সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২৬ বছরে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ! ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১০:১২
করপোরেট চাকরি ছেড়ে ২৬ বছর বয়সী তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের পেশা শুরু করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
করপোরেট চাকরি ছেড়ে ২৬ বছর বয়সী তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের পেশা শুরু করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। অফিসের নিয়মিত চাকরি ছেড়ে তিনি দেশটির বিখ্যাত ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর এই পেশা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, তরুণী আগে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিন্তু সেই পেশায় না থেকে তিনি সেলাইয়ের কাজকে নতুন কর্মজীবন হিসেবে বেছে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জাতীয় উদ্যান ইয়েলোস্টোনে তাঁর এই পেশা পরিবর্তনের গল্প প্রকাশ করেছে সিএনবিসি। তবে তিনি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, কত বেতন পেতেন এবং নতুন কাজে তাঁর আয় কত, তা প্রকাশিত শিরোনাম থেকে জানা যায়নি।

 

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং, মন্টানা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ, গিজার, পাহাড়, বনভূমি এবং বন্য প্রাণীর জন্য পরিচিত এই জাতীয় উদ্যানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক কার্যক্রমের কারণে পার্কটি ঘিরে নানা ধরনের কর্মসংস্থানও রয়েছে।

 

সেলাইয়ের কাজ বলতে শুধু নতুন পোশাক তৈরি বোঝায় না। পোশাকের মাপ ঠিক করা, ছেঁড়া কাপড় মেরামত, ইউনিফর্মের পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড়ের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করাও এই পেশার অন্তর্ভুক্ত। তবে সিএনবিসির প্রতিবেদনে আলোচিত তরুণী ইয়েলোস্টোনে ঠিক কী ধরনের সেলাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি থেকে কারিগরি বা হাতে-কলমে কাজের পেশায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আয়, কাজের পরিবেশ, দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। নতুন পেশায় যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় চাকরির ক্ষেত্রে মৌসুমি ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

 

সিএনবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা এই তরুণীর অভিজ্ঞতা প্রচলিত করপোরেট চাকরির বাইরে ভিন্ন ধরনের পেশা বেছে নেওয়ার একটি উদাহরণ। তবে মূল প্রতিবেদনের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর নাম, চাকরি ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ, নতুন বেতন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে লেট ফি ছাড়াও ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া ও আইনি ঝামেলার ঝুঁকি থাকে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে শুধু লেট ফি নয়, ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া, অতিরিক্ত সুদ, ডেট কালেকশন এমনকি মামলার মুখেও পড়তে পারেন গ্রাহক। সাধারণত পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে। প্রায় ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক ঋণটি চার্জ অফ করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এসব নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রেডিট রিপোর্টের নেতিবাচক তথ্য ভবিষ্যতে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মার্কিনিদের ক্রেডিট কার্ডের মোট বকেয়া ঋণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টিও দেশটির আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সব ধরনের বকেয়া ঋণ একই পর্যায়ের ঝুঁকিতে নেই। কত দিন পেমেন্ট বাকি রয়েছে, ঋণের পরিমাণ কত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতি কী, তার ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করে।   ক্রেডিট কার্ডের ডিউ ডেট পার হলেই ব্যাংক লেট ফি আরোপ করতে পারে। তবে সব ব্যাংকের জন্য একই অঙ্কের লেট ফি নির্ধারিত নেই। ফেডারেল কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির ৮ ডলারের লেট ফি সংক্রান্ত বিধান আদালতে বাতিল হওয়ার পর কার্ডের চুক্তি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হচ্ছে। প্রথমবার বিল দিতে দেরি হলে এক ধরনের ফি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবার দেরি হলে তুলনামূলক বেশি ফি হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই প্রযোজ্য আইনি সীমা ও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো জরিমানা আরোপ করা যায় না।   পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া হলে বড় ধরনের আর্থিক সমস্যা শুরু হতে পারে। ব্যাংক বা কার্ড ইস্যুয়ার বকেয়া পেমেন্টের তথ্য ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের মতো ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করতে পারে। এর ফলে ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে। তবে কত পয়েন্ট কমবে, তা নির্দিষ্ট নয়। আগে থেকে ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি লেট পেমেন্টও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, অধিকাংশ নেতিবাচক পেমেন্ট তথ্য প্রথম বকেয়া হওয়ার তারিখ থেকে সাত বছর পর্যন্ত ক্রেডিট রিপোর্টে থাকতে পারে।   পেমেন্ট ৬০ দিন বকেয়া থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফেডারেল ক্রেডিট কার্ড আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কার্ড কোম্পানি বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর পেনাল্টি এপিআর আরোপ করতে পারে। অনেক ক্রেডিট কার্ডে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও সব কার্ডে একই সুদ প্রযোজ্য নয়। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনাল্টি রেট কার্যকর করার আগে নোটিশ দিতে হয়। পরে নিয়মিত পেমেন্টের শর্ত পূরণ করলে বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর বাড়তি সুদের হার পুনর্বিবেচনার বিধানও রয়েছে।   পেমেন্ট ৯০ দিন বা তার বেশি বকেয়া থাকলে অ্যাকাউন্ট গুরুতর খেলাপির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এ সময় ব্যাংক ক্রেডিট লিমিট কমিয়ে দিতে, কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করতে কিংবা বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য নিজস্ব কালেকশন বিভাগকে দায়িত্ব দিতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই সময়ে নেওয়া হয় না। কার্ড ইস্যুয়ারের নীতি এবং গ্রাহকের পেমেন্ট ইতিহাসের ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।   সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের ঋণ টানা প্রায় ১৮০ দিন অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক সেটিকে চার্জ অফ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের মতো ঋণের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চার্জ অফ মানে ঋণ মাফ হয়ে যাওয়া নয়। ব্যাংক হিসাবের খাতায় অর্থটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখালেও গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের দায় থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক নিজে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাতে পারে অথবা ঋণটি ডেট কালেকশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে পারে।   ঋণ আদায়ের জন্য পাওনাদার বা ডেট কালেক্টর আদালতে মামলাও করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো ফেডারেল নিয়ম নেই। মামলা করার সময়সীমা এবং ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। আদালতের রায় পাওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বেতনের একটি অংশ কেটে নেওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদায় কিংবা নির্দিষ্ট সম্পত্তির ওপর লিয়েন আরোপের সুযোগ থাকতে পারে। ফেডারেল আইনে সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে বেতন থেকে অর্থ কাটার সর্বোচ্চ সীমা সাধারণত ডিসপোজেবল আয়ের ২৫ শতাংশ অথবা আইনে নির্ধারিত বিকল্প সীমার মধ্যে যেটি কম। কিছু অঙ্গরাজ্যে আরও কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। শুধু ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারণে কাউকে কারাগারে পাঠানো যায় না। তবে আদালতের বৈধ নির্দেশ অমান্য করলে পৃথক আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।   যাঁরা আর্থিক সমস্যার কারণে বিল দিতে পারছেন না, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত কার্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা। চেজ, ব্যাংক অব আমেরিকা, ওয়েলস ফার্গোসহ বিভিন্ন ব্যাংকে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য হার্ডশিপ সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পেমেন্ট প্ল্যান, সাময়িকভাবে সুদ কমানো অথবা লেট ফি মওকুফের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয় নয়। গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা ও ব্যাংকের নীতির ওপর অনুমোদন নির্ভর করে। প্রয়োজনে স্বীকৃত অলাভজনক ক্রেডিট কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও নেওয়া যায়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে সমস্যাটি শুধু ওই কার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া কিংবা নতুন ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ক্রেডিট রিপোর্ট প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিল পরিশোধে সমস্যা দেখা দিলে ৩০ দিন অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা, অন্তত মিনিমাম পেমেন্ট দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা এবং নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। তবে কোনো গ্রাহকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, ঋণের চুক্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১১:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ছবি: সংগৃহীত

৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগ

চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগ, ৩৫ অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ২২ কোটি ডলারের সমঝোতা জিএমের

সরকারি আবাসন নিয়ে বড় উদ্যোগ

সরকারি আবাসন নিয়ে বড় উদ্যোগ, লাখো পরিবারের জন্য খুলছে নতুন তথ্যের দরজা

প্রেমিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তরুণী জিয়ানা কিস্টেনমাখার। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত তরুণীর আবেদন, জেল নয় কলেজের হোস্টেলে থাকতে চান!

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে প্রেমিক হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ১৮ বছর বয়সী সাবেক চিয়ারলিডার জিয়ানা কিস্টেনমাখার কলেজের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ চেয়ে আদালতের কাছে জামিনের শর্ত শিথিলের আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনে পায়ে থাকা জিপিএস অ্যাঙ্কল মনিটর খুলে দেওয়া, রাতের কারফিউ তুলে নেওয়া এবং সীমিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে স্থানীয় কলেজে পড়াশোনা করছেন তিনি। তবে নতুন আবেদনে বাড়ির বাইরে অন্য কলেজে ভর্তি হয়ে ক্যাম্পাসের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ চান জিয়ানা।   ২০২৫ সালের ২৪ জুন সাউথ ক্যারোলাইনার জনসভিল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী ট্রে রাইট গুলিতে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়ানা কিস্টেনমাখারসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ট্রে রাইটের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী ডেভান র‍্যাপারের অনলাইনে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিরোধের পেছনে ছিল জিয়ানাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য। তদন্তকারীদের দাবি, জিয়ানা ডেভান র‍্যাপার ও অন্য কয়েকজনকে নিয়ে ট্রের অবস্থানস্থলে যান। তাঁদের অভিযোগ, ডেভানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, তা জিয়ানা জানতেন। পরে ট্রে গাড়ির কাছে এগিয়ে এলে ডেভান গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ১৬ বছর বয়সী ট্রে।   ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ২৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি পান জিয়ানা। তবে তাঁর ওপর আদালতের কঠোর কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। প্রথম দিকে তাঁকে বাড়িতে অবস্থান করতে হতো এবং পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরতে হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাঁর জামিনের শর্ত কিছুটা শিথিল করেন। তখন থেকে স্থানীয় কলেজে যাওয়ার অনুমতি পেলেও রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাড়িতে থাকার বাধ্যবাধকতা বহাল রয়েছে। জিয়ানার আইনজীবীর দাবি, জামিনে মুক্তির পর থেকে তিনি আদালতের সব শর্ত মেনে চলেছেন। পাশাপাশি মামলার অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রসিকিউশনকে সহযোগিতা করছেন।   জিয়ানার আইনজীবী আদালতে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর মক্কেল উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চান এবং স্থানীয় কলেজের বাইরে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ বিবেচনা করছেন। এ জন্য কলেজের আবাসিক হলে থাকার অনুমতি প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সীমিত অনুমতিও চেয়েছেন তিনি। আইনজীবীর বক্তব্য, কলেজের বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন একাডেমিক ঘোষণা জানার জন্য এই সুযোগ প্রয়োজন। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলেই যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে বা বিশেষ কোনো আইনি সুবিধা দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   এদিকে নিহত ট্রে রাইটের পরিবারের পক্ষ থেকে জিয়ানার এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়েছে। ট্রের দাদি ব্রেন্ডা গোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর নাতি নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগই পাননি, অথচ তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তরা আবার স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ চাইছেন। পরিবারের কাছে বিষয়টি গভীর কষ্টের। তাঁদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের আরও স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।   এই মামলার আরও দুই অভিযুক্ত ব্রেলিন থম্পসন ও জেডেন অকলেয়ারকেও সম্প্রতি জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ২৮ অক্টোবর তাঁদের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হলেও বিচারক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   গত ২৬ অক্টোবর ফ্লোরেন্স কাউন্টিতে জিয়ানার জামিনের শর্ত পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে শুনানি শেষে বিচারক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। পরবর্তী শুনানির তারিখও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।   ট্রে রাইট হত্যাকাণ্ডের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান। জিয়ানা ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে আদালত তাঁর জামিনের শর্ত শিথিলের আবেদন গ্রহণ করেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১০:৪৮
৩৫ হাজার ডলারে বাড়ির উঠানেই আলাদা ঘর বানিয়ে নজর কাড়লেন মালিক। ছবি: সংগৃহীত

৩৫ হাজার ডলারে বাড়ির পেছনে ছোট ঘর বানিয়ে মাসে ১২০০ ডলার ভাড়া পাচ্ছেন নারী

চিকিৎসার খরচে সঞ্চয় শেষ

চিকিৎসার খরচে সঞ্চয় শেষ, অবসরকালেও ওষুধ কমিয়ে খাচ্ছেন বহু আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সাইম মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি সাইম মাহমুদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসের ব্যাপক অভিযান
নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসের ব্যাপক অভিযান, গ্রেপ্তার শত শত কৃষিশ্রমিক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মধ্যাঞ্চলীয় কৃষিপ্রধান এলাকায় অভিবাসনবিষয়ক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইস (আইসিই)। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পরিচালিত এসব অভিযানে শত শত কৃষিশ্রমিক ও অন্যান্য অভিবাসী আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ অভিযান ঘিরে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি অঞ্চলে অক্টোবরের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া ওই বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেকার্সফিল্ড শহরে বছরের অধিকাংশ সময় প্রতিদিন গড়ে একজনকে আটক করা হলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০ জনে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।   পাশের ওয়াসকো শহরেও কয়েক দিনের মধ্যে অন্তত সাতজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। কৃষিপ্রধান এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় বাড়িঘর, ব্যস্ত সড়ক, দোকানপাটের পার্কিং এলাকা, গ্যাস স্টেশন এবং স্কুলের আশপাশে অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেখা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।ইউনাইটেড ফার্ম ওয়ার্কার্স সংগঠনের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত কৃষিশ্রমিক আটক হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।   অভিবাসন অভিযানটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ২২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডেভিড ভালাদাও এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী র‍্যান্ডি ভিলেগাসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।এলাকাটির প্রায় ৭৩ শতাংশ বাসিন্দা লাতিনো জনগোষ্ঠীর। ফলে অভিবাসন অভিযান এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।   ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভিলেগাস অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অভিযান অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ভালাদাও বলেছেন, অভিবাসন প্রয়োগের কারণে অনেক পরিবার যে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন। তবে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন ব্যক্তিদের অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   হোয়াইট হাউস এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি লাতিনো আমেরিকানদের আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করেছে। তবে অভিবাসন অভিযান নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের জবাবের জন্য তারা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। বিভাগটি অভিযান সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে একটি পরিবারের হৃদয়বিদারক ঘটনার কথাও উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টির একটি ছোট শহরে কেনাকাটা শেষে ফেরার সময় মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ভাই ও বোনকে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করেন বলে পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন।   তাদের আইনজীবীদের আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন। কিন্তু ভুল করে ওই ভাই-বোনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।ওই নারীর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তাদের বাবা চলতি বছর মারা যাওয়ায় মা-ই ছিলেন দুই শিশুর একমাত্র অভিভাবক।   মায়ের আটকের খবর শুনে ১১ বছর বয়সী শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। আর তিন বছর বয়সী শিশুটি প্রতিবার ফোন বাজলেই মায়ের সঙ্গে কথা বলার আশায় অপেক্ষা করছে বলে পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন।এ ঘটনায় অভিবাসন অভিযান শুধু আটক ব্যক্তিদের নয়, তাদের সন্তান ও পরিবারের ওপরও কতটা প্রভাব ফেলছে, তা সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১০:১৩
করপোরেট চাকরি ছেড়ে ২৬ বছর বয়সী তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের পেশা শুরু করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

২৬ বছরে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ! ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ এবং ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে অগ্রগতি

অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা

অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা

0 Comments