হোয়াইট হাউস

নিউ জার্সি সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যায় সহকারী ন্যাটালি হার্পকে। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে।   গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী।   প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন।   নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন।   তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন।   তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ
হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণাধীন নতুন হেলিপ্যাডের একটি বড় অংশ খুলে আবার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও হেলিপ্যাডের ঢালু অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করার পর ঠিকাদারদের নকশায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হেলিপ্যাডের কেন্দ্রে বসানো প্রায় ১০০ ফুট চওড়া গ্রানাইটের প্রেসিডেন্সিয়াল সিল ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণকর্মীদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন কাজের কিছু অংশ ভাঙতে দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন এবং সাউথ লনের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন আনা হচ্ছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ লনের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ঢালু। কিন্তু ট্রাম্প চান হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সঙ্গে সমতল দেখায়। সেই লক্ষ্য পূরণে হেলিপ্যাডের নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের জমির উচ্চতাও বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্মাতারা বিবেচনা করছেন।    নতুন হেলিপ্যাড নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো মেরিন ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট হেলিকপ্টারের কারণে হোয়াইট হাউসের লনের ক্ষতি ঠেকানো। আগের মডেলের তুলনায় নতুন হেলিকপ্টারটি বড় ও বেশি শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন থেকে নিচের দিকে বের হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও তাপে ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থ সরাসরি করদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। হেলিকপ্টার নির্মাতা লকহিড মার্টিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি হেলিপ্যাডটির ব্যয় বহন করছে এবং কাজ শেষ হলে এটি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করার কথা।    নির্মাণকাজ চলায় মেরিন ওয়ান সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের পরিবর্তে কাছাকাছি এলিপস এলাকা ব্যবহার করছে। সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সংশোধিত কাজ শেষ করতে প্রশাসন আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    হেলিপ্যাডের কাজ নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন সম্পন্ন হওয়া অংশ ভেঙে ফেলা হলো এবং পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত কত অর্থ লাগবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।    নতুন হেলিপ্যাডটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে নেওয়া একাধিক পরিবর্তনের অংশ। সাউথ লনের এই প্রকল্প ছাড়াও ভবনের বিভিন্ন অংশ ও আঙিনায় বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের ব্যয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও স্থাপত্য মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
আমার নাচ আর অঙ্গভঙ্গি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়:ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনী সমাবেশে তার নাচ এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পের পছন্দ নয়। তার ভাষায়, মেলানিয়া মনে করেন এসব আচরণ একজন প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার নেভাদার লাস ভেগাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ব্যক্তিগত এই কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। সমাবেশে তিনি বলেন, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি যে ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করেন, সেটি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়।   ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি যখন ওজন উত্তোলনের ভঙ্গি করি, মেলানিয়া বলেন এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়। আমি তাকে বলেছি, হয়তো এটি প্রেসিডেন্টসুলভ নয়, কিন্তু আমি বড় ব্যবধানে নির্বাচন জিতেছি।" বক্তৃতার সময় তিনি সেই পরিচিত অঙ্গভঙ্গিও করে দেখান।   এটি প্রথম নয় যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মেলানিয়ার এমন মন্তব্যের কথা জানালেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার বলেছেন, তার নির্বাচনী সমাবেশের নাচ কিংবা মঞ্চে করা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে মেলানিয়ার আপত্তি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মেলানিয়াকে "অত্যন্ত মার্জিত রুচির মানুষ" বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশের অন্যতম পরিচিত অংশ হলো বক্তব্য শেষে জনপ্রিয় গান 'ওয়াই.এম.সি.এ.'-এর (Y.M.C.A.) তালে তার নাচ। গত কয়েক বছরে এটি তার সমর্থকদের কাছে এক ধরনের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে উঠেছে।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, মেলানিয়া তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কি কল্পনা করতে পারো, সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এভাবে নাচতেন?" ২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া রিপাবলিকান পার্টির এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একই ধরনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "এটা প্রেসিডেন্টসুলভ নয়।"   জবাবে তিনি নাকি বলেছিলেন, "কিন্তু মানুষ এটা পছন্দ করে।" ট্রাম্পের দাবি, সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা প্রায়ই তাকে "নাচুন, নাচুন" বলে উৎসাহিত করেন। ট্রাম্প আরও বলেন, শুধু নাচ নয়, নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার অভিনয়ধর্মী অঙ্গভঙ্গিও মেলানিয়ার ভালো লাগে না। জানুয়ারিতে তিনি স্মরণ করেন, মেলানিয়া তাকে বলেছিলেন, "প্রিয়, দয়া করে ওজন তোলার ভঙ্গিটা কোরো না। এটা খুবই খারাপ দেখায়।"   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তখনও তিনি একই উত্তর দিয়েছিলেন "কিন্তু আমি তো প্রেসিডেন্ট হয়েছি।" এছাড়া অতীতেও ট্রাম্প বলেছেন, টেলিভিশনে তার সাক্ষাৎকার দেখার পর মেলানিয়া মাঝে মাঝে তার উপস্থাপনা বা ক্যামেরায় উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। একবার তিনি নাকি বলেছিলেন, "তোমাকে ভালো লাগছিল না, আলোটা খুব বেশি ছিল।"   যদিও মেলানিয়া ট্রাম্প সাধারণত ব্যক্তিগত এসব কথোপকথন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন না, তবু ট্রাম্প বিভিন্ন সমাবেশে প্রায়ই তাকে এমন একজন হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি তার জনসমক্ষে উপস্থিতি ও উপস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেন।   তবে স্ত্রী আপত্তি জানালেও ট্রাম্প তার পরিচিত নাচ ও অঙ্গভঙ্গি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, সমর্থকেরা এসব মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং নির্বাচনী সমাবেশে এগুলো দেখার প্রত্যাশা নিয়েই আসেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা কয়েকটি ক্লোজআপ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার ঘাড়ের সামনের অংশে দেখা যাওয়া ত্বকের ভাঁজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য ও রসিকতা করছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে তোলা ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করার পর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের সামনের অংশে একটি স্পষ্ট ত্বকের ভাঁজ দেখা যায়। এরপর অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অনুমান করতে শুরু করেন।   কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ওজন কমানোর ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত কারণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ছবিগুলো তোলা হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশের প্রতি সম্মান জানালেও তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে কিছু সংবাদমাধ্যমকে 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানোর অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি 'ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম' মন্তব্যও করেন।   এটি প্রথম নয়, চলতি বছরেও ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গত মার্চে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে তার ঘাড়ের ডান পাশে লালচে দাগ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে।   পরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ঘাড়ের ডান পাশে একটি সাধারণ ত্বক সুরক্ষাকারী ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার অংশ ছিল এবং এর কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। তবে কী কারণে ওই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছিল বা কোন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান হাতে মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কালশিটের দাগও আলোচনায় আসে। এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দন, দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে তার হাতে এমন দাগ দেখা দিতে পারে।   তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল ছবি দেখে কারও শারীরিক অবস্থা বা রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায় না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি বাড়ানো এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।   নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় এমন সংকটপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা, উভয়ই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। তার দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। নেতানিয়াহুর ভাষায়, এটি যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দায়িত্বও।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসে, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
বেঙ্গালুরুতে বহুতল ভবনের চূড়ায় হোয়াইট হাউসের আদলে রাজপ্রাসাদ বানিয়েও থাকতে পারলেন না বিজয় মালিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ভবনের ছাদে হোয়াইট হাউসের আদলে প্রাসাদ বানিয়েও একদিনও থাকা হলো না ভারতীয় ধনকুবেরের

ভারতের ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া বেঙ্গালুরুর কিংফিশার টাওয়ারসের চূড়ায় হোয়াইট হাউসের আদলে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। তবে আর্থিক ও আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রাসাদে তার আর কখনো বসবাস করা হয়নি।   প্রায় ৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই দুইতলা প্রাসাদের আয়তন প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট। এটি দুটি টাওয়ারকে সংযুক্ত করা একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। প্রাসাদটির সাদা বাহ্যিক নকশার কারণে এটি ‘আকাশের হোয়াইট হাউস’ নামে পরিচিতি পায়।   প্রাসাদটির নকশায় ব্যক্তিগত লিফট, ল্যান্ডস্কেপড বাগান, জিম, স্পা, সেলুন, ওয়াইন সেলার, ইনডোর হিটেড সুইমিং পুল, শহরের দিকে মুখ করা ইনফিনিটি সুইমিং পুল এবং ছাদে একটি হেলিপ্যাড রাখা হয়েছিল।   ২০১৬ সালে কিংফিশার এয়ারলাইনসের পতনকে ঘিরে আর্থিক ও আইনি কার্যক্রমের মধ্যে বিজয় মালিয়া ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সে সময় প্রাসাদটির নির্মাণকাজও শেষ হয়নি।   পরবর্তী সময়ে প্রাসাদটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত ও জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বহু অর্থ ব্যয় করে নির্মিত এই বিলাসবহুল আবাসে বিজয় মালিয়ার বসবাসের সুযোগ আর হয়নি।

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কড়া নিরাপত্তায় আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ
গুলি হামলার আতঙ্ক পেরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ

এপ্রিলের গুলি হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঘিরে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা দিতেই এই আয়োজন। কয়েক মাস আগের গুলি হামলার আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবুও ভয়কে পেছনে ফেলে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য একই অনুষ্ঠানে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই স্থগিত করা হয়। ঘটনার কয়েক মাস পর পুনরায় আয়োজন করা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এবার অতিথি সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে কঠোর পরিচয় যাচাই, বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সংগঠন জানিয়েছে, এই নৈশভোজ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। হামলার ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবারের আয়োজন সেই বার্তাই দেবে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি বক্তব্যও দিতে পারেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে এপ্রিলের হামলায় আহত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য এবং নিরাপত্তা কাজে সাহসিকতা দেখানো কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
লিঙ্গ, সমতা, কোভিড–১৯, ইত্যাদি কীওয়ার্ড দেখে গবেষণা অনুদান বাতিল
লিঙ্গ, সমতা, কোভিড–১৯, ইত্যাদি কীওয়ার্ড দেখে গবেষণা অনুদান বাতিল, আদালতে স্বীকার করল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার এক হাজারের বেশি গবেষণা অনুদান বাতিলের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফেডারেল সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে, গবেষণা প্রকল্প বাছাই ও বাতিলের ক্ষেত্রে তারা বৈচিত্র্য, লিঙ্গ, টিকা-সংক্রান্ত দ্বিধা এবং কোভিড–১৯–সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু কীওয়ার্ড ব্যবহার করেছিল। এই স্বীকারোক্তির পর চলমান মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।    মামলাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের গবেষণা অনুদান বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নতুন নথিকে তারা নিজেদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং বিচারকের কাছে পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়াই তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।    আদালতের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থা প্রতিটি গবেষণা প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন না করে সাধারণ কিছু মানদণ্ড ও কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। গবেষকদের আইনজীবীদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একাধিক সুরক্ষা লঙ্ঘনের শামিল।   ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) স্বীকার করেছে, তারা অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘হেলথ ইকুইটি’, ‘ওয়ার্কফোর্স ডাইভারসিটি’, ‘স্ট্রাকচারাল রেসিজম’ এবং ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’–এর মতো শব্দ থাকা গবেষণা প্রকল্পগুলো শনাক্ত করেছিল। একইভাবে পরিবহন বিভাগও ‘ট্রান্সপোর্টেশন ইকুইটি’ ও ‘ডিসঅ্যাডভান্টেজড কমিউনিটিজ’–সংক্রান্ত প্রকল্প চিহ্নিত করে কয়েকটি অনুদান বাতিল করে।    গবেষকদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে বহু গবেষণা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাজ ব্যাহত হয় এবং অনেক গবেষণা সহকারীকে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাদের দাবি, অনুদান বাতিলের ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর বৈজ্ঞানিক মান বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি নয়, বরং নির্দিষ্ট শব্দ ও নীতিগত অবস্থানকে ভিত্তি করা হয়েছিল।    এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা ফেডারেল সংস্থাগুলোর পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছে, আদালতে উত্থাপিত সাংবিধানিক অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি হয়নি।    এর আগে গত সপ্তাহে বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত পৃথক এক মামলায় রায় দিয়ে জানিয়েছিল, শুধু সংস্থার অগ্রাধিকার পরিবর্তনের অজুহাতে ব্যাপক আকারে অনুদান বাতিলের ক্ষমতা সরকারের নেই। সেই রায়ও গবেষণা অনুদানসংক্রান্ত চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
চতুর্থ সন্তানের জন্মের খবর জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘরে এলো চতুর্থ সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।    জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।    অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।    চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ সংস্কার শুরু। ছবি:সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের সামনের অংশকে ‘জীর্ণ’ বললেন ট্রাম্প, শুরু হলো স্তম্ভ সংস্কার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের প্রবেশপথের স্তম্ভগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সেগুলোকে “অত্যন্ত জীর্ণ” বলে মন্তব্য করেছেন।   শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্তম্ভগুলোর ভিত্তির ক্লোজআপ ছবি প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, “হোয়াইট হাউসের সামনের অংশের অবস্থা বহু বছর ধরে এমন ছিল। এটি অত্যন্ত জীর্ণ। আমরা এটিকে ১০০ বছর আগের জৌলুসে ফিরিয়ে আনব।”    এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভবনের নর্থ পোর্টিকোতে যে কাজ চলছে, সেটি মূলত পাথর ও প্লাস্টারের ক্ষয় মেরামতের অংশ। প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবনের নকশায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।    ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ক্যাফোল্ডিং ও ত্রিপল দিয়ে ঢাকা স্তম্ভগুলোর সংস্কারকাজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই শুরু হয়েছে। অতীতে তিনি আরও অলঙ্কৃত করিন্থিয়ান ধাঁচের স্তম্ভ পছন্দের কথা বললেও, বর্তমান প্রকল্পে স্তম্ভ পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক একাধিক সংস্কার প্রকল্পের অংশ। এর আগে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে নতুন বলরুম, হেলিপ্যাড এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রীষ্মে ট্রাম্পের উদ্যোগে ফিলাডেলফিয়ায় চালু হলো প্রথম ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ গ্যাস স্টেশন | ছবি: সংগৃহীত
গ্যাসের দাম কমাতে নতুন উদ্যোগ, ফিলাডেলফিয়ায় ট্রাম্পের ‘ফ্রিডম ফুয়েল’ নেটওয়ার্ক চালু

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচারণার অংশ হিসেবে ফিলাডেলফিয়ায় ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’-এর প্রথম গ্যাস স্টেশন চালু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী স্টেশনগুলোতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৪৭ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।   হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কম দামে জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমাতে সহায়তা করবে এই কর্মসূচি।   স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের একাধিক গ্যাস স্টেশন এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদিও এই মূল্যছাড় সব গ্যাস স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য নয়।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির মূল্য কমানোকে অন্যতম অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সুবিধা দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ মূলত অংশীদার খুচরা বিক্রেতাদের একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত পরিসরে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের সব অঞ্চলে একই দামে জ্বালানি পাওয়া যাবে—এমনটি নয়। স্থান, করের হার, পরিবহন ব্যয় ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাসোলিনের দাম ভিন্ন হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, ভবিষ্যতে আরও বেশি খুচরা বিক্রেতাকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা যায়।

তাবাস্সুম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজ | ছবি: হোয়াইট হাউস
ট্রাম্পের পাশে নিকি মিনাজ, হোয়াইট হাউসের ক্যাপশনেই শুরু মিমের বন্যা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বখ্যাত র‍্যাপ তারকা নিকি মিনাজের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ছবির সঙ্গে মাত্র দুটি শব্দের একটি ক্যাপশন—“The Barbz Know”—পোস্ট করতেই সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নানা ধরনের মিম, মন্তব্য ও ব্যাখ্যায় ভরে ওঠে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো।   ছবিতে ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিকি মিনাজকে। পোস্টে ‘Trump Accounts’ কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটেরও উল্লেখ করা হয়। তবে “The Barbz Know” ক্যাপশনের নির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে হোয়াইট হাউস আলাদাভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।   ‘Barbz’ নামে পরিচিত নিকি মিনাজের ভক্তরা। তাই অনেকেই মনে করছেন, তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতেই জনপ্রিয় পপ-কালচারের এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এ ধরনের মিমধর্মী ভাষা ব্যবহার অস্বাভাবিক।   সাম্প্রতিক সময়ে নিকি মিনাজ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘Trump Accounts’ উদ্যোগের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নবজাতকদের জন্য সরকার নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগসহ একটি বিশেষ সঞ্চয় হিসাব চালুর পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে ব্যবহার করা যাবে।   হোয়াইট হাউসের পোস্ট প্রকাশের পর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে মিম তৈরি করেন। কেউ এটিকে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সরকারি যোগাযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে আলোচনা করছেন।   যদিও পোস্টটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ক্যাপশনের উদ্দেশ্য বা এর পেছনের ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে “The Barbz Know” ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
৯০ বছরের নজির ভেঙে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর বাড়ল হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সোমবার (২৯ জুন) ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নীতিগত মতপার্থক্যের কারণেও স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার কমিশনারদের অপসারণ করতে পারবেন। এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় ৯০ বছর ধরে বহাল থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল।   আরও পড়ুন... যৌন নির্যাতন মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ধাক্কা, আবেদন খারিজ   মামলাটি কেন্দ্রীভূত ছিল ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট কমিশনার রেবেকা স্লটারকে অপসারণকে ঘিরে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, কংগ্রেস কোনো আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর এমন সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে না, যা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লিখেছেন, সংবিধানের ভাষা, ইতিহাস ও কাঠামো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে প্রেসিডেন্ট তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। আদালতের মতে, স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র “যথাযথ কারণ” দেখিয়ে অপসারণের যে সুরক্ষা এতদিন কার্যকর ছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এই রায়ের ফলে শুধু ফেডারেল ট্রেড কমিশন নয়, বরং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি), ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)সহ বহু স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে যে কোনো প্রেসিডেন্ট এসব সংস্থায় নিজের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগ ও অপসারণে আরও স্বাধীনতা পাবেন।   রায় প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এটিকে “বড় বিজয়” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রশ্নে এটি সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।   আরও পড়ুন... সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নাটকীয় দিন: একদিনে চার রায়ের তিনটিতেই পরাজয়   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি তিন উদারপন্থী বিচারপতি। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র তার ভিন্নমতে বলেন, এই রায় প্রেসিডেন্টকে এমন এক বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কখনো কল্পনা করেনি। বিচারপতি এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন তার এই মতের সঙ্গে একমত হন।   সোটোমেয়র লিখেছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি ক্ষমতাবান হয়ে উঠবেন।   এই রায়ের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ঐতিহাসিক Humphrey’s Executor v. United States মামলার নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে রায় দিয়েছিল যে, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মতো স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো অপসারণ করতে পারবেন না; নির্দিষ্ট আইনগত কারণ থাকতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ইতিহাসে নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করল। এর ফলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যও ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মা হওয়ার পর জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের পরিবর্তন নিয়ে কথা বললেন ক্যারোলিন লেভিট | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
হোয়াইট হাউসের দায়িত্বের মাঝেও মাতৃত্বই এখন ক্যারোলিন লেভিটের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, মা হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সন্তানদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্তকে তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লেভিট জানান, কন্যাসন্তান ভিভিয়ানার জন্মের পর প্রতিটি দিনের মূল্য তিনি নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন। ব্যস্ত সরকারি কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন এবং নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রতিদিন কাজ করতে হলেও সন্তানদের জন্য সময় বের করাকে তিনি এখন নিজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন।   লেভিটের ভাষায়, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ নয়। তবে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা এবং কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সমর্থন সেই পথকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, একজন মা হিসেবে সন্তানদের পাশে থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের মানুষের কাছে সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সমানভাবে পালন করতে হয়।   বর্তমানে দুই সন্তানের মা ক্যারোলিন লেভিট। বড় ছেলে নিকোর পাশাপাশি নবজাতক কন্যা ভিভিয়ানাকে নিয়ে তার পরিবারের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও তিনি মাঝে মধ্যে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো কিছু পারিবারিক মুহূর্ত অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যা ব্যাপক সাড়া পায়।   লেভিট বলেন, মাতৃত্ব তাকে আরও ধৈর্যশীল, সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তার মতে, পেশাগত সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিবারের ভালোবাসা ও সন্তানদের হাসিই এখন তার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং অনুপ্রেরণার উৎস।   উল্লেখ্য, ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেস ব্রিফিং থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব তার ওপর রয়েছে। সেই ব্যস্ততার মাঝেও মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার খোলামেলা বক্তব্য অনেক কর্মজীবী অভিভাবকের সঙ্গে সাযুজ্য তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের ইউএফসি আয়োজনকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার দুই ক্যালিফোর্নিয়া বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি বহুল আলোচিত ইউএফসি অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারবিরোধী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি নেটওয়ার্কের সদস্যরা এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা।   গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন ব্রায়ান ওমর রোয়া এবং মাইকেল অ্যালান থমাস। তারা দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টির বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তারা আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন। ফেডারেল তদন্ত নথি অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রথমে এফবিআইয়ের কাছে পৌঁছে দেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী টাইসেন সি. প্রোপার। তার বাবা-মা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানালে ১১ জুন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রোপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রোয়া ও থমাসকে শনাক্ত করেন এবং তাদেরকে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।   তদন্তকারীরা প্রোপারের আইফোন থেকে বিভিন্ন স্ক্রিনশট উদ্ধার করেন। সেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্যের একটি গোপন অনলাইন নেটওয়ার্কের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। সদস্যরা এনক্রিপটেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ডিসি ও হোয়াইট হাউসের মানচিত্র, সম্ভাব্য অবস্থান এবং হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামের বিশেষ আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটিতে বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা এতে অংশ নেয় এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বিনোদন জগতের তারকারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের সময়ও অনুষ্ঠিত হয়।   তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের অনলাইন আলোচনায় স্নাইপারদের অবস্থান নির্ধারণ, ড্রোন উড্ডয়নের সম্ভাব্য স্থান এবং হামলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের পেছনে সরকারবিরোধী আদর্শিক অবস্থান কাজ করছিল। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড’ নামের একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে তারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সেখানে ধর্মীয় উগ্রতা, সরকারের প্রতি অসন্তোষ এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনার বিষয় উঠে আসে।   প্রোপার তদন্তকারীদের বলেছেন, পরিকল্পিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি বৃহত্তর আন্দোলন বা বিদ্রোহের সূচনা করা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ওহাইও, মিসৌরি, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত একটি তদন্তে পরিণত হয়েছে। এদিকে প্রোপারের পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে আধুনিক রাইফেল এবং হাজার হাজার গুলি ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে রোয়া ও থমাসের কাছ থেকে কী ধরনের অস্ত্র বা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রায়ান ওমর রোয়া এখনো হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে মাইকেল অ্যালান থমাসের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ জুলাই।   ফেডারেল তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো গেছে। তবে অনলাইনে সংগঠিত উগ্রপন্থী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।  পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।   তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।   একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।   ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টে বড় ধরনের হামলার এক ভয়াবহ ছক বানচাল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এই নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। ড্রোন ও স্নাইপার দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি নারকীয় পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। তবে এফবিআইয়ের তৎপরতায় এবং এক সন্দেহভাজনের মায়ের সতর্কতায় ভেস্তে যায় পুরো ব্লুপ্রিন্ট। গত ১০ জুন ওহাইও থেকে টাইসেন প্রপার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, মূলত যার মায়ের সন্দেহ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ছেলের অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানান। প্রপারের মা জানান, অনলাইনে কিছু কথিত সাবেক সেনা সদস্য ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ ছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত সরকারি দুর্নীতি, জেফরি এপস্টেইন ইস্যু এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।   তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির এই হামলার ছকটি ছিল কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইভেন্টে আসা দর্শনার্থীরা ভয়ে হোয়াইট হাউসের আঙিনার বাইরে পালাতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্নাইপার দল তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাত। ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিকসবার্গে জড়ো হয়ে সেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা ছিল তাদের। এমনকি হোয়াইট হাউসের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিকল্পনাও ছিল এই চরমপন্থি দলটির।   এই চক্রের হিটলিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদের নামও ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিকে টার্গেট করেছিল। এদের মধ্যে সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, জিম জাস্টিস, শেলি মুর ক্যাপিটো এবং প্রতিনিধি ক্যারল মিলার ও রাইলি মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ প্রপারের ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, হাইস্কুল পাসের পর উপহার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার ডলার দিয়ে সে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছিল। এছাড়া অনলাইনে হিটলারের প্রতি সহানুভূতি ও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্যও করেছিল সে। ১১ জুনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রপার স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘বিপ্লব’ শুরু করার লক্ষ্যেই তারা এই সংঘবদ্ধ হামলার ছক কষেছিল।   এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাইকেল অ্যালান থমাস ও ব্রায়ান ওমা রোয়া, নেব্রাস্কা থেকে আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ এবং মিসৌরি থেকে ড্যানিয়েল এসক্রিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ২৩ সদস্যের এই উগ্রপন্থি গ্রুপটির অনেকেই প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে যুক্ত হয় এবং পরে সিগন্যাল অ্যাপে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। এই চরমপন্থি দলটি মূলত ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ মতাদর্শ ধারণ করত, যে মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত মাসে সান দিয়েগোর মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় সামনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।   গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"   এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এপি
হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হেফাজতে ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।    তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজনরা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল।    এফবিআই ১০ জুন সম্ভাব্য এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের বিভিন্ন চ্যাটও খতিয়ে দেখছেন।    এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলে পরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।    উল্লেখ্য, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টটি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে কয়েক হাজার দর্শক অংশ নেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসের ভেতর প্রথমবারের মতো কুস্তি ম্যাচের আয়োজন, ট্রাম্পের জন্মদিনে অন্যরকম উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশটির রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে ‘ইউনাইটেড ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ বা ইউএফসি-এর বিশেষ ফাইট বা মারামারি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন এবং একই সাথে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ জুন) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই নজিরবিহীন ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   এই মহাগুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আনডিস্পিউটেড ইউএফসি লাইটওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন অপরাজিত জর্জিয়ান-স্প্যানিশ ফাইটার ইলিয়া তোপুরিয়া এবং আমেরিকার তারকা জাস্টিন গেইজি। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টায় এই মূল লড়াইটি শুরু হবে, যা প্যারামাউন্ট প্লাস প্ল্যাটর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর আগে বিকেল ৫টা থেকেই হোয়াইট হাউসের লনে অন্যান্য প্রাথমিক ফাইটগুলো শুরু হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই বিশেষ ফাইট উপভোগ করবেন। হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ৫ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে জড়ো হবেন। অন্যদিকে সাধারণ ভক্তদের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি ‘ইলিপ্স’ এলাকা থেকে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ইউএফসি-এর নির্বাহী ডানা হোয়াইট এই বিশেষ আয়োজনের মূল তদারকি করছেন।   আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রায় ৯২ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে একটি ইউএফসি ‘অক্টাগন’ বা রিং তৈরি করা হয়েছে, যা আশপাশের রাস্তা থেকেই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই অস্থায়ী কাঠামোটি সরিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে হোয়াইট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় জায়গায় এমন বাণিজ্যিক ও লাভজনক খেলার আয়োজন করার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে ভার্জিনিয়ার দুই বাসিন্দা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে মার্কিন আদালত শুক্রবার এই আয়োজন বন্ধের আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয়।   আজকের এই মূল লড়াইয়ের দুই প্রতিযোগী ইলিয়া তোপুরিয়া এবং জাস্টিন গেইজির মধ্যকার ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তোপুরিয়া এখনো পর্যন্ত ১৭-০ ব্যবধানে অপরাজিত রয়েছেন এবং নিজেকে ‘কিং’ বা রাজা বলে দাবি করেন। অন্য দিকে তার প্রতিপক্ষ গেইজি এই ম্যাচের আগে তোপুরিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও তার সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করায় দুই ফাইটারের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে।   আজকের এই ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ এর মূল ইভেন্টে অন্যান্যদের মধ্যে হেভিওয়েট ইন্টারিম টাইটেল বোটে লড়বেন অ্যালেক্স পেরেইরা ও সিরিল গানে। এছাড়াও ব্যান্টামওয়েট বোটে শন ও'ম্যালি বনাম আইম্যান জহাবি এবং লাইটওয়েট বোটে মরিসিও রুফি মুখোমুখি হবেন মাইকেল চ্যান্ডলারের। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পপন্থী সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ এই গ্রীষ্ম জুড়ে ওয়াশিংটনে আরও বেশ কিছু জমকালো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার প্রথম ঝলক হিসেবে আজ হোয়াইট হাউসে এই বিশেষ রিং ফাইট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছেন—এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে সেখানে ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচার লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মিক্সড মার্শাল আর্ট সংস্থা Ultimate Fighting Championship–এর ১৪ জন তারকা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ লনের অস্থায়ী ভেন্যু ‘দ্য ক্ল’-এ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই আয়োজনটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিকল্পনা করা হলেও তা ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে যায়। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি ধনী পরিবারে। বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ১৩ বছর বয়সে তাকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।   পরবর্তী সময়ে বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ রাখেন। ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারসহ একাধিক বহুতল ভবন, হোটেল ও গলফ কোর্স নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।   রাজনীতিতে প্রবেশের পর ২০১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তার ভূমিকার জন্য।   হারজগ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইসরায়েলের প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য তার নেতৃত্বকে ইসরায়েলিরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   তবে হোয়াইট হাউসে জন্মদিন ঘিরে ‘কেজ ফাইট’ আয়োজনের দাবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এ ধরনের আয়োজনকে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক বলে সমালোচনা করছেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০