লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্লায়েন্টের ৩ লাখ ডলার জুয়ায় উড়িয়ে এখন কারাগারের পথে আইনজীবী
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জুয়ার নেশা মেটাতে নিজ ক্লায়েন্টদের ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ডলার আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন এক সাবেক আইনজীবী। ৩৬ বছর বয়সী ওই আইনজীবীর নাম সার্জিও ভালদোভিনোস রামিরেজ। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ম্যানহাটন বিচের বাসিন্দা সার্জিও সম্প্রতি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে বড় অঙ্কের চুরি এবং অপর্যাপ্ত তহবিলের চেক প্রদানের মতো একাধিক ফেলোনি (গুরুতর অপরাধ) অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ১ লাখ বা তার বেশি ডলারের আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়ার বিশেষ অভিযোগও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সার্জিও তার ক্লায়েন্টদের সাথে এই ভয়ংকর প্রতারণা করেন। বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তি বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্লায়েন্টদের যে অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তিনি তা সুকৌশলে নিজের পকেটে ভরেন। শুধু তাই নয়, তিনি ক্লায়েন্টদের এমন কিছু চেক দিয়েছিলেন যা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাউন্স করেছিল। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সার্জিও তার জুয়া খেলার নেশার পেছনে ব্যয় করেছেন। এই জালিয়াতির কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার আইন পেশার সনদ বাতিল (ডিসবারড) করা হয়।
দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে, সার্জিওকে তার সাজা ঘোষণার আগে ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে এবং তাকে দুই বছরের জন্য স্টেট কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান এই ঘটনাকে একটি ‘তাসের ঘর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্টেট বার কর্মকর্তারা তার এই দ্বৈত আচরণের কথা জানতে পারার পর সব তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। তিনি শুধু আইন পেশাই হারাননি, এখন তাকে চুরি করা অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি কারাগারের সাজাও ভোগ করতে হবে।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যবাজারে গরু ছাড়াই তৈরি দুধের প্রোটিন ধীরে ধীরে মূলধারার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাকে অনেক সময় ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এর বড় একটি অংশ আসলে বিশেষ ধরনের গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি দুধের প্রোটিন। ইতোমধ্যে আইসক্রিম, ক্রিম চিজসহ বিভিন্ন দুধজাত পণ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড ব্রেয়ার্স। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি পারফেক্ট ডে-এর তৈরি গাঁজনভিত্তিক দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে ল্যাকটোজমুক্ত চকলেট আইসক্রিম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনে। এতে প্রচলিত গরুর দুধের পরিবর্তে এমন হুই প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে, যার আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের হুই প্রোটিনের সঙ্গে একই বলে জানিয়েছে পারফেক্ট ডে। পণ্যটি ল্যাকটোজ ও কোলেস্টেরলমুক্ত। এই প্রযুক্তির নাম ‘নির্ভুল গাঁজন’ বা প্রিসিশন ফারমেন্টেশন। এতে নির্দিষ্ট অণুজীব ব্যবহার করে গরুর দুধে পাওয়া প্রোটিন তৈরি করা হয়। পারফেক্ট ডে-এর ক্ষেত্রে অণুজীবকে প্রয়োজনীয় জিনগত নির্দেশনা দেওয়ার পর গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিটা-ল্যাক্টোগ্লোবিউলিনসহ দুধের প্রোটিন তৈরি করা হয়। পরে অণুজীব আলাদা করে প্রোটিন সংগ্রহ করা হয়। অর্থাৎ, এটি গরুর কোষ থেকে ল্যাবে দুধ বা মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়। বরং গরু ছাড়াই দুধের নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির একটি আধুনিক গাঁজন পদ্ধতি। এই প্রোটিনের গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের সঙ্গে একই হওয়ায় তা বিভিন্ন প্রচলিত খাদ্যপণ্যে ব্যবহার করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, পারফেক্ট ডে-এর প্রাণীহীন হুই প্রোটিন নির্দিষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত বা ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ শ্রেণির আওতায় রয়েছে। ২০২০ সালে এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না থাকার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। তবে এটিকে সরাসরি ‘এফডিএ অনুমোদিত’ বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ এ ধরনের খাদ্য উপাদান সাধারণত ওষুধের মতো এফডিএর কাছ থেকে আলাদা অনুমোদন নেয় না। ‘সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত’ ব্যবস্থার অধীনে কোনো খাদ্য উপাদান নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সে বিষয়ে এফডিএকে অবহিত করা যায়। শুধু ব্রেয়ার্স নয়, বড় খাদ্য কোম্পানিগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। নেসলে পারফেক্ট ডে-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রাণীহীন দুধের প্রোটিন ব্যবহার করে বিভিন্ন দুধজাত পণ্য তৈরি ও পরীক্ষা করেছে। কোম্পানিটির গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। স্টারবাকসও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের দুটি দোকানে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাণীহীন দুধের পণ্য ব্যবহার করেছিল। তবে এটিকে স্টারবাকসের ব্যাপক বা স্থায়ীভাবে বাজারজাত করা পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষার বড় পরিসরে সম্প্রসারণের নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি। প্রিসিশন ফারমেন্টেশনের অন্যতম আকর্ষণ পরিবেশগত সম্ভাবনা। পারফেক্ট ডে-এর তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা করা জীবনচক্র মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রচলিত হুই প্রোটিন উৎপাদনের তুলনায় তাদের প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ এবং পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ কমতে পারে। তবে এগুলো পারফেক্ট ডে-এর নিজস্ব পণ্যের মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য। তাই সব ধরনের প্রিসিশন ফারমেন্টেশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একই মাত্রার পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। পণ্যের মোড়কে তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদানকে সাধারণত ‘ল্যাবে তৈরি খাবার’ নামে আলাদা করে বাজারজাত করা হয় না। উপাদান তালিকায় ‘প্রাণীহীন হুই প্রোটিন’ বা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে প্রোটিনটির আণবিক গঠন প্রচলিত দুধের প্রোটিনের মতো হওয়ায় দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের পণ্যে দুধ-সম্পর্কিত অ্যালার্জির সতর্কতাও থাকতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গ্রাহকদের অজান্তে গোপনে ল্যাবে তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে’ ধরনের দাবি পুরো বাস্তবতাকে তুলে ধরে না। প্রযুক্তিটি প্রকাশ্যেই খাদ্য কোম্পানিগুলো পরীক্ষা ও ব্যবহার করছে এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের নিরাপত্তা ও লেবেলিংয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক কাঠামোও রয়েছে। গরু ছাড়াই দুধের প্রোটিন তৈরির এই প্রযুক্তি এখনো খাদ্যশিল্পের তুলনামূলক নতুন একটি ক্ষেত্র। উৎপাদন খরচ, ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা, পণ্যের লেবেলিং এবং পরিবেশগত সুবিধা নিয়ে আরও গবেষণা ও বাজার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
মেয়েদের লকার রুমে ৪ রেকর্ডিং ডিভাইস, গ্রেপ্তার স্কুলের প্রিন্সিপাল
টাম্পায় ২২ হাজারের বেশি প্রাচীন নিদর্শন জব্দ, রয়েছে ৫ হাজার বছরের পুরোনো সামগ্রী
টেক্সাস সিনেট দৌড়ে প্যাক্সটনের পক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাইস্কুলে স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রেমন্ড কার্নারকে একাধিক নারীর করা অনৈতিক ও যৌন আচরণের অভিযোগের পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্নার কোরাল স্প্রিংসের জে.পি. তারাভেলা হাইস্কুলে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসর নেন। পরে একই বছর পার্টটাইম মৌসুমি স্কুল রিসোর্স অফিসার হিসেবে আবার কাজে ফেরেন এবং ঈগল রিজ এলিমেন্টারি স্কুলেও দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন প্রকৃতির অনুপযুক্ত আচরণ ও কথাবার্তার অভিযোগ করার পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্ত শেষে তাকে আর পুলিশ বিভাগে রাখা হয়নি। তদন্তে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনা করা পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ২১ বছর বয়সে কার্নার তার পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে টাকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কার্নার ফেসটাইমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্নোগ্রাফি দেখান এবং অশালীন আচরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি যৌন আচরণ ও অনুপযুক্ত মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লোকাল ১০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্নারের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, অশ্লীল প্রদর্শন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অশ্লীল উপকরণ দেখানো এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগসহ কয়েকটি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয় বহাল রাখা হয়। তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের অভিযোগ ও প্রশাসনিক findings, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। কেন ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না? ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কার্নারের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ আনা হচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলোর কিছু ঘটনা আইনে নির্ধারিত স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গুরুতর অভিযোগ বহাল থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে কার্নার কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরও ভুক্তভোগী আছেন কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ কোরাল স্প্রিংস পুলিশ প্রধান ব্র্যাড মক ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলে দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থী ও পরিবারের আস্থা রক্ষা এবং পেশাগত সীমারেখা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বেশি। পুলিশ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন আরও কেউ থাকতে পারেন যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েও বিষয়টি কখনো জানাননি। তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কার্নার-সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে কোরাল স্প্রিংস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট আর্নেস্তো ব্রুনার সঙ্গে ৯৫৪-৩৪৬-১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সূত্র: WSVN 7News, CBS News Miami
ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়, সফল ৮৪ শতাংশ গ্রাহক
এক বোন মৃত্যুর মুখে, আরেক বোনের সেই আলিঙ্গন বদলে দিল নবজাতকদের চিকিৎসার গল্প
১৩ বছর পর আমেরিকা ছেড়ে জার্মানির পথে ইউএস আর্মির বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার
ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান নিজের পরিবারের জন্য ফল ও সবজি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনের লনকে ‘ফুড ফরেস্টে’ পরিণত করেছিলেন। কিন্তু সেই বাগানই এখন তাকে গুনতে হচ্ছে একের পর এক জরিমানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করা হয়েছে। আরও ৫০০ ডলারের জরিমানার আশঙ্কাও রয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ কনট্রাক্টর। ২০১৯ সালে তিনি বাড়ির সামনের প্রচলিত ঘাসের লন সরিয়ে সেখানে ফল ও সবজি চাষ শুরু করেন। প্যাশনফ্রুট, মূলা, কলা, মিষ্টি আলু, স্কোয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে তার বাগানে। পরিবারের খাবারের খরচ কমানো এবং বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। উৎপাদিত কিছু খাবার প্রতিবেশীদেরও দেন। তবে বাগান নিয়ে সবার মত এক নয়। কিছু প্রতিবেশী শেরম্যানের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যরা এটিকে অপরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিকটু বলে অভিযোগ করেছেন। কারও কারও আশঙ্কা, অতিরিক্ত গাছপালা ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এপ্রিল মাসে চিনো শহরের কোড এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ ‘অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা’সহ কয়েকটি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শেরম্যানকে ৭৫০ ডলার জরিমানা করে। তাকে অতিরিক্ত গাছপালা ছাঁটাই, পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশীর সম্পত্তির সীমানা থেকে অন্তত ১৫ ফুট দূরে গাছপালা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আপিলও করেন। আগস্টে তাকে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা করা হয়। এরপর শহরের নির্দেশনা মেনে শেরম্যান কিছু ঝোপঝাড় সরিয়ে গাছপালা ছাঁটাই করেন এবং পথচারীদের চলাচলের দৃষ্টিসীমা পরিষ্কার করেন। তবে তার দাবি, নিয়ম মেনে পরিবর্তন আনার পরও নতুন করে জরিমানার মুখে পড়ছেন। সেপ্টেম্বরে সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে শেরম্যান জানান, চলতি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে বাগানের বাকি অংশ ছাঁটাই না করলে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব গাছপালা এখনো কোডের আওতায় অতিরিক্ত বেড়ে আছে, সেগুলো ছাঁটাই বা সরানো না পর্যন্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। অন্যদিকে শেরম্যানের যুক্তি, নিজের পরিবারের খাবার উৎপাদনের জন্য বাড়ির জায়গা ব্যবহার করার অধিকার তার থাকা উচিত। তিনি জানান, নিরাপত্তা ও পথচারীদের দৃশ্যমানতার মতো যৌক্তিক নিয়ম মানতে তার আপত্তি নেই। তবে বাগানের কারণে সরাসরি কোনো প্রতিবেশীর ক্ষতি বা প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হলে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন তিনি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরতলিতে বাড়ির সৌন্দর্য, স্থানীয় কোড এবং ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য উৎপাদনের স্বাধীনতার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনকেও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চিনো শহরের সরকারি স্লোগান ‘Where Everything Grows’ হওয়ায় শেরম্যানের বাগান নিয়ে বিতর্কটি আরও আলোচনায় এসেছে। শহরের এই স্লোগানটির সঙ্গে এলাকার কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। শেরম্যান এখন বাগানের পুরোটা সরিয়ে ফেলার বদলে শহরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নিজের ‘ফুড ফরেস্ট’ ধরে রাখতে চান।
মায়ামিতে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার
একই সিনেমা ২৪ বার দেখলেন, ৩৬ ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ শেষে পেলেন ১ হাজার ডলার