যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের নতুন পরিসংখ্যানে দেশটির অর্থনীতির এক মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আগাম হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক ৩.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের ৩.২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের জন্য বড় একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতকে কেন্দ্র করে বিশাল ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের টেকসই ব্যয়ের কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই প্রবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবকে অনেকাংশেই সামাল দিতে পেরেছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক হতাশার চিত্র একেবারেই সাংঘর্ষিক। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বা রেটিংও এখন রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আদর্শ হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করলেও, অর্থনীতি বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। ফেডের পছন্দের সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই সেপ্টেম্বরে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ভোক্তাদের ব্যয় টানা দুই প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ হারে বাড়লেও মূলত মানুষের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খাওয়ার কারণেই এই ব্যয়প্রবাহ সচল রয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের তুলনায় এক ডলার বেড়ে চার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জরিপ বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ভোক্তাদের আস্থা ১৫ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোটারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে বসবাসকারী লাখো মানুষের জন্য শুরু হয়েছে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমা নিবন্ধন কার্যক্রম। রোববার ১ নভেম্বর থেকে নতুন স্বাস্থ্যবিমার আবেদন, পুরোনো বিমা নবায়ন এবং নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার নিবন্ধন চলবে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই নতুন বিমার সুবিধা পেতে চাইলে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এবারের নিবন্ধন মৌসুমে নিউইয়র্কে আট লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা নবায়ন বা পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। যাদের বর্তমান স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে, তাদেরও নতুন বছরের শর্ত ও সুবিধা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার বাজারে চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধের মূল্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।বিশেষ করে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক গ্রাহকের জন্য বিমার মাসিক খরচ বেড়েছে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা বাজারে মধ্যম পর্যায়ের বিমার গড় মাসিক খরচ ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে অঙ্গরাজ্য, বিমা প্রতিষ্ঠান, আয় ও যোগ্যতাভেদে প্রকৃত খরচ আলাদা হবে। নিউইয়র্কের কম আয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনি পরিবর্তনের কারণে নিউইয়র্কের বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির কিছু গ্রাহক যোগ্যতা হারিয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের এই কর্মসূচিতে থাকার যোগ্যতায় পরিবর্তন এসেছে। তাদের অনেককে বিকল্প স্বাস্থ্যবিমায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।যারা আগের কর্মসূচির সুবিধা হারিয়েছেন, তাদের নতুন নিবন্ধন মৌসুমে বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ সালে নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যবিমা বাজারে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২ থেকে কমে ১১ হচ্ছে।অস্কার হেলথ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাজার থেকে সরে যাওয়ায় প্রায় চার হাজার ৮০০ গ্রাহককে নতুন স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করতে হবে।তাই আগের বছরের বিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু থাকবে ধরে না নিয়ে নতুন বছরের পরিকল্পনা যাচাই করা জরুরি। কীভাবে আবেদন করবেন? নিউইয়র্কের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সরকারি ওয়েবসাইট: https://nystateofhealth.ny.gov ফোন নম্বর: ১-৮৫৫-৩৫৫-৫৭৭৭ আবেদনের সময় মাসিক বিমার খরচ, চিকিৎসকের তালিকা, হাসপাতালের সুবিধা, ওষুধের খরচ এবং জরুরি চিকিৎসার শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কের কুইন্সে এ ট্রেন চলাচলে ৯ দিনের পরিবর্তন, বিকল্প বাস চালাবে কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা ভোটাররা, খাবার নাকি ওষুধ কিনবেন সেই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অনুষ্ঠানগুলো থেকে নিজ দলেরই কংগ্রেসউইম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক নির্বাচনী সমাবেশের পর এল-সায়েদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি তাঁর প্রচারণায় কোনো ধরনের 'বিভ্রান্তি বা মনোযোগ নষ্ট' করতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ এই নির্বাচনকে এমন সব বিষয় নিয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন, যার সঙ্গে এই নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় এই দুই নেতার একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। কংগ্রেসউইম্যান ডেবি ডিঙ্গেল সিএনএনকে জানান, তিনি স্টিভেন্সের সঙ্গে কথা বলে তাকে জানিয়েছেন যে তাদের দুজনের একসঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি আর কার্যকর হচ্ছে না এবং একই স্থানে দুজনের উপস্থিতিতে লাভজনক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রগতিশীল নেতা এল-সায়েদ এবং তুলনামূলক মডারেট বা মধ্যপন্থী নেতা স্টিভেন্সের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন সেনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত দলীয় প্রাইমারিতে স্টিভেন্সকে হারিয়েই এল-সায়েদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং এরপর স্টিভেন্স তাঁকে সমর্থনও জানিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি প্রকাশ্যে এল-সায়েদের সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি স্টিভেন্সের বাগদত্তা জেসন টার্কিশ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। একসঙ্গে প্রচারণায় নামার মাত্র দুদিন আগে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ এনে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা জানাতে এল-সায়েদকে চাপ দেন স্টিভেন্স। এর জবাবে এল-সায়েদ এক কড়া বিবৃতিতে জানান, কংগ্রেসউইম্যান স্টিভেন্স তিন মাস আগে শেষ হওয়া প্রাইমারি নির্বাচনেরই যেন আবার পুনরাবৃত্তি চাইছেন। আমেরিকান ইজরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি প্রাইমারিতে তাঁকে হারাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এল-সায়েদ জোর দিয়ে বলেন, এখন সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করা, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য 'মেডিকেয়ার ফর অল' বা সবার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এদিকে, দলের এই প্রকাশ্য বিরোধে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ডেমোক্র্যাটিক নেতারা। মিশিগানের স্টেট সিনেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরো হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষ এখন বিজ্ঞাপন বা হ্যালি স্টিভেন্সকে নিয়ে ভাবছে না, তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও জ্বালানির দাম নিয়ে চিন্তিত। এই মুহূর্তে দলটির নিজেদের লক্ষ্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
জানুয়ারি থেকে মেডিকেইডে নতুন বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যবিমা থাকা মার্কিনিদেরও চিকিৎসার খরচ বাড়বে
ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা
জন্মদিনের দুই দিন আগে হ্যালোইন অনুষ্ঠানে বেলুন গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য কর্মসংস্থানের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হতে পারে দেশটির ডাক বিভাগ। ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিস (ইউএসপিএস) একটি স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা, যেখানে দেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ে পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন ও মৌসুমি কর্মী নিয়োগ করা হয়। ডাকবাহক, চিঠি ও পার্সেল বাছাই, গ্রাহকসেবা, পরিবহন এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন পদে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন এলাকায় কতটি পদ খালি, তা নির্ভর করে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর। ইউএসপিএসের উল্লেখযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিসিএ), মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট (এমএইচএ), পিএসই মেইল প্রসেসিং ক্লার্ক এবং সেলস অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েট। ডাকবাহকদের চিঠি ও পার্সেল পৌঁছে দিতে হয়, মেইল হ্যান্ডলারদের ডাক ও প্যাকেট বাছাই এবং ওঠানো-নামানোর কাজ করতে হয়। অন্যদিকে, প্রসেসিং ক্লার্করা ডাকপত্র ও পার্সেল বিতরণের জন্য প্রস্তুত করেন। কিছু পদে বাইরে হাঁটাহাঁটি করে কাজ করতে হয়, আবার কিছু পদে গুদাম বা ডাক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে শিফট অনুযায়ী কাজ করতে হয়। বেতন পদ ও নিয়োগের ধরন অনুযায়ী আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের বেতন তালিকায় নতুন সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২১ ডলারের বেশি। কিছু পিএসই পদের প্রাথমিক বেতন ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৩ ডলারের মধ্যে হতে পারে। সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের হিসাবে ঘণ্টায় ২১ ডলার বেতন হলে বছরে প্রায় ৪৩ হাজার ৬৮০ ডলার আয় হয়। এর পাশাপাশি যোগ্য কর্মীরা ওভারটাইম, রাতের শিফট ও রবিবার কাজের জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত কাজ নিশ্চিত নয়; পদ, কর্মঘণ্টা ও সংশ্লিষ্ট চুক্তির ওপর তা নির্ভর করে। ক্যারিয়ার পদে কর্মীদের জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অসুস্থতাজনিত ছুটি ও বার্ষিক ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা পেনশন এবং থ্রিফট সেভিংস প্ল্যানের মতো অবসর সঞ্চয় কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। তবে সিসিএ, পিএসই ও অন্যান্য নন-ক্যারিয়ার পদের সুবিধা নিয়মিত কর্মীদের মতো নাও হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে চাকরিটি ক্যারিয়ার নাকি নন-ক্যারিয়ার, তা যাচাই করা জরুরি। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা থাকলে ১৬ বছর বয়সেও আবেদন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা ইউএসপিএসের নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন অভিবাসন মর্যাদা থাকতে হবে। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ড্রাগ স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে হয়। কিছু পদের জন্য অনলাইন অ্যাসেসমেন্ট বা পরীক্ষা দিতে হয়। গাড়ি চালানোর দায়িত্ব থাকলে বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ও নিরাপদ ড্রাইভিং রেকর্ডও প্রয়োজন হতে পারে। আগ্রহীরা ইউএসপিএসের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে প্রোফাইল তৈরি করে নিজের শহর বা জিপ কোড দিয়ে চাকরি খুঁজতে পারবেন। সিটি ক্যারিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেইল হ্যান্ডলার অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পিএসইর মতো অনেক পদের আবেদন নতুন ক্যারিয়ার পোর্টালে নেওয়া হয়; কিছু অন্য পদের জন্য পুরোনো ই-কেরিয়ার ব্যবস্থাও ব্যবহার করতে হয়। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে বেতন, যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কোনো ফি লাগে না। চাকরির নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকতে হবে এবং শুধু ইউএসপিএসের সরকারি নিয়োগব্যবস্থার মাধ্যমেই আবেদন করতে হবে।
নিউইয়র্কে মেডিকেইড হারানোর আশঙ্কা, বাসিন্দাদের সহায়তায় ৩০ লাখ ডলারের উদ্যোগ
নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি করার দাবি টাম্পের