এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম Voice of America (ভয়েস অব আমেরিকা)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেন। তবে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক Royce Lamberth গত মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে বলেন, ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী ছিল। একই সঙ্গে তিনি শত শত সাংবাদিককে পুনরায় কাজে বহাল করার নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রোপাগান্ডার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই গণমাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্যসেবা প্রদান করত।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকার কনটেন্টে পক্ষপাত রয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করে US Agency for Global Media। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া Kari Lake দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। ভয়েস অব আমেরিকায় এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান।
তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ক্যারি লেকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক। ভয়েস অব আমেরিকার তিনজন সাংবাদিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়েই আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।
মামলাকারীদের একজন প্যাটসি উইডাকুসওয়ারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁরা আশা করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার এই উদ্যোগ আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। এদিকে, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করার। প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে। প্রস্তাবিত এই তহবিল বর্তমান বিমান হামলার খরচের পরিমাণও ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সংগ্রহের জন্য এই বড় অঙ্কের তহবিল চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনও নির্ধারণ করেনি, কংগ্রেসে কতটুকু অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। কিছু কর্মকর্তা পেন্টাগনের প্রস্তাব পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। প্রস্তাবিত তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধে জনসমর্থন সীমিত এবং ডেমোক্র্যাটরা এর কঠোর সমালোচনা করছেন। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে থাকলেও সিনেটের ৬০ ভোটের সীমাবদ্ধতার কারণে স্পষ্ট আইনগত পথ এখনও দৃশ্যমান নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অনুমোদিত ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ও তিনি সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই প্রচেষ্টার। মূল লক্ষ্য হলো গোলাবারুদ ঘাটতি মেটানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শ্রমিক ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন বাড়ানো সময়সাপেক্ষ হবে।
মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ওয়াশিংটন ডিসির আকাশে রহস্যময় ড্রোনের আনাগোনা নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বাসভবন সংলগ্ন সামরিক ঘাঁটির ওপর এই ড্রোন শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার ফোর্ট ম্যাকনায়ার সামরিক ঘাঁটির ওপর অজ্ঞাত এই ড্রোনটি উড়তে দেখা যায়। এই ঘাঁটিতেই বর্তমানে সপরিবারে বসবাস করছেন রুবিও এবং হেগসেথ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সক্ষমতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে এফবিআই সতর্ক করেছিল যে, উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ড্রোন অনুপ্রবেশ কোনো পরিকল্পিত সামরিক হামলার প্রাথমিক পদক্ষেপ কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বুধবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে এবং দ্রুত কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। সংঘাত শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না হলেও অন্যান্য দেশকে এতে ভূমিকা নিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না অধিকাংশ মিত্রদেশ। ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যেমন জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।