যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ পুত্র ব্যারন ট্রাম্পের একটি ফেসটাইম কল লন্ডনে এক নারীর জীবন রক্ষা করেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো–র বরাতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে দেওয়া সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী নারী জানান, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ভোররাতে তিনি তাঁর সাবেক প্রেমিকের হাতে গুরুতর সহিংসতার শিকার হন। মারধরের মধ্যেই কোনোভাবে তিনি বন্ধু ব্যারন ট্রাম্পকে ফেসটাইমে কল করতে সক্ষম হন। কলটি ধরার পর ব্যারন ট্রাম্প চোখের সামনে সংঘটিত সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করেন।
আদালতে উপস্থাপিত ফোনকলের অডিও অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্প জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তিনি একটি ফেসটাইম কলে একজন নারীকে মারধর হতে দেখেছেন। ফোনালাপে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি একজন মেয়ের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। তাকে মারধর করা হচ্ছে। এটি খুবই জরুরি।”
পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, ফোনালাপের সময় ব্যারন ট্রাম্প জানান, তিনি শুধু ছাদ দেখতে পাচ্ছিলেন এবং চিৎকারের শব্দ শুনছিলেন। একপর্যায়ে তিনি একজন পুরুষের মাথা দেখতে পান এবং পরে কান্নারত ওই নারীকে আঘাত করতে দেখেন। মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী ওই কলের সূত্র ধরেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী নারী আদালতে জানান, তাঁর সাবেক প্রেমিক মাতভেই রুমিয়ানস্তেভ (২২) ব্যারন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, সম্পর্কের ছয় মাস পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন এবং একাধিকবার শ্বাসরোধসহ সহিংস আচরণ করেন। ওই রাতে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগী নারী জানান, যিনি জরুরি ফোন করেছিলেন তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুত্র ব্যারন ট্রাম্প। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুনরায় ফোন করা হলে ব্যারন বলেন, “আমি পুলিশে ফোন করেছি। ওই মুহূর্তে সেটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।”
আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ওই নারী বলেন, “ব্যারন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। সেই ফোনটা ছিল ঈশ্বরের পক্ষ থেকে আসা এক সংকেত।”
এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুশ নাগরিক মাতভেই রুমিয়ানস্তেভ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হামলা, ধর্ষণ, শ্বাসরোধ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিচার চলমান রয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্লেষক ও বিরোধীদের একটি বড় অংশ এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের কাছে দিল্লির ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। চলতি মাসে ঘোষিত এই চুক্তির ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশেষ করে কৃষি খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলো এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, চুক্তির আওতায় সস্তা মার্কিন পণ্য অবাধে আমদানির সুযোগ পেলে ভারতের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও নয়াদিল্লি জানিয়েছে আগামী মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে, তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাসের মতে, "ট্রাম্পের যুগে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।" চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়টি হলো— ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের বার্ষিক আমদানি মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা প্রায় ‘অবাস্তব’। এমনকি বিপুল পরিমাণ বোয়িং বিমান কিনলেও এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আরেকটি বড় রহস্য তৈরি হয়েছে রাশিয়ার তেল আমদানিনি নিয়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট হ্যাঁ বা না সূচক বক্তব্য আসেনি। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার তোড়জোড় শুরু করলেও রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত’ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের অর্থনীতিতে কতটা স্থিতিশীলতা আনবে, তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেছে।
বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘদিনের মেরুকরণ বদলে দেওয়ার এক নতুন আভাস দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে এবং তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে গভীরভাবে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করছি, যিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় যেকোনো নেতার সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছুক। আমি এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, যদি আয়াতুল্লাহ খামেনি আগামীকালই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন, তবে প্রেসিডেন্ট তাতে সানন্দে রাজি হবেন।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, সামরিক শক্তির চেয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বের জটিল সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে দুই দেশ দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আলোচনার প্রস্তাবের সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিতেও পিছপা হচ্ছে না ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে আধুনিক ও বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ খুব দ্রুতই ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘চাপ ও সংলাপ’ (Pressure and Dialogue) নীতি তেহরানকে নতুন কোনো চুক্তিতে বাধ্য করার একটি কৌশল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই প্রকাশ্য আহ্বানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে।
টেসলা প্রধান এলন মাস্ক এবং মেটা কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ—বিশ্বের প্রভাবশালী এই দুই ধনকুবেরের নাম এবার জড়িয়ে গেল কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নথিতে। মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: ২০১৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে এপস্টেইনের আয়োজিত এক ডিনার পার্টিতে নাকি আমন্ত্রিত ছিলেন এই দুই টেক জায়ান্ট। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইনের নিজের হাতে লেখা নোটে মাস্ক এবং জুকারবার্গের নাম পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ডিনার পার্টির একটি রহস্যময় ছবিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যদিও সেই ছবিতে সরাসরি এপস্টেইনকে দেখা যায়নি এবং এই দুই বিলিয়নেয়ারের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই যোগসূত্র জনমনে তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন। এলন মাস্ক অবশ্য বরাবরই এপস্টেইনের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছেন।