মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মেয়ের মাধ্যমে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া বিশেষ থাকার অনুমতির আবেদন চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরিবারের দাবি, মেক্সিকোতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেননি হুয়ান।
গ্রেস ওর্তেগা ২০২৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি ছাড়া থাকা সেনাসদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হুয়ানও মেয়ের মাধ্যমে এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছিলেন।
গ্রেস জানান, ভালো একটি চাকরি পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষার আশাতেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা বহিষ্কারের শিকার হওয়ায় তিনি নিজের দেশের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুয়ান অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন যে মেয়ের মাধ্যমে তাঁর থাকার অনুমতির আবেদন চলমান রয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, হুয়ানকে মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল বলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ২০১৬ সালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল এবং ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি ওই গ্রেপ্তারের কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং তখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, সেটিও জানায়নি।
হুয়ান গ্রেপ্তারের পরও মেয়ের মাধ্যমে করা সামরিক পরিবারের জন্য থাকার অনুমতির আবেদন থেকে আশাবাদী ছিলেন। তিনি তাঁর অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার আবেদনও করেছিলেন এবং মেয়ের সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার বিষয়টি তার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাঁর আবেদনগুলো বহিষ্কারের পরও কার্যকর ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
গ্রেসের বাবা প্রায় ছয় সপ্তাহ অভিবাসন আটককেন্দ্রে ছিলেন। গ্রেস জানান, সেখানে থাকার সময় তাঁর বাবা প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারান এবং হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন। হুয়ান আটককেন্দ্রের খাবার, ঘুমানোর ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা ও গোসলের সুযোগ নিয়েও অভিযোগ করেন।
হুয়ানের আইনজীবী তাঁকে মুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনের পরপরই ৪ জুলাই তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হুয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরের একটি এলাকা।
মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর হুয়ান ও অন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বাসস্টেশনে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন চালক তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার হুমকি দেয়। হুয়ানের কাছে থাকা ৪০০ মেক্সিকান মুদ্রা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। পরে তিনি মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেসে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছান।
হুয়ান এখন মেক্সিকোয় পরিবারের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে রয়ে গেছেন। গ্রেস জানান, তাঁর বাবা আগে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। পরিবারের ছোট ছেলেটির বয়স সাত বছর এবং সে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। তার নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হুয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক থাকার অনুমতি, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষও সামরিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িক থাকার অনুমতি বা অন্য কিছু সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখে বলে জানিয়েছে।
এদিকে গ্রেসের ঘটনায় সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের অন্তত ৫২ জন বাবা-মা ও স্বামী বা স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে আটক করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজন নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।
গ্রেস ওর্তেগার ক্ষেত্রে তাঁর বাবার আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়েছে। গ্রেস বলেন, তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাবাকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও আশা করেছিলেন। বাবাকে বহিষ্কারের পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দেশটিতে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার ডাক দেওয়া, সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করার ঘটনাটি আমেরিকানদের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ভিসা প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ; আর কেউ সেই সুযোগের অপব্যবহার করলে তাকে তা হারাতেই হবে। বাতিল হওয়া এই বিপুলসংখ্যক ভিসার মধ্যে তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা গর্ভবতী নারীদের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসাও রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক লাতিন আমেরিকান কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসাও সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুধু গত আগস্ট মাসেই ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, যার সিংহভাগই মাদক, চুরি, হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং জালিয়াতির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে কার্যকর হয়। একই সাথে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় (বি১/বি২) এসে পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসাও বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা ভিসাধারীরা এই যাচাই প্রক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছেন। মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়কে অভিবাসন আইন ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি। তাঁর মতে, আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে করা ভিত্তিহীন আবেদনের চাপ সামলাতে গিয়ে পুরো ব্যবস্থা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে পড়ছে, যা আর বরদাশত করা হবে না।
যৌন হয়রানির অভিযোগের পর খুন ভ্যানেসা গিয়েন, তাঁর মৃ ত্যুর পর বদলে গেল মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার
নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ত্যার চেষ্টা, ১ ঘণ্টার অভিযানে তরুণকে উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি পোস্ট অফিস থেকে জাল চেক দিয়ে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টাকালে ক্রিস্টোফার রায়ান এলিস নামের ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চুরির চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ এনেছে জিয়াউগা কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস। মূলত ডাকবিভাগের কর্মীদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণেই বিশাল এই প্রতারণা আটকে দেওয়া সম্ভব হয়। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ আগস্ট। চ্যারডন পোস্ট অফিসে এলিস যখন বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা করছিলেন, তখন তার সন্দেহজনক আচরণ দেখে কর্মীরা পুলিশে খবর দেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, জেনেভা পোস্টমাস্টার এর আগেই বিভিন্ন শাখায় এলিসকে নিয়ে একটি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে রেখেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, চ্যারডনে আসার আগে এই যুবক অ্যাশটাবুলা কাউন্টির তিনটি ভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে জাল চেক ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার ডলার সমমূল্যের স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ও ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস এলিসের কাছ থেকে ওহাইওর একটি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং একটি জাল চেক উদ্ধার করে। আদালত ও প্রসিকিউটরের নথিপত্র অনুযায়ী, এই ঘটনার পর গ্র্যান্ড জুরি এলিসের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টা এবং দুটি জালিয়াতির অভিযোগ গঠন করেছেন। বর্তমানে তাকে জিয়াউগা কাউন্টি জেলে আটকে রাখা হয়েছে। স্ট্যাম্প কেনার ক্ষেত্রে জাল চেকের এমন বড় ধরনের প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের একটি চক্র ভুয়া ব্যবসায়িক চেক দিয়ে স্ট্যাম্প কিনে তা কালোবাজারে বিক্রি করে ডাকবিভাগের প্রায় ৬ লাখ ডলারের ক্ষতি করেছিল। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আধুনিক প্রিন্টার ও স্ক্যানার ব্যবহার করে তৈরি করা এসব জাল চেক দেখতে একেবারে আসল চেকের মতোই হয়, যার ফলে ব্যাংক বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডার টের পাওয়ার আগেই প্রতারকরা লেনদেন সম্পন্ন করে ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
এফবিআইয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী 'শাইনিহান্টার্স'-এর প্রধান গ্রেপ্তার
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবশেষে ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বুধবার ব্রুকলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "হ্যাঁ, আমার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স আছে।" কাকতালীয়ভাবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রেসি ম্যানশনে এক অন্তরঙ্গ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই ছাড়পত্র পেলেন তিনি। তবে ঠিক কবে বা কখন তিনি এই অনুমোদন পেয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি মেয়র। এই শীর্ষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার ফলে এখন থেকে মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক সিটির সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি এবং অন্যান্য অতি-গোপনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় সম্প্রতি গণমাধ্যমে বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মেয়র দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে মেয়রের বাসভবনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মামদানির সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উভয় নেতাই জানিয়েছিলেন, তাদের ওই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় মূলত নিউইয়র্ক এবং সম্ভাব্য আবাসন প্রকল্প নিয়েই কথা হয়েছে। এর পরপরই ছাড়পত্র পাওয়ার খবরটি সামনে আসে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বারের সরকারি পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায়, তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে এই কয়েক মাস বিলম্ব হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে নিরাপত্তা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ঐতিহাসিক ফেডারেল অভিযোগের মুখে পড়ার পর তার ক্লিয়ারেন্স বাতিল করা হয়েছিল, যদিও গত বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগ সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে, মামদানির প্রিয় সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিও দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর এই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন, যখন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে তিনি আবেদনপত্রই পূরণ করেননি। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছরেরও বেশি সময় পর ব্লাজিও তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র হাতে পেয়েছিলেন।
পকেটে থাকা ১৯৪৩ সালের পেনি বদলে দিতে পারে ভাগ্য, দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেলেন একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা