জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, শহর প্রশাসনের পর তার রাজনৈতিক পথ রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়েও বিস্তৃত হতে পারে।
সিবিএস নিউজের এর সিবিএস মর্নিং অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, আগে অনেকেই মনে করতেন তিনি কেবল নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি অংশে সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক প্রভাব রাখতে পারবেন। কিন্তু এখন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। এরপর তিনি বলেন, পরবর্তী প্রশ্ন হবে রাজ্য, তারপর দেশ। তার এই মন্তব্যকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলো শ্রমজীবী মানুষ। তাই এমন রাজনীতি প্রয়োজন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশু পরিচর্যা, গণপরিবহন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। তিনি দাবি করেন, নিউইয়র্কে তার প্রশাসন ইতোমধ্যে সেই ধরনের নীতির বাস্তব প্রয়োগ শুরু করেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে তার প্রশাসন বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, অফিস অফ কমিউনিটি সেফটি চালু এবং শহরের প্রথম সরকারি পরিচালিত মুদি দোকানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বাসসেবা উন্নয়ন ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক এই পদ থেকে জাতীয় পরিচিতি পেয়েছেন। তাই মামদানির সাম্প্রতিক মন্তব্য ভবিষ্যতে গভর্নর, সিনেট কিংবা আরও বড় কোনো পদে আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও মামদানি সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি, তবুও তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শনকে শুধু নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। ফলে তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এখন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের ভুল করেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই ভুল ছিল মূলত তথ্য প্রকাশ ও জনসংযোগের ক্ষেত্রে; কোনো ষড়যন্ত্র বা তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে নয়। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল শুরু থেকেই এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পরিকল্পনা আরও সুস্পষ্ট ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা। তাঁর ভাষায়, “আমরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে একেবারেই ভুল করেছি।” তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিচয় সুরক্ষার জন্য কিছু তথ্য সম্পাদনা (রেডাকশন) করা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়ে যায়। এপস্টেইন নথি নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কারণ ছিল তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির মন্তব্য। তিনি আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তাঁর কাছে এপস্টেইনের কথিত ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ রয়েছে। পরে বিচার বিভাগ জানায়, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ তাদের তদন্তে পাওয়া যায়নি। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। ভ্যান্স বলেন, বন্ডি রাজনৈতিক চাপের মুখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা পরে বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। তাঁর মতে, এতে জনগণের প্রত্যাশা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং পরবর্তী নথি প্রকাশ সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দেখায় যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যাটি ছিল যোগাযোগ কৌশল ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ব্যর্থতা, কোনো আড়াল করার পরিকল্পনা নয়। জেফরি এপস্টেইন, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের যৌন শোষণ ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন, ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে মারা যান। সরকারি তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও, ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। এপস্টেইনের সঙ্গে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এদিকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বিরোধীদের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদেরও সন্তুষ্ট করতে পারেনি। প্রশাসনের সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থী অনেক কর্মীও আরও বেশি নথি প্রকাশ এবং তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। জেডি ভ্যান্সের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি এপস্টেইন নথি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি একদিকে প্রশাসনের ভুল স্বীকারের বিরল উদাহরণ, অন্যদিকে বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের ওপর আরও স্বচ্ছতার চাপ বাড়াতে পারে। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের পরও এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের দাবি এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শিগগিরই থামবে—এমন সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে এক সহকারী পুলিশ প্রধানের ব্যক্তিগত বাসার বাইরে রাখা চিহ্নবিহীন পুলিশ গাড়ি থেকে একটি রাইফেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি যাওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে জানিয়েছে সান হোসে পুলিশ বিভাগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে সহকারী পুলিশ প্রধান লক্ষ্য করেন যে তাঁর চিহ্নবিহীন গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। পরে বিষয়টি সান হোসে পুলিশ বিভাগকে জানানো হলে তদন্ত শুরু করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্রটি একটি রাইফেল। এটি কীভাবে গাড়ি থেকে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ আশপাশের এলাকার তথ্য ও সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। বর্তমানে অস্ত্রটি জননিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি থেকে অস্ত্র চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ওই মার্কিন নাগরিক এখন ইরানের বাইরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান একজন আমেরিকান নাগরিককে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক ছিলেন। তিনি এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি “সদিচ্ছার পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। মুক্তি পাওয়া ওই মার্কিন নাগরিকের পরিচয় পরে প্রকাশ করেন তাঁর আইনজীবী জ্যারেড জেনসার। তিনি জানান, তাঁর মক্কেল ডেনা কারারি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে আটকে ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল। আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই তাঁর মুক্তি সম্ভব হয়েছে। জেনসার জানান, ডেনা কারারি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন। এই মুক্তির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে ইরানের জাহাজ ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরান সরকারের সমালোচনা করেন এবং বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব একটি চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের বিষয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাময়িক ইতিবাচক সংকেত দিলেও, হরমুজ প্রণালি, সামরিক কার্যক্রম ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মূল বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।