর্তমান কার্ডের মেয়াদ, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং আবেদন কোন শ্রেণির অধীনে করা হয়েছে, তা যাচাই করা দরকার। বিশেষ করে যাঁরা রেস্তোরাঁ, হোটেল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অনুমতির ধারাবাহিকতা চাকরি ও নিয়মিত আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে পেশা বা নাগরিকত্বের কারণে নয়, মূলত ব্যক্তির অনুমতিপত্রের শ্রেণি ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতেই নিয়মটি নির্ধারিত হবে। কাজের অনুমতিতে বিরতি তৈরি হলে তার প্রভাব কর্মীর বাইরেও পড়তে পারে। অনেক পরিবার মাসিক বেতন দিয়ে বাড়িভাড়া, গাড়ির কিস্তি, স্বাস্থ্যবিমা, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করে। কাজ বন্ধ রাখতে হলে সঞ্চয় কমে যাওয়া বা জরুরি ব্যয় মেটাতে সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঘটবেই, এমন নয়। আবেদন দ্রুত অনুমোদিত হলে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ অনুমতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা। বিভাগটির মতে, নবায়নের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্বাচনে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশে অভিবাসী বহিষ্কার, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি যাচাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট
মায়ের অপেক্ষায় কাঁদছে দুই শিশু, আট মাস পর গুয়াতেমালায় পুনর্মিলনের পথে পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে আর্থিক চাপ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য বাড়ির দাম, ঋণের সুদ, প্রাথমিক জমা এবং অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে আর্থিক চাপ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য বাড়ির দাম, ঋণের সুদ, প্রাথমিক জমা এবং অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জাইলো’র ২০২৬ সালের ভোক্তা আবাসন প্রবণতা-সংক্রান্ত জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি কেনা ক্রেতাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ বাড়ি কেনার প্রক্রিয়ায় কেঁদেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৪ শতাংশ, যেখানে আগে বাড়ি কিনেছেন এমন ক্রেতাদের মধ্যে হারটি ২৫ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ি কেনার প্রক্রিয়াকে ৬৪ শতাংশ ক্রেতা চাপপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘদিন বাড়ি খোঁজা, বাজেটের সঙ্গে মানানসই সম্পত্তি না পাওয়া এবং আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে ভুল হিসাব—এসব বিষয় ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রথমবারের ক্রেতাদের একটি অংশ শুরুতে নিজেদের বাড়ি কেনার সামর্থ্য বেশি বলে ধরে নিয়েছিলেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির বাজারেও ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ি বিক্রি করতে অনেক মালিককে চাওয়া দাম কমাতে হচ্ছে এবং ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মেরামতের খরচ বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দিতে হচ্ছে। উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদ, বাড়ির দাম এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলছে। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার দীর্ঘদিন কাজ করে সঞ্চয় গড়ে তোলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি স্থায়ী ঠিকানা চান। কিন্তু বাড়ির প্রাথমিক জমা, ঋণের মাসিক কিস্তি, সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হিসাব করার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে বাড়ির বাজারে দাম কমানোর প্রবণতা কিছু ক্রেতার জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি করতে পারে। কোনো বাড়ির বিজ্ঞাপনে দাম কমানো হয়েছে বলেই সেটি সবার জন্য সাশ্রয়ী হবে, এমন নয়। ক্রেতাদের স্থানীয় বাজারের দাম, ঋণের শর্ত এবং বাড়ির প্রকৃত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নিজের বাড়ি কেনা অনেক পরিবারের কাছে শুধু সম্পত্তি কেনা নয়; এটি নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সন্তানদের জন্য ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যেন পরিবার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও অপ্রত্যাশিত খরচের চাপে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবা হারানোর আতঙ্কে শিশুরা, বিচ্ছেদের কষ্টে ভাঙছে অভিবাসী পরিবার
বাড়ি কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন, সুদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে লাখো পরিবার