সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন

টেক্সাসের লারেডোর অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে দীর্ঘদিন বসবাস করা এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
টেক্সাসের অভিবাসন কেন্দ্রে ডালাসের বাসিন্দার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ডালাসে কয়েক দশক ধরে বসবাস করা ৫৬ বছর বয়সী এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিও গ্র্যান্ডে প্রসেসিং সেন্টারে তাঁকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যু কী কারণে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে আটক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের দিকে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্মীরা আন্দ্রাদেকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ওয়েব কাউন্টির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ে তাঁর ময়নাতদন্ত চলছে।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডালাসে বসবাস করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মেয়ে এস্তেফানি আন্দ্রাদের ভাষ্য, বাবার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগ ছিল। আটক হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধও ছিল, কিন্তু আটককেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে সেগুলো দেননি বলে পরিবারের অভিযোগ। মেয়ের দাবি, অসুস্থ বোধ করা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং বুকে চাপ অনুভব করার কথা জানালেও তাঁর বাবা যথাযথ সাড়া পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।   আইসিই জানিয়েছে, গত ২৬ জুন মেক্সিকো থেকে টেক্সাসে ফেরার সময় লারেডো সীমান্তে তাঁকে আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ২০০৪ সালে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনে প্রকাশ না করায় তাঁর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। তবে ওই ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন কি না, তা আইসিইর প্রকাশিত বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলছিল এবং আটক অবস্থায় তিনি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, আবেদনের সময় বাবার অতীতের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছিল এবং এরপরও তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি অনুমোদন করা হয়েছিল।   ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন টেক্সাসের লারেডো এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেনরি কুয়েলার। তিনি ১৮ অক্টোবর আটককেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী দেখেছেন বলে জানান। তবে আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াস ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। কুয়েলার বলেন, একদিকে পরিবারের বক্তব্য, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বিবরণ, ফলে প্রকৃত ঘটনা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চেয়েছেন।   আন্দ্রাদে-কোভরুবিয়াসের পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাননি। তাঁর মেয়ে বলেছেন, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ডালাসে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ও টাউনহাউস রং করার কাজ করতেন এবং তাঁর তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। পরিবার বলছে, মেক্সিকোতে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করে একসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এখন মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং আটক অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।   সূত্র: ফক্স ৪ নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) বা গ্রিন কার্ড লটারির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এই কর্মসূচি চালু করতে হবে। তবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন এখনো শুরু হয়নি। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। নিবন্ধন অন্তত ৩০ দিন চালু রাখার নির্দেশও রয়েছে।   গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলাটিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয়, সরকার নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন শুরু না করায় কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে বাদীপক্ষের যুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেন।   বিচারক ওহতা তাঁর আদেশে বলেন, পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই নিবন্ধন শুরু না করায় সরকারের পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন চালু করলে কর্মসূচির সময়সীমা-সংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে বিচারক মনে করেন, স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণের অজুহাতে নিবন্ধন বন্ধ রাখলে ২০২৭ অর্থবছরের লটারি আয়োজনই সম্ভব হবে না। এ কারণে কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালত নজরদারি বজায় রাখবেন।   পরবর্তী সময়ে আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করতে হবে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে হবে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা হবে অন্তত ৩০ দিন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। তবে নিবন্ধন শুরুর সুনির্দিষ্ট সময়, আবেদন করার ওয়েবসাইট ও যোগ্যতার বিস্তারিত শর্ত জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ জারি হওয়া মানেই নিবন্ধন ইতিমধ্যে চালু হয়েছে, এমন নয়।   ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে চালু হওয়া ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচিতে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে। লটারিতে নির্বাচিত হলেই অবশ্য গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত সম্পন্ন করতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে ভিসা প্রক্রিয়ায় মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চলমান বা বিচারাধীন মামলা নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির বিরোধিতা করেছে এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় কঠোরতা এনেছে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লটারি চালুর আদালতের নির্দেশকে এখনই আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। নিবন্ধনের তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিতভাবে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি।   সূত্র: নিউজউইক, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস, মার্কিন আদালতের সংশোধিত সময়সূচিসংক্রান্ত প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
আশ্রয় আবেদন অভিভাবকহীন শিশু
২৪ ঘণ্টারও কম নোটিশে অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকার, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবক ছাড়া আসা অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ছয়টি আইনি সহায়তা সংস্থা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিশুকে আশ্রয় সাক্ষাৎকারের জন্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এতে আইনজীবীর সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া এবং আবেদনের পক্ষে প্রমাণ জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।    বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের সাউদার্ন ডিভিশনে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছে অ্যামিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস, দ্য ডোর ও ফ্লোরেন্স ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস প্রজেক্টসহ ছয়টি সংস্থা। মামলায় মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস এবং বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী সংস্থা ইওআইআরের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।    আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আগে শিশুদের আশ্রয় সাক্ষাৎকারের নোটিশ সাধারণত অন্তত ২১ দিন আগে দেওয়া হতো। বাদীদের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সময় কয়েক দিনে নেমেছে, কখনো ২৪ ঘণ্টারও কম। গত ১ আগস্টের পর থেকে তাদের শিশু মক্কেলদের জন্য ৬০০টির বেশি সাক্ষাৎকারের নোটিশ এসেছে। একাধিক সাক্ষাৎকার একই সময়ে নির্ধারিত হওয়ায় আইনজীবীদের উপস্থিতি নিয়েও সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আটক থাকা অভিভাবকহীন শিশুদের দ্রুত আশ্রয় আবেদন জমা দিতে বলা হচ্ছে। বাদীদের দাবি, ইওআইআর অভিবাসন বিচারকদের ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আটক শিশুদের মামলাগুলো শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাগুলোর ভাষায়, এসব পদক্ষেপ শিশুদের জন্য নির্ধারিত আইনি সুরক্ষাকে দুর্বল করে প্রক্রিয়াটিকে ‘দেশছাড়ার আদেশ দেওয়ার অ্যাসেম্বলি লাইনে’ পরিণত করছে। এটি বাদীপক্ষের অভিযোগ; আদালত এখনো তার সত্যতা নির্ধারণ করেননি।    অভিযোগপত্রে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এক শিশুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরদিন তাঁর আশ্রয় সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়; সাক্ষাৎকার চলাকালে শিশুটি অসুস্থতা প্রকাশ করার পর তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ ঘটনার বিবরণও মামলার বাদীদের দেওয়া।    মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না। তবে তাঁর ভাষ্য, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী অনুরোধ না করলে স্বল্প নোটিশে শুনানি নির্ধারণ করা যায় না এবং সব মামলা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়। আশ্রয় সাক্ষাৎকার এবং অভিবাসন আদালতের শুনানি আলাদা প্রক্রিয়া; বাদীপক্ষের অভিযোগে দুটিই রয়েছে।   বিচার বিভাগের জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে অভিভাবকহীন শিশুদের ১৬ হাজার ৫৬০টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৯ হাজার ৯০৬টি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। দীর্ঘদিনের এই জট কমাতে মামলার গতি বাড়ানো এবং শিশুদের প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ নিশ্চিত করা যায় কি না, সেই প্রশ্নই এখন আদালতের সামনে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের বিরুদ্ধে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতিপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিস আটকে রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই এর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্রেণিগত মামলা করেছেন সাতজন। তাঁদের অভিযোগ, আটকাবস্থা শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন, গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং পরিবারের খরচ মেটাতেও সমস্যায় পড়ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না থাকায় বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছেন, আইস এমন একটি কার্যত দেশব্যাপী নীতি অনুসরণ করছে, যার আওতায় সম্পদ আটকে রাখার বৈধ কারণ না থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আদালতের কাছে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শ্রেণি গঠনের স্বীকৃতি, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং আটক ব্যক্তিদের জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আইসের নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।   মামলার নথি অনুযায়ী, সাত বাদীর প্রত্যেকেই মুক্তির সময় তাঁদের কিছু না কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। আটকে রাখা জিনিসের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন, গাড়ির চাবি, নগদ অর্থ, পোশাক এবং একজনের ক্ষেত্রে বিয়ের আংটি। অভিযোগ দায়েরের সময় প্রত্যেক বাদী অন্তত পাঁচ মাস ধরে আইসের হেফাজতের বাইরে থাকলেও তাঁদের কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। বাদীদের দাবি, নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আটকে রাখার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে।   সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটক কার্যক্রমের পরিসরও বেড়েছে। মার্শাল প্রজেক্টের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইস ছয় লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল। বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তির পর নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।   মামলার অন্যতম বাদী ভ্লাদিমির ইজমাইলভ ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রুশ নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে আইস আটক করে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, মানিব্যাগ, বেল্ট ও বিয়ের আংটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইজমাইলভ তাঁর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নথিগুলো আইসের এক কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরে তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাজিরা কর্মসূচির কর্মকর্তা জানান, আইসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে।   নিউজউইককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজমাইলভ বলেন, তাঁর জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় আটক থাকার অভিজ্ঞতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় কয়েক মাস তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পরও কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাড়া পরিশোধের জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর দাবি।   আরেক বাদী এনিস সুলেইমা লুনা আরদিলা কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাতে উপস্থিত হওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর অঙ্গরাজ্য-প্রদত্ত পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, কলম্বিয়ার পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং পারমিট ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচটি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যে এমন একটি চাকরিও ছিল, যেখানে তাঁর বর্তমান মজুরির দ্বিগুণ বেতন এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বা ইএডি (এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট) ইস্যু করে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। যোগ্য অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এই কার্ড। ফলে এ ধরনের নথি হারানো বা ফেরত না পাওয়া অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মামলার বাদীদের বক্তব্য, বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তাঁরা চাকরি গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছেন।   মামলার আরেক বাদী রোলান্ডো রামিরেজ ফুয়েন্তেস শৈশবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৬ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে আইসের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ফ্লোরিডার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় কাজ খুঁজতে অসুবিধা হয়েছে এবং আয় করতে না পারায় হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বাসস্থানের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এখন গৃহহীন।   ডোমিঙ্গো তত কুইপ নামের গুয়াতেমালার আরেক নাগরিক পোর্টল্যান্ড, মেইনে বাসন ধোয়ার কাজ করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইস তাঁকে আটক করে এবং অপসারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গুয়াতেমালায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আগস্টে তাঁকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থের বড় একটি অংশ, ব্যাকপ্যাক, ফোনের চার্জার, হেডফোন ও পোশাকের অনেক কিছু এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।   বাদীদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদ অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার আইসের নেই। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল পারলফ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে যথেচ্ছভাবে মানুষের সম্পদ নিয়ে রাখতে না পারেন, সে জন্যই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্ল্যাটকিন এলএলপির অংশীদার ম্যাট প্ল্যাটকিনও বলেন, কাউকে আটক থেকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখা উচিত নয়।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু সম্পদ সাময়িকভাবে আটকে রাখার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন কোনো বৈধ কারণ তৈরি না হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া সংবিধানসম্মত বাধ্যবাধকতা। আইসের নিজস্ব নির্দেশনায়ও কোনো নথি আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের নথি জব্দ করা হয়, তাঁদের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বাদীর কেউই এমন অনুলিপি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।   বাদীরা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে আটক হওয়া এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি শ্রেণি গঠনের আবেদন করেছেন, যাঁদের মুক্তির পরও বৈধ কারণ ছাড়াই আইস তাঁদের সম্পদ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দুটি পৃথক উপশ্রেণি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি ফেরত না পাওয়াদের জন্য, অন্যটি ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখার শিকার ব্যক্তিদের জন্য। আদালতের কাছে তাঁরা কথিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা, বৈধ ভিত্তি ছাড়া আটকে রাখা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং সম্পদ সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আবেদন জানিয়েছেন।   আইস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   সূত্র: নিউজউইক, ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (মামলার নথি)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন বিলে। ছবি: সংগৃহীত
H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন করা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি বিলে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।   টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডাইন ১ অক্টোবর ‘এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর এইচআর ১০৬৪৩। সরকারি কংগ্রেশনাল রেকর্ড অনুযায়ী, ভ্যান ডাইনের সঙ্গে টেক্সাসের আরও পাঁচ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল, পিট সেশনস, কিথ সেলফ, ব্রায়ান বাবিন ও প্যাট ফ্যালন এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি একই দিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে গুরুতর এইচ-১বি লঙ্ঘনের একটি শ্রেণিতে জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়োগদাতাকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বিরত রাখার পরিবর্তে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। আরও গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে।   বিলে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট ধরনের নথি জালিয়াতির জন্য ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নতুন প্রস্তাবে সেই সীমা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। আরেক শ্রেণির লঙ্ঘনে বর্তমান ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের জরিমানার সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   ভ্যান ডাইনির দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মসূচির নিয়ম ভেঙে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এইচ-১বি কর্মসূচি ব্যবহার করা হলেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভ্যান ডাইনি এর আগে উত্তর টেক্সাসে সম্ভাব্য এইচ-১বি জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিতে পারে।   নতুন বিলটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয় এবং প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। একই সময়ে বার্ষিক সীমার আওতাভুক্ত এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি প্রস্তাবিত ফি নিয়েও আলোচনা চলছে।   তবে নতুন বিলটি সরাসরি এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা কমানো, বেতনসীমা নির্ধারণ বা যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে না। এর প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানো। ফলে বিলটি পাস হলে এইচ-১বি কর্মীদের তুলনায় নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।   এই বিলই এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচিত একমাত্র উদ্যোগ নয়। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন নতুন এইচ-১বি ভিসা তিন বছরের জন্য স্থগিত, বার্ষিক ভিসার সংখ্যা কমানো এবং ন্যূনতম ২ লাখ ডলারের বেতনসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে আলাদা একটি বিল এনেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয়ও এইচ-১বি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ এবং ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন।   তবে ভ্যান ডাইনের প্রস্তাব এখনো কেবল প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি বিল। এটি বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এখনো প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে পাস হয়নি। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। তাই প্রস্তাবিত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জরিমানা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ন্যাশভিলের ওই মাকে মে মাসে আইসিই আটক করার পর লুইজিয়ানার একটি বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন মাস, অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরলেন অভিবাসী মা

লুইজিয়ানার একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন সেন্টার) থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবশেষে নিজের দুই সন্তানের কাছে ফিরেছেন গুয়াতেমালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী এক মা। গত ১৯ মে সকালে সন্তানদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর এক প্রতিবেশীর বাসায় সন্তানদের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘটে। তবে এই দীর্ঘ বিচ্ছেদে ওই মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে, ফলে তিনি আর তাঁর সন্তানদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নারী জানিয়েছেন, তাঁর দুই বছর বয়সী বড় মেয়েটির ডাউন সিনড্রোম রয়েছে এবং সে ভেবেছিল তার মা তাকে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছে। অন্যদিকে, এক বছর বয়সী ছোট শিশুটি মাকে দেখেই চিনতে পেরেছিল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।   সন্তানদের কাছে ফিরে আসার এই আবেগঘন মুহূর্তটি ওই মায়ের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি। আমার মন আচ্ছন্ন হয়ে ছিল, কিন্তু যখনই আমি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম এবং আদর করছিলাম, তখনও মনে হচ্ছিল এটা সত্যি নয়।" গত ১৪ আগস্ট বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপে সাউথ লুইজিয়ানা আইসিই প্রসেসিং সেন্টার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর সঙ্গী এখনো ওকলাহোমার একটি ইমিগ্রেশন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা, সদ্য মা হওয়া এবং স্তন্যদানকারী নারীদের আটক না করার বিষয়ে আইসিই-এর নিজস্ব যে নীতিমালা রয়েছে, সংস্থাটি তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে যে, কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের নারীদের আটক করা যাবে না। ওই নারীর কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও কেবল তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে তাঁকেও আটক করা হয়। টেনেসি ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস কোয়ালিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংগঠন এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে।   দেশজুড়ে অভিবাসী ও প্রজনন অধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, আইসিই নিয়মিতভাবেই তাদের এই নীতিমালা লঙ্ঘন করছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে এই নিয়ম বাতিল করা হলেও ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা পুনরায় বহাল করে, যা বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। ডিএইচএস-এর এক মুখপাত্র এই অভিযোগের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পূর্বের দেওয়া একটি বিবৃতিই পুনরায় পাঠিয়েছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে স্তন্যদানকারী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আটকের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং আটককৃতদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পরিবারের ওপর যে অমানবিক ও বেআইনি আঘাত হানা হয়েছে, তার মানসিক ক্ষত তাদের বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হবে।   সন্তানদের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ওই মা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আটক থাকায় এবং নিজে গাড়ি চালাতে না পারায় তাঁর বড় মেয়ের চিকিৎসা ও থেরাপি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে এক বন্ধুর ওপর নির্ভরশীল এই নারী বলেন, "আমার মনে হচ্ছে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেকে ফাঁদে আটকে পড়া অনুভব করছি এবং কোনো আলোর দেখা পাচ্ছি না।" তবুও ঈশ্বরের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, "আমরা সন্তানদের একটি সুন্দর জীবন দেওয়ার আশায় কঠোর পরিশ্রম করতে এই দেশে এসেছিলাম, নিজেদের দেশে যে কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে আরও বেশি কষ্ট ভোগ করার জন্য নয়।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের পুনর্মিলনে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হয় অনেককে। ছবি: সংগৃহীত
ভাই-বোন আমেরিকার নাগরিক, তবু কেন যেতে পারছি না যুক্তরাষ্ট্রে? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন নাগরিক হওয়ার পরও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, “আমাকে এখনো আমেরিকায় নিয়ে যাচ্ছে না কেন?” বাস্তবে বিষয়টি সব সময় ইচ্ছা বা চেষ্টা না করার কারণে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট নিয়মে ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন করতে পারেন। তবে ভাই-বোনের আবেদন এফ-৪ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং এই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত। ফলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের এফ-৪ ক্যাটাগরিতে বর্তমানে ২২ অক্টোবর ২০১১-এর আগের প্রায়োরিটি ডেটের আবেদনগুলো ভিসার জন্য বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ এখন নতুন করে ভাই-বোনের জন্য আবেদন করলে অপেক্ষার সময় প্রায় ১৫ বছরের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অপেক্ষার সময় ভবিষ্যতে কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে।   অনেকেই মনে করেন ভাই-বোনকে আনার আবেদন মানে শুধু একটি ফর্ম পূরণ করা। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি এত সহজ নয়। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে ফর্ম আই-১৩০ জমা দিতে হয় এবং ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়। বর্তমানে আই-১৩০-এর সরকারি ফাইলিং ফি অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। এর বাইরে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের প্রমাণ, নাম পরিবর্তনের কাগজসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ডকুমেন্ট লাগতে পারে।   অনেক আবেদনকারী নিজেরা ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। তখন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নিতে হয়, যার জন্য সরকারি ফি’র বাইরে আলাদা পেশাগত খরচ হতে পারে। ডকুমেন্ট সংগ্রহ, অনুবাদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের খরচও থাকতে পারে। ফলে শুরু থেকেই এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী বাবা-মাকে ইমিডিয়েট রিলেটিভ হিসেবে আনার সুযোগ পান। এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাই-বোনের মতো বার্ষিক ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ভিসা কোটার দীর্ঘ অপেক্ষা থাকে না। তবে আবেদনকারী ও যার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, উভয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ করতে হয়।   প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তান এফ-১ এবং বিবাহিত সন্তান এফ-৩ ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়েন। ফলে তাদের ক্ষেত্রেও ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোন ক্যাটাগরিতে কত সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি, প্রায়োরিটি ডেট এবং ভিসা বুলেটিনের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে।   ভাই-বোনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ ও কাগজপত্রের জটিলতার কারণে অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক আবেদন করার বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেউ ভাবেন, এত বছর পর ভাই-বোনের বয়স, পরিবার বা পরিস্থিতি বদলে যাবে। আবার কেউ মনে করেন, এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে এখন আবেদন করে লাভ কী। ফলে কেউ আবেদন করেন না, আবার অনেকে আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ভাই-বোনের জন্য আবেদন করা এবং দ্রুত আমেরিকায় নিয়ে আসা এক বিষয় নয়। একজন যোগ্য মার্কিন নাগরিক আবেদন করে প্রায়োরিটি ডেট তৈরি করতে পারেন, কিন্তু ভিসা নম্বর পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। তাই আমেরিকায় থাকা ভাই বা বোন আপনাকে দ্রুত নিয়ে আসতে পারছেন না মানেই তিনি চেষ্টা করছেন না, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে মূল বাধা হলো দীর্ঘ ভিসা ব্যাকলগ ও সীমিত ভিসা সংখ্যা।   পরিবারের কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা থাকলে তাই আগে বুঝতে হবে সম্পর্কটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে পড়ছে, সেই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যা কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বর্তমান ভিসা বুলেটিনে তার অবস্থান কোথায়। কারণ স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা, নাবালক অবিবাহিত সন্তান, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সবার জন্য একই নিয়ম বা একই অপেক্ষার সময় প্রযোজ্য নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
নতুন অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ ও কাট-অফ ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে।   তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে।   চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়।   এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।   অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।   ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের H-1B ভিসা ফি আবারও আটকে দিল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন H-1B ভিসার আবেদনের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি আটকে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক হেওয়ার্ড গিলিয়াম এই নির্দেশ দেন। তার মতে, ফি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং পররাষ্ট্র দপ্তর প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ফলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে এই ফি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে হবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন অলাভজনক সংগঠনের একটি জোট এই মামলা করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক গিলিয়াম ফি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলাটি গত অক্টোবরে দায়ের করা হয়েছিল। বিচারক গিলিয়ামকে ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।   এটি H-1B ফি নিয়ে দ্বিতীয় বড় ধরনের আদালতের বাধা। এর আগে জুনে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারক ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় একই ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ নাকচ করে দেয়। ফলে ফি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই একই সঙ্গে চলছে।   ট্রাম্প প্রশাসন নতুন H-1B ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করেছিল। এর আগে নতুন H-1B আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফি মিলিয়ে সাধারণত প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারত, যদিও আবেদন ও নিয়োগকর্তার ধরন অনুযায়ী অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। নতুন ফি সেই ব্যয়কে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।   এই ফি নিয়ে আইনি বিতর্কের একটি বড় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট এককভাবে এমন ফি নির্ধারণ করতে পারেন কি না। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, H-1B কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নিয়েছে।   অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের আগে প্রশাসনকে নির্ধারিত নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। বুধবারের রায়ে বিচারক গিলিয়াম মূলত এই প্রক্রিয়াগত বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের বর্তমান নির্দেশটি H-1B কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা বা বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতিগত প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।   এদিকে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর উদ্যোগ নেয়। সেটি চূড়ান্ত হলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে সম্ভাব্য মামলা বর্তমান ১ লাখ ডলারের ফি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন আইনি প্রশ্ন তৈরি করবে।   ১ লাখ ডলারের ফি প্রথমে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নতুন H-1B আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুধবারের আদালতের আদেশ সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি করল।   H-1B হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার H-1B ভিসার মূল কোটা রয়েছে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসার সুযোগ থাকে।   H-1B ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আরও তিন বছর বাড়ানো যেতে পারে। ফলে এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। H-1B ভিসায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন আবেদনকারীদের যাচাই প্রক্রিয়াও আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা বাছাইয়ের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়েছে। এদিকে মামলাটির বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবী স্টিভ ব্রেসলার বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দিচ্ছে যা হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আলাদা মামলা করেছে। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আপিল করছে। ফলে H-1B ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলমান রয়েছে।   তবে বুধবারের রায়কে এই ফি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলোকে ১ লাখ ডলারের ফি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের স্থায়ী ফি আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে।   বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য H-1B কর্মসূচি ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভিসা ফি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি EB-1-এর আওতায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি পথ। EB-1A নামে পরিচিত এই শ্রেণিতে আবেদনকারীর কোনো নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীকে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ দিতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, EB-1A শ্রেণিতে যোগ্যতার ক্ষেত্র পাঁচটি। এগুলো হলো বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ক্রীড়া। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রের কোনো একটিতে অসাধারণ দক্ষতা ও স্বীকৃতির প্রমাণ থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে শুধু এই পাঁচ ক্ষেত্রের কোনো একটিতে কাজ করলেই EB-1A-এর জন্য যোগ্য হওয়া যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এবং তার সাফল্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। অর্থাৎ পেশার ক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তির অর্জন, পরিচিতি এবং সেই অর্জনের স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ।   EB-1A আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের Form I-140 নির্দেশনায় পুরস্কার বা সম্মাননা, পেশাগত সংগঠনের সদস্যপদ, আবেদনকারীকে নিয়ে প্রকাশিত উপাদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়নের দায়িত্ব, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বৈজ্ঞানিক বা একাডেমিক লেখা, প্রদর্শনী বা শিল্পকর্ম, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং পারফর্মিং আর্টসে বাণিজ্যিক সাফল্যের মতো বিষয়গুলোর প্রমাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।   নির্ধারিত প্রমাণের কাঠামোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত ১০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তুলনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে অন্তত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। ইউএসসিআইএস পরে পুরো প্রমাণপত্র বিবেচনা করে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করে।   EB-1A-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদনকারী নিজেই নিজের হয়ে Form I-140, Petition for Alien Worker জমা দিতে পারেন। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর পক্ষে পিটিশন দাখিল করতে হয় না। একই কারণে EB-1A-এর জন্য সাধারণ কর্মভিত্তিক শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালাতেও বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্ব-আবেদনের এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে।   তবে EB-1-এর সব শ্রেণির নিয়ম এক নয়। প্রথম অগ্রাধিকার কর্মভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণির মধ্যে EB-1A ছাড়াও অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা দুটি শ্রেণি রয়েছে। অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক শ্রেণিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতা বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং সাধারণত একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হয়।   অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শ্রেণিতেও মার্কিন নিয়োগকর্তার পিটিশন প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একই প্রতিষ্ঠান, তার মূল প্রতিষ্ঠান, শাখা, সহযোগী বা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী হিসেবে কাজ করার প্রমাণ দিতে হয়।   EB-1-এর আওতায় আবেদন অনুমোদিত হলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে EB-1A কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা, অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বিষয়ে যথেষ্ট নথি দিতে হয়। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে শুধু প্রমাণের সংখ্যা নয়, সেগুলোর মান এবং পুরো আবেদনের সামগ্রিক চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য EB-1A বিবেচনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই শুধু নিজের পেশার ক্ষেত্রটি পাঁচটি নির্ধারিত বিভাগের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। সেই ক্ষেত্রের মধ্যে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত স্বীকৃতি, পেশাগত অবদান এবং তা প্রমাণ করার মতো নথিপত্রও প্রস্তুত করতে হয়। অভিবাসন আইনের জটিলতা বিবেচনায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি সালাহ সারসুর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটির নেতা সালাহ সারসুরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন একজন অভিবাসন বিচারক। বুধবার শিকাগো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক জেমি সালিনার্দি সারসুরকে বহিষ্কারযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। তবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে করা একটি পৃথক অভিযোগ, তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।   সালাহ সারসুর উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য তিনি পরিচিত। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে মিলওয়াকি থেকে আটক করেন। পরে জুনে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেমস প্যাট্রিক হ্যানলন তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত তখন বলেছিল, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সারসুরের বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কি না, সে বিষয়ে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দাবি রয়েছে।   তবে বুধবারের অভিবাসন আদালতের রায়ে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ভিত্তিতে বহিষ্কারযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সারসুর এই সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’ বলে জানিয়েছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা বলেছেন।   এক বিবৃতিতে সারসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে, তা রক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে দেশকে নিজের বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করেছেন, সেখানে থাকার অধিকার নিয়েও তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।   মার্কিন সরকারের আইনজীবীরা সারসুরের বিরুদ্ধে মূলত ইসরায়েলে কয়েক দশক আগের কিছু দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সরকার আরও দাবি করেছিল, সারসুর গ্রিন কার্ডের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার সময় নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বিচারক অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পান। কোনো অভিবাসন বিচারক যদি মনে করেন যে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   সারসুরের জন্ম ইসরায়েলের দখলাধীন পশ্চিম তীরের এলাকায়। ১৯৮৮ সালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগে তিনি ইসরায়েলে কারাগারে ছিলেন এবং ওই ঘটনায় দণ্ডিত হন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, ওই সময় একটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগেও তিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা বলছেন, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও ওই অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হননি।   ১৯৯৫ সালে অস্ত্র রাখার চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায়ও সারসুর দণ্ডিত হন। তিনি এসব অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে নির্যাতন করে এবং চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। সারসুর ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং দেশটিতে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই মার্কিন সরকার তার ইসরায়েলি দণ্ডের বিষয়টি জানত।   সারসুরের আশঙ্কা, তাকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো তার জন্য জীবনের সমাপ্তির মতো হবে। তার আইনজীবী প্যাট্রিক টরেলও দাবি করেছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে সারসুরের অতীত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার জন্য কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি ইঙ্গিত দেয়।   বহিষ্কারের আদেশে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল ছাড়াও জর্ডানের নাম রয়েছে। বুধবারের শুনানিতে টরেল বিচারকের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার অনুরোধ করেন। তার যুক্তি, জর্ডানের সঙ্গে সারসুরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেখানে তার বসবাসের অধিকারও নেই। সারসুরকে একটি অভিবাসন ফরমে জর্ডানকে নিজ দেশের নাম হিসেবে লিখতে বলা হয়েছিল, কারণ ‘ফিলিস্তিন’কে পূর্ণাঙ্গ ও একীভূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় জটিল। বিচারক অবশ্য বহিষ্কারের গন্তব্য নির্দিষ্ট করে দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, বিষয়টি আপিলের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে।   সারসুরের আইনজীবী আরও বলেছেন, তাকে জর্ডানে পাঠানো হলেও সেখান থেকে দ্রুত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   এই মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া একটি বিশেষ অভিবাসন পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে রুবিও একটি তুলনামূলকভাবে বিরল অভিবাসন আইনি বিধান ব্যবহার করে সারসুরকে বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে বহিষ্কারের পথ তৈরি করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই ধরনের বিধান ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার মাহমুদ খলিল ও মোহসেন মাহদাওয়ির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, রুবিওর কাছে সারসুরের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। বিভাগটি আরও দাবি করেছে, সারসুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অথবা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করেছেন। তবে সারসুরের আইনজীবীরা এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন।   সারসুরের পক্ষে আগস্টে সাক্ষ্য দেওয়া আইনজীবী জাওয়াদ বুলুস বলেন, ইসরায়েলে সারসুরকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগে সারসুরকে দণ্ডিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সদস্যরা সারসুরকে নির্যাতন করেছিলেন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ অবশ্য এই নির্যাতনের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইসরায়েলি কারাগারে আচরণ এবং ইসরায়েলি সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময় মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকার অভিযোগের বিষয়েও সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে থাকে।   এর আগে জুনে মার্কিন জেলা বিচারক হ্যানলন সারসুরকে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বিচারক আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর হঠাৎ তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ সরকার যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   সারসুরের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও মামলায় উঠে এসেছে। তার আইনজীবীদের দাবি, আটক থাকার সময় তিনি ৩০ পাউন্ডের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারিয়েছেন। তিনি টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার রক্তে শর্করার মাত্রা মাসে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, এতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।   কেএফএফ হেলথ নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক যৌথ অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে শত শত আটক ব্যক্তি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তবে এসব মামলার সব অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি করা হয়নি।   সারসুরের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের রায়ের পর এখন তার আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দেওয়ার জন্য তার হাতে ৩০ দিন এবং আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে। সব ধরনের আইনি সুযোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করতে পারবে না। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারক ক্রেইগ ডিফোর তত্ত্বাবধানে চলবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল, নাগরিকদের বাবা-মায়ের জন্য গ্রিন কার্ডের পথ সীমিত করা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বর্তমান কাঠামো বদলে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।   আলাবামার সিনেটর টিউবারভিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর S. 5485। সিনেটে উত্থাপনের পর এটি দুইবার পাঠ করা হয়েছে এবং বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি।   প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি ব্যারি মুরের নেতৃত্বে ২৯ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586 হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান, ওয়েসলি হান্ট ও ট্রয় নেহলস।   টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বেতন, বয়স, সামরিক সেবা এবং বিশেষ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিলটির পক্ষে টিউবারভিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা দেশটির আইন মেনে চলবেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন।   প্রস্তাবটির অন্যতম বড় পরিবর্তন হবে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে লটারির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিউবারভিলের বিলটি এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মীদের জন্য বছরে ৩ হাজার অভিবাসী ভিসার একটি সীমিত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মায়ের জন্য তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মাকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সীমিত করার কাঠামো তৈরি হবে।   শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, বর্তমানে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। যেসব পরিবারভিত্তিক আবেদনের শ্রেণি বিলটির আওতায় বাদ যাবে, সেগুলোর অপেক্ষমাণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না। আগে অনুমোদিত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী ভিসা দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থায়ও প্রস্তাবটি বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব শ্রেণির পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৯২ হাজার ভিসা দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বিলের নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে।   এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার সময় বয়স ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।   বেতনের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত বেতন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মধ্যম বেতনের অন্তত ২০০ শতাংশ হতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ডিগ্রি পাওয়া বা পাওয়ার কাছাকাছি থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।   পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স, যোগ্য সামরিক সেবা এবং অসাধারণ অর্জন বিবেচনা করা হবে। উচ্চ বেতন বা নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়োগদাতাদের ওপরও নতুন দায়িত্ব আরোপ করা হবে। কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। একই পদে সমান বা বেশি যোগ্য মার্কিন কর্মী থাকলে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।   কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এমন লঙ্ঘনের কারণে কোনো মার্কিন কর্মী চাকরি হারালে জরিমানা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিয়ম না মানার ধারাবাহিক বা নিয়মিত চর্চা প্রমাণিত হলে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধানও প্রস্তাবটিতে রয়েছে।   পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত অভিবাসী এবং যোগ্য স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শর্তসাপেক্ষ সময় হবে দুই বছর। এ সময়ে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ, কিছু ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রধান আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে।   বিলটিতে অভিবাসীদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘প্রটেকশন অব আমেরিকান ভ্যালুজ’ নামে ওই ঘোষণায় সংবিধানসম্মত নীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যা, নিপীড়ন, তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়েও ঘোষণা দিতে হবে।   সিনেটের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের আগের বিলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নিয়োগদাতার ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ধারাবাহিক চর্চার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। অসাধারণ সক্ষমতার জন্য পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুই বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের বিধান তুলে নেওয়ার সময় কিছু সাক্ষাৎকার মওকুফের সুযোগ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ছিল, যা সিনেটের সংস্করণে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি চালুর সময়সীমাতেও দুই প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন, ফি ও অন্যান্য খরচ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিধান লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।   বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। তবে টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইন এবং প্রশাসনের নেওয়া নির্বাহী বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। S. 5485 এখনো কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।   প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সিনেটে বিলটি কমিটির পরবর্তী পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিল H.R. 8586-ও এপ্রিল মাসে কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এই প্রস্তাবের কারণে পরিবর্তিত হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ভুয়া বিয়ের মামলায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন রোমানিয়ান নাগরিক আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা।   মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল।   কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন।   ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না।   এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।   মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি।   মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।   তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।   Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি।   স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে।   নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।   ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি।   সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।    মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে।    অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।    ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে।    মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।   ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।   এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।   মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে।   মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।   নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে।   নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসার নিয়ম ভাঙায় যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৫ প্রতিষ্ঠান, বিপাকে পড়তে পারেন বিদেশি কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন ও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম ভঙ্গের কারণে বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে নতুন কর্মী নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির শ্রম বিভাগ। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মজুরি ও কর্মঘণ্টা বিভাগ (WHD) প্রতি মাসে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ বা অযোগ্য ঘোষিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর সর্বশেষ তালিকায় রয়েছে গোয়ারাটেক এলএলসি, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসি, সিলোজ ইনক., শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক. এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক.   শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গোয়ারাটেক এলএলসিকে ১২ মে ২০২৫ থেকে ১১ মে ২০২৭ পর্যন্ত, রেনোটেক গ্রুপ এলএলসিকে ৮ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত এবং সিলোজ ইনক.-কে ৪ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শেরউড অ্যাট মাউন্ট ডোরা ইনক., যা শেরউড একাডেমি নামে ব্যবসা করে, ২৬ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৮ পর্যন্ত এবং দা ভিঞ্চি অ্যাট হান্টার্স ক্রিক ইনক., যা দা ভিঞ্চি একাডেমি নামে পরিচালিত, ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।   নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গোয়ারাটেকের ক্ষেত্রে ছয়টি এবং রেনোটেকের ক্ষেত্রে ৩৪টি এইচ-১বি আবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি নথিতে পাওয়া যায়। সিলোজের ক্ষেত্রে চারটি এইচ-১বি আবেদন ছিল। সর্বশেষ দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য থেকে সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের সংখ্যা স্পষ্ট নয়। তবে এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকলেও শ্রম বিভাগের আলাদা ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ বা গুরুতর নিয়মভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনেক বড়। সেখানে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গোয়ারাটেক, রেনোটেক, সিলোজ, শেরউড একাডেমি এবং দা ভিঞ্চি একাডেমিও রয়েছে। অন্যদিকে সব ‘উইলফুল ভায়োলেটর’ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ থাকে না। দুটি তালিকা তাই এক নয়।   এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হলে সেটি সাধারণভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব বিদেশি কর্মীর ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় নিয়োগকর্তা নতুন এইচ-১বি অনুমোদন নিতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মীর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিতে পারে না।   ফলে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনা করা বিদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি চলে এলে তাকে অন্য যোগ্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার পথ খুঁজতে হতে পারে। তবে কোনো নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়তে হবে বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নিয়ম নেই। শ্রম বিভাগের বিধিতে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ওপর জরিমানা, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লঙ্ঘনের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সাধারণত এক থেকে দুই বছর হতে পারে, আর কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে তা তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে।   কেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয় এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের সুযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রম বিভাগ বলছে, এইচ-১বি নিয়োগদাতাদের সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রচলিত মজুরি বা নিজেদের একই ধরনের কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি, যেটি বেশি, সেটি দিতে হয়। বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। গুরুতর নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের জন্য প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত সব অভিবাসন কর্মসূচি থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান রয়েছে।   মার্কিন কর্মীদের চাকরি কি বাড়ে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হয় কি না, সেটি নিয়ে পরিষ্কার সরকারি তথ্য নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে না পারলে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে পারে, আবার কাজের ধরন পরিবর্তন, অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, বিদেশে কাজ সরিয়ে নেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করার পথও বেছে নিতে পারে।   ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের এইচ-১বি সুবিধা বন্ধ হলেই একই সংখ্যক চাকরি মার্কিন কর্মীদের কাছে চলে যাবে, এমন সরল সমীকরণ করা যায় না। এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কির্ক ডোরান, আলেকজান্ডার গেলবার ও অ্যাডাম আইসেনের গবেষণায় এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অন্য কর্মীদের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে গবেষকেরা এটিও দেখেছেন যে এই প্রভাব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সঙ্গে যুক্ত গবেষণায় ২০০৭ সালের এইচ-১বি লটারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশি এইচ-১বি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ, ব্যবসার আকার ও টিকে থাকার হার বেড়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে জন্মসূত্রে মার্কিন কলেজশিক্ষিত কর্মীদের সরাসরি স্থানচ্যুত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছোট, দক্ষতানির্ভর এবং উচ্চ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব আরও বেশি ছিল।   শুরু ও নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল একমুখী নয়। ২০২১ সালে ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, এইচ-১বি লটারিতে বেশি কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া স্টার্টআপগুলো বেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংগ্রহ, বেশি পেটেন্ট এবং অধিগ্রহণ বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো সফলতার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল।   মজুরি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচিকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক হলো বিদেশি কর্মীদের মজুরি। ২০২৬ সালে অর্থনীতিবিদ জর্জ বোরহাসের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শিক্ষা, পেশা, বয়স ও অবস্থানের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে এইচ-১বি কর্মীরা তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে কম আয় করেন। গবেষণায় গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ মজুরি ব্যবধানের হিসাব পাওয়া গেছে। তবে এই ফলকে পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির চিত্র হিসেবে দেখা উচিত নয়। সমর্থকেরা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এমন বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মী খুঁজে পায় না, যাদের জন্য এইচ-১বি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। শ্রম বিভাগের নিয়মেও নিয়োগকর্তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত মজুরি ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সরকারি তালিকায় সক্রিয়ভাবে এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ। সংখ্যাটি পুরো এইচ-১বি কর্মসূচির তুলনায় খুবই ছোট হলেও, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ ভিসা নবায়ন বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই পদগুলো শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের হাতে যাচ্ছে কি না, তা পরিমাপ করার মতো পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য এখনো নেই।   এই কারণেই এইচ-১বি কর্মসূচি থেকে নিয়োগকর্তাকে নিষিদ্ধ করার নীতির প্রভাব শুধু কতটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হলো, তা দিয়ে বিচার করা কঠিন। এর প্রভাব বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান, নতুন ভিসা গ্রহণ, গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ নীতির পরিবর্তনও দেখতে হবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ, নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন।    নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন।    তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়।    নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে।    তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত সাত অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ৭ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত সাতজন অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বেলিজ, নিকারাগুয়া, মেক্সিকো ও কোস্টারিকার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় দণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর তালিকায় থাকা বেলিজের নাগরিক রাইন উশার ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। নিকারাগুয়ার গনজালো আন্তোনিও গুজমান-গুজমান একটি জাহাজে কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   মেক্সিকোর নাগরিক হুয়ান উরকিসা আরমান্ডো শিশুর প্রতি অশালীন আচরণ এবং অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল ব্যাটারির মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কোস্টারিকার ওয়াইলেন বারান্তেস-হিমেনেজ একটি জাহাজে এক হাজার কেজি বা তার বেশি মারিজুয়ানা বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   এ ছাড়া মেক্সিকোর নাগরিক তেরেসেও দে হেসুস মারকাদো-ফ্লোরেস ৫০ গ্রাম বা তার বেশি মেথঅ্যামফেটামিন বিতরণের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। হুয়ান পাবলো সেররাতা আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পাশাপাশি পাঁচ কেজির বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   তালিকার সপ্তম ব্যক্তি এদিলবার্তো গোমেজ ভিয়ালভা অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির অশালীন কর্মকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   আইসিই সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধে দণ্ডিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অনুমতি নেই এমন অনাগরিকদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি ব্যক্তির বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’।   তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে।   এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়।   প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।   তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়।   প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।   এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ।   এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই।   এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০