ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বহুল আলোচিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায়ও সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই রহস্যময় স্থাপনাটি। তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাহাড় কেটে নির্মিত এই ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, শক্তিশালী কংক্রিটের কাঠামো এবং একাধিক নিরাপত্তা স্তর তৈরি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক প্রবেশপথ ও গভীর টানেলের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে। ২০২০ সালে নাতাঞ্জে নাশকতার ঘটনার পর ইরান এই নতুন ভূগর্ভস্থ স্থাপনার নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ, সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ–সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও নিরাপদ পরিবেশে পরিচালনার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। পাহাড়ের অনেক গভীরে নির্মিত হওয়ায় প্রচলিত বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমা দিয়েও এই স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়। সামরিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এটিই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অতীতে এই স্থাপনা সম্পর্কে ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও তেহরান এখনো সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো স্থাপনাগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়ার পর ইরান আরও গভীর ও নিরাপদ স্থানে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থানান্তরের কৌশল নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন এই স্থাপনার ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে চলমান বিরোধে এটি নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত তথ্য পুরোনো ও অপর্যাপ্ত হওয়ার সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও সামরিক কর্মকর্তারা সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অনুমোদন করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় এমন সতর্ক সংকেত ছিল, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে কিছু গোয়েন্দা তথ্য দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ করা হয়নি এবং হামলার আগে সেগুলো পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। তবে যুদ্ধের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাপের মধ্যে ওই সতর্কতাগুলো উপেক্ষা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে চালানো হামলা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে এবং বেসামরিক স্থাপনায় সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা হামলার লক্ষ্য নির্বাচন, ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো—হামলার আগে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং সতর্কতাগুলো কেন কার্যকরভাবে বিবেচনা করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমাতে লক্ষ্য নির্ধারণের আগে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভুল মূল্যায়ন শুধু সামরিক সিদ্ধান্তকেই প্রভাবিত করে না, এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। মিনাবের এই ঘটনা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানে তথ্য যাচাই ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আবার সামনে এনেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তবে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের সম্ভাব্য মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের প্রতি শেয়ারে সম্ভাব্য আয় (ইপিএস) এখন ৯ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির আয়ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। ইউনাইটেডের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি ব্যয়। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসের শুরু থেকেই জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি গ্যালন জেট জ্বালানির গড় মূল্য ৩ দশমিক ৬৯ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জেট জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব বড় বিমান সংস্থার ওপর। তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বলছে, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের একটি বড় অংশ তারা উচ্চ ভাড়া, শক্তিশালী যাত্রী চাহিদা, প্রিমিয়াম আসনের বিক্রি এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোম্পানির আশা, তৃতীয় প্রান্তিকে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রায় পুরোটাই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে বছরের শেষ দিকে কিছু রুটে ফ্লাইট কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর লাভ-লোকসানের ওপর প্রভাব ফেলে। তবুও শক্তিশালী ভ্রমণ চাহিদার কারণে ইউনাইটেডের মতো বড় সংস্থাগুলো এখনো আর্থিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।