ছয় বছরের উইন্টার নেই, তবু তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে উৎসবে এক হলো শতাধিক পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কর্ডোভায় এক আবেগঘন আয়োজনে একত্রিত হয়েছেন বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। ছয় বছর বয়সী উইন্টার জোন্সের স্মৃতি ধরে রাখতে আয়োজন করা হয়েছে প্রথমবারের মতো ‘অটিজম মিনি ফল ফেস্টিভ্যাল’।
গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সেন্ট লুকস লুথেরান চার্চে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। শিশুদের জন্য ছিল হ্যালোইন পোশাক, কুমড়ায় ছবি আঁকা এবং আনন্দঘন নানা কার্যক্রম।
কিন্তু এই উৎসবের পেছনে রয়েছে এক গভীর বেদনার গল্প।উইন্টার ছিল অটিজমে আক্রান্ত ছয় বছরের একটি শিশু। গত ১৩ আগস্ট ডে-কেয়ারের একটি বাসে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যত্ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।
উইন্টারের স্মৃতি ধরে রাখতে তার খালা ও চাচা এই উৎসবের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার বাবাও।উইন্টারের বাবা ব্রায়ান জোন্স বলেন, হ্যালোইন ছিল তার মেয়ের প্রিয় উৎসব। সে সাজতে ভালোবাসত, মিষ্টি খেতে পছন্দ করত। এবারের হ্যালোইনে মেয়েকে পাশে না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি শিশুকে স্মরণ করা নয়, বরং অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবারের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, কঠিন সময়ে একটি কমিউনিটির ভালোবাসা ও সহযোগিতা শোকাহত পরিবারকে মানসিক শক্তি দিতে পারে।
উইন্টার আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে অন্য শিশুদের জন্য সচেতনতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, সেটিই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় বার্তা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় ৩১ অক্টোবর শনিবার ১০৯তম পুলিশ প্রিসিঙ্কটের কমিউনিটি কাউন্সিল এবং ফ্লাশিং চাইনিজ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই আয়োজন করে। বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ স্টেশনের লবিতে চলে শিশুদের ট্রিক-অর-ট্রিট উৎসব। অনুষ্ঠানে অনেক শিশু পুলিশ কর্মকর্তার পোশাকসহ নানা ধরনের হ্যালোইন সাজে অংশ নেয়। হাতে ছিল কুমড়ার আকৃতির ঝুড়ি। পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দেন। পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের সঙ্গে সময় কাটান এবং ছবি তোলেন। এই আয়োজনের বিশেষ দিক হলো, এটি শুধু এক দিনের আনন্দ আয়োজন নয়; বরং স্থানীয় শিশু ও পুলিশের মধ্যে পরিচিতি এবং আস্থার সম্পর্ক তৈরির একটি উদ্যোগ। ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের ডেপুটি ইন্সপেক্টর করম চৌধুরী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এই আয়োজন চলছে। প্রতিবছর এক হাজারের বেশি শিশু এতে অংশ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যায় পড়লে তারা পুলিশের কাছে সহজে সাহায্য চাইতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেও এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লাশিংয়ের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয়, যোগাযোগ ও পারস্পরিক বিশ্বাসও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন পরিচিতি সহায়ক হতে পারে।
শীতে রাস্তায় মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ, পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক
বাবা-মা পাশে নেই, এবার অন্তত আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত
৯৭ বছর বয়সেও থামেনি মানবিকতা, অভিবাসীদের জন্য শীতের পোশাক নিয়ে হাজির প্রবীণরা
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কর্ডোভায় এক আবেগঘন আয়োজনে একত্রিত হয়েছেন বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। ছয় বছর বয়সী উইন্টার জোন্সের স্মৃতি ধরে রাখতে আয়োজন করা হয়েছে প্রথমবারের মতো ‘অটিজম মিনি ফল ফেস্টিভ্যাল’। গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সেন্ট লুকস লুথেরান চার্চে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। শিশুদের জন্য ছিল হ্যালোইন পোশাক, কুমড়ায় ছবি আঁকা এবং আনন্দঘন নানা কার্যক্রম। কিন্তু এই উৎসবের পেছনে রয়েছে এক গভীর বেদনার গল্প।উইন্টার ছিল অটিজমে আক্রান্ত ছয় বছরের একটি শিশু। গত ১৩ আগস্ট ডে-কেয়ারের একটি বাসে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যত্ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। উইন্টারের স্মৃতি ধরে রাখতে তার খালা ও চাচা এই উৎসবের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার বাবাও।উইন্টারের বাবা ব্রায়ান জোন্স বলেন, হ্যালোইন ছিল তার মেয়ের প্রিয় উৎসব। সে সাজতে ভালোবাসত, মিষ্টি খেতে পছন্দ করত। এবারের হ্যালোইনে মেয়েকে পাশে না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি শিশুকে স্মরণ করা নয়, বরং অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবারের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, কঠিন সময়ে একটি কমিউনিটির ভালোবাসা ও সহযোগিতা শোকাহত পরিবারকে মানসিক শক্তি দিতে পারে। উইন্টার আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে অন্য শিশুদের জন্য সচেতনতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, সেটিই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় বার্তা।
সরকারি সুবিধা নিলেই গ্রিনকার্ড বাতিল নয়, অভিবাসীদের জন্য নিউইয়র্কের বিশেষ বার্তা
ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, একাধিক প্রাণহানির খবর
ভার্জিনিয়ায় বসেছিল নটরডেমিয়ানদের মিলনমেলা, অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় গ্লোবাল কনভেনশন
নিউইয়র্ক সিটির নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার কেনা আরও সহজ করতে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীরা কৃষিপণ্যের বাজার ও নির্ধারিত খোলা। বাজার থেকে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি কেনার ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বেশি অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন।গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আওতায় শহরের ‘হেলথ বাকস’ কর্মসূচিতে দৈনিক সর্বোচ্চ অতিরিক্ত কুপনের সীমা ১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৪ ডলার করা হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ ডলার বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ কার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত কৃষিপণ্যের বাজারে প্রতি ২ ডলারের তাজা ফল ও সবজি কিনলে ক্রেতা অতিরিক্ত ২ ডলারের হেলথ বাকস কুপন পান। নতুন নিয়মে এই সুবিধার দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা ১০ ডলার থেকে ১৪ ডলার হবে। এই কুপন দিয়ে নির্ধারিত বাজার থেকে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি কেনা যাবে। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ১০০টির বেশি কৃষিপণ্যের বাজার ও খোলা বিক্রয়কেন্দ্রে এসব কুপন ব্যবহার করা যাবে। মেয়র প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৩ লাখ ডলারের হেলথ বাকস বিতরণ করা হতে পারে। এতে একদিকে খাদ্যসহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো উপকৃত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক ও বাজারের বিক্রেতারাও বাড়তি ক্রেতা পাবেন।এই কর্মসূচির অর্থায়নে নগর সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ৫৭ লাখ ডলারের নতুন অনুদানও রয়েছে। মূলত নিউইয়র্ক সিটির স্ন্যাপ কার্ড সুবিধাভোগীরাই এই অতিরিক্ত কুপন পাওয়ার যোগ্য। তবে যাঁরা এসএনএপি পান না, তাঁরাও কিছু অলাভজনক ও ধর্মীয় সংগঠনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে হেলথ বাকস পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত এসএনএপি সুবিধা পান, তাঁরা নির্ধারিত বাজারে কেনাকাটার সময় এই অতিরিক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, স্ন্যাপ কার্ডে সরাসরি নগদ অর্থ বাড়ানো নয়। এটি নির্দিষ্ট বাজারে ফলমূল ও শাকসবজি কেনার জন্য অতিরিক্ত কুপন সুবিধা। আর নতুন ১৪ ডলারের সীমা এখনই কার্যকর হচ্ছে না; কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে।
নিউইয়র্কের হ্যালোইন প্যারেডে ২০ লাখ দর্শকের সমাগম, বিচিত্র পোশাকে রঙিন ম্যানহাটন
৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে নির্বাচন, স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধসহ বদলাচ্ছে নাগরিক সেবা