ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি, তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা আটক
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে গুলি করার ঘটনায় তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে জুলিও সেসার সোসা-সেলিস নামে ওই ব্যক্তির পায়ে গুলি লাগার ঘটনায় কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো সিলগালা রয়েছে। একই ঘটনায় মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে হামলা এবং অপরাধের মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল এলাকায় চালানো ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময়। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সবচেয়ে বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্ত্রো এবং আরেক কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ডুপ্লেক্সে যান। সেখানে কাস্ত্রো বাড়িটির সামনের দরজা দিয়ে গুলি চালিয়ে সোসা-সেলিসের উরুতে আঘাত করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরেক ব্যক্তি ঝাড়ুর হাতল ও তুষার সরানোর কোদাল দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিলেন।
তবে পরে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই ঘটনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা সোসা-সেলিস ও অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
কাস্ত্রো ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ছাড়া আইসিই থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে মে মাসে তাকে মিনেসোটার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের একটি জেলে রাখা হয়। মিনেসোটায় হস্তান্তরের জন্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে অ্যাবট তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুমোদন না করায় কাস্ত্রোকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কাস্ত্রো। এই ঘটনায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
এদিকে সোসা-সেলিসের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ যথেষ্ট নয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাটি আড়াল করতেই তিনি তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও গুরুতর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি, তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা আটক
পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক
নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক
নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে রোমানিয়ায় নতুন করে অভিযোগপত্র দিয়েছে দেশটির প্রসিকিউটররা। শুক্রবার রোমানিয়ার সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাস তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেট ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেছিলেন। ৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে তার ভাই ট্রিস্টান টেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে তাদের যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন রোমানিয়ান মামলায় ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে দুই ভাইই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রোমানিয়ার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, অ্যান্ড্রু টেট ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে প্রথমে নিজের প্রতি আবেগগতভাবে আকৃষ্ট করেন। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোরজবরদস্তি, মানসিক চাপ ও শারীরিক আগ্রাসনের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ায় ওই কিশোরীকে যৌনভাবে শোষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অ্যান্ড্রু টেট ওই কিশোরীকে যৌনভাবে স্পষ্ট ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি তার মাধ্যমে ভিডিওচ্যাটভিত্তিক যৌন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম থেকে টেট ভাইয়েরা মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ আয় করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং টেটের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধের রায়ও হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রিস্টান টেটও তার ভাইকে সহযোগিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তিনি ওই কিশোরীর ভিডিওচ্যাটের হিসাব পরিচালনা করতেন এবং তার কার্যক্রম নজরদারি করতেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরীটির ওপর ট্রিস্টান শারীরিক আগ্রাসন চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কথিত যৌন শোষণ থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ পরে বিলাসবহুল গাড়ি কেনায় ব্যবহার করা হয়। রোমানিয়ার তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ওই অর্থ ব্যবহার করে চারটি গাড়ি কেনা হয়েছিল। গাড়িগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তদন্তকারীরা এসব গাড়ি জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে আরেক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রোমানিয়ার দুটি সম্পত্তিতে ওই ঘটনা ঘটে। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট ২০১৬ সাল থেকে রোমানিয়ায় বসবাস করছিলেন। দেশটিতে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। এরই মধ্যে নতুন অভিযোগপত্র দেওয়া হলো। যুক্তরাজ্যেও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের প্রত্যর্পণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই চলছে। টেট ভাইদের আইনজীবী ইউজেন কনস্টান্টিন ভিদিনিয়াক বলেন, তার মক্কেলরা এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে অ্যান্ড্রু বা ট্রিস্টান টেট দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। তার দাবি, আগের অভিযোগপত্র নিয়ে আদালতে গুরুতর কিছু অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছিল, যার কারণে মামলাটি বিচারে এগোতে পারেনি। আইনজীবী আরও বলেন, নতুন অভিযোগপত্রের প্রতিটি বিষয় তারা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবেন। কোনো প্রমাণগত, আইনি বা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো চ্যালেঞ্জ করা হবে। তার মতে, মামলার আগের কার্যক্রমের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি টেট ভাইদের জামিনে মুক্তির পক্ষেও যুক্তি দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মিয়ামির একটি আদালতে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে অ্যান্ড্রু টেট আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রোমানিয়ায় আটক থাকলে তিনি অন্যায্যভাবে দীর্ঘমেয়াদি বা যাবজ্জীবন সাজা পেতে পারেন। অন্যদিকে ট্রিস্টান টেট দাবি করেন, কারাগারে থাকায় তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। যুক্তরাজ্যে অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে মোট ৪২টি অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগ সাতজন ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানবপাচারে সহায়তা বা তা আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাইয়েও অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে শিশুদের অশালীন ছবি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোমানিয়ার নতুন অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ
কিয়েভে কোকা-কোলার কারখানায় রুশ ড্রোন হামলা, জেলেনস্কির দাবি ‘আমেরিকার জন্য স্পষ্ট বার্তা’
থেরাপি সেশনে রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
আমেরিকায় নতুন? ৯১১ ছাড়াও জরুরি সময়ে কাজে লাগবে যেসব নম্বর, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ চালু করল টেসলা