প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল, ভোটার হতে বাধ্যতামূলক ৪ তথ্য

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করা ২২ হাজারের বেশি আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যথাযথ না হওয়ায় এসব আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৯ হাজার ৮৯৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৩ হাজার ২২৯ জন বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত শেষে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তদন্ত শেষে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ২ হাজার ৯৭৮টি আবেদন। এছাড়া ১০ হাজার ১৪১ জনের তথ্য এখনো সার্ভারে আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ১৬ জনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনগুলোর মধ্যে ২২ হাজার ১৮ জনের এনআইডি কার্ড মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ করা হচ্ছে।   ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন বাতিল হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে।   বর্তমানে ১৪টি দেশের ২৪টি নিবন্ধন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম চলছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দেশটি থেকে মোট ২৩ হাজার ৯৪০টি আবেদন এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে আবেদন জমা পড়েছে ১৭ হাজার ৩০টি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন এসেছে ১৬ হাজার ৮১২টি। এছাড়া ইতালি থেকে ৯ হাজার ৩৮টি, সৌদি আরব থেকে ৬ হাজার ৩৫২টি, কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৫৭৩টি এবং কাতার থেকে ৫ হাজার ৪০৬টি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। দেশটি থেকে মাত্র ১২৬ জন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।   নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য চারটি তথ্য ও নথি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। এগুলো হলো অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা এনআইডিধারী তিন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি। এসব নথি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা নিবন্ধন কেন্দ্রের নির্ধারিত ডেস্কে জমা দিতে হবে।   এছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথিপত্রও জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, বিবাহসংক্রান্ত নথি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিল এবং বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র।   তবে এসব অতিরিক্ত নথি বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী বিদেশে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া যাবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার এলাকায় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এনআইডি কার্ড সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়।   প্রবাসীদের জন্য এনআইডি সেবা চালুর ফলে বিদেশে বসেই ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বিপুলসংখ্যক আবেদন বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে আটলান্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।"   আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক।   অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়।   আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে প্রবাসীদের জন্য কড়া নিয়ম, আকামা বাতিলের পর দেশ ছাড়তে হবে ১৪ দিনের মধ্যে

কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য রেসিডেন্সি এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা বাতিল হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানের বৈধ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৩০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাতার ত্যাগ না করলে আইনি জটিলতাসহ জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   সম্প্রতি কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি জানান, আকামা বাতিলের পর নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ না করলে প্রবাসীদের প্রতিদিনের জন্য ১০ কাতারি রিয়াল হারে বিলম্ব জরিমানা গুনতে হবে। পাশাপাশি ভিজিট ভিসায় আসা দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।   ভিসায় উল্লেখিত মেয়াদের পর অতিরিক্ত সময় কাতারে অবস্থান করলে পর্যটকদের প্রতিদিনের জন্য ২০০ কাতারি রিয়াল হারে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ভ্রমণকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে কাতার ছাড়ার আগে প্রবাসীদের ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিজেদের বর্তমান আইনি স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কোনো বকেয়া ট্রাফিক ফাইন, ওভারস্টে জরিমানা বা অন্য কোনো সরকারি পাওনা থাকলে তা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পরিশোধ করতে হবে।   এছাড়া প্রবাসীরা চাইলে এই মেট্রাশ অ্যাপের মাধ্যমেই তাদের রেসিডেন্সি পারমিট নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এবং দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু থাকা ৭৬টি ই-গেট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নতুন এই নির্দেশনায় কাতারে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীদের অবশ্যই নবজাতকের জন্মের পর পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে শিশুটির রেসিডেন্সি পারমিট বা আকামা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ

প্রবাসীদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু এবং আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।   বুধবার (১০ জুন) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় নরসিংদী-১ আসনের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা সব সময় প্রত্যাশিত সেবা পান না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার তাদের কল্যাণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ‘প্রবাসী কার্ড’ ব্যাংকের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন ও বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে একটি প্রকল্প শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হতে পারে।   প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   সংসদে দেওয়া তথ্যে নুরুল হক জানান, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা হিসেবে ৫ হাজার ২২৫ জনকে ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা, বীমা দাবি, বিদেশফেরত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, মৃত কর্মীদের লাশ দেশে আনা ও দাফন ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, বিদেশফেরত প্রায় আড়াই লাখ কর্মীকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।   প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরে সেবার মান উন্নত করতে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।   বিদেশে কর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ১০টি দেশের আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে নারী কর্মীদের জন্য সেফ হোম চালু রয়েছে।   প্রবাসীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে দেশে টোল-ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন সুযোগ তৈরিতে বিদেশস্থ মিশনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে।   রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার লাইসেন্স থাকলেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। এজন্য একটি গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   সবশেষে তিনি বলেন, অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, প্রতারণা রোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ডে প্যারেড। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের বুকে এক খণ্ড বাংলাদেশ: বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো তৃতীয় বাংলাদেশ ডে প্যারেড

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো তৃতীয় 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড'। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান প্রবাসী কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অর্ধ ডজনাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিসহ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে পুরো জ্যাকসন হাইটস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রূপ নিয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে।   উৎসবের এই দিনে প্রবাসী বাঙালিদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে ছিল চিরচেনা দেশাত্মবোধক গান, আর চারপাশ মুখরিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাক—ঢোলের বাজনায়। বাঙালি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের গৌরবকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবারের প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি। রূপালী পর্দার চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রদেব, বিশিষ্ট অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিনসহ দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক পরিচিত মুখ এই আয়োজনে শামিল হন। তারকাদের একনজর দেখতে এবং তাদের সাথে প্যারেডে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশী আমেরিকানদেরও এই প্যারেডকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের চমৎকার লোকনৃত্য পরিবেশনা প্যারেডে ভিন্ন এক বৈচিত্র্যময় মাত্রা যোগ করে।   আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের মূল কর্মসূচী নির্ধারিত থাকলেও, ঘড়ির কাঁটা ৯টা ছোঁয়ার আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করেই সর্বস্তরের প্রবাসীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর মূল স্পটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময়েই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমবেত হন এবং একটি সুসজ্জিত ট্রাকের ওপর তৈরি চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।   এবারের প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও কংগ্রেসওম্যান টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস এবং নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন জনপ্রতিনিধি। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড শুরু হয়। প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী এবং গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য মার্শালরা। এছাড়াও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী ব্যক্তিত্ব নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী প্রমুখ। সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. دীলিপ নাথ এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেলসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন। এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি এবং সুপরিচিত উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি বিশালাকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের চমৎকার সুরের মধ্য দিয়ে মূল প্যারেড বা শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেন। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৩৭ এভিনিউ ধরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত আর লোকনৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।   এবারের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের সাথে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) এবং ইউএস আর্মি অংশ নিয়ে প্যারেডের মর্যাদা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬-এর আয়োজক কমিটি, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফার্স্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও বিশাল বহর নিয়ে প্যারেডে যোগ দেন। এছাড়া মেলায় হেলথ ফার্স্ট ও অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু দর্শকদের মাঝে আঙুর বিতরণ করেন।   তবে এত বড় ও উৎসবমুখর আয়োজন সত্ত্বেও পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সাধারণ প্রবাসী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শোভাযাত্রার রুট নিয়ন্ত্রণে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। এছাড়া প্যারেড কমিটি আগে থেকে অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতির কথা ঘোষণা করলেও, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্যারেডে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে সব ছাড়িয়ে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ সোসাইটি'র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি। সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্যারেডে অংশ নিলেও সংগঠনটির কোনো ব্যানার বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। প্রবাসীদের এত বড় একটি জাতীয় উৎসবে কেন প্রধানতম আঞ্চলিক ছাতা-সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশ নিল না, তা নিয়ে কমিউনিটির ভেতরে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়োজকদের সাথে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দূর করা জরুরি। তা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের এই মহোৎসব নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মে ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে থাকছেন দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) আগামী বছর তাদের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল সিটির ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন।   “উন্নয়নের পথে আগামী প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত সংযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।   আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশের জনপ্রিয় একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকিব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে।   এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের এ কনভেনশনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।   অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে।   তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।   পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।   বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।   উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে।   এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি।   রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে:   ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ।   বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে।   তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা।   অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে।   সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা ৩ বছরের জন্য বন্ধের প্রস্তাব: বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লাখ বিদেশি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক: উদ্বেগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ভ্রমণে দীর্ঘ লাইন থেকে মুক্তি! যুক্তরাষ্ট্র সহজ হচ্ছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকারী পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ। মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) তাদের 'মোবাইল পাসপোর্ট কন্ট্রোল' (MPC) অ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ভিসাস নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভ্রমণকারীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা ছাড়াই নিজেদের পাসপোর্ট এবং কাস্টমস ডিক্লারেশন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। MPC অ্যাপটি মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিমানবন্দরের প্রচলিত কাগজের ফরম পূরণের ঝামেলা কমিয়ে দেয়। ভ্রমণকারীরা বিমানে থাকাকালীন বা অবতরণের পরপরই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য (সর্বোচ্চ ১২ জন) অ্যাপে ইনপুট দিতে পারেন। এরপর একটি ডিজিটাল রিসিট জেনারেট হয়, যা বিমানবন্দরের নির্ধারিত এমপিসি লেন-এ (MPC Lane) দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে দেখালেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। কারা এই সুবিধা পাবেন? বর্তমানে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী (LPR), নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কানাডিয়ান নাগরিক এবং ভিসামুক্ত দেশের (VWP) যাত্রীরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যারা পর্যটক হিসেবে যাচ্ছেন, তারা আপাতত নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলে বা ভবিষ্যতে আপডেট আসলে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ৪টি সমুদ্রবন্দরে এই সুবিধা চালু রয়েছে। সুবিধাসমূহ: ১. কোনো বাড়তি ফি বা খরচ ছাড়াই অ্যাপটি ডাউনলোড করা যায়। ২. পরিবারের সবাই একসাথে একটি অ্যাপের মাধ্যমেই তথ্য জমা দিতে পারেন। ৩. বিমানবন্দরের সাধারণ লাইন থেকে অনেক ছোট হয় এমপিসি লাইন, ফলে সময় বাঁচে। পেশাদার ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি আধুনিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর ইমিগ্রেশনের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হয়েছেন। গত চার দিন ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার এবং সঙ্গে থাকা সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। নিখোঁজের পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তার অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে পাওয়া গেলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে জানানো হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-কেও তদন্তে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশপাশের হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও আটক কেন্দ্রগুলোতেও খোঁজ নিয়েছে, তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে। এ ঘটনায় সহপাঠী, বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বৃষ্টির নিরাপদ ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একই সঙ্গে কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন ভিসা বুলেটিনে বড় পরিবর্তনের আভাস: ভারতীয় ও চীনাদের পর কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও?

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন যাদের রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগ কোটায় (ইবি-৫ ভিসা), তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সাম্প্রতিক এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসার সহজলভ্যতা বা 'প্রায়োরিটি ডেট' অনেক পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও এই সতর্কতা মূলত ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের জন্য, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ইবি-৫ ভিসা আসলে কী? যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (বর্তমানে সাধারণত ৮ লাখ ডলার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরির বিনিময়ে যে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তাকেই ইবি-৫ বা 'গোল্ডেন ভিসা' বলা হয়। মে ২০২৬-এর সতর্কবার্তায় কী আছে? স্টেট ডিপার্টমেন্টের মে ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা ভিসা কোটার চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হবে ‘ব্যাকলগ’। অর্থাৎ, আজ যারা আবেদন করবেন, তাদের গ্রিন কার্ড পেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এর গুরুত্ব: বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধ পথে বা বিদেশে থাকা সম্পদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি ভারত ও চীনের মতো বিশাল ব্যাকলগ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়, তবে দ্রুত আবেদন না করলে কয়েক বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
সৌদিতে সাঁড়াশি অভিযান: এক সপ্তাহেই ১৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৮৭ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১১ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৫৮৮ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৯৮৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন আরও ৪৩ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেবেন, পরিবহন সুবিধা দেবেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এই অপরাধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন নারী। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কেন মধ্য ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছেন মার্কিনীরা?

বর্তমান সময়ে মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের পছন্দের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অনেক আমেরিকান এখন থাকার জন্য বেছে নিচ্ছেন মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে। সম্প্রতি সিএনএন ট্রাভেলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নতুন প্রবণতার চিত্র। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে মার্কিনীদের এই অভিবাসনের পেছনে মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি কাজ করছে। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে আকাশচুম্বী বাড়ি ভাড়া এবং জীবনযাত্রার খরচে হিমশিম খেয়ে অনেক আমেরিকান এখন ওয়ারশ, বুদাপেস্ট বা প্রাগের মতো শহরগুলোকে অধিক সাশ্রয়ী মনে করছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, উচ্চমানের নাগরিক সুবিধা এবং আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় আমেরিকার অনেক শহরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশেষ করে যারা রিমোট জব বা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের জন্য এই অঞ্চলগুলো 'স্বর্গ' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমেরিকানদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত প্রবল। অনেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, তারা আমেরিকার ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিও তাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের কথা উল্লেখ করে অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং চমৎকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাদের মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির স্থাপত্যশৈলী এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার কারণে আমেরিকানদের সংখ্যা সেখানে দিন দিন বাড়ছে। তবে এই নতুন ঠিকানায় থিতু হওয়া খুব একটা সহজ নয়। স্থানীয় ভাষা রপ্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও, একটি সুন্দর এবং চাপমুক্ত জীবনের আশায় হাজার হাজার আমেরিকান প্রতি বছর তাদের ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের এই প্রান্তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের জনতাত্ত্বিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
১০ এপ্রিল থেকে ইউরোপে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত ব্যবস্থা: দীর্ঘ লাইনে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশিরাও

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম' (EES)। নতুন এই বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউরোপের প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ জনজট ও অন্তত ৭০ শতাংশ বেশি সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  যদিও এই সতর্কতা বিশেষভাবে অস্ট্রেলীয় পর্যটকদের জন্য জারি করা হয়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো ইইউ-বহির্ভূত দেশের (Non-EU countries) নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর হবে। এতদিন ইউরোপের পাসপোর্ট কন্ট্রোল ডেস্কে কর্মকর্তাদের ম্যানুয়ালি সিল দেওয়ার যে রীতি ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যটকদের আঙুলের ছাপ (Fingerprints) এবং মুখমণ্ডলের ছবি (Facial scans) সংগ্রহ করা হবে। প্রথমবার নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক যাত্রীকে এই ডিজিটাল তথ্য দিতে হবে, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ভিসাএইচকিউ (VisaHQ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোতে সীমান্ত পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি সময় ব্যয় হতে পারে। বিশেষ করে বড় বিমানবন্দর এবং ট্রেন স্টেশনগুলোতে (যেমন লন্ডন-প্যারিস রুটের ইউরোস্টার) দীর্ঘ সারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একেকজন যাত্রীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে, যা ব্যস্ত সময়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য যা জানা জরুরি: ১. প্রথমবার নিবন্ধনে সময়: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যখন প্রথমবার ইইউতে প্রবেশ করবেন, তখন তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এতে বাড়তি সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২. পাসপোর্ট সিল বিলুপ্তি: নতুন সিস্টেমে পাসপোর্টে আর কোনো শারীরিক সিল পড়বে না। আপনার প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল ডেটাবেজে নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ৩. ভিসা প্রক্রিয়া: শেনজেন বা ইইউ ভিসার বর্তমান নিয়মে কোনো পরিবর্তন না এলেও, সীমান্তে স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ এপ্রিল বা তার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে যারা ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের কানেক্টিং ফ্লাইট বা পরবর্তী গন্তব্যের ট্রেনের সময়ের ক্ষেত্রে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা বাফার টাইম রাখা উচিত। বিশেষ করে যারা পরিবার বা বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য এই বাড়তি সময় অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নিউইয়র্কের সড়কে ঝরল চার প্রাণ: বাবা-ছেলের মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি

এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
শাহ আলম ভুঁইয়া
আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কুমিল্লার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত কুমিল্লার সন্তান শাহ আলম ভুঁইয়া (৫০)। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশটির দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় আকাশ থেকে পড়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার মেজো ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় যখন বিপদসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছিলেন। শাহ আলম সে সময় নিজের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।  দুর্ভাগ্যবশত, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা ড্রোনের অংশবিশেষ সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয়দের ধারণা, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করার পর এর অবশিষ্টাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার ও গ্রামবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ: বিপাকে লাখো বাংলাদেশি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীদের জন্য ধেয়ে আসছে এক বিশাল দুঃসংবাদ। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ঐতিহাসিক এক কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।  এই নতুন পরিকল্পনার ফলে আগামী ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ বা কাজের অনুমতির জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে, যা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশিসহ লাখো প্রবাসীর ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া ফেলেছে। মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালের জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশ বিদেশি কর্মী। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূলত স্থানীয়দের উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ করে দিতেই এই বিধিনিষেধ। নতুন এই নিয়মে বিদেশি পেশাজীবীদের তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে: ক্যাটাগরি-১: ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০ হাজার রিঙ্গিত (আগে ছিল ১০ হাজার)। অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-২: বেতনসীমা ১০ হাজার থেকে ১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। অবস্থানের মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-৩: সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এই স্তরে। আগে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতন হলেই চলত, এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে ৯,৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ বছর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চ বেতন কাঠামো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হবে। ফলে নিয়োগকর্তারা বাধ্য হয়ে বিদেশি কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ দেবেন। এতে করে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও সাধারণ শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রেমিট্যান্স আহরণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ শীর্ষ দেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশটিতে থেকে ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। মালয়েশিয়ার এই অনমনীয় নীতির ফলে কর্মী ছাঁটাই শুরু হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে এখনই বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।   শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।   নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।   বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”   সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে রেমিট্যান্স, চাঙা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।   এর আগে, ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.৫৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ২২০.৪৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঈদ উৎসবের আগে স্বস্তি যোগ করেছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0