- প্রচ্ছদ
- Topic
হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজে বের করতে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বরের ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক কর্মকর্তা। এতে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার অগ্রগতি ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর্মকর্তাদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ই-মেইলটি আরও দেখায়, পুরো প্রক্রিয়াটিতে হোয়াইট হাউসের সরাসরি তদারকি রয়েছে। একপর্যায়ে অগ্রগতি না হলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সঙ্গে বিষয়টি তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়। ডিএইচএসের ‘আনলফুল ভোটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই যাচাই চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখা থেকে শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনিয়ম খুঁজতে কাজে লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসের কাছে পাওয়া ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ডিএইচএসের কাছে থাকা ভোটার তালিকার কিছু সংস্করণে জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকায় বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে নাম মিলিয়ে দেখা কঠিন হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের যাচাইয়ে একই নামের অভিবাসীদের সঙ্গে মিল থাকার কারণে মার্কিন নাগরিকদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ঘটেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরাও ভুলভাবে এই তালিকায় চলে এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন। ভোটার তালিকার ঘাটতি পূরণ করতে ডিএইচএস বেসরকারি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকুরিন্টের কাছ থেকেও তথ্য নিচ্ছে। সরকারি তদন্তকারীরা এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ননসিটিজেনদের শনাক্ত করা। ডিএইচএসের সচিব মার্কওয়েন মুলিন সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে ১ সেপ্টেম্বরের ই-মেইল অনুযায়ী, যাচাইয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিরা সত্যিই ননসিটিজেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত বা ভোট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ডিএইচএসের কর্মকর্তাদের ‘কিছুটা নিশ্চিততা’ রয়েছে। অর্থাৎ সব চিহ্নিত ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এই উদ্যোগের জন্য ইউএসসিআইএসের জালিয়াতি শনাক্তকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের শত শত কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য তাদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রতি ঘণ্টায় পাঁচটি নাম যাচাইয়ের লক্ষ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা খুব কমই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তাদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি ফোনালাপের পর ডিএইচএস কর্মকর্তাদের বৈঠকে আইসিইর সংশ্লিষ্ট দলটি কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিল বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য ডিএইচএসকে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে রাজি হয়নি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্য কোনো তথ্য বাদ না দিয়ে পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য এ ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ডিএইচএসকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দেওয়া প্রকাশ্য ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নেভাদার ঘটনা এই যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতাও তুলে ধরেছে। জুলাইয়ে ডিএইচএস দাবি করেছিল, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় প্রায় ১৬ হাজার সম্ভাব্য ননসিটিজেন রয়েছে। পরে নেভাদা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ চাইলে ডিএইচএস জানায়, ওই সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাত্র ১৮৫টি ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। নেভাদার সেক্রেটারি অব স্টেটের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক দাবিগুলো যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য চাওয়া হলেও ডিএইচএস তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে সফটওয়্যার ত্রুটি ও প্রশাসনিক ভুলের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি ননসিটিজেন যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের কতজন ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, ১৯৯৬ সালে ‘ভোটিং বাই এলিয়েনস’ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে মাত্র ১২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে রয়টার্সের জুলাইয়ের পর্যালোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এ আইনে আরও অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটের সব ঘটনাই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। ডিএইচএসও বলেছে, তাদের তদন্ত আইন অনুযায়ী পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করার ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার সেবা চালু করেছে। ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামের এই নতুন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ভিডিও সরাসরি ও নিয়মিত প্রচার করা হবে। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নতুন এই ভিডিও চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রচার শুরুর পর প্রথম দিকের একটি ভিডিওতে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য দেখানো হয়। হোয়াইট হাউসের উপসহকারী প্রেসিডেন্ট কায়লান ডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এটিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ‘নির্বাচিত সম্প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন সেবাটিতে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনের অন্যান্য ভিডিও সরাসরি ও পরবর্তীতে দেখার সুযোগ থাকবে। হোয়াইট হাউসের এই উদ্যোগের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। সংবাদমাধ্যম তিনটির দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আদালতের কাছে দ্রুত প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসের বিশেষ অনুমতিপত্র, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে অংশ নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের ভুল বা নেতিবাচক প্রতিবেদন রয়েছে। এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। সাধারণত প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণের দায়িত্ব কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ফুটেজ পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানগুলোর পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে ট্রাম্পের কার্যক্রমের নিয়মিত টেলিভিশন পুল ক্যামেরা কভারেজও ছিল না। এর পরিবর্তে হোয়াইট হাউস নিজস্ব ভিডিও ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরবরাহ করে। সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রচলিত টেলিভিশন পুল কভারেজ না থাকায় হোয়াইট হাউস নিজস্ব ক্যামেরায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। তবে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের শব্দের কারণে ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু অংশ স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ফলে হোয়াইট হাউস এখন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের ভিডিও সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিজস্ব একটি মাধ্যম পেল। এর মাধ্যমে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে প্রশাসন সরাসরি দর্শকদের কাছে ভিডিও কনটেন্ট পৌঁছাতে পারবে। তবে নতুন চ্যানেলটির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কিছু সমালোচক এটিকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এটিকে প্রশাসনের কার্যক্রম জনগণের কাছে সরাসরি তুলে ধরার একটি যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলতে সাধারণত এমন সংবাদ সংস্থাকে বোঝানো হয়, যার মালিকানা, অর্থায়ন বা সম্পাদকীয় কার্যক্রম সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অধীনে থাকে। হোয়াইট হাউসের নতুন ভিডিও সেবা সেই অর্থে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংবাদ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি প্রশাসনের নিজস্ব ভিডিও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এদিকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা মামলার শুনানি দ্রুত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন কি না। ফলে একদিকে নতুন সরকারি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স
হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে। এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নতুন নির্মিত একটি গ্রানাইট হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মূলধারার কোনো মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেনি। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একটি সোনালি কাঁচি দিয়ে লাল, সাদা ও নীল রঙের ফিতা কেটে হ্যালিপ্যাডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটিকে প্রেসিডেন্ট 'একটি শিল্পকর্ম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হ্যালিপ্যাডটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলমোহর খোদাই করা রয়েছে। হোয়াইট হাউস তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচার করলেও, পেছনে থাকা মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দের কারণে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের টিভি ক্যামেরা এবং শক্তিশালী বুম-মাইক থাকে, যা এবার অনুপস্থিত ছিল। এর আগে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস সিএনএন-কে (CNN) অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় টিভি নেটওয়ার্কগুলো প্রতিবাদস্বরূপ তাদের ‘টিভি পুল’ সম্প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই পুল ক্যামেরার মাধ্যমেই সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফুটেজ সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর জবাবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়; তবে শুধু বন্ধুভাবাপন্ন বামপন্থীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটিকে হঠাৎ পবিত্র বলে দাবি করাটাই নতুন। উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হ্যালিপ্যাড নির্মাণে যুক্ত কর্মীদের সাথে করমর্দন করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি আকারে বড় ও আধুনিক নতুন মেরিন ওয়ান (ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট) হেলিকপ্টারে চড়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির সাথেও বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, ভারী ও আধুনিক হেলিকপ্টারের কারণে সাউথ লনের ঘাসের যেন ক্ষতি না হয়, মূলত সেজন্যই নতুন এই হ্যালিপ্যাডটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হাতে নেওয়া হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম।
ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছের লাফায়েত স্কয়ার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক ব্যক্তি গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেন। ১৬তম স্ট্রিট ও এইচ স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে নিরাপত্তাবেষ্টনীর পাশে গাড়িটি নেওয়ার ঘটনায় দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে কাছের একটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরের দিকে লাফায়েত স্কয়ারের কাছে। ওই ব্যক্তি নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাছাকাছি ফুটপাথে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা তৈরি হয়। আশপাশের সড়কও সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওই গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও বিপজ্জনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। আটকের সময় ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। তিনি মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থান করছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানান, ব্যক্তিটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য। তবে তার পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিপজ্জনক বস্তু না পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও লাফায়েত স্কয়ারের আশপাশে যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের মার্চে ম্যাডিসন প্লেস ও এইচ স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি গাড়ি অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। চালককে পরে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ধূসর রঙের আকিউরা গাড়ির চালক হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুতর ঘটনার কারণে হোয়াইট হাউসের আশপাশে এমন যেকোনো অস্বাভাবিক যানবাহন চলাচলকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কোল অ্যালেনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস অফিসার গুলিতে আঘাত পেলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে গুরুতর আহত হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন এবং হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কোনো গাড়ি নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে চলে গেলে কেন দ্রুত সিক্রেট সার্ভিস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, শনিবারের ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) প্রোগ্রামের ফি এক লাখ ডলারে উন্নীত করার যে প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা পর্যায় পার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয়সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওপিটি হলো এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর হলে ওপিটি প্রোগ্রামের ব্যয় সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় এবং তারাই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী এই কর্মসংস্থান সুবিধার অন্যতম প্রধান গ্রহীতা। তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় ছাড়পত্র পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক লাখ ডলার ফি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বা অবিলম্বে এটি প্রদান করতে হবে। নতুন যেকোনো বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে ফেডারেল রুলমেকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) এই প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফি এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি। যদি প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়, তবে সেটি 'ফেডারেল রেজিস্টার'-এ প্রকাশিত হবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জনসমক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন। বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর অস্থায়ী কাজের অনুমোদন পান এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের ওপিটি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাদার খাতে প্রবেশের জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তাই এক লাখ ডলারের এই বিশাল ফি কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ইচ্ছুক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখনই এক লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।
প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তার জন্য কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা নির্মাণ করবে না - এমন কারণেই নিজের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকল্প করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক বেন টেরিস ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অসফের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ তাকে সম্মান জানিয়ে এমন স্থাপনা তৈরি করবে না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটা সত্যি। আমি চলে যাওয়ার পর কেউ এটা করবে না। আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, তখন কেউ করবে না।” দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় বিশাল বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে একটি প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা। হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আইনি লড়াই হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন স্থাপনাটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে একটি ভূগর্ভস্থ নিরাপত্তা স্থাপনা ও ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। এদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরুর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তোরণটির চূড়ান্ত অনুমোদনও এখনো পাওয়া যায়নি। নিজের নাম ব্যবহারের প্রবণতা শুধু স্থাপনা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় তার ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনাও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাওয়ার নানা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকেরা এসবকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে। ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিতর্কিত কিছু ভিডিও গেম উন্মুক্ত করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য অভিবাসী বিতাড়ন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতিগুলোর প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যান্ট স্টপ উইনিং’ স্লোগান দিয়ে এই আর্কেড গেমগুলোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরিচিত পুরোনো কিছু গেমের আদলে তৈরি এই গেমগুলোতে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে। হোয়াইট হাউসের এই আর্কেডে মোট পাঁচটি গেম রয়েছে। এর মধ্যে 'বিল্ড দ্য ওয়াল' গেমটি তৈরি হয়েছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গেম টেট্রিসের অনুকরণে। এখানে খেলোয়াড়দের ব্লক সাজিয়ে দেয়াল তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আটকাতে হয়। গেমটিতে অভিবাসীদের 'আক্রমণকারী দল' বা 'হোর্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'রিও রান' নামের গেমটি স্নেক গেমের আদলে তৈরি, যেখানে খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের 'বর্ডার সিজার' টম হোম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন। এখানে রিও গ্র্যান্ডে নদীর পাড় ধরে ছুটে চলা ভিন্ন বর্ণের অভিবাসীদের বন্দি করে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন পয়েন্ট বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। অভিবাসন ছাড়াও রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের 'মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন' উদ্যোগের অধীনে স্কুলের খাবার বাছাই করা এবং শিশুদের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ভরার মতো বিষয়গুলো নিয়েও গেম রয়েছে এই তালিকায়। গেমগুলোর চরম অমানবিক উপস্থাপনার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি টেট্রিস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করায় বিশ্বাসী এবং বিনা অনুমতিতে কপিরাইট লঙ্ঘনের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। একসময় ভিডিও গেমের সহিংসতা নিয়ে সরব থাকা প্রশাসন এখন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গেমকে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর নতুন দায়িত্বে ফিরছেন কারোলিন লেভিট। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহকারী সংগঠন এমএজিএ ইনকের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। ২১ আগস্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় লেভিট তার পরবর্তী কাজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ১২ আগস্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আগস্টের শেষেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন লেভিট। লেভিট জানান, কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সেপ্টেম্বরে তিনি এমএজিএ ইনকের কাজে ফিরবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় থাকবেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসের পদ ছাড়লেও লেভিট তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টিতে প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে সক্রিয় থাকবেন। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। লেভিট এর আগে এমএজিএ ইনকের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরে তিনি ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হন। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন এবং জুলাইয়ে কাজে ফেরেন। পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না লেভিট। বরং নতুন ভূমিকায় থেকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ও রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি। বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ১২ আগস্ট এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন। ২৮ বছর বয়সী লিভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি দায়িত্ব নেন। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তর্কবিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্যই লিভিট প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১ মে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে জুলাইয়ে তিনি আবার কাজে ফিরেছিলেন। নিজের বিদায়ের ঘোষণার পর লিভিট জানিয়েছেন, গত দেড় বছর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রেসিডেন্টের হয়ে হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পও লিভিটের কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টিতেও তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকা থাকবে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে লিভিট রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবেন বলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের কাজের সম্পর্ক নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় লিভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হন। লিভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। তবে আগস্টের শেষ নাগাদ লিভিটের বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী। প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন। নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন। তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণাধীন নতুন হেলিপ্যাডের একটি বড় অংশ খুলে আবার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও হেলিপ্যাডের ঢালু অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করার পর ঠিকাদারদের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হেলিপ্যাডের কেন্দ্রে বসানো প্রায় ১০০ ফুট চওড়া গ্রানাইটের প্রেসিডেন্সিয়াল সিল ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন কাজের কিছু অংশ ভাঙতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন এবং সাউথ লনের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন আনা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ লনের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঢালু। কিন্তু ট্রাম্প চান হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সঙ্গে সমতল দেখায়। সেই লক্ষ্য পূরণে হেলিপ্যাডের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের জমির উচ্চতাও বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্মাতারা বিবেচনা করছেন। নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মেরিন ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট হেলিকপ্টারের কারণে হোয়াইট হাউসের লনের ক্ষতি ঠেকানো। আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেলিকপ্টারটি বড় ও বেশি শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন থেকে নিচের দিকে বের হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও তাপে ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করছে এবং কাজ শেষ হলে এটি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করার কথা। নির্মাণকাজ চলায় মেরিন ওয়ান সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের পরিবর্তে কাছাকাছি এলিপস এলাকা ব্যবহার করছে। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সংশোধিত কাজ শেষ করতে প্রশাসন আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হেলিপ্যাডের কাজ নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন সম্পন্ন হওয়া অংশ ভেঙে ফেলা হলো এবং পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কত অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। নতুন হেলিপ্যাডটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নেওয়া একাধিক পরিবর্তনের অংশ। সাউথ লনের এই প্রকল্প ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন অংশ ও আঙিনায় বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের ব্যয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থাপত্য মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনী সমাবেশে তার নাচ এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পের পছন্দ নয়। তার ভাষায়, মেলানিয়া মনে করেন এসব আচরণ একজন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার নেভাদার লাস ভেগাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ব্যক্তিগত এই কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি যে ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করেন, সেটি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়। ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি যখন ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করি, মেলানিয়া বলেন এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়। আমি তাকে বলেছি, হয়তো এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়, কিন্তু আমি বড় ব্যবধানে নির্বাচন জিতেছি।" বক্তৃতার সময় তিনি সেই পরিচিত অঙ্গভঙ্গিও করে দেখান। এটি প্রথম নয় যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলানিয়ার এমন মন্তব্যের কথা জানালেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, তার নির্বাচনী সমাবেশের নাচ কিংবা মঞ্চে করা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে মেলানিয়ার আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেলানিয়াকে "অত্যন্ত মার্জিত রুচির মানুষ" বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশের অন্যতম পরিচিত অংশ হলো বক্তব্য শেষে জনপ্রিয় গান 'ওয়াই.এম.সি.এ.'-এর (Y.M.C.A.) তালে তার নাচ। গত কয়েক বছরে এটি তার সমর্থকদের কাছে এক ধরনের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, মেলানিয়া তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কি কল্পনা করতে পারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এভাবে নাচতেন?" ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া রিপাবলিকান পার্টির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একই ধরনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "এটা প্রেসিডেন্টসুলভ নয়।" জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন, "কিন্তু মানুষ এটা পছন্দ করে।" ট্রাম্পের দাবি, সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা প্রায়ই তাকে "নাচুন, নাচুন" বলে উৎসাহিত করেন। ট্রাম্প আরও বলেন, শুধু নাচ নয়, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার অভিনয়ধর্মী অঙ্গভঙ্গিও মেলানিয়ার ভালো লাগে না। জানুয়ারিতে তিনি স্মরণ করেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "প্রিয়, দয়া করে ওজন তোলার ভঙ্গিটা কোরো না। এটা খুবই খারাপ দেখায়।" ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তখনও তিনি একই উত্তর দিয়েছিলেন "কিন্তু আমি তো প্রেসিডেন্ট হয়েছি।" এছাড়া অতীতেও ট্রাম্প বলেছেন, টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার দেখার পর মেলানিয়া মাঝে মাঝে তার উপস্থাপনা বা ক্যামেরায় উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। একবার তিনি নাকি বলেছিলেন, "তোমাকে ভালো লাগছিল না, আলোটা খুব বেশি ছিল।" যদিও মেলানিয়া ট্রাম্প সাধারণত ব্যক্তিগত এসব কথোপকথন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না, তবু ট্রাম্প বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই তাকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি তার জনসমক্ষে উপস্থিতি ও উপস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেন। তবে স্ত্রী আপত্তি জানালেও ট্রাম্প তার পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, সমর্থকেরা এসব মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং নির্বাচনী সমাবেশে এগুলো দেখার প্রত্যাশা নিয়েই আসেন।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা কয়েকটি ক্লোজআপ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার ঘাড়ের সামনের অংশে দেখা যাওয়া ত্বকের ভাঁজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য ও রসিকতা করছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে তোলা ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করার পর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের সামনের অংশে একটি স্পষ্ট ত্বকের ভাঁজ দেখা যায়। এরপর অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অনুমান করতে শুরু করেন। কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ওজন কমানোর ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত কারণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ছবিগুলো তোলা হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশের প্রতি সম্মান জানালেও তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে কিছু সংবাদমাধ্যমকে 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানোর অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি 'ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম' মন্তব্যও করেন। এটি প্রথম নয়, চলতি বছরেও ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গত মার্চে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে তার ঘাড়ের ডান পাশে লালচে দাগ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। পরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ঘাড়ের ডান পাশে একটি সাধারণ ত্বক সুরক্ষাকারী ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার অংশ ছিল এবং এর কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। তবে কী কারণে ওই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছিল বা কোন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান হাতে মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কালশিটের দাগও আলোচনায় আসে। এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দন, দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে তার হাতে এমন দাগ দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল ছবি দেখে কারও শারীরিক অবস্থা বা রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায় না।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি বাড়ানো এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় এমন সংকটপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা, উভয়ই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। তার দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। নেতানিয়াহুর ভাষায়, এটি যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দায়িত্বও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসে, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।
ভারতের ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া বেঙ্গালুরুর কিংফিশার টাওয়ারসের চূড়ায় হোয়াইট হাউসের আদলে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে আর্থিক ও আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রাসাদে তার আর কখনো বসবাস করা হয়নি। প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই দুইতলা প্রাসাদের আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট। এটি দুটি টাওয়ারকে সংযুক্ত করা একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। প্রাসাদটির সাদা বাহ্যিক নকশার কারণে এটি ‘আকাশের হোয়াইট হাউস’ নামে পরিচিতি পায়। প্রাসাদটির নকশায় ব্যক্তিগত লিফট, ল্যান্ডস্কেপড বাগান, জিম, স্পা, সেলুন, ওয়াইন সেলার, ইনডোর হিটেড সুইমিং পুল, শহরের দিকে মুখ করা ইনফিনিটি সুইমিং পুল এবং ছাদে একটি হেলিপ্যাড রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালে কিংফিশার এয়ারলাইনসের পতনকে ঘিরে আর্থিক ও আইনি কার্যক্রমের মধ্যে বিজয় মালিয়া ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সে সময় প্রাসাদটির নির্মাণকাজও শেষ হয়নি। পরবর্তী সময়ে প্রাসাদটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত ও জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু অর্থ ব্যয় করে নির্মিত এই বিলাসবহুল আবাসে বিজয় মালিয়ার বসবাসের সুযোগ আর হয়নি।
এপ্রিলের গুলি হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঘিরে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা দিতেই এই আয়োজন। কয়েক মাস আগের গুলি হামলার আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবুও ভয়কে পেছনে ফেলে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য একই অনুষ্ঠানে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই স্থগিত করা হয়। ঘটনার কয়েক মাস পর পুনরায় আয়োজন করা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এবার অতিথি সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে কঠোর পরিচয় যাচাই, বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সংগঠন জানিয়েছে, এই নৈশভোজ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। হামলার ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবারের আয়োজন সেই বার্তাই দেবে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি বক্তব্যও দিতে পারেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে এপ্রিলের হামলায় আহত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য এবং নিরাপত্তা কাজে সাহসিকতা দেখানো কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার এক হাজারের বেশি গবেষণা অনুদান বাতিলের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফেডারেল সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে, গবেষণা প্রকল্প বাছাই ও বাতিলের ক্ষেত্রে তারা বৈচিত্র্য, লিঙ্গ, টিকা-সংক্রান্ত দ্বিধা এবং কোভিড–১৯–সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু কীওয়ার্ড ব্যবহার করেছিল। এই স্বীকারোক্তির পর চলমান মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। মামলাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের গবেষণা অনুদান বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নতুন নথিকে তারা নিজেদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং বিচারকের কাছে পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়াই তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থা প্রতিটি গবেষণা প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন না করে সাধারণ কিছু মানদণ্ড ও কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। গবেষকদের আইনজীবীদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একাধিক সুরক্ষা লঙ্ঘনের শামিল। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) স্বীকার করেছে, তারা অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘হেলথ ইকুইটি’, ‘ওয়ার্কফোর্স ডাইভারসিটি’, ‘স্ট্রাকচারাল রেসিজম’ এবং ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’–এর মতো শব্দ থাকা গবেষণা প্রকল্পগুলো শনাক্ত করেছিল। একইভাবে পরিবহন বিভাগও ‘ট্রান্সপোর্টেশন ইকুইটি’ ও ‘ডিসঅ্যাডভান্টেজড কমিউনিটিজ’–সংক্রান্ত প্রকল্প চিহ্নিত করে কয়েকটি অনুদান বাতিল করে। গবেষকদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে বহু গবেষণা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাজ ব্যাহত হয় এবং অনেক গবেষণা সহকারীকে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাদের দাবি, অনুদান বাতিলের ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর বৈজ্ঞানিক মান বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি নয়, বরং নির্দিষ্ট শব্দ ও নীতিগত অবস্থানকে ভিত্তি করা হয়েছিল। এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা ফেডারেল সংস্থাগুলোর পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছে, আদালতে উত্থাপিত সাংবিধানিক অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত পৃথক এক মামলায় রায় দিয়ে জানিয়েছিল, শুধু সংস্থার অগ্রাধিকার পরিবর্তনের অজুহাতে ব্যাপক আকারে অনুদান বাতিলের ক্ষমতা সরকারের নেই। সেই রায়ও গবেষণা অনুদানসংক্রান্ত চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।