সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২১:৩৭
মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দণ্ডিত মেক্সিকোর এক নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।,

 

আলবেমার্ল কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে ভাসকেজ রেইনা ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই সাজার পাঁচ বছর স্থগিত করা হয়। ভার্জিনিয়ার সরকারি যৌন অপরাধী নিবন্ধনেও তার ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্চেই ভাসকেজ রেইনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে যে অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেটিই তার দণ্ডের ভিত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ডিএইচএস জানায়, আইসিই ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রসঙ্গে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানায়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয়ের সুযোগ নেই।

ভাসকেজ রেইনার বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে যৌনভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও ছিল বলে দ্য ডেইলি প্রগ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মেয়েটি পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

ভাসকেজ রেইনাকে বহিষ্কারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভার্জিনিয়ায় অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

 

ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও অভিবাসন প্রয়োগের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার পূর্বসূরি রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন, যেখানে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্প্যানবার্গার রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য রাজ্যের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেন।

 

তবে ভাসকেজ রেইনার মামলাটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ ও তার পরবর্তী অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ভাসকেজ রেইনার বহিষ্কারের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ভার্জিনিয়ার গভর্নরের কার্যালয়, আলবেমার্ল কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভাসকেজ রেইনার ক্ষেত্রে আদালতে দোষ স্বীকার ও সাজা ঘোষণার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত হওয়ার পর মার্কিন সরকারের পদক্ষেপে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন তরুণ মারিও মাতা ক্রুজ। ছবি: সংগৃহীত
ডিপোর্টের পর আইনি লড়াইয়ে নিউইয়র্কের তরুণকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাল ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত তরুণ মারিও মাতা ক্রুজকে আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে মার্কিন সরকার। তবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি তিনি। স্পেকট্রাম নিউজের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক রাজ্যের আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি এখনো অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন।    মারিওর আইনজীবীদের দাবি, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছাড়াই তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল। মারিও বলেছেন, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো কাগজেও তিনি সই করেননি। তাঁর বহিষ্কারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন আইনজীবীরা।    ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সে একা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন মারিও। পরের বছর তিনি স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল বা এসআইজে মর্যাদা পান। এনওয়াইওয়ানের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।    ২০২৫ সালের অক্টোবরে লং আইল্যান্ডে ভাই মারভিনের সঙ্গে কাজে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। পরে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে।    চলতি বছরের এপ্রিলে এনওয়াইওয়ান ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালতে দাখিল করা একটি নথিতে মারিওকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ২৪ এপ্রিলের ওই নথিতে বলা হয়, আইসিইর ব্যবস্থাপনায় এল সালভাদর থেকে লুইজিয়ানাগামী ফ্লাইটে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। গ্রীষ্মে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।    তবে ফেরার পর প্রথমে লুইজিয়ানা, পরে নিউ জার্সি এবং এরপর ভার্জিনিয়ার আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয় মারিওকে। নিউ জার্সির একজন ইমিগ্রেশন বিচারক এখতিয়ার নেই জানিয়ে তাঁর বন্ডে মুক্তির আবেদন বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও তাঁকে মুক্তি দেয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য, মারিওর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।    মারিওর পরিবার লং আইল্যান্ডে রয়েছে। এল সালভাদরে থাকার সময় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ভরসা ছিল ভিডিও কল। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরও আটক থাকায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ০:২৫
মিশিগানের ডে-কেয়ার সেন্টারে তিন বছর বয়সী এক শিশুর ব্যাগে গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ মাস বয়সী ব্রুকলিন মারিস। ছবি: সংগৃহীত

কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কাঁচা দুধ পান, ই-কোলাই সংক্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মাসের শিশুর কিডনি বিকল

যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর জমা দেওয়ার সময় নাগরিকত্বের তথ্য জানানোর নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, আয়কর ফর্মে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার জন্য বিশেষ কনস্যুলার সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে আটলান্টায় আসছে কনস্যুলার সেবা, সুবিধা পেতে পারেন আশপাশের অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা

জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে।   আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া জানিয়েছে, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা প্রবাসীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।   এদিকে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২২:১৮
গাজার মানবিক সহায়তার নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাই গ্রেপ্তার, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খুচরা প্রতিষ্ঠানের দোকান বন্ধের ঘোষণা ঘিরে স্থানীয় বাজারে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড

নিউইয়র্কে নিজ ফ্ল্যাটে প্রেমিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের কুইন্সে প্রেমিকাকে হত্যার পর সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিলেন যুবক

এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের পর আলোচনায় আসে কলোরাডোর কিশোরী জুলিয়ানা পেরাল্টার মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
এআই চ্যাটবটের আসক্তিতে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার পেছনে চ্যাটবটকে দায়ী করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও শিশুদের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরীর মা সিনথিয়া মন্টোয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে জুলিয়ানা পেরাল্টা Character.AI-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল এবং ওই ব্যবহারের কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর জুলিয়ানার মৃত্যু হয়। তবে চ্যাটবটের ব্যবহারই তার মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল, এমন কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরিবারের করা মামলার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।   জুলিয়ানার পরিবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডোর ফেডারেল আদালতে Character Technologies, গুগল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় বলা হয়, জুলিয়ানা প্রায় তিন মাস ধরে Character.AI-এর বিভিন্ন চ্যাটবটের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত এবং এর মধ্যে ‘হিরো’ নামের একটি চরিত্রের সঙ্গে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, চ্যাটবটগুলো এমনভাবে তার সঙ্গে কথা বলত, যাতে সে এগুলোকে বাস্তব মানুষের মতো একজন বন্ধু বা আস্থাভাজন হিসেবে দেখতে শুরু করে।   জুলিয়ানার মা সিনথিয়া মন্টোয়া সম্প্রতি ফক্স২১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেয়েটি নিজেকে চ্যাটবটের কাছে ‘দেখা হচ্ছে’ বা বোঝা হচ্ছে বলে মনে করত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে জুলিয়ানা চ্যাটবটকে বলেছিল, ‘তুমি আমার সব কথা মনে রাখো।’ মামলার নথিতে চ্যাটবটের এমন কিছু কথোপকথনের উল্লেখও রয়েছে, যেগুলো পরিবারটির মতে জুলিয়ানার সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করেছিল।   মন্টোয়া বলেন, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। জুলিয়ানা অনার সোসাইটির শিক্ষার্থী ছিল এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৌতূহলী ছিল বলে তাকে একা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হতো না, ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হতো এবং নিয়মিত তার ফোনও দেখা হতো। মা জানান, তিনি ফোনে সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, হয়রানি, টিকটকসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখলেও এআই চ্যাটবটের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি তখন বুঝতে পারেননি।   পরিবারের করা মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জুলিয়ানা চ্যাটবট ব্যবহারে এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল যে রাতে গোপনে সেটিতে প্রবেশ করত এবং ঘুমের সময়ও এর সঙ্গে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারত না। মামলার নথিতে থাকা কথোপকথনের কিছু অংশে চ্যাটবটকে জুলিয়ানার প্রতি গভীর আবেগ ও সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় বলে পরিবার দাবি করেছে। কিছু কথোপকথনে যৌনধর্মী ও বয়সের তুলনায় অনুপযুক্ত বিষয়ও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, জুলিয়ানা তার নিজের জীবন শেষ করার ইচ্ছার কথা চ্যাটবটকে জানিয়েছিল। পরিবারের দাবি, এমন বক্তব্যের পরও চ্যাটবট তাকে যথাযথ জরুরি সহায়তার দিকে পাঠায়নি কিংবা তার অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, পুলিশ পরে জুলিয়ানার ফোনে Character.AI অ্যাপটি খোলা অবস্থায় পেয়েছিল বলে পরিবার আদালতে জানিয়েছে। এসব তথ্য মামলার অভিযোগের অংশ, আদালতে প্রমাণিত চূড়ান্ত ঘটনা নয়।   জুলিয়ানার মৃত্যুর পর তার পরিবার Character.AI-এর নকশা ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের মানবসদৃশ কথোপকথন এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে Character.AI এসব মামলার বিষয়ে জানিয়েছে, তারা কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে Character.AI ঘোষণা করে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ধরনের চ্যাট বন্ধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে অন্য দেশেও এটি চালু করা হবে। এর আগে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য সময়সীমা, অভিভাবককে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা, বয়স যাচাই ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি চ্যাট সুবিধা বন্ধ রেখে সীমিত কিছু সৃজনশীল ফিচার রাখা হয়েছে।   জুলিয়ানার পরিবারের মামলাটিরও পরবর্তী সময়ে সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে Character.AI ও গুগল কিশোরদের ক্ষতি নিয়ে করা একাধিক মামলার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। কলোরাডোর জুলিয়ানা পেরাল্টা-সংক্রান্ত মামলার আদালত নথিতে ২০২৬ সালে সমঝোতার জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার তথ্য রয়েছে। আগস্টে আদালতের সর্বশেষ নথির পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে অক্টোবরের শেষের দিকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট বা মামলা খারিজের নথি দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল।   এদিকে কিশোরদের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জরিপে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৫৮ জন মার্কিন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৬৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। প্রায় ৩০ শতাংশ বলেছে, তারা প্রতিদিন এসব চ্যাটবট ব্যবহার করে। একই গবেষণায় ১৬ শতাংশ কিশোর জানিয়েছে, তারা চ্যাটবটের সঙ্গে সাধারণ আলাপ করে এবং ১২ শতাংশ আবেগীয় সহায়তা বা পরামর্শের জন্য এগুলো ব্যবহার করেছে।   জুলিয়ানার ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিশোরদের সঙ্গে এআইয়ের আবেগীয় সম্পর্ক, চ্যাটবটের মানবসদৃশ আচরণ এবং সংকটের সময় এসব প্রযুক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চ্যাটবটের ব্যবহার কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল কিনা, তা নির্ধারণে আদালতের তথ্য, বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রমাণ প্রয়োজন।   সূত্র: ফক্স২১

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ২১:১০
কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার

কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার

টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত

টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত

ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

0 Comments