ভিসা

কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড়
কানাডার ভিসায় চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় পেতে পারেন ৪ শ্রেণির বিদেশি

কানাডায় কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য ভিসা বা অনুমতিপত্রের আবেদন করা বিদেশিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারীকে নতুন করে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, আগের চিকিৎসা পরীক্ষা, কানাডায় বর্তমান অবস্থান এবং আবেদনকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা না-ও চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ।   যে চার শ্রেণির আবেদনকারী ছাড়ের জন্য বিবেচিত হতে পারেন—   ১. কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী যারা কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগের চিকিৎসা পরীক্ষার তথ্য বিবেচনা করে নতুন করে পরীক্ষা না করার সুযোগ থাকতে পারে।   ২. ইতোমধ্যে কানাডায় বসবাসকারী বিদেশি কানাডায় অবস্থানরত কোনো বিদেশি নতুন কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে আবার চিকিৎসা পরীক্ষা করতে নাও বলা হতে পারে।   ৩. গত পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এমন আবেদনকারী কোনো আবেদনকারী গত পাঁচ বছরের মধ্যে অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকলে, নতুন আবেদনের সময় নির্দিষ্ট শর্তে আগের পরীক্ষার ফল ব্যবহার করা যেতে পারে।   ৪. আগের পরীক্ষায় জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি কম ছিল এমন আবেদনকারী আগের চিকিৎসা পরীক্ষায় যদি আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার জন্য কম বা কোনো ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে।   তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে কোনো আবেদনকারীর কাছ থেকে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা চাইতে পারেন।   এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি, কানাডায় কতদিন থাকার পরিকল্পনা, কী ধরনের কাজ করবেন এবং আগের কোথায় বসবাস বা ভ্রমণ করেছেন—এসব বিষয়ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের দেখাশোনা কিংবা এমন কিছু পেশায় কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।   তাই কোনো আবেদনকারী নিজেকে এই চার শ্রেণির একটির মধ্যে মনে করলেই চিকিৎসা পরীক্ষা লাগবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন করার আগে কানাডার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।   এদিকে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি নিয়েও বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ও দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় নতুন অগ্রাধিকার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   সোমবার প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের সবচেয়ে বড় অংশের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা জড়িত। হামলা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, প্রতারণা ও আত্মসাতের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।    পররাষ্ট্র দপ্তর যেসব মামলার উদাহরণ দিয়েছে, তার মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, মানবপাচার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে অভিযোগ বা গ্রেপ্তার এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে ভিসার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হলে ভিসা বাতিলের সুযোগ রয়েছে।   এ তালিকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টও জায়গা পেয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লাস প্রকাশকারী কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্যান্য কারণে ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।    উত্তর আফ্রিকায় একটি মার্কিন দূতাবাস শতাধিক ভিসা বাতিল করেছে এমন ব্যক্তিদের, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সঙ্গে তথাকথিত জন্মপর্যটনের বিষয়টি যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সাধারণত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পায়। তবে ভিসার উদ্দেশ্য বা ব্যবহারে প্রতারণা বা অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।  মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য দেওয়া একটি বিশেষ অনুমতি। তাই ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসন ভিসা বাতিলের ক্ষমতা ব্যবহার করবে।   ভিসা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। চলমান এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন সুবিধা প্রত্যাশী বিদেশি নাগরিকদের জন্য যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে ভিসা বাতিলের ভিত্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব নীতিতেও ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভিসাধারী ভিসার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে বা নির্দিষ্ট আইনগত কারণে তার ভিসা বাতিল করা যেতে পারে। ফলে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর প্রয়োগের পরিসরকে স্পষ্ট করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবী
চাকরি হারালে এইচ-১বি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ হাজারো এইচ-১বি কর্মীর জন্য চাকরি হারানোর পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।    বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যেতে পারে। এই সময়ে কর্মী নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিলের সুযোগ নিতে পারেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে পরিবর্তনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে পারেন। তবে ৬০ দিন সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। কর্মীর আই-৯৪-এর অনুমোদিত মেয়াদ আগে শেষ হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে।    ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেস পিরিয়ড সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা কর্মীর অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, ততদিন পর্যন্ত হতে পারে। যোগ্য এইচ-১বি কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিল করলে কর্মী পিটিশন গ্রহণের পরই নতুন চাকরিতে কাজ শুরু করার সুযোগও পেতে পারেন।    প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি বাস্তবায়িত হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর এই ৬০ দিনের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা আর থাকবে না। তখন চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর এইচ-১বি স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নতুন নিয়োগকর্তায় যাওয়ার বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস স্ট্যাটাসের ঘাটতি ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।    ডিএইচএসের এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নিয়ম বর্তমানে প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্ট ২০২৬-এ প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    অর্থাৎ বর্তমানে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। কোনো এইচ-১বি কর্মী আজ চাকরি হারালে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা নিতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।    এই প্রস্তাব ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বড় হওয়ায় চাকরি হারানোর পর গ্রেস পিরিয়ড কমে গেলে বা বাতিল হলে তাদের ওপর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। একই নিয়ম বাংলাদেশি এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।   তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ডিএইচএস প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করার পর সাধারণত জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া থাকে। এরপর চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ এবং কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে। ফলে এই মুহূর্তে এইচ-১বি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়েছে এমন নয়, বরং সেটি বাতিলের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে আবেদনকারীদের নিজস্ব খরচ বহনের আর্থিক সামর্থ্য নিশ্চিতের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে নিজ খরচ বহনের সামর্থ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ মার্কিন কর্তৃপক্ষের

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, ভ্রমণের সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি—যেমন ভ্রমণ ব্যাহত হওয়া, জরুরি চিকিৎসা বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত খরচ—নিজের অর্থেই বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে।   পররাষ্ট্র দপ্তর আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার অপব্যবহার করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা বা কাজের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, এমনকি ভিসা বাতিল বা অযোগ্যও ঘোষণা করা হতে পারে। জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হলে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।   এটি নতুন কোনো আইন নয়। মার্কিন অভিবাসন আইনের “পাবলিক চার্জ” নীতি বহু বছর ধরেই কার্যকর রয়েছে। এই নীতির আওতায় ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নিজের ব্যয় বহনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। যাদের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিধান রয়েছে।   মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনে প্রমাণ করতে হতে পারে যে তাদের কাছে থাকা অর্থ, ব্যাংক কার্ড বা স্পনসরের সহায়তায় ভ্রমণ, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি; প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় বিদেশি নাগরিকদের আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যেন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধার অপব্যবহার না করেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দম্পতির কাছে একটি প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, শুরুতেই কি স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করা উচিত, নাকি আগে একজন একা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে নির্ভরশীল ভিসায় নিয়ে আসাই ভালো? সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা বলছে, দুটি পথই বৈধ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ শিক্ষার্থী ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। চাইলে মূল আবেদনকারীর সঙ্গে একই সময়ে আবেদন করা যায়, আবার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরও ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষার উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নথিপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত মেনে চলার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। তবে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীকে ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নিয়ে যাওয়ার মৌলিক নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, অনেক আবেদনকারী মনে করেন বিবাহিত হওয়ার তথ্য গোপন করে একা আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো নীতিগত ভিত্তি নেই। বরং ভিসা আবেদনপত্রে বৈবাহিক অবস্থা গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসন আইনের ভাষায় এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা পরবর্তী ভিসা বা অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বাস্তবে এমন ঘটনাও ঘটে, যেখানে মূল শিক্ষার্থীর ভিসা অনুমোদিত হলেও তার স্বামী বা স্ত্রীর ডিপেন্ডেন্ট ভিসা অনুমোদন পায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুজনই একসঙ্গে ভিসা পান। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা। শুধু বিবাহিত হওয়া বা একসঙ্গে আবেদন করাই ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের একমাত্র কারণ নয়।   যারা প্রথমে একা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্যও আইনি পথ খোলা রয়েছে। শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নতুন অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে নির্ভরশীল ভিসার আবেদন করা যায়।   তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার অনুমতি নেই। এছাড়া ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে অবস্থানের বৈধতা মূল শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থান শেষ হলে নির্ভরশীলের অবস্থানও একইভাবে প্রভাবিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবীরাও দীর্ঘদিন ধরে আবেদনকারীদের একটি বিষয়েই গুরুত্ব দিতে বলে আসছেন, সব তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা। তারা মনে করেন, শুরুতেই স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে আবেদন করবেন, নাকি পরে নিয়ে আসবেন, সেটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বৈবাহিক তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই নিরাপদ কৌশল নয়।   অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন গুজবের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করা। কারণ প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সঠিক তথ্য ও শক্তিশালী নথিপত্রই ভিসা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে ২,৬০০ কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের শীর্ষ পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে ২,৬০০ কর্মী ছাঁটাই করছে বিশ্বের শীর্ষ পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা

বিশ্বের বৃহত্তম পেমেন্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিসা তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য বিভাগে বড় ধরনের রদবদল আনতে যাচ্ছে। কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট জনবলের প্রায় ৭ শতাংশ বা ২ হাজার ৬০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান ম্যাকইনারনি কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে এই কর্মী সংকোচনের কথা জানিয়েছেন।   তিনি ওই মেমোতে উল্লেখ করেছেন, সামনের নতুন সুযোগগুলো কাজে লাগাতে এবং বর্তমান রূপান্তরের যুগে ভিসার নেতৃত্ব ধরে রাখতে কাজের ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিসার কাজের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত ও আধুনিক করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে।   অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে এআই একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। মূলত গত কয়েক বছরের ব্যাপক নিয়োগের পর বর্তমানে আর্থিক ও প্রযুক্তি খাতজুড়ে যে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা চলছে, এটি তারই অংশ। পাশাপাশি, ভিসা এখন এমন কিছু লাভজনক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে, যেগুলোকে তারা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি বলে মনে করে।   এর মধ্যে রয়েছে উচ্চবিত্ত গ্রাহক পরিষেবা, ক্রস-বর্ডার বা আন্তঃসীমান্ত লেনদেন, ব্যবসায়িক রেমিট্যান্স এবং ভৌগোলিক সম্প্রসারণ। ম্যাকইনারনি তার মেমোতে আরও জানান, গত কয়েক বছরে নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী কৌশলের কারণে ভিসা বর্তমানে বাণিজ্য জগতে এক দারুণ গতিশীলতার সাথে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।   জানা গেছে, ছাঁটাইয়ের শিকার হতে যাওয়া কর্মীদের সাথে খুব শিগগিরই যোগাযোগ শুরু করবে ভিসা কর্তৃপক্ষ এবং তাদের পরবর্তী কাজের সুযোগ বা ট্রানজিশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। গত অর্থবছরের শেষে ভিসার মোট কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ১০০ জন। মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রান্তিক আয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে তাদের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আরও বিস্তারিত চিত্র উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আফ্রিকার ২৫ শহরে ভিসা সেবা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
২৫ শহরে বন্ধ মার্কিন ভিসা সেবা, আবেদনকারীদের ভরসা এখন আঞ্চলিক হাব

আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে নিজেদের ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম সুসংহত করতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ আগস্ট থেকে মহাদেশটির ২৫টি মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে সব ধরনের সাধারণ ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট ২০টি আঞ্চলিক হাবের মাধ্যমে ভিসা পরিষেবা পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষপ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অবশ্য কোনো দূতাবাস বা কনস্যুলেট পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ ভিসা দেওয়ার সেবাটি বন্ধ থাকবে।   নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে নাইজেরিয়ার আবুজারা, মাদাগাস্কারের আন্তানানারিভো, জিম্বাবুয়ের হারারে, অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডা ও চাদের এনজামেনাসহ ২৫টি শহরের মার্কিন মিশনে আর কোনো সাধারণ অভিবাসী ও অ-অভিবাসী ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের এখন থেকে ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অন্য দেশের নির্ধারিত হাবগুলোতে যেতে হবে। ডাকার, আক্রা, আদ্দিস আবাবা, কেপটাউন, জোহানেসবার্গ, লাগোস ও নাইরোবির মতো ২০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রগুলোকে ভিসা কার্যক্রমের নতুন হাব হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, সরকারি অপচয় হ্রাস এবং মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ প্রথম স্থানে রেখে কাজ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারই অংশ হিসেবে এই পুনর্গঠন। নির্দিষ্ট কয়েকটি আঞ্চলিক হাবে কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে ভিসা প্রদানের মান ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে আফ্রিকান আবেদনকারীদের ওপর ভ্রমণ খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার বাড়তি বোঝা চাপবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি
বিশ্বকাপ দেখতে কানাডায় গিয়ে অ্যাসাইলাম চাইলেন ১০ বাংলাদেশি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়ে ১৭৫ জন দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী বসবাসের আবেদন অনুমোদন পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। আবেদনকারীরা নিজেদের অস্থায়ী বসবাসের আবেদনে ফিফা বিশ্বকাপের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।   তথ্যে দেখা গেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ জন ঘানার নাগরিক। এছাড়া মিশর ও কলম্বিয়া থেকে ১৫ জন করে, সেনেগাল থেকে ১০ জন এবং ইকুয়েডর থেকে ৫ জন আবেদন করেছেন।   বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আবেদন, যাদের জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কেনিয়া, চীন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান। এর মধ্যে কেনিয়া থেকে ১৫ জন, চীন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া থেকে ১০ জন করে এবং বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে ৫ জন করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।   জুন ও জুলাই মাসে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে বিশ্বকাপের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২৬ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করেছিল কানাডা।   তবে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে কতজন ফুটবলার, কোচ, কর্মকর্তা বা দলের সহায়তাকারী সদস্য ছিলেন, সে তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইআরসিসি।   কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দর্শনার্থী এখনও বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আশ্রয়ের আবেদন করেননি, তাদের মধ্যে কেউ পরে আবেদন করলে মোট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কানাডা সরকার সতর্ক করেছিল, টুর্নামেন্ট শেষে দর্শনার্থীরা যাতে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যদি কর্মকর্তারা মনে করেন তিনি ভ্রমণের আড়ালে কানাডায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে অথবা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে
গ্রিন কার্ডের স্বপ্ন দেখছেন? আবেদন শুরুর আগেই জেনে নিন কোন খাতে কত ডলার লাগবে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী, ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুকদের জন্য বিভিন্ন ধাপে কত সরকারি ফি দিতে হবে, সে বিষয়ে হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা আলাদা ফি পরিশোধ করতে হবে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অর্থ ফেরতযোগ্য নয়, আবেদন অনুমোদিত হোক বা না হোক।    নির্দেশিকা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম আই-১৩০ অনলাইনে জমা দিলে ফি ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী আবেদনের জন্য ফর্ম আই-১৪০-এর ফি ৭১৫ ডলার। আবেদন অনুমোদনের পর মামলাটি ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে  পাঠানো হয়, যেখানে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার এবং অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ৩২৫ ডলার দিতে হয়।    ভিসার ধরন অনুযায়ী আবেদন ফিতেও পার্থক্য রয়েছে। পারিবারিক ভিত্তিক অভিবাসী ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার জন্য ৩৪৫ ডলার এবং ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি লটারি) বিজয়ীদের জন্য প্রসেসিং ফি ৩৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ প্রত্যেক আবেদনকারীকেই পৃথকভাবে এই ফি পরিশোধ করতে হবে।    ভিসা অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে আরও একটি বাধ্যতামূলক ফি দিতে হয়। গ্রিন কার্ড তৈরি ও ডাকযোগে পাঠানোর জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্রান্ট ফি হিসেবে ২৩৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস, গ্রিন কার্ড হারানোর পর ট্রান্সপোর্টেশন লেটার কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের ওয়েভার আবেদনের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা পরীক্ষা, টিকাদান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, নথি অনুবাদ এবং ভ্রমণ ব্যয় সরকারি ফি-এর বাইরে আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে। এছাড়া সময়ে সময়ে ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই অর্থ পরিশোধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে আবেদনকারীদের শুরু থেকেই পুরো প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। এতে নথিপত্র প্রস্তুত করা, ফি পরিশোধ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হয়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার ভিজিটর ভিসা পেতে বিদেশিদের মানতে হবে ৬টি আবশ্যিক শর্ত
কানাডার ভিজিটর ভিসা পেতে বিদেশিদের মানতে হবে ৬টি আবশ্যিক শর্ত

কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের ভিজিটর বা দর্শনার্থী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৬টি আবশ্যিক শর্তের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা নামে পরিচিত এই ভিসার মাধ্যমে মূলত পর্যটন, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন কাজের জন্য দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা ও অপরাধমূলক রেকর্ডের পাশাপাশি আবেদনকারীর সঙ্গে তার নিজ দেশের সম্পর্ক কতটা দৃঢ় এবং নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সদিচ্ছা আছে কি না—সেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।   ভিসা পাওয়ার প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রত্যেক আবেদনকারীর অবশ্যই একটি বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে হতে পারে। তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কানাডার আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য এমন কোনো অপরাধমূলক বা ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলে আবেদনকারী ভিসার জন্য সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো, নিজ দেশের সাথে আবেদনকারীর দৃঢ় সম্পর্ক থাকা। নিজ দেশে আবেদনকারীর চাকরি, স্থাবর সম্পত্তি বা পরিবারের মতো শক্তিশালী কারণগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কানাডা যাচ্ছেন।   চতুর্থ শর্তটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে পঞ্চম শর্তটি। এখানে আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি কানাডা ত্যাগ করবেন। এটি আবেদনের অন্যতম সংবেদনশীল দিক, যা প্রতিটি কেস অনুযায়ী ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সর্বশেষ ও ষষ্ঠ শর্তটি হলো আর্থিক সক্ষমতা। কানাডায় অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ভ্রমণের সময়কাল এবং তিনি কোথায় থাকবেন (হোটেলে নাকি পরিচিত কারও বাসায়), তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।   এই ছয়টি মূল শর্তের বাইরেও অনেক সময় কানাডায় বসবাসরত কোনো আয়োজকের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র বা ইনভাইটেশন লেটার চাওয়া হতে পারে, যা ভিসা আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ভিজিটর ভিসার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তাই আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপরই নির্ভর করে। এদিকে, আরেকটি পৃথক ঘোষণায় কানাডা তাদের 'প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রাম' (PGP)-এর আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে টেকসই ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অতিরিক্ত ৭৫০ ডলারে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মার্কিন ভিসার ইন্টারভিউ
অতিরিক্ত ৭৫০ ডলারে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মার্কিন ভিসার ইন্টারভিউ, চালু নতুন ফাস্ট ট্র্যাক ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ইন্টারভিউ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য নতুন একটি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থায় যোগ্য B ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফির বাইরে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত এই সুবিধা সব দেশে চালু হয়নি।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২২ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, Nonimmigrant Visa Expedited Appointment Pilot Program নামের এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রথম দেশ হিসেবে মেক্সিকোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সব কনস্যুলেটে ২১ জুলাই থেকে এটি চালু হয়েছে। পাইলট চলাকালে আরও দেশ ও মার্কিন মিশন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে।   নতুন সুবিধাটি মূলত বি ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফর, সভা, সম্মেলন বা অনুমোদিত অন্যান্য সাময়িক ব্যবসায়িক কাজে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। বি-২ ভিসা পর্যটন, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাসহ অনুমোদিত ব্যক্তিগত সফরের জন্য। অনেক আবেদনকারীকে সম্মিলিত বি-১/বি-২ ভিসা দেওয়া হয়।   পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে আবেদনকারীকে প্রথমে প্রচলিত নিয়মে ১৮৫ ডলারের এমআরভি আবেদন ফি পরিশোধ করে একটি নিয়মিত ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশে পেইড এক্সপেডাইট চালু থাকলে, আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট খালি থাকলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের সময় বেছে নেওয়া যাবে।   অর্থাৎ একজন আবেদনকারী এই সুবিধা ব্যবহার করলে ১৮৫ ডলারের নিয়মিত আবেদন ফি এবং ৭৫০ ডলারের দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি মিলিয়ে শুধু এই দুই খাতেই মোট ৯৩৫ ডলার দিতে হবে।   দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা অবশ্য সীমিত। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক স্লট এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করবে। স্লট খালি থাকলেই কেবল যোগ্য আবেদনকারীর কাছে পেইড এক্সপেডাইট অপশনটি দেখা যাবে।   আবেদনকারী দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ ও সময় নির্বাচন করার পর সেটি নিশ্চিত করতে ১০ মিনিটের মধ্যে ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। একবার পেইড এক্সপেডাইট অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে সেই তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।   কেউ নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ে উপস্থিত না হলে ৭৫০ ডলার ফেরত পাবেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করলেও এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পরে আবার পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে চাইলে নতুন করে ৭৫০ ডলার দিতে হবে। একই আবেদনে একাধিক পরিবারের সদস্য বা গ্রুপের সদস্য থাকলে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদাভাবে ৭৫০ ডলার দিতে হবে।   তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলেই মার্কিন ভিসা পাওয়া যাবে না। এই অর্থ কেবল দ্রুত ইন্টারভিউয়ের তারিখ পাওয়ার জন্য। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অন্য সবার মতো একই যোগ্যতার শর্ত পূরণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কনস্যুলার কর্মকর্তা।   এমনকি ইন্টারভিউয়ের পর কোনো আবেদন অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আওতায় গেলে ৭৫০ ডলার দেওয়ার কারণে সেই প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   যাদের সাধারণ জরুরি ইন্টারভিউয়ের আবেদন আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে পেইড এক্সপেডাইট সুবিধা নিতে পারবেন। তবে যারা ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ মওকুফের যোগ্য, তারা ৭৫০ ডলার দিয়ে নিজেদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ পাবেন না। এই কর্মসূচি কেবল নির্ধারিত ইন্টারভিউ থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২২ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে বি-১/বি-২ ভিসার আবেদনকারীরা এখনই ৭৫০ ডলার দিয়ে এই দ্রুত ইন্টারভিউ সুবিধা নিতে পারবেন, এমন ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চলাকালে আরও স্থান এতে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কর্মসূচিতে যুক্ত হলে এবং আবেদনকারী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তার ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে পেইড এক্সপেডাইট অপশন দেখা যেতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য প্রচলিত শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।   ফলে নতুন ব্যবস্থায় ৭৫০ ডলারের বিনিময়ে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগ মিললেও এটি দ্রুত ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা নয়। অর্থাৎ আবেদনকারী অর্থ দিয়ে কিনছেন আগের ইন্টারভিউয়ের সুযোগ, মার্কিন ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
আরব আমিরাতে স্পনসর ছাড়াই ৫ বছরের ভিসা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আরব আমিরাতে স্পনসর ছাড়াই ৫ বছরের ভিসা, সুযোগ পাবেন যেসব দেশের নাগরিকরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দুবাই। বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসর বা আয়োজক ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে পর্যটকরা এখন থেকে একটিমাত্র ভিসার মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছর ধরে একাধিকবার দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতে অবাধে প্রবেশের দারুণ এক সুযোগ পাবেন।   দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) সম্প্রতি এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ভিসার আওতায় একজন দর্শনার্থী প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে পর্যটকরা চাইলে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের একমাত্র শর্ত হলো, কোনোভাবেই এক বছরের মধ্যে মোট অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি অতিক্রম করা যাবে না।   জিডিআরএফএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরাই এই আকর্ষণীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আবেদনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে।   এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম চার হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর বৈধ স্বাস্থ্য বীমা এবং দেশে ফেরার কনফার্মড রিটার্ন বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে যে কেউ দীর্ঘমেয়াদে আমিরাত ভ্রমণের সুবিধা নিতে পারবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা যাচাইয়ে ১০ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য, বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও ভ্রমণ অনুমতিসহ বিভিন্ন অভিবাসন আবেদনে আবেদনকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম যাচাই বাড়ায় প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ এবং বিদেশে গিয়ে আটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনায়।   থোমসন রয়টার্সের ওয়েস্টল টুডেতে ৬ জুলাই প্রকাশিত অভিবাসন আইনবিষয়ক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশিদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় ভিসা ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব, একই ধরনের আবেদনে ভিন্ন ফল এবং নিয়োগ পরিকল্পনায় বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষণটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়; বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা আইনজীবী মনীশ দাফতারির পেশাগত মূল্যায়ন।    নতুন যাচাই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আদেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ও অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারীদের জন্য আরও কঠোর ও অভিন্ন নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই বাড়ানোর একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা—USCIS জানিয়েছে, পরিচয় যাচাই, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, নির্দিষ্ট অভিবাসন আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীর নাম বা ‘হ্যান্ডল’ সংগ্রহের জন্য USCIS একটি সাধারণ অনুমোদন কাঠামো তৈরি করছে। এখানে পাসওয়ার্ড নয়, আবেদনকারী কোন প্ল্যাটফর্মে কোন পরিচিতি ব্যবহার করেছেন, সেই তথ্য চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।   রয়টার্সে প্রকাশিত আইনজীবী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, USCIS স্থায়ী বসবাস, নাগরিকত্ব ও ভ্রমণ অনুমতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ফর্ম সংশোধনের পরিকল্পনা করেছে। নতুন ফর্মে আবেদনকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডল চাওয়া হতে পারে—এমনকি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া অ্যাকাউন্টের তথ্যও। আবেদনকারীর মা-বাবা, ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়দের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে ৬ জুলাই পর্যন্ত এসব ফর্মের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশিত হয়নি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ নতুন নয়। ২০১৯ সালের ৩১ মে থেকে অধিকাংশ অভিবাসী ও অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীকে DS-160 ও DS-260 ফর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি দিতে হচ্ছে। তখন মূলত আগের পাঁচ বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে USCIS-এর কাছে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুবিধার আবেদনকারীদের ওপরও আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই প্রয়োগের পথ তৈরি করছে।    ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর H-1B কর্মভিসা আবেদনকারী ও তাঁদের H-4 নির্ভরশীলদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা সম্প্রসারণ করে। এর আগে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির F, M ও J ভিসা আবেদনকারীদের ওপর এ ধরনের পর্যালোচনা চালু ছিল। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রকাশ্য তথ্য পর্যালোচনা করতে পারেন। ২০২৬ সালের মার্চে আরও কয়েকটি অ-অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতেও এই যাচাই সম্প্রসারিত হয়েছে।    নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘আমেরিকাবিরোধী’ বা আপত্তিকর বক্তব্য শনাক্ত করার কথা বলা হলেও কোন ধরনের পোস্ট, মন্তব্য বা অনলাইন কার্যক্রমকে এই সংজ্ঞার মধ্যে ধরা হবে, তা স্পষ্ট নয়। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো সরকারি নীতি বা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশ ভিসা বা কাজের অনুমতির সিদ্ধান্তে নেতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে কি না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পরিষ্কার ও বিস্তারিত সরকারি মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়নি।    পুরোনো বা বন্ধ অ্যাকাউন্ট বাদ পড়ে যাওয়াও আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একজন আবেদনকারী বহু বছর আগে ব্যবহার করা কোনো ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্ট ভুলে গেলে এবং পরে সরকারি যাচাইয়ে সেটি পাওয়া গেলে তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পার্থক্য করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা নেই।    কঠোর যাচাইয়ের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে বিদেশে গিয়ে ভিসা স্ট্যাম্প নিতে যাওয়া কর্মীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করলেও বিদেশ সফরের পর ফিরে আসার জন্য অনেক H-1B কর্মীকে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে নতুন ভিসা স্ট্যাম্প নিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের কারণে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া এবং পাসপোর্ট ফেরত পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।   রয়টার্সের আইনজীবী বিশ্লেষণে ভারতের একটি ঘটনার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। নতুন অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতির সময় দেশটিতে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত বহু H-1B ও H-4 ভিসা সাক্ষাৎকার মার্চ বা তার পরের সময়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এতে ছুটিতে দেশে যাওয়া কয়েকজন বিদেশি কর্মী মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারেননি এবং তাঁদের চাকরিতে যোগদান ব্যাহত হয়।    কোনো ভিসা আবেদনে অতিরিক্ত প্রশাসনিক যাচাই প্রয়োজন হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা Immigration and Nationality Act-এর 221(g) ধারায় আবেদনটি সাময়িকভাবে আটকে রেখে আরও তথ্য চাইতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং আবেদনকারীদের পরিকল্পিত সফরের অনেক আগে আবেদন করতে হবে।    এ ধরনের বিলম্ব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। কর্মী সময়মতো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পারলে প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প, গ্রাহকসেবা, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নিয়োগ পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। নতুন বিদেশি কর্মীর যোগদানের তারিখ পিছিয়ে গেলে কোম্পানিকে পদটি খালি রাখতে, কাজ অন্য কর্মীদের মধ্যে ভাগ করতে অথবা প্রকল্পের সময়সীমা পরিবর্তন করতে হতে পারে।   সীমান্তে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ পরীক্ষা নিয়েও নিয়োগদাতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সীমান্তে বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় কোনো ভ্রমণকারীকে ডিভাইস আনলক করতে বলতে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এমন পরীক্ষা বাড়লে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি, গ্রাহকের তথ্য ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক সফরের আগে সম্ভাব্য ভিসা বিলম্ব সম্পর্কে সতর্ক করা প্রয়োজন। কর্মীদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে কোম্পানির সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণ না করা, তথ্য নিরাপত্তার নীতি মেনে চলা এবং ছুটির সময় ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি H-1B কর্মী, H-4 নির্ভরশীল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী ও নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্যও পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করার আগে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারকারীর নাম, পুরোনো ও বন্ধ অ্যাকাউন্ট এবং নাম পরিবর্তনের তথ্য গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, চাকরি ও পরিবারের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে অতিরিক্ত প্রশ্ন উঠতে পারে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত থাকা বা সরকারের সমালোচনা করলেই ভিসা প্রত্যাখ্যাত হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে ব্যাপকভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুস্পষ্ট প্রবণতা এখনো দেখা যায়নি। নতুন ফর্ম ও নীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের পর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো অনিশ্চয়তা। আবেদনকারীদের আরও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় বেশি সময় লাগতে পারে এবং নিয়োগদাতাদের বিদেশি কর্মীর যোগদান ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সময় রাখতে হতে পারে। নতুন ফর্ম প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোন আবেদনকারীর কাছে ঠিক কত বছরের তথ্য চাওয়া হবে, কোন প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং পুরোনো অ্যাকাউন্ট বাদ পড়লে কীভাবে তা বিবেচনা করা হবে—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত, সুবিধা বাড়ল প্রবাসী ও পর্যটকদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে ২০২৬ সালে ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পর্যটন ভিসা, আবাসন সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থায়। ১৪ দিন ও ৬০ দিনের এন্ট্রি ভিসার সুযোগ এখন আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা প্রধানত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।   এছাড়া আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার বাসিন্দারাও এ সুবিধা পাবেন।     পর্যটকদের জন্যও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। দুবাই ভ্রমণ করতে ইচ্ছুকরা অনুমোদিত পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একবার প্রবেশের অনুমতিসহ পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।   আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন। দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিটের শর্ত শিথিল করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত ন্যূনতম ৭ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম মূল্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। অন্যদিকে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪ লাখ দিরহাম হতে হবে।   এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও শেষ হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য আইসিপি ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসা নবায়ন বা বৈধ করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করতে হবে।   স্বাস্থ্যখাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’। জেনারেল ডিরেক্টরেট অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স এবং দুবাই হেলথ অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থায় রোগীদের ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা এবং পরবর্তী সেবাকে একক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চিকিৎসা পর্যটন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।   সর্বশেষ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি
জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ১ জুলাই থেকে নতুন হার কার্যকর

প্রায় পাঁচ দশক পর বিদেশিদের জন্য ভিসা ফি বড় ধরনের পুনর্নির্ধারণ করল জাপান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ভিসার ফি সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাপানের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে, যা ডলারে প্রায় ১৮.৬৯ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ভিসা ফি পুনর্বিবেচনা করল টোকিও।   জাপান সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যাওয়াও এই পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাপও এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় অবকাঠামো ও জনসেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র লেকচারার জিলমিয়াহ কাম্বলে বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পুরোনো ফি কাঠামো ধরে রাখা আর লাভজনক ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের অবমূল্যায়নও এতে ভূমিকা রেখেছে।”   তবে তিনি মনে করেন, এই ফি বৃদ্ধি সরাসরি পর্যটকের সংখ্যা কমানোর জন্য নয়। বরং প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ মেটানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এদিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি জানিয়েছেন, ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে পর্যটন খাতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে সব ভ্রমণকারীর জন্য ডিপার্চার ট্যাক্সও ১ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।   ডেলয়েট তোহমাতসু গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউকি মাসুজিমা বলেন, জাপান থেকে যাত্রীদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের অংশ এখন প্রায় ৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৩ সালে ‘আবেনোমিক্স’ চালুর আগে ছিল মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। তার মতে, এই পরিবর্তন জাপানের পর্যটন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, বিদেশি পর্যটকেরা জাপানে কেনাকাটায় সেলস ট্যাক্স রিফান্ড সুবিধা পান। ফলে সংশ্লিষ্ট খরচের একটি অংশ সরকারকে বহন করতে হয়। ভিসা ফি ও ডিপার্চার ট্যাক্স বাড়িয়ে সেই ঘাটতি আংশিক পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কর ও ফি বৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যটকদের আগ্রহ কমবে না। কারণ জাপান ইতোমধ্যেই একটি জনপ্রিয় এবং পুনরায় ভ্রমণের উপযোগী গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ডেন্টসুর ‘জাপান ব্র্যান্ড সার্ভে ২০২৫’-এ দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ১২ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে ৫২.৭ শতাংশই আবার জাপানে ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   জরিপে আরও উঠে এসেছে, দুর্বল ইয়েনের চেয়ে জাপানের খাবার, সংস্কৃতি ও পণ্যের আকর্ষণই পর্যটকদের বেশি টানছে। ফলে এই জনপ্রিয়তা সাময়িক নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   এদিকে, ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য খরচও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মে মাসে জাপানের উচ্চকক্ষ পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন করার আইন পাস করেছে। একই সঙ্গে রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি-র ঊর্ধ্বসীমাও ১ লাখ ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য একদিকে বাড়তি প্রশাসনিক ব্যয় সামাল দেওয়া, অন্যদিকে দক্ষ ও উচ্চমানের মানবসম্পদ আকর্ষণ করা। সব মিলিয়ে, পর্যটন ও অভিবাসন নীতিতে জাপান এখন এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
৫০ বছরে প্রথমবার ভিসা ফি বাড়াল জাপান, খরচ বাড়বে ৫ গুণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপান দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী মাস অর্থাৎ জুলাই মাসের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর এই নতুন নিয়মটি পুরোপুরি বলবৎ হবে বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ জুন) জাপানের মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ফি পরিবর্তনের প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   আগামী ১ জুলাই বা তারপরে দেশটির দূতাবাসে জমা দেওয়া সমস্ত নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বর্ধিত এই নতুন ফি কাঠামো বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।   আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জাপানের এই বড় ধরণের নীতি পরিবর্তনের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন ফি কাঠামোর বিবরণ অনুযায়ী, এখন থেকে একবার প্রবেশের বা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার খরচ ৩,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে এক লাফে ৫ গুণ বেড়ে সরাসরি ১৫,০০০ জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক বা পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে যারা একাধিকবার প্রবেশের বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করবেন, তাদের খরচ পূর্বের ৬,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে দ্বিগুণ বেড়ে এখন থেকে ৩০,০০০ জাপানি ইয়েন নির্ধারিত হবে, যা বিদেশি পর্যটক ও অভিবাসীদের পকেটে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।   গত শুক্রবার টোকিওতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি এই ফি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জাপানের বর্তমান ভিসা ফি কাঠামোটি সুদীর্ঘকাল পূর্বে অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিগত পাঁচ দশকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যাপক ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্প্রতি দীর্ঘ সময় পর এটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে জাপানে বিদেশি পর্যটকের আগমনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।   জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি বিশেষ আইনের সূত্র ধরেই মূলত এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই নতুন আইনটি সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর আইনি সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে জাপানে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার মান উন্নয়নের ব্যয় পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নতুন এই ফি থেকে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব মূলত সেই বর্ধিত ব্যয় মেটাতে সরকারকে সরাসরি সহায়তা করবে।   ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানে আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সাথে সম্পর্কিত ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। একইসঙ্গে দেশটিতে স্থায়ী আবাসন বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও এক ধাক্কায় অনেক বাড়ানো হবে। সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০,০০০ ইয়েন থেকে সর্বোচ্চ ৭০,০০০ ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণের নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন ফি ১০,০০০ জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ জাপানি ইয়েন পর্যন্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিপ্পন-এর এক বিশেষ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া জাপানের চলতি অর্থবছরের আগেই সরকার এই সমস্ত কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পূর্ণ কার্যকর করতে চায়। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত পরিচালনায় সহায়তা করবে, দেশটিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করবে এবং একই সাথে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জরিমানা ছাড়া বৈধ হওয়ার শেষ সুযোগ

আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর ফলে আগে থেকে জরিমানা মওকুফের সুবিধা পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও পর্যটকরা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক দণ্ড ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার অথবা ভিসার মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পাবেন। আমিরাত সরকারের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) এক ঘোষণায় এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   সংস্থাটি জানায়, গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ছাড় চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের ভিসা নিয়মিতকরণ অথবা দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে নতুন করে কোনো আবেদন বা বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে না। তারা বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন।   এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে আমিরাতের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ফলে যাদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়েছিল, যারা ভিজিট ভিসায় ছিলেন এবং যাদের প্রস্থানের অনুমতি ছিল—এমন হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটিতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এসব আটকে পড়া মানুষের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণজনিত ওভারস্টে জরিমানা সম্পূর্ণ মওকুফ করেছিল।   আইসিপি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে আঞ্চলিক আকাশপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে আসায় আগের সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই জরিমানা মওকুফ রাখার মতো জরুরি পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই। আটকে পড়া বিদেশিদের মধ্যে যারা আমিরাতে বৈধভাবে থাকতে চান, তাদের এই এক মাসের মধ্যে রেসিডেন্সি বা ভিসার মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে হবে।   কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা নবায়ন বা দেশত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে নতুন ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা, জরিমানা এবং দেশটিতে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে হবে। আমিরাতে কর্মরত ও আটকে পড়া বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: গালফ নিউজ

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা শেষে স্বস্তি, বিশ্বকাপে ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা

কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।   ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে।   ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ
কাতারে আকামা বাতিলের পর থাকার সময় কমলো, নতুন নিয়মে বাড়ছে জরিমানার চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসীদের রেসিডেন্সি পারমিট বা ‘আকামা’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর আকামা বাতিল হওয়ার পর তিনি সর্বোচ্চ ১৪ দিন—অর্থাৎ দুই সপ্তাহ—দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩০ দিন।   কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিরাপদ ভ্রমণ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলী আহমেদ আলী আল কুওয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীকে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা গুনতে হবে। ফলে সময়সীমা অতিক্রম করলে আর্থিক চাপও বাড়বে।   শুধু প্রবাসী শ্রমিকই নয়, কাতারে ভ্রমণরত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্যও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভিজিট ভিসায় আসা ব্যক্তিদের তাদের ভিসার মেয়াদ ও অনুমোদিত অবস্থানকাল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।   ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে দেশ ছাড়ার আগে ‘মেট্রাশ’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের আইনি অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জরিমানা, ওভারস্টে ফি কিংবা সরকারি অন্য কোনো বকেয়া থাকলে তা আগেই পরিশোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়তে পারেন যাত্রীরা।   এছাড়া প্রবাসীদের সুবিধার্থে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট বা স্বয়ংক্রিয় গেট ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনালে মোট ৭৬টি ই-গেট চালু রয়েছে, যা যাত্রীদের সময় বাঁচাতে সহায়তা করছে।   ওয়েবিনারে কাতারে জন্ম নেওয়া প্রবাসীদের সন্তানদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নবজাতকের জন্মের পর দ্রুত পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপর নিজ দেশের দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাবার স্পন্সরশিপের অধীনে শিশুর রেসিডেন্সি পারমিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।   বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। একই সঙ্গে আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের গ্রিন কার্ড: পরিবার, চাকরি, বিনিয়োগ—কোন পথে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাস?

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র, যা সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত, সেটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মানুষ। অনেকের ধারণা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে বা লটারি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার একাধিক বৈধ পথ রয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সক্ষমতা কিংবা মানবিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক স্পনসরশিপ, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক আবেদন, বিনিয়োগ, আশ্রয়, শরণার্থী কর্মসূচি এবং ডাইভারসিটি ভিসা লটারি।   পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন।   বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী কাউকে বিয়ে করলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য দম্পতির যৌথ বসবাস, আর্থিক লেনদেন, ছবি ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।   এইচ-ওয়ান বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এইচ-ওয়ান বি কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। এই ভিসাধারীদের অনেকেই পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে স্থায়ী চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। শ্রমবাজার যাচাই, অভিবাসন আবেদন এবং ভিসা নম্বর পাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত আবেদন করা হয়।   ইবি-১: অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্নদের জন্য বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, শিল্পকলা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণা প্রকাশনা, বড় পুরস্কার বা নেতৃত্বের প্রমাণ থাকলে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।   ইবি-২: উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ দক্ষতা থাকলে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক এবং অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা সাধারণত এই পথ ব্যবহার করেন। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন এমন আবেদনকারীরা ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার’-এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ পান।   ইবি-৩: দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ ক্যাটাগরি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর জন্য চাকরির অফার দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও এই পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।   বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।   আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য গ্রিন কার্ড যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা অন্যান্য নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান, তারা আশ্রয় অনুমোদনের এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আশ্রয় মর্যাদা বহাল থাকতে হয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।   শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা সাধারণত এক বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনা করে। কম অভিবাসনপ্রবণ দেশগুলোর নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত হলে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে অভিবাসী ভিসা এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। এই ক্যাটাগরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এখন!   বিশেষ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড ধর্মীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মচারী, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ সহযোগী এবং কিছু মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ গ্রিন কার্ড কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ একাধিক হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের ৪৮ ঘণ্টা: ভিসা জটিলতায় বিতর্কের মুখে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারি ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোর ভিসা পুনঃপর্যালোচনার আওতায় নেওয়া হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে সক্ষম হন। একই সময়ে ইরাক জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় আইমান হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।   ইরান জাতীয় দলকেও ভিসা পেতে দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে কয়েক দিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় দলটিকে। পরে ম্যাচের দিনগুলোতে কেবল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদলের ১৫ সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ২০২৫ সালের সেরা রেফারি নির্বাচিত সোমালিয়ার ওমর আবদুলকাদির আরতানও ভিসা পাননি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ফেরত পাঠানো হয়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, তিনি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।   দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলও ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলের সফর বিলম্বিত হয়।   এদিকে সেনেগাল জাতীয় দলের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দীর্ঘ তল্লাশির শিকার হন। তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয়। এ ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও উঠেছে।   উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   শুধু দল বা কর্মকর্তারাই নন, ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সমর্থকরাও। স্কটল্যান্ডের কিছু সমর্থক, যারা ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন, তাদের ভ্রমণ অনুমোদন যাত্রার মাত্র কয়েক দিন আগে বাতিল করা হয়।   এছাড়া অনেক সমর্থক ম্যাচের টিকিট ও আবাসন বুকিং সম্পন্ন করার পরও ভিসা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে বিশ্বকাপ ঘিরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো দর্শকের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে।   বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের মধ্যে একের পর এক ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমন্বিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তাবাস্সুম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০