বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এমা জুরিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। নিজের পড়াশোনা, রোবোটিকস চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে (এসটিইএম) আগ্রহী করে তুলতে চালু করেছে ‘দ্য শি পারসিস্টস পডকাস্ট’। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই পডকাস্টে বিভিন্ন বয়সী নারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পেশাদার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। বিশেষ করে সফলতার গল্পের আড়ালে থাকা বাধা, প্রত্যাখ্যান, ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনতে চায় এমা।
গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের (এজিইউ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেয় এমা। আর্নেস্ট এন. মরিয়াল কনভেনশন সেন্টারে ৫৫৩ নম্বর পোস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একটি নাসা-অর্থায়িত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উচ্চ বায়ুমণ্ডলে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বেলুন উড়িয়েছিল এমা ও তার দলের সদস্যরা। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের তথ্য ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা যায় কি না, সেটিই ছিল গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।
এজিইউর বার্ষিক সম্মেলনটি বিশ্বের বিজ্ঞানীদের অন্যতম বড় সমাবেশ। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সম্মেলনে ১২০টির বেশি দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। সেখানে ভার্জিনিয়ার একজন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী হিসেবে এমার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে আবহাওয়া ও গবেষণার পোস্টার উপস্থাপনার বাইরেও তার আরেকটি উদ্যোগ রয়েছে, যার লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে মেয়েদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
এমার নিজের আগ্রহও তৈরি হয়েছে হাতে-কলমে কাজের মধ্য দিয়ে। সে তার রোবোটিকস দলের সঙ্গে রোবটের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করেছে। পাশাপাশি একটি আঞ্চলিক বিজ্ঞান মেলায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের সংকট নিয়ে গবেষণাও উপস্থাপন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে সে বুঝতে পারে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে নারীদের সাফল্যের গল্প বলা হলেও তাঁদের পথচলার কঠিন দিকগুলো তুলনামূলক কম আলোচিত হয়।
বাংলা বুলেটিনকে দেওয়া এক বক্তব্যে এমা লিখেছে, অসাধারণ নারীদের অর্জন নিয়ে সাধারণত তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর আলোচনা করা হয়। কিন্তু সেই সাফল্যের আগে তাঁদের যে বাধা, অনিশ্চয়তা ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব বিষয় খুব কমই সামনে আসে। এই অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরতেই পডকাস্টটি শুরু করেছে সে। তার লক্ষ্য, যারা এখনো নিজেদের আগ্রহের বিষয় নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে, তারা যেন অন্য নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনে সাহস পায়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশল খাতে নারীদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানও এমার উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে। সোসাইটি অব উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্সের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির প্রকৌশল পেশায় নারীদের অংশ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশেষ করে যন্ত্রকৌশল বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণ আরও কম। ২০২৫ সালে আমেরিকান সোসাইটি ফর ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পাঁচজনের একজনেরও কম। এমাও ভবিষ্যতে যন্ত্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী।
নারীদের উপস্থিতি ও অভিজ্ঞতা অন্য মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে, এমন প্রমাণও রয়েছে গবেষণায়। ২০২৩ সালে দ্য ইকোনমিক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্যারিস অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষার ফল তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিজ্ঞান পেশায় কর্মরত একজন নারীর এক ঘণ্টার শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শনের পর দ্বাদশ শ্রেণির মেয়েদের মধ্যে পুরুষ-প্রধান ও প্রতিযোগিতামূলক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের উচ্চশিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তির হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। গবেষকদের মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নারীকে সামনে থেকে দেখা শিক্ষার্থীদের পেশা নির্বাচনের ধারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এমার পডকাস্টে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীরা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রকৌশলী, যিনি স্পেসএক্সে স্টারশিপের প্রপালশন প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ফর্মুলা এসএই রেসিং কার দলের নারী সদস্যরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত একটি গল্পও স্থান পেয়েছে এই পডকাস্টে। এতে অংশ নিয়েছেন ড. ফারদিনা এফ. আলম, যিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডে তথ্যবিজ্ঞানের কর্মসূচি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানোর শিক্ষাগত ও পেশাগত যাত্রা।
পডকাস্টের কয়েকটি পর্বে ভার্জিনিয়া টেকের রকেট নির্মাণ দলের নারী সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন। তাঁদের একজন মাহিমা সাচান জানিয়েছেন, কৌতূহল থেকেই তিনি রকেট নির্মাণের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। দলের আরেক সদস্য কেলিন কারমাইকেল মেয়েদের উদ্দেশে বলেছেন, অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ খুঁজতে আবেদন করতে হবে, নিখুঁত সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না। তাঁদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শুরু থেকেই সবকিছু জানা প্রয়োজন নেই। আগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম বছরে ‘শি পারসিস্টস’ পডকাস্টের ২৪টি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন মোট ৪৭ জন অতিথি এবং ৪৩টির বেশি দেশের কয়েক হাজার শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে অনুষ্ঠানটি। অ্যাপল পডকাস্টে বর্তমানে এর ২৬টি পর্ব তালিকাভুক্ত রয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পর্বে ভার্জিনিয়া টেকের রকেট নির্মাণ দলের চার নারী সদস্য তাঁদের রকেট তৈরির অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার গল্প শুনিয়েছেন।
এমার স্বপ্ন, কোনো একদিন কোনো কিশোরী তার পডকাস্টের একটি পর্ব শুনে বুঝতে পারবে যে মহাকাশ প্রকৌশল কিংবা রকেট নির্মাণের মতো ক্ষেত্রেও তার কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শুধু একটি পর্ব শুনে যদি একজন শ্রোতাও নিজের আগ্রহের বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস পায়, তাহলেই উদ্যোগটির উদ্দেশ্য সফল হবে বলে মনে করে ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ডেট্রয়েটের পারফেক্টিং চার্চে রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেন স্টিভেন্স। প্রাইমারিতে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং শেষ মুহূর্তে এই অবস্থান পরিবর্তনকে ঘিরে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্স ও আবদুল এল-সায়েদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা, গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। নির্বাচনে স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন পান আবদুল। পরাজয়ের পর স্টিভেন্স প্রথমে তাঁকে সমর্থন জানান এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে প্রাইমারির পরও তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি। বিশেষ করে ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করে একটি বহিরাগত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। বিজ্ঞাপনটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেন স্টিভেন্স। অন্যদিকে, আবদুল জানান, বিজ্ঞাপনটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং এর বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি একমত নন। নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় আবদুল এল-সায়েদ ও স্টিভেন্সের যৌথ উপস্থিতিতে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য জিম ক্লাইবার্নেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচিতে স্টিভেন্স অংশ নেননি। বরং অন্য একটি গির্জায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্টিভেন্স বলেন, আবদুল তাঁকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ কর্মসূচি নিয়ে শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধান সহযোগী ও চিফ অব স্টাফ জাস্টিন জার্মানসহ একাধিক কর্মী পদত্যাগ করেছেন। প্রায় আট বছর ধরে স্টিভেন্সের সঙ্গে কাজ করা জার্মান জানান, তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হতবাক ও মর্মাহত। তিনি প্রকাশ্যে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলও স্টিভেন্সের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি নিজের ঘোষিত মূল্যবোধ থেকে সরে গেছেন। অন্যদিকে, আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, তিন মাস আগের প্রাইমারির বিরোধ নতুন করে সামনে আনার পরিবর্তে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নীতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। স্টিভেন্স অবশ্য নিজেকে এখনো একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রাইমারিতে পরাজিত হওয়ার পর যাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে সেই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে হ্যালি স্টিভেন্সের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিশোধই প্রধান কারণ এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট
শেষ মুহূর্তে আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রযুক্তি ও ব্যবসাকেন্দ্রিক এলাকায় কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এমবিএ কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। ওয়াশিংটন ডিসি মহানগর এলাকার রেস্টন শহরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেসে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহীদের কথা বিবেচনায় রেখে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার ধারণা যুক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০১৪ সালের বসন্তে ভার্জিনিয়ার রেস্টনে যাত্রা শুরু করে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পেছনে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের পাশাপাশি রেস্টন শহরের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রবার্ট ই. সাইমনের সমর্থন ছিল। তাঁর নামেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগটির নামকরণ করা হয়েছে রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। টেকসই উন্নয়ন, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সংহতির মতো মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান উত্তর ভার্জিনিয়ার ডালেস প্রযুক্তি করিডরে, যেখানে মাইক্রোসফট ও ওরাকলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। রেস্টনের উইহলে-রেস্টন ইস্ট মেট্রো স্টেশনের সিলভার লাইন থেকে ক্যাম্পাসে হেঁটে প্রায় পাঁচ মিনিটে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে গাড়ি রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ডিসি ও আশপাশের এলাকায় কর্মরত পেশাজীবীদের জন্য ক্যাম্পাসে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। কর্মজীবীদের উপযোগী করে এমবিএ কর্মসূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা বুলেটিন। এর ফলে পূর্ণকালীন চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠ্যক্রমে আর্থিক হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনাগত অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় আইন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমবিএ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা চারটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে পছন্দ করতে পারেন। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থায়ন, তথ্যব্যবস্থা ও ই-বাণিজ্য, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থায়ন বিষয়ে পড়লে বৈশ্বিক বাজার, বিনিয়োগ ও করপোরেট অর্থায়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে তথ্যব্যবস্থা ও ই-বাণিজ্য বিষয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং তথ্যের নিরাপত্তার মতো বিষয় শেখার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের জন্য মোট ১২টি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। এতে বাধ্যতামূলক বিষয়, পছন্দের বিশেষায়িত ক্ষেত্র এবং একটি ব্যবহারিক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাপস্টোন প্রকল্প, তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক কাজ অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশের সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা তৈরি করা। বর্তমান ব্যবসায়িক জগতে বিভিন্ন দেশের কর্মী, গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন বাড়ছে। সে কারণে আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে ধারণা, বহুসাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলা বুলেটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি বাস্তব শিল্প ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমবিএ কর্মসূচির মোট টিউশন ফি ১৯ হাজার ৬৫৬ ডলার। প্রতি কোয়ার্টার ক্রেডিটের খরচ ৩৬৪ ডলার এবং প্রতিটি কোর্সের জন্য নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। টিউশন ফির বাইরে নিবন্ধন, বইপত্র, কম্পিউটার ব্যবহার এবং আবাসন ও যাতায়াতের মতো খরচও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত আনুমানিক হিসাবে এসব খরচসহ একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২৭ হাজার ১১৪ ডলার হতে পারে। তবে আবাসন, খাবার ও ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিমাণ শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে। এমবিএর পাশাপাশি ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটিতে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমপিএ) কর্মসূচিও রয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল বিপণন ও ই-বাণিজ্যসংক্রান্ত বিশেষায়িত পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ভার্জিনিয়ার উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন ফর ভার্জিনিয়া (এসসিএইচইভি) থেকে ২০১৬ সালের মে মাসে পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বীকৃতির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ক্লেয়ারউডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যাক্রেডিটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজেস (এসিসিএসসি) থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে এসিসিএসসির প্রকাশিত ২০২৬ সালের নভেম্বরের বিবেচনাধীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটিকে প্রাথমিক আবেদনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান স্বীকৃতির অবস্থা সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রযুক্তি ও ব্যবসায় খাতের বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটি। বিশেষ করে যারা চাকরি ছেড়ে না দিয়ে ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির এমবিএ কর্মসূচি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম, মোট ব্যয়, ক্লাসের সময়সূচি এবং ডিগ্রির স্বীকৃতির বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। সূত্র: বাংলা বুলেটিন, ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট এবং অ্যাক্রেডিটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজেস (এসিসিএসসি)।
বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট কী, কেন দিতে হয় এবং এই খরচ কে বহন করেন?
৭৫ হাজার ডলারের কম আয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারবেন বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে
একসময় নিজেরাই ছিলেন গৃহহীন, আজ নিউইয়র্কে ১৭৫ মানুষের মাথার ওপর ছাদ দিলেন তাঁরা
নিউইয়র্কের কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় ৩১ অক্টোবর শনিবার ১০৯তম পুলিশ প্রিসিঙ্কটের কমিউনিটি কাউন্সিল এবং ফ্লাশিং চাইনিজ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই আয়োজন করে। বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ স্টেশনের লবিতে চলে শিশুদের ট্রিক-অর-ট্রিট উৎসব। অনুষ্ঠানে অনেক শিশু পুলিশ কর্মকর্তার পোশাকসহ নানা ধরনের হ্যালোইন সাজে অংশ নেয়। হাতে ছিল কুমড়ার আকৃতির ঝুড়ি। পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দেন। পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের সঙ্গে সময় কাটান এবং ছবি তোলেন। এই আয়োজনের বিশেষ দিক হলো, এটি শুধু এক দিনের আনন্দ আয়োজন নয়; বরং স্থানীয় শিশু ও পুলিশের মধ্যে পরিচিতি এবং আস্থার সম্পর্ক তৈরির একটি উদ্যোগ। ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের ডেপুটি ইন্সপেক্টর করম চৌধুরী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এই আয়োজন চলছে। প্রতিবছর এক হাজারের বেশি শিশু এতে অংশ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঙ্গে পুলিশের ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যায় পড়লে তারা পুলিশের কাছে সহজে সাহায্য চাইতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেও এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লাশিংয়ের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয়, যোগাযোগ ও পারস্পরিক বিশ্বাসও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমন পরিচিতি সহায়ক হতে পারে।
শীতে রাস্তায় মৃত্যু ঠেকাতে উদ্যোগ, পরিচয়হীন ৯ গৃহহীনকে সম্মানজনক বিদায় দিচ্ছে নিউইয়র্ক
বাবা-মা পাশে নেই, এবার অন্তত আইনি লড়াইয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াল আদালত