যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় পরিসরের অভিযান শুরু করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ (Department of Labor)। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানব পাচার এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ এবং বিভাগের মহাপরিদর্শকের (Inspector General) কার্যালয় জানায়, তদন্তে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির পাশাপাশি প্রোগ্রাম ইলেকট্রনিক রিভিউ ম্যানেজমেন্ট (PERM) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে এমন বহু অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে যেখানে কিছু নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছে, বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বেতনের একটি অংশ ফেরত নিয়েছে এবং কম মজুরির বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। শ্রম বিভাগের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি সরকারি কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রম বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ মনে করেন এইচ-১বি বা PERM কর্মসূচির জালিয়াতির কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাহলে যেন তা কর্তৃপক্ষকে জানান। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদেরও জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণামূলক নিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের শোষণের শিকার হলে অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি'এসপোসিটো ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন সমন জারি করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ডি'এসপোসিটো বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মানব পাচারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রও সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কেবল কারখানা বা সাধারণ শ্রমিক নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বাস্থ্যসেবা খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, এই তদন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘোষিত জালিয়াতি প্রতিরোধ টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের অংশ। এইচ-১বি ভিসা হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ-অভিবাসী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীকে সাধারণত তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রয়োজন হলে এই মেয়াদ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট-এর আওতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান যোগ্য মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে। অন্যদিকে, PERM ব্যবস্থা কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ এবং ইবি-৩ গ্রিন কার্ডের আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে শ্রম বিভাগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য, আগ্রহী ও উপলভ্য মার্কিন কর্মী রয়েছে কি না। পিউ রিসার্চ সেন্টার-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ভারতের নাগরিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ ভিসাধারীর জন্ম চীনে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলেছে, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কথিত জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই একাধিক সাবপোনা (Subpoena) জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের অফিস অব ইনস্পেক্টর জেনারেলের (OIG) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে এইচ-১বি ভিসা এবং PERM লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জালিয়াতি, শ্রমিক শোষণ, মজুরি-সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ এবং মানবপাচার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মেধাবী পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যারা ভিসা ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, তদন্তে এমন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেখানে বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরির অংশ ফেরত নেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ, শ্রমিকদের শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ফেডারেল পর্যায়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কেবল প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিল্পেও এইচ-১বি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে PERM হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই তদন্তের ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো অভিবাসীর মতোই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নেপালে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি পেশাজীবী প্রতীক কার্কিকে। চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ। গুগলের প্রায় তিন লাখ ডলার বার্ষিক বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছিলেন প্রতীক। সেই সিদ্ধান্তের দুই বছর পর তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, পাশাপাশি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই যাত্রার গল্প শেয়ার করেন প্রতীক। তার সেই পোস্ট ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি মানুষের নজর কেড়েছে। তবে এই গল্পের শুরু তার নিজের নয়, বরং তার বাবাকে দিয়ে। প্রতীকের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দুই সন্তানকে একা বড় করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ছেড়ে নেপালে ফিরে যেতে হয়। প্রতীক লেখেন, “নেপাল ছাড়ার পর থেকে আমার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।” পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলে চাকরি পান। কিন্তু তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নির্ভর করছিল এইচ-১বি ভিসা লটারির ওপর। এই ব্যবস্থায় প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক কর্মভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়। একবার নয়, টানা চারবার আবেদন করেও নির্বাচিত হতে পারেননি প্রতীক। তখন তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, অন্য দেশে চলে যাওয়া অথবা নেপালে ফিরে যাওয়া। সেই সময়ের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আমার সঙ্গী এখানে ছিল, আমাদের গড়ে তোলা জীবন এখানে ছিল। অথচ একটি লটারির ফল সবকিছু বদলে দিতে পারত।” প্রতীক জানান, সেদিন রাতে স্ত্রী তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাদের কিছু সঞ্চয় ছিল এবং স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দেন, এটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গুগলের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন। চাকরি ছাড়ার পরের সময়টা সহজ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোতে বন্ধু, পরামর্শক ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। গুগলে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে নির্ভরযোগ্য মানব-তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়েই এক সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মিলে তিনি ‘অ্যানথ্রোমাইন্ড’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। গুগলের চাকরি ছাড়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। প্রচলিত এইচ-১বি পথ বাদ দিয়ে তিনি ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করেন। অসাধারণ দক্ষতা বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা দেওয়া হয়। প্রতীক জানান, গুগলে কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ভূমিকা এবং তার প্রকাশিত লেখাগুলো আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত তার আবেদন অনুমোদিত হয়। এরপর তিনি ইবি-১ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ডও লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই গ্রিন কার্ড হাতে পেয়েছেন। নিজের সাফল্যের কথা জানাতে গিয়ে প্রতীক লেখেন, “দুইজন অভিবাসী, একটি কোম্পানি এবং রান্নাঘরের টেবিলে হওয়া একটি কথোপকথন সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাবা, এই অর্জন তোমার জন্য।” প্রযুক্তি খাতে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য প্রতীকের গল্প এখন অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভিসা অনিশ্চয়তা, কর্মজীবনের ঝুঁকি এবং নতুন উদ্যোগের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, ব্যর্থতা কখনও কখনও নতুন পথেরও সূচনা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আদালত সম্প্রতি এই ফিকে ‘অননুমোদিত কর’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করার রায় দিলেও প্রশাসন বলছে, এটি কোনো কর নয়; বরং অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বৈধভাবে আরোপিত একটি ফি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে জমা দেওয়া এক আবেদনে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, আপিলের শুনানি চলাকালে যেন ১ লাখ ডলারের এই ফি কার্যকর রাখা হয়। ডিএইচএসের দাবি, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার আওতাতেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আদালত এটিকে ‘অননুমোদিত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট Donald Trump একটি নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালু করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয়, বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। আদালতে দেওয়া আবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, ফি কার্যকর না থাকলে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, প্রতিদিন নতুন আবেদনকারীরা এই ফি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রশাসনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ডিএইচএস আরও বলেছে, পরবর্তীতে সরকার আপিলে জয়ী হলেও ইতোমধ্যে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের অনুমোদন বাতিল করা কিংবা তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া বাস্তবিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২০টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ফি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করে। গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক Leo Sorokin ফি বাতিলের রায় দেন। রায়ে বিচারক বলেন, কর আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করে কার্যত কর আদায়ের চেষ্টা করেছেন, যা ক্ষমতার বিভাজন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে রায় ঘোষণার কয়েকদিন পর বিচারক সরোকিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হন। ফলে বর্তমানে ফিটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে এইচ-১বি ফি নিয়ে আরও অন্তত দুটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলার শুনানি চলছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এবং অন্যটি ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে। ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য জমা পড়া প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার এইচ-১বি আবেদনের মধ্যে ২ লাখের বেশি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের ফি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব আবেদন তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করছেন, তাদের অধিকাংশই এই অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল আদালতের রায় শুধু এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, একই সঙ্গে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতটা আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন, সে বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলারের ফি আদায় অব্যাহত থাকতে পারে। আর বিপরীত সিদ্ধান্ত এলে ফি কার্যকর রাখার প্রশাসনের পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের গড় আয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsweek–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টইবি৫ (StudentEB5) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জুন ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কলেজ স্নাতকদের মধ্যম আয় প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় কর্মীদের আয় গড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেশি। বিশ্লেষণটি ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের (EIG) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রথমে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। এটি দেশীয় স্নাতকদের তুলনায় অনেক বেশি। তবে একই সঙ্গে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসাধারীরা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের তুলনায় কম বেতনও পেতে পারেন। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে এইচ-১বি কর্মীদের আয় তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম হতে পারে। এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর নতুন ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত। গবেষকদের মতে, ভারতীয় কর্মীদের উচ্চ আয়ের পেছনে বড় কারণ হলো তাদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের মতো উচ্চ বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের আয় অনেক বেশি দেখা যায়। ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের নীতিবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম পিক নিউজউইককে বলেন, একই পেশা ও দক্ষতার কর্মীদের তুলনা করলে বেতনের ব্যবধান অনেক কমে আসে। তাঁর মতে, এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত কর্মীরা একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম আয় করেন। তবে অধিকাংশ ভিসাধারীই বাস্তবে অনেক মার্কিন কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করেন। তিনি আরও বলেন, বয়সভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এইচ-১বি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সমমানের মার্কিন কর্মীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে বয়সে বড় কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এর একটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং খাতে মধ্য-পর্যায়ের কর্মী নিয়োগকে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন এইচ-১বি আবেদনগুলোর ওপর এক লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে এবং বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে। তবে চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মার্কিন জেলা বিচারক Leo Sorokin রায় দেন, এমন ফি আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই এবং এটি কার্যত নতুন কর আরোপের সমতুল্য। পরে প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেয়। এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-১বি কর্মীদের আয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান ডিলের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার প্রকৌশল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এইচ-১বি কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সর্বশেষ তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও মজুরির সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারে নতুন ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আবেদনকারীকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনার পরিবর্তে এই কাজটি কোনো আমেরিকান কর্মী করতে পারবে না কেন?” মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অনুষ্ঠিত এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকারে এ ধরনের প্রশ্নের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক অভিবাসন আইনজীবী। তাদের মতে, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক পেশার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা কেন বিদেশি কর্মীকে বেছে নিয়েছেন, তা আরও গভীরভাবে যাচাই করার অংশ হিসেবে এই প্রশ্ন করা হচ্ছে। বর্তমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ দিলে তাদের নিশ্চিত করতে হয় যে এতে একই ধরনের কাজ করা মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। সাধারণত এসব পদের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। মার্কিন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তা মরগান বেইলি নিউজউইককে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাক্ষাৎকারে এই ধরনের প্রশ্ন আগের তুলনায় অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে। তার ভাষায়, আবেদনকারীদের প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, “আপনি এতটা বিশেষ দক্ষ কেন যে কোনো আমেরিকান এই কাজটি করতে পারবে না?” কিংবা “কেন আপনাকেই এই পদে প্রয়োজন?” তবে তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে নিজের তুলনা করা উচিত নয়। বরং নিয়োগদাতা কেন তাকে বেছে নিয়েছেন এবং তার শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করা উচিত। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি বলেন, তিনি কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এই প্রশ্ন শুনেছেন। যদিও এটিকে এখনই ব্যাপক প্রবণতা বলা যাবে না, তবুও এটি সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের ইঙ্গিত দেয়। তিনি জানান, সম্প্রতি এমনও দেখা গেছে যে একই দিনে চারজন আবেদনকারীকে একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। আরেক আইনজীবী এলেন ফ্রিম্যান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই এই ধরনের প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাই বর্তমানে তিনি তার ক্লায়েন্টদের সাক্ষাৎকারের আগে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি। দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। সমর্থকদের মতে, এইচ-১বি কর্মসূচি দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বসেরা দক্ষ জনবল নিয়োগের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং বেতন কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ওপর এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এতে শুধুমাত্র উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে এবং কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে চলতি মাসে বোস্টনের এক ফেডারেল বিচারক এই ফি কার্যকর করা স্থগিত করেন। আদালতের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। পরে প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এদিকে গত বছরের শেষ দিক থেকে এইচ-১বি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রমও আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি ও প্রকাশ্য কার্যক্রমও যাচাই করছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী ভিসা অনুমোদন পাচ্ছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং নিজেদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বিশেষ দক্ষতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলতে হবে। কারণ এইচ-১বি ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশেষায়িত পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ করা, মার্কিন কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে। মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন এ ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পথ কঠিন করে তুলছিল। এই মামলাটি দায়ের করেছিল ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে। আগে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক সীমিত ছিল, সেখানে নতুন এই ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও গবেষণা খাতের আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করে। আদালতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এত উচ্চ ফি শুধু বিদেশি কর্মীদের নিরুৎসাহিতই করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচি। প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রযুক্তিকর্মী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে কর্মভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত, ফি বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ও আদালতের নজরদারির বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উত্তরের শহরতলীগুলো কয়েক বছর ধরেই দেশটির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রযুক্তিকর্মীদের বড় একটি অংশ সেখানে বসতি গড়ায় নতুন বাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তিখাতে বড় পরিসরের চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রভাব এখন সেই বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডালাসের উত্তরের কলিন কাউন্টি ও আশপাশের এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বাড়ির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, এখন সেখানে ক্রেতা সংকট এবং মূল্য সংশোধনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এইচ-১বি ভিসা মূলত বিদেশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়, যাদের বড় অংশ প্রযুক্তিখাতে কাজ করেন। গত কয়েক বছরে টেক্সাসের করপোরেট করিডোরে অসংখ্য প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তর হওয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ঢল নামে ডালাসের উত্তরাঞ্চলে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সিবিআরই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি করপোরেট সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে। এর ফলে প্রসপার, ফ্রিসকো ও সেলিনা শহরে নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে দ্রুতগতিতে। অনেক এলাকায় মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এইচ-১বি কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে নতুন বিদেশি কর্মী আগমন কমে গেছে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রযুক্তিখাতে ৫২ হাজারের বেশি চাকরি হারিয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শুরু নাগাদ সেই সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারকে এসব চাকরি কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রেডফিনের তথ্য বলছে, ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকায় বাড়ির দাম যেখানে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে কলিন কাউন্টিতে দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন, সেই ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের একটি অংশ এখন চাকরি অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা কিংবা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের কারণে বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় ডালাস অঞ্চলে প্রায় ৩২ হাজার নতুন এইচ-১বি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা সিলিকন ভ্যালি, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসিকেও ছাড়িয়ে যায়। শুধু নিউইয়র্ক মহানগর অঞ্চল এ ক্ষেত্রে ডালাসের চেয়ে এগিয়ে ছিল। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা আবাসন বাজারে এই মূল্য সংশোধন হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে স্থানীয় নির্মাণশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তিখাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়লে এর প্রভাব টেক্সাসের অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে যে শহরতলীগুলোকে “নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র” হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে—যেখানে অভিবাসন নীতি, প্রযুক্তিখাতের পুনর্গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব একসঙ্গে আবাসন বাজারের চিত্র বদলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন। তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।” এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে। তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার লটারি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যারা এই লটারিতে মনোনীত হতে পারেননি বা সুযোগ হারিয়েছেন, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার এবং থাকার জন্য আরও অন্তত আটটি বিকল্প ভিসার পথ খোলা রয়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই বিকল্প সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরা হয়েছে: ১. ও-১ (O-1) ভিসা: অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি যাদের বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা খেলাধুলায় অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে, তারা ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার জন্য কোনো বার্ষিক সীমা বা লটারি পদ্ধতি নেই। ২. এল-১ (L-1) ভিসা: আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বদলি যদি কেউ কোনো বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত থাকেন যার শাখা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তবে তিনি এল-১ ভিসার মাধ্যমে বদলি হয়ে সে দেশে যেতে পারেন। এটি মূলত ম্যানেজার বা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য। ৩. ই-২ (E-2) ইনভেস্টর ভিসা: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে এমন দেশের নাগরিকরা (যেমন বাংলাদেশ) নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে এই ভিসা পেতে পারেন। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি একটি কার্যকর পথ। ৪. টিএন (TN) ভিসা: উত্তর আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এটি মূলত কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা নাফটা (NAFTA) চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পান। ৫. এইচ-১বি১ (H-1B1) ভিসা: এটি এইচ-১বি ভিসার একটি বিশেষ সংস্করণ যা কেবল চিলি এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত। ৬. ই-৩ (E-3) ভিসা: এই বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসাটি শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষায়িত পেশায় কাজ করতে চান। ৭. ইবি-১ (EB-1) গ্রিন কার্ড : যাদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে বা যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সরাসরি গ্রিন কার্ডের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। ৮. ক্যাপিট-এক্সেম্পট (Cap-Exempt) এইচ-১বি : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বা সরকারি গবেষণা সংস্থায় কাজের ক্ষেত্রে লটারির প্রয়োজন হয় না। একে 'ক্যাপ-এক্সেম্পট' বলা হয়, যা সারা বছরই আবেদন করা সম্ভব। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচ-১বি লটারিতে নাম না আসা মানেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে উপরের যে কোনো একটি পথ বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে প্রতিটি ভিসার নিজস্ব শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।