ভিসা

ছবি: সংগৃহীত
৫০ বছরে প্রথমবার ভিসা ফি বাড়াল জাপান, খরচ বাড়বে ৫ গুণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপান দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী মাস অর্থাৎ জুলাই মাসের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর এই নতুন নিয়মটি পুরোপুরি বলবৎ হবে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) জাপানের মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ফি পরিবর্তনের প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   আগামী ১ জুলাই বা তারপরে দেশটির দূতাবাসে জমা দেওয়া সমস্ত নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বর্ধিত এই নতুন ফি কাঠামো বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।   আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জাপানের এই বড় ধরণের নীতি পরিবর্তনের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন ফি কাঠামোর বিবরণ অনুযায়ী, এখন থেকে একবার প্রবেশের বা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ ৩,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে এক লাফে ৫ গুণ বেড়ে সরাসরি ১৫,০০০ জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক বা পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে যারা একাধিকবার প্রবেশের বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করবেন, তাদের খরচ পূর্বের ৬,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে দ্বিগুণ বেড়ে এখন থেকে ৩০,০০০ জাপানি ইয়েন নির্ধারিত হবে, যা বিদেশি পর্যটক ও অভিবাসীদের পকেটে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।   গত শুক্রবার টোকিওতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এই ফি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জাপানের বর্তমান ভিসা ফি কাঠামোটি সুদীর্ঘকাল পূর্বে অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিগত পাঁচ দশকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যাপক ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্প্রতি দীর্ঘ সময় পর এটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে জাপানে বিদেশি পর্যটকের আগমনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।   জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি বিশেষ আইনের সূত্র ধরেই মূলত এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই নতুন আইনটি সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর আইনি সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে জাপানে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নের ব্যয় পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নতুন এই ফি থেকে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব মূলত সেই বর্ধিত ব্যয় মেটাতে সরকারকে সরাসরি সহায়তা করবে।   ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানে আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সাথে সম্পর্কিত ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। একইসঙ্গে দেশটিতে স্থায়ী আবাসন বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও এক ধাক্কায় অনেক বাড়ানো হবে। সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০,০০০ ইয়েন থেকে সর্বোচ্চ ৭০,০০০ ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণের নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন ফি ১০,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ জাপানি ইয়েন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিপ্পন-এর এক বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া জাপানের চলতি অর্থবছরের আগেই সরকার এই সমস্ত কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পূর্ণ কার্যকর করতে চায়। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত পরিচালনায় সহায়তা করবে, দেশটিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করবে এবং একই সাথে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জরিমানা ছাড়া বৈধ হওয়ার শেষ সুযোগ

আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর ফলে আগে থেকে জরিমানা মওকুফের সুবিধা পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও পর্যটকরা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক দণ্ড ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার অথবা ভিসার মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পাবেন। আমিরাত সরকারের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) এক ঘোষণায় এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   সংস্থাটি জানায়, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ছাড় চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের ভিসা নিয়মিতকরণ অথবা দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে নতুন করে কোনো আবেদন বা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে না। তারা বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন।   এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আমিরাতের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফলে যাদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়েছিল, যারা ভিজিট ভিসায় ছিলেন এবং যাদের প্রস্থানের অনুমতি ছিল—এমন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটিতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এসব আটকে পড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণজনিত ওভারস্টে জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিল।   আইসিপি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে আসায় আগের সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই জরিমানা মওকুফ রাখার মতো জরুরি পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। আটকে পড়া বিদেশিদের মধ্যে যারা আমিরাতে বৈধভাবে থাকতে চান, তাদের এই এক মাসের মধ্যে রেসিডেন্সি বা ভিসার মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে হবে।   কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা নবায়ন বা দেশত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা, জরিমানা এবং দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আমিরাতে কর্মরত ও আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা শেষে স্বস্তি, বিশ্বকাপে ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা

কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।   ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে।   ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট বা ‘আকামা’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিল হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ ১৪ দিন—অর্থাৎ দুই সপ্তাহ—দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩০ দিন।   কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীকে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা গুনতে হবে। ফলে সময়সীমা অতিক্রম করলে আর্থিক চাপও বাড়বে।   শুধু প্রবাসী শ্রমিকই নয়, কাতারে ভ্রমণরত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভিজিট ভিসায় আসা ব্যক্তিদের তাদের ভিসার মেয়াদ ও অনুমোদিত অবস্থানকাল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।   ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে দেশ ছাড়ার আগে ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের আইনি অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা, ওভারস্টে ফি কিংবা সরকারি অন্য কোনো বকেয়া থাকলে তা আগেই পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়তে পারেন যাত্রীরা।   এছাড়া প্রবাসীদের সুবিধার্থে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট বা স্বয়ংক্রিয় গেট ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনালে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে, যা যাত্রীদের সময় বাঁচাতে সহায়তা করছে।   ওয়েবিনারে কাতারে জন্ম নেওয়া প্রবাসীদের সন্তানদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নবজাতকের জন্মের পর দ্রুত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপর নিজ দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে শিশুর রেসিডেন্সি পারমিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।   বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। একই সঙ্গে আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের গ্রিন কার্ড: পরিবার, চাকরি, বিনিয়োগ—কোন পথে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাস?

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র, যা সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত, সেটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মানুষ। অনেকের ধারণা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে বা লটারি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার একাধিক বৈধ পথ রয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সক্ষমতা কিংবা মানবিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক স্পনসরশিপ, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক আবেদন, বিনিয়োগ, আশ্রয়, শরণার্থী কর্মসূচি এবং ডাইভারসিটি ভিসা লটারি।   পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন।   বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী কাউকে বিয়ে করলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য দম্পতির যৌথ বসবাস, আর্থিক লেনদেন, ছবি ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।   এইচ-ওয়ান বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এইচ-ওয়ান বি কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। এই ভিসাধারীদের অনেকেই পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে স্থায়ী চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। শ্রমবাজার যাচাই, অভিবাসন আবেদন এবং ভিসা নম্বর পাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত আবেদন করা হয়।   ইবি-১: অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্নদের জন্য বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, শিল্পকলা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণা প্রকাশনা, বড় পুরস্কার বা নেতৃত্বের প্রমাণ থাকলে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।   ইবি-২: উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ দক্ষতা থাকলে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক এবং অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা সাধারণত এই পথ ব্যবহার করেন। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন এমন আবেদনকারীরা ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার’-এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ পান।   ইবি-৩: দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ ক্যাটাগরি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর জন্য চাকরির অফার দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও এই পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।   বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।   আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য গ্রিন কার্ড যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা অন্যান্য নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান, তারা আশ্রয় অনুমোদনের এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আশ্রয় মর্যাদা বহাল থাকতে হয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।   শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা সাধারণত এক বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনা করে। কম অভিবাসনপ্রবণ দেশগুলোর নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত হলে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে অভিবাসী ভিসা এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। এই ক্যাটাগরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এখন!   বিশেষ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড ধর্মীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মচারী, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ সহযোগী এবং কিছু মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ গ্রিন কার্ড কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ একাধিক হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ৪৮ ঘণ্টা: ভিসা জটিলতায় বিতর্কের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারি ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোর ভিসা পুনঃপর্যালোচনার আওতায় নেওয়া হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে সক্ষম হন। একই সময়ে ইরাক জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় আইমান হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।   ইরান জাতীয় দলকেও ভিসা পেতে দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে কয়েক দিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় দলটিকে। পরে ম্যাচের দিনগুলোতে কেবল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদলের ১৫ সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ২০২৫ সালের সেরা রেফারি নির্বাচিত সোমালিয়ার ওমর আবদুলকাদির আরতানও ভিসা পাননি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ফেরত পাঠানো হয়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, তিনি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।   দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলও ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলের সফর বিলম্বিত হয়।   এদিকে সেনেগাল জাতীয় দলের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দীর্ঘ তল্লাশির শিকার হন। তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয়। এ ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও উঠেছে।   উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   শুধু দল বা কর্মকর্তারাই নন, ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সমর্থকরাও। স্কটল্যান্ডের কিছু সমর্থক, যারা ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন, তাদের ভ্রমণ অনুমোদন যাত্রার মাত্র কয়েক দিন আগে বাতিল করা হয়।   এছাড়া অনেক সমর্থক ম্যাচের টিকিট ও আবাসন বুকিং সম্পন্ন করার পরও ভিসা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে বিশ্বকাপ ঘিরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো দর্শকের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে।   বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের মধ্যে একের পর এক ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমন্বিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ ঘোষণা

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।   সোমবার (৮ জুন) ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন এই রায় দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। এটি কার্যত একটি কর, আর এমন কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করে। এতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ব্যয় হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগে এই ভিসার ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্টের এমন ফি আরোপের আইনি ক্ষমতা নেই এবং এটি সংবিধানের পরিপন্থী।   আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এটি কোনো কর নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষমতার আওতায় একটি বৈধ আর্থিক ব্যবস্থা। তবে বিচারক সোরোকিন সেই যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, অর্থের প্রকৃতি বিবেচনায় এটি স্পষ্টতই করের মতো, তাই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা আরোপ করা বৈধ নয়।   রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছিলেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণত এসব ভিসার জন্য নিয়োগদাতাদের ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে, ফলে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছিল।   তবে সরকারি তথ্য বলছে, ফি কার্যকর হওয়ার পর খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এটি পরিশোধ করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি আবেদন থেকে এই ফি আদায় করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এত উচ্চ ফি আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত করছিল।   সূত্র: রয়টার্স

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা ৩ বছরের জন্য বন্ধের প্রস্তাব: বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লাখ বিদেশি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মার্কিন করদাতার অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ট্যুরিস্ট (পর্যটন) বা স্টুডেন্ট (শিক্ষা) ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (Vetting process) আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পর্যালোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিশর, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৭৫টি দেশ।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বিনিয়োগ করলেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, নিউজিল্যান্ডের ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে

ধনী অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে নিউজিল্যান্ডের নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচি বা অ্যাক্টিভ ইনভেস্টর প্লাস (AIP) ভিসা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। চালুর মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (নিউজিল্যান্ডের মুদ্রায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বুধবার নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন মন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১.৪৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ২.৪১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছর ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০৯টি আবেদন জমা পড়েছে, যার আওতায় ১৯৮৮ জন ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন। কীভাবে কাজ করে এই গোল্ডেন ভিসা? ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি প্রধান বিভাগ রাখা হয়েছে: ১. গ্রোথ (Growth) ক্যাটাগরি: এতে সর্বনিম্ন ৫ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। এই বিনিয়োগটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তবে দেশের উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ২. ব্যালেন্সড (Balanced) ক্যাটাগরি: এতে বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বনিম্ন ১০ মিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার। এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ যেমন বন্ড বা শেয়ার বাজারে করা যায়। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এই ভিসার জন্য কোনো ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয় না। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সশরীরে নিউজিল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। পরিবারসহ (স্বামী/স্ত্রী এবং ২৪ বছরের কম বয়সী সন্তান) স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকায় ধনী বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন থেকে। এর বাইরে জার্মানি, হংকং, তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকরাও তালিকায় রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারতের মাত্র ২ জন বিনিয়োগকারী এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন, গ্রিন কার্ডধারীদের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) এবং বিবাহ-ভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে নজিরবিহীন তদন্ত শুরু হয়েছে।  সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ২১ হাজার গ্রিন কার্ড মামলার মধ্যে ৬০ শতাংশই ভুয়া বা জালিয়াতির মাধ্যমে করা। এর ফলে বর্তমানে ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যারা ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বা আবেদনের প্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের নথিপত্রে সামান্যতম অমিল পাওয়া গেলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৩ (EB-3) ভিসা এবং বিবাহের মাধ্যমে যারা গ্রিন কার্ড নিয়েছেন, তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। জালিয়াতি প্রমাণিত হলে গ্রিন কার্ড বাতিলসহ দেশান্তরের ঝুঁকিও রয়েছে। অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হলো সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপ এবং মন্তব্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে অভিবাসন সুবিধা চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। আবেদনকারীদের এখন ১২৮টি প্রশ্নের তালিকা থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অন্তত ২০টির মধ্যে ১২টি সঠিক উত্তর দিতে হবে। একই সাথে ইংরেজি বলা, পড়া এবং লেখার দক্ষতায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, গ্রিন কার্ড নবায়ন বা স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের সময় পাসপোর্টে যথাযথ স্ট্যাম্প নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো আইনি জটিলতায় সরাসরি সরকারি দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে। পরিচয় চুরি এবং নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা থেকে বাঁচতেও অভিবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন ভিসা বুলেটিনে বড় পরিবর্তনের আভাস: ভারতীয় ও চীনাদের পর কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও?

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন যাদের রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগ কোটায় (ইবি-৫ ভিসা), তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সাম্প্রতিক এক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসার সহজলভ্যতা বা 'প্রায়োরিটি ডেট' অনেক পিছিয়ে যেতে পারে। যদিও এই সতর্কতা মূলত ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের জন্য, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশি উচ্চবিত্ত বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ইবি-৫ ভিসা আসলে কী? যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (বর্তমানে সাধারণত ৮ লাখ ডলার থেকে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরির বিনিময়ে যে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তাকেই ইবি-৫ বা 'গোল্ডেন ভিসা' বলা হয়। মে ২০২৬-এর সতর্কবার্তায় কী আছে? স্টেট ডিপার্টমেন্টের মে ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ওই সময়ের মধ্যে আবেদনের সংখ্যা ভিসা কোটার চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হবে ‘ব্যাকলগ’। অর্থাৎ, আজ যারা আবেদন করবেন, তাদের গ্রিন কার্ড পেতে বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এর গুরুত্ব: বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধ পথে বা বিদেশে থাকা সম্পদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি ভারত ও চীনের মতো বিশাল ব্যাকলগ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়, তবে দ্রুত আবেদন না করলে কয়েক বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশন্স’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   বৈঠকে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   চার্লস জে হার্ডার বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের খাদ্য কর্মসূচি, শিশুস্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সারাদেশে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক সরবরাহ এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা।   তিনি আরও জানান, শিক্ষার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষাকে আনন্দমুখর করতে বিদ্যালয়ে ক্রীড়া ও কৃষি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।   বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানান তিনি।   এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। গত এক বছরে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa) প্রত্যাখানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার আকাশচুম্বী হয়ে ৬১ শতাংশে ঠেকেছে। একই ধারায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্নও থমকে গেছে ভিসা না পাওয়ায়। কেন বাড়ছে রিফিউজালের হার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটগুলো এখন আবেদনকারীদের 'ইমিগ্রেশন ইনটেন্ট' বা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার মানসিকতা নিয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ এবং সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ত্রুটিকেও এই গণহারে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও সে তুলনায় ভিসা ইস্যুর হার ছিল অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রত্যাখ্যান হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইইএলটিএস (IELTS) এবং জিআরই (GRE) দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ায় তাদের ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
২৬ জনের ভিসা বাতিল, ভিসা নীতিতে আরও কঠোর যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করবে, তাদের ওপর নতুন করে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে এই নীতির আওতায় ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ১৯শ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক সংস্করণ ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার রোধ এবং এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যারা জেনে-বুঝে আমেরিকার কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, তাদের ওপর এই ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা কিংবা কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদেরও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য চীন ও ইরান। এরই মধ্যে ইরান সরকার বা ইরানি বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত সাতজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভিসা নীতিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ: অগ্রাধিকার তারিখে ভারত থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের মে মাসের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এবারের বুলেটিনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর মেলেনি, যা হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক (EB-2 এবং EB-3) ক্যাটাগরিতে ভারতীয়দের অপেক্ষার তালিকায় কোনো নড়চড় হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) গত কয়েক মাসের মতোই স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান গতিধারা বজায় থাকলে গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের কয়েক দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, এবার বিনিয়োগকারী কোটা বা ইবি-৫ (EB-5) ভিসা ক্যাটাগরি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে ইচ্ছুক বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কঠোরতা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সুখবর হলো, ফ্যামিলি স্পনসরড এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক কিছু ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তারিখ ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার চাপে সব দেশেই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রসেসিং সময় কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী যারা আবেদন করতে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৫ আবেদনকারীদের জন্য আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ: সংকটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) প্রত্যাখানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 'শোরলাইট' (Shorelight) নামক একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে যেখানে ভিসা প্রত্যাখানের হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা নীতি বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিপরীতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর মেধা বা আর্থিক স্বচ্ছলতার চেয়ে তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হারিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই 'ভিসা জটিলতা' কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই নষ্ট করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধুমাত্র গত গ্রীষ্মেই ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের টিউশন ফি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের 'অ-অভিবাসী অভিপ্রায়' (Non-immigrant intent) প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রতি কড়াকড়িকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং 'ডুয়াল ইনটেন্ট' (Dual Intent) পলিসি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ

নাইজেরিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলেন, "নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র বিরোধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।" নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও স্পষ্ট করেছে যে, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অনুষ্ঠিত নাইজেরিয়ার সাধারণ নির্বাচনে যারা ভীতি প্রদর্শন, কারচুপি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিলেন, তাদের ওপরই এই খড়্গ নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাইজেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের ওপর এমন কঠোর ভিসা নীতি আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখার একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে যেসব দেশে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেসব দেশের জন্য এটি একটি বড় ধরনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও আফ্রিকান এবং এশীয় বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের 'ভিসা পলিসি' প্রয়োগ করে গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। নাইজেরিয়ার সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকার
সাবেক ইরানি ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলের ভিসা বাতিল: ডিপোর্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকারের পরিবারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী এবং সন্তানের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ভিসা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রুবিও বলেন, যারা আমাদের দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার যোগ্য নয়, তাদের এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া কখনোই উচিত ছিল না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈসা হাশেমি ও তার পরিবার বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাসুমেহ এবতেকার ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তার পরিবারের ওপর এমন সরাসরি মার্কিন পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে। স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ডধারীদের বিদেশ থেকে ফেরার পথে বাড়তে পারে জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০