সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:১৭
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে। 


ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। 


সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়।


এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান। 


প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। 


ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল। 


পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) ক্যাম্পাসের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তাঁর ফায়ারফাইটার হবু স্বামী। রোববার ভোরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় মদ্যপ এক তরুণী চালকের গাড়ির ধাক্কায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।   ব্যাটন রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নিহত ওই জুটির নাম লেয়া ফন্টে (২১) এবং শেন হার্স্টিয়াস (২১), যাঁরা একে অপরের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঘটনায় মিয়া ডসন (২০) নামের এক তরুণী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, হিট-অ্যান্ড-রান এবং গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডসন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে উঠে যান এবং সেখানে হাঁটতে থাকা ওই জুটিকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই ফন্টের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্স্টিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিভার রিজ ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক ফেসবুক পোস্টে শেন হার্স্টিয়াসকে স্মরণ করে জানিয়েছে, শেন কেবল একজন ফায়ারফাইটারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ, যাঁর অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল।   অন্যদিকে, লেয়া ফন্টে ছিলেন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস এক বিবৃতিতে ফন্টের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ধৈর্য ধারণের প্রার্থনা করেছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৭:১৫
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক

ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ

একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনের বাসিন্দা স্টারলিন ও বিল ক্যাফেরাটা দম্পতি ভেবেছিলেন তাঁদের তিনজনের ছোট্ট পরিবারে নতুন আরেকজন অতিথি আসতে চলেছে। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে গিয়ে এমন এক বিস্ময়কর সত্যের মুখোমুখি হলেন, যার জন্য তাঁরা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। একটি বা দুটি নয়, স্ত্রী স্টারলিনের গর্ভে বেড়ে উঠছে একসঙ্গে চারটি সন্তান!   পেশায় পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সি নার্স ৪২ বছর বয়সী স্টারলিন এবং ৪৩ বছর বয়সী বিল দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় সন্তানের চেষ্টা করছিলেন। আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের সর্বশেষ সংরক্ষিত ভ্রূণটি প্রতিস্থাপন করেন। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই সেই একই চক্রে স্টারলিন প্রাকৃতিকভাবে আরও দুটি ডিম্বাণু নিঃসরণ করেন, যা নিষিক্ত হয়ে যায়।   গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে হঠাৎ করে শারীরিক অসুস্থতা, রক্তপাত ও পেটে ব্যথা দেখা দিলে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে ছোটেন এই দম্পতি। প্রথমে গর্ভপাতের আশঙ্কা করলেও, আলট্রাসাউন্ড শুরু হতেই চিকিৎসক জানান একটি থলিতে দুটি হৃদস্পন্দন শোনা যাচ্ছে। এরপর একে একে তৃতীয় ও চতুর্থ হৃদস্পন্দনের খোঁজ মিললে আনন্দে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই আবেগঘন হয়ে ওঠে যে, স্টারলিনকে সামলে নেওয়ার সুযোগ দিতে চিকিৎসককে কিছুক্ষণের জন্য স্ক্যান বন্ধ রাখতে হয়েছিল।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন এই ক্যাফেরাটা দম্পতি। আইভিএফের মাধ্যমে স্থাপিত ভ্রূণের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি ভ্রূণও জরায়ুতে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়। এরপর এর মধ্যে একটি ভ্রূণ বিভক্ত হয়ে অভিন্ন যমজে পরিণত হয়। গর্ভাবস্থার সময়টি স্টারলিনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।   মাত্র ১৭ সপ্তাহেই তাঁর শরীর এতটাই ভারী হয়ে গিয়েছিল যে মনে হচ্ছিল তিনি ৪১ সপ্তাহের গর্ভবতী। শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে পুরোপুরি বিছানায় বিশ্রামে থাকতে হয়। অবশেষে গর্ভাবস্থার ৩১ সপ্তাহে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান—লেনন, ফ্রান্সেসকা, স্টেলা এবং এনজোর জন্ম দেন স্টারলিন।   বর্তমানে এই দম্পতির প্রথম সন্তান জোয়ির বয়স আট বছর এবং চার জমজ সন্তানের বয়স পাঁচ। সাত সদস্যের এই বড় পরিবারটি এখন এক ছাদের নিচে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে। একসঙ্গে নতুন নতুন রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা জায়গায় ভ্রমণ—সব মিলিয়ে দারুণ এক জীবন উপভোগ করছেন তাঁরা। স্টারলিন জানান, তাঁর এই চার সন্তান একে অপরের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা সেরা বন্ধু হিসেবেই বেড়ে উঠছে, যা দেখে বাবা-মা হিসেবে তাঁরা এক অন্যরকম প্রশান্তি পান।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৫:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে গরমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ লাখ পাউন্ড মাংস প্রত্যাহার, তালিকায় হটডগ-বেকন

যুক্তরাষ্ট্রে গরমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ লাখ পাউন্ড মাংস প্রত্যাহার, তালিকায় হটডগ-বেকন

৫০ মিলিয়ন ডলারের হীরাখচিত ব্রা পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট শো মাতালেন কাইলি জেনার

৫০ মিলিয়ন ডলারের হীরাখচিত ব্রা পরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট শো মাতালেন কাইলি জেনার

ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের

ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের

আমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের কর বছর সঠিকভাবে নিশ্চিত হতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়

আমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, তাঁরা কোন ট্যাক্স বছরের রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। ২০২৭ সালে সাধারণত ২০২৬ সালের আয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া হবে। আইআরএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৬ হাজার ১০০ ডলার এবং বিবাহিত দম্পতির যৌথ রিটার্নের ক্ষেত্রে ৩২ হাজার ২০০ ডলার। পুরোনো বছরের অঙ্ক ব্যবহার করলে হিসাব ভুল হতে পারে।    আমেরিকায় থাকলেই সামান্য আয় থেকে সবার ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক হয় না। আয়, বয়স, ফাইলিং স্ট্যাটাস, অন্যের ডিপেনডেন্ট কি না এবং করের হিসাবে রেসিডেন্ট বা ননরেসিডেন্ট হওয়ার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে ৬৫ বছরের কম বয়সী, অন্যের ডিপেনডেন্ট নন এমন সিঙ্গেল করদাতার সাধারণ ফাইলিং সীমা ছিল ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে কম আয়েও রিটার্ন জমা দিতে হয়।    বিশেষ করে স্বনিযুক্ত কাজ বা ছোট ব্যবসা থেকে নিট আয় বছরে ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ফলে সাধারণ আয়ের সীমার নিচে থাকলেও ব্যবসা বা স্বাধীনভাবে কাজ করার আয় উপেক্ষা করা যাবে না। ননরেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।    আইটিআইএন নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। এটি ফেডারেল ট্যাক্সের কাজে ব্যবহৃত শনাক্তকরণ নম্বর। আইটিআইএন পাওয়া মানে আমেরিকায় কাজ করার অনুমতি পাওয়া নয়, এটি অভিবাসন স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করে না। কারও ট্যাক্স ফাইল করার দায়িত্ব এবং বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দুটি পৃথক বিষয়।    বাংলাদেশে আয় থাকলেও তা বিবেচনায় নিতে হবে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ও করের হিসাবে রেসিডেন্টদের সাধারণভাবে বিশ্বব্যাপী আয় রিটার্নে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ব্যাংকের সুদ বা বাড়িভাড়া থেকে আয় থাকলে সেটি প্রযোজ্য নিয়মে রিপোর্ট করতে হতে পারে। বিদেশি আয় রিপোর্ট করা এবং বিদেশি অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দেওয়া পৃথক দায়িত্ব।    বিদেশি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ফিনসেনের এফবিএআর নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযোজ্য মার্কিন ব্যক্তির বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলোর সম্মিলিত মূল্য ক্যালেন্ডার বছরের কোনো সময়ে ১০ হাজার ডলার ছাড়ালে এফবিএআর জমা দিতে হয়। সীমাটি শুধু একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য নয়। একাধিক রিপোর্টযোগ্য অ্যাকাউন্টের মোট মূল্য বিবেচনায় নিতে হয়। এটি ফিনসেন ফর্ম ১১৪ দিয়ে আলাদাভাবে জমা দেওয়া হয়।    তবে বাংলাদেশে নিজের নামে সরাসরি জমি বা ফ্ল্যাট থাকলেই সেই সম্পত্তি এফবিএআর কিংবা ফর্ম ৮৯৩৮ এ দেখাতে হবে, এমন নয়। সরাসরি মালিকানাধীন স্থাবর সম্পত্তি এবং বিদেশি আর্থিক অ্যাকাউন্ট এক বিষয় নয়। সম্পত্তি কোনো বিদেশি কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাখা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে মালিকানার অংশের জন্য আলাদা রিপোর্টিংয়ের প্রশ্ন আসতে পারে।    ফ্যাটকার আওতায় ফর্ম ৮৯৩৮ এর শর্তও এফবিএআর থেকে আলাদা। নির্দিষ্ট বিদেশি আর্থিক সম্পদের মূল্য, ফাইলিং স্ট্যাটাস ও করদাতা কোথায় বসবাস করেন, তার ওপর এই ফর্ম জমা দেওয়ার সীমা নির্ভর করে। একটি ফর্ম জমা দিলেই অন্যটির দায়িত্ব শেষ হয় না। আবার তথ্য রিপোর্ট করার প্রয়োজন মানেই একই অঙ্কের ওপর নতুন করে ট্যাক্স ধার্য হওয়া নয়।    সন্তানসংক্রান্ত ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রেও সঠিক বছরের নিয়ম দেখা জরুরি। আইআরএসের হিসাবে ২০২৫ সালে যোগ্য প্রতিটি শিশুর জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। ২০২৬ সালের জন্যও সর্বোচ্চ অঙ্ক ২ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারিত রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ ক্রেডিট মানেই সবাই সমপরিমাণ নগদ রিফান্ড পাবেন না। আয়, শিশুর যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত পূরণ করতে হবে।    আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিটের অঙ্কও সবার জন্য এক নয়। ২০২৬ সালে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্রেডিট ৮ হাজার ২৩১ ডলার। ২০২৫ সালে এই সর্বোচ্চ অঙ্ক ছিল ৮ হাজার ৪৬ ডলার। আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, যোগ্য সন্তানের সংখ্যা ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের শর্ত অনুযায়ী প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয়।    রিটার্ন তৈরির আগে প্রযোজ্য আয়ের কাগজপত্র এবং ক্রেডিট বা ডিডাকশনের প্রমাণ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মার্কেটপ্লেস থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া থাকলে ফর্ম ১০৯৫ এ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের সঙ্গে আগাম পাওয়া সহায়তার হিসাব মিলিয়ে নিতে হয়।    অভিবাসনসংক্রান্ত স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও তিন বছরের ট্যাক্স রিটার্ন সব সময় জমা দিতেই হবে, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। ইউএসসিআইএসের ফর্ম আই ৮৬৪ এর নির্দেশনায় সর্বশেষ ট্যাক্স বছরের রিটার্ন বা ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা বোঝাতে প্রয়োজন অনুযায়ী আগের বছরের তথ্যও দেওয়া যায়।    সবশেষে ট্যাক্স প্রিপেয়ারার বাছাইয়ের সময় যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রিটার্ন প্রস্তুতকারীকে রিটার্নে সই করতে এবং নিজের পিটিআইএন দিতে হয়। ফাঁকা রিটার্নে সই করা যাবে না। জমা দেওয়ার আগে আয়, দাবি করা খরচ, ক্রেডিট ও রিফান্ডের ব্যাংক তথ্য নিজে পড়ে দেখে রিটার্নের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি জটিল হলে সিপিএ বা এনরোলড এজেন্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৩:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ একটি মাসেও সব বিল পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাসের সব বিল মেটাতে পারছেন না ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোর উপশহরে বাড়ি থেকে অন্তত ৫ জনের মরদেহ সরিয়েছে পুলিশ, বাড়ছে রহস্য ও উৎকন্ঠা

আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কেনা গাড়ির জন্য ক্লিন ভেহিকল ট্যাক্স ক্রেডিট আর প্রযোজ্য নয়। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার

0 Comments