যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় নতুন করে আশার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায়োরিটি ডেট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা ইস্যু বা সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ নেই। প্রতি মাসে প্রকাশিত ভিসা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে পরিবারভিত্তিক ফ্যামিলি বেসড এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট বেসড একাধিক ক্যাটাগরিতে তারিখ সামনে এসেছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী এখন তাদের কেসের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রায়োরিটি ডেট কারেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, ভিসা স্থগিত থাকলেও ডকুমেন্ট যাচাই, ফাইল প্রসেসিং এবং তারিখ আপডেটের কাজ নিয়মিতভাবে চলতে থাকে, তাই অনেক সময় ভিসা বন্ধ থাকলেও বুলেটিনে অগ্রগতি দেখা যায়। অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, যাদের প্রায়োরিটি ডেট এগিয়েছে তারা যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখেন এবং নিয়মিত ভিসা বুলেটিন অনুসরণ করেন। কারণ যেকোনো সময় প্রসেসিং দ্রুত শুরু হলে দেরি করলে সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন ভিসা নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। দ্য অ্যাথলেটিক-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি ‘পাইলট ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এর ফলে আলজেরিয়া এবং সেনেগালসহ পাঁচটি দেশের নাগরিক ও ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত জামানত বা ‘বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে যে পাঁচটি দেশ এই কড়া নিয়মের মুখে পড়েছে তারা হলো:১. আলজেরিয়া ২. সেনেগাল ৩. আইভরি কোস্ট ৪. কেপ ভার্দে ৫. তিউনিসিয়া (আগামী ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর) যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মূলত যারা ট্যুরিস্ট বা বিজনেস (B-1/B-2) ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করেন, তারা যেন ভিসার মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতেই এই মোটা অঙ্কের জামানত চাওয়া হচ্ছে। তবে এই নীতিতে খেলোয়াড় বা অ্যাথলেটদের জন্য কোনো আলাদা ছাড় রাখা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ দর্শকদের জন্য নয়, বরং অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে একটি দলের পুরো বহরের জন্য কয়েক লক্ষ ডলারের জামানত প্রয়োজন হবে। যদিও এই টাকা দেশ ত্যাগের পর ফেরত পাওয়া যাবে, তবুও বিশাল এই অঙ্কের যোগান দেওয়া অনেক ফুটবল ফেডারেশন ও সাধারণ ভক্তদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি চার সদস্যের পরিবার যদি প্রিয় দলকে সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়, তবে তাদের শুধুমাত্র বন্ড বাবদই প্রায় ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তারা পর্দার আড়ালে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে অন্তত খেলোয়াড়, কোচ এবং অফিশিয়াল ডেলিগেশনের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়। তবে সমর্থকদের জন্য এই ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই তালিকার সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর ভিসা নীতি বিশ্বকাপের আমেজকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর বড় সংখ্যক দর্শক এবার মাঠে উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে যেখানে ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে এমন আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক, এবিসি নিউজ, রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি নাগরিকদের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য পর্যটন ভিসা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশ ত্যাগ করবেন না—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারী ব্যক্তিরা এবং যাদের স্ত্রী-সন্তান বা নিকটাত্মীয় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক জানান, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিকের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিজিটর ভিসা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং শরণার্থীর আবেদন প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার পরপরই পর্যটন ভিসার ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস-এর অভিবাসন বিষয়ক মুখপাত্র সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'নিষ্ঠুর ও অন্যায্য' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, ইরানিরা যাতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে না পারে, সেজন্যই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই মার্কিন ভিসা অনুমোদনের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ২.৫ লক্ষ কম। বিশ্বব্যাপী এই পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে যেখানে ১ কোটি ১৫ লক্ষ নন-ইমিগ্রেন্ট বা বি-১ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদনের হার এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। গত বছরের ৩.৪৪ লক্ষের বিপরীতে এ বছর ভিসা পেয়েছেন মাত্র ২.৩৮ লক্ষ শিক্ষার্থী। এছাড়া কাজ, পর্যটন এমনকি আকাশপথ বা জলপথের কর্মীদের ভিসার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেবল অস্থায়ী ভিসাই নয়, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি। পারিবারিক এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক— উভয় ক্ষেত্রেই ভিসার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলসহ কঠোর স্ক্রিনিং এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যাবিগেল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জনমত নিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন এবং বর্তমান নীতিগুলো তারই প্রতিফলন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল সময়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দেশে প্রবেশের লড়াই আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্ন বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভ্রমণকারীদের নিজ খরচ বহন করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, ভিসা সাক্ষাৎকারে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং এমন প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন, যা থেকে বোঝা যায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এ ছাড়া, ভুয়া নথি জমা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কাজের কারণে আবেদনকারী ভিসার জন্য অযোগ্য হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা সে দেশে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার ভিসাসংক্রান্ত এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বি১/বি২ (B1/B2) ভিজিটর ভিসায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া বা 'বার্থ ট্যুরিজম' আইনত অনুমোদিত নয়। দূতাবাসের বার্তায় ভিজিটর ভিসার সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে বলা হয়, শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সুযোগ এই ভিসায় নেই। এছাড়া, বি১/বি২ ভিসায় ভ্রমণকালীন আরও কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে: পেশাগত কাজ: যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া যায় এমন কোনো কাজে যুক্ত হওয়া যাবে না। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা: ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এই ভিসায় অবৈধ। পারিশ্রমিকযুক্ত পারফরম্যান্স: কোনো ধরনের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাদার কোনো কাজে অংশ নেওয়া বা পারফর্ম করা অনুমোদিত নয়। মূলত ভ্রমণ এবং চিকিৎসার মতো সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনে এই ভিসা ব্যবহৃত হলেও, নাগরিকত্ব পাওয়ার কৌশল হিসেবে একে ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোরভাবে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। এখন থেকে দেশটিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকলে কিংবা সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করলে তাৎক্ষণিক বাতিল হতে পারে ভিসা। এমনকি এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস স্পষ্ট জানায় যে, পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা ট্রানজিট—যেকোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ভ্রমণের আগেই চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিসহ যাবতীয় সম্ভাব্য খরচ মেটানোর মতো পর্যাপ্ত তহবিলের প্রস্তুতি রাখেন। মূলত দেশটিতে গিয়ে স্থানীয় সরকারি সুবিধার অপব্যবহার রোধ করতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শ্রীলংকা সরকার ইরানের নাবিকদের জন্য এক মাসের বিনামূল্যের ভিসা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের কিছু সময়ের জন্য শ্রীলংকায় থাকতে হতে পারে। তাই তাদের সহায়তার অংশ হিসেবে সরকার ফ্রি ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৪ জন নাবিককে শ্রীলংকা নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এটি শ্রীলংকার কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এর আগে বুধবার শ্রীলংকার উপকূলের কাছে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যায়। এই ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নাবিক নিহত হন বলে জানা গেছে। শ্রীলংকা নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে এবং ৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সময়ে ভিসা বা গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্ত পেতে আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য নতুন খরচের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা U.S. Citizenship and Immigration Services (ইউএসসিআইএস) ১ মার্চ থেকে প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বৃদ্ধির নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি কাজের ভিসাসহ কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি বেড়েছে। অধিকাংশ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদনের জন্য প্রিমিয়াম প্রসেসিং ফি এখন ২ হাজার ৯৬৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রিমিয়াম প্রসেসিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীরা সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তাদের আবেদনের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়ার আশা করেন। তবে কর্তৃপক্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে, এই অতিরিক্ত ফি কেবল দ্রুত পর্যালোচনার সুবিধা দেয়—আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ফি বৃদ্ধির ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত পেতে আগ্রহী ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের খরচ আরও বাড়বে।
পাকিস্তানে চলমান অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলামাবাদে অবস্থিত দূতাবাসের পাশাপাশি লাহোর ও করাচি কনস্যুলেটের নির্ধারিত সব ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। রোববার (২ মার্চ) করাচিতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা নিহত হন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে এবং একাধিক এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) ভোরের আগে গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, গিলগিতে সাতজন এবং স্কারদুতে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইসলামাবাদ দূতাবাস ও অন্যান্য কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, দুই দেশের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় ভারত। তিনি বলেন, মেডিকেল ভিসা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। গত দেড় বছরে সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টার বন্ধ ও ভিসা দেওয়ার হার কমে গিয়েছিল। অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায় ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টার কথাও উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে পারস্পরিক সম্পর্ককে জনগণের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধ থাকা বর্ডার হাট ও স্থলবন্দরগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে। তবে ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন গতি আসছে কি না সেদিকেই এখন নজর বিশ্লেষকদের।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা দ্রুত পুনরায় চালু করার বিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুরের সালথায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে তাঁর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে ভারতে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
আপনি কি এ বছর পবিত্র হজ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আপডেট। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য আজ রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে হজের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া। সৌদি সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না। আপনার জন্য কেন এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ? বিগত বছরগুলোতে শেষ সময়ে ভিসা আবেদনের সুযোগ থাকলেও, এবার সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মূলত হজযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং 'নুসুক কার্ড' প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই আগাম উদ্যোগ। গত বছর শেষ মুহূর্তে যারা ভিসা করেছিলেন, তাদের নুসুক কার্ড পেতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। তাই এবার পুরো প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করতে ২০শে মার্চ পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আবেদনের মাধ্যম: সৌদি আরবের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিবন্ধিত হজযাত্রীদের সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ নিতে হবে। কঠোর নির্দেশনা: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বার্তা—ফিটনেস সনদ ছাড়া এবার কোনো হজযাত্রী সৌদি আরব যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো মনে রাখুন: ভিসা আবেদনের শেষ সময়: ২০শে মার্চ ২০২৬। হজ ফ্লাইট শুরু: ১৮ই এপ্রিল ২০২৬। সম্ভাব্য হজের তারিখ: ২৬শে মে ২০২৬ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে)। পবিত্র হজের প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় খুবই কম। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দ্রুত আপনার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
হজে গমনেচ্ছুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর! ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের প্রস্তুতি এবং ভিসা ইস্যু নিয়ে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান বাড়াতে এবার অনেক আগেভাগেই সব কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আপনার হজ যাত্রা সহজ করতে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য: ভিসা প্রদান শুরু: আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজের ভিসা ইস্যু করা শুরু হবে। আবাসন ও চুক্তি: মক্কা ও মদিনায় আবাসন এবং পরিবহনের যাবতীয় চুক্তি ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন আপডেট: ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সৌদিতে আগমন: ২০২৬ সালের ১৮ই এপ্রিল (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে প্রথম হজযাত্রী দল সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। ডিজিটাল স্বচ্ছতা: এবার নুসুক (Nusuk) প্ল্যাটফর্ম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ালেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা হাজিদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সৌদি সরকারের এই সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে হজযাত্রীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো এবং নিরাপদ পরিবেশে হজ পালন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যারা হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ দেশের হজ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলুন।
আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বদলে ই-ভিসা ব্যবহৃত হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন। বার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য যাদের ভিসা প্রয়োজন তারা শুধু ই-ভিসা পাবেন। পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বদলে ই-ভিসা ব্যবহৃত হবে। বিস্তারিত জানতে www.gov.uk/eVisa এই ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বলেছে হাইকমিশন।
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা সেবায় সীমিত পরিসরে আবারও অ্যাপয়েন্টমেন্ট চালু করা হয়েছে। ঢাকাসহ পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) থেকে জরুরি ও বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। আইভ্যাকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সীমিত ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একাধিক নোটিশে জানানো হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত আইভ্যাকগুলোতে কেবল জরুরি চিকিৎসা ভিসা এবং অন্য দেশে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে—এমন শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তাদের অবশ্যই ভারতের কোনো দূতাবাসে তৃতীয় দেশের ভিসার জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকতে হবে। চিকিৎসা ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনা চিকিৎসা ভিসা সংক্রান্ত নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব আবেদনকারীর মেডিকেল ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, তারা শুধুমাত্র ভিসায় উল্লেখিত হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। হাসপাতাল পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ভারতের ফরেনারস রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন করলে তা ভিসা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং ভবিষ্যতে ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। দালালচক্র নিয়ে সতর্কতা একই সঙ্গে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রতারণা ও দালালচক্র সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। নোটিশে বলা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার নামে অর্থ আদায় করছে, যা সম্পূর্ণ প্রতারণা। হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন কিংবা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের সহকারী হাইকমিশন থেকে কেউই ব্যক্তিগত ফোনকল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। একইভাবে, ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা দ্রুত ভিসা পাওয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী দিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পাওয়া যাবে। তবে এজন্য বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সাইনআপ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন এই নিয়মে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইস্যু শুরু করেছে আইভ্যাক। এদিন বেলা ১২টায় সাইনআপ প্রক্রিয়া চালু করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং খোলা হয়। প্রথম দিন ৮ ফেব্রুয়ারির অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে আইভ্যাক এক নোটিশে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দেয়। নোটিশে জানানো হয়, নতুন সিস্টেমের লিংক অফিসিয়াল আইভ্যাক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী দিনগুলোর সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট নতুন নিয়মে বুক করা যাবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ধাপ সফলভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার জন্য আইভ্যাকের নির্দেশিকাগুলো সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইনআপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে বিকেল সাড়ে ৫টার আগে প্রয়োজনীয় ওয়েব ফাইল আপলোড করতে হবে। সাইনআপ শেষে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলে একটি ওটিপি পাঠানো হবে। ওটিপি দিয়ে প্রবেশ করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজ দেখা যাবে। সেখানে প্রথমে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে, যেগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। লগইন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। প্রয়োজনে একবার স্লট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
ভিসা জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের এক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এখন আলোচনার তুঙ্গে। কেন বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে? এর পেছনে কি কেবল সিস্টেম দায়ী, নাকি আমাদের নিজেদের কর্মফল? গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: ভিসা না পাওয়ার দায় কার? তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ার দায় কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং এটি পুরো সিস্টেমের এবং দেশের ব্যর্থতা। জালিয়াতির শীর্ষে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র জালিয়াতিতে আমরা ‘সেরা’। ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজারের ভিসায় যখন কেউ মেইড হিসেবে বিদেশে যায়, তখন সেই দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যে নেমে আসে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থবিরতা: ভারতের সাথে সম্পর্ককে 'গুরুত্বপূর্ণ' বললেও তিনি স্বীকার করেছেন যে সম্পর্কটি বর্তমানে থমকে আছে। দুই দেশের স্বার্থের ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ: বর্তমান সরকারের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বোঝা নয়, বরং পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে ঘর গোছাতে না পারলে সামনে আরও বড় দুঃসময় আসতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।