বিশ্ব

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৫:৩৭
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।

 

নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

 

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।   নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।   এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ১৫:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

মোদিকে শুভেচ্ছা, দিদির প্রতি অটল আনুগত্য—জল্পনা উড়িয়ে দিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

মোদিকে শুভেচ্ছা, দিদির প্রতি অটল আনুগত্য—জল্পনা উড়িয়ে দিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানিতে অংশ নিতে ক্যাপিটল হিলে উপস্থিত হন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস । ছবি: এএফপি

এপস্টিন ব্যক্তিগত তথ্য ও পরকীয়ার ছবি ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করেছিলো: বিল গেটস

ছবি: সংগৃহীত
সামরিক মহড়ায় চীনের দিক অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করল তাইওয়ান

তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত উচ্চগতির মোবাইল রকেট সিস্টেম এইমার্স ব্যবহার করে সামরিক মহড়ায় চীনের দিকে অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করেছে। বুধবার তাইচুং এলাকায় অনুষ্ঠিত এই লাইভ-ফায়ার অনুশীলনকে সম্ভাব্য চীনা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মহড়ায় ব্যবহৃত এইমার্স (উচ্চগতির মোবাইল আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট নিক্ষেপে সক্ষম, যা নিক্ষেপের পর উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় গিয়ে পড়ে। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এবারই প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালীর দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।   সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, “বর্তমান শত্রু হুমকির কারণে আমরা এইমার্স প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব। দেশ রক্ষায় আমাদের সংকল্প অটল।” সামরিক সূত্র অনুযায়ী, মহড়ায় দ্রুত মোতায়েন ও লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। “শুট অ্যান্ড স্কুট” কৌশলের মাধ্যমে লঞ্চারগুলো দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে আঘাত হেনে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যায়, যা আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের এই মহড়ায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজারসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করাই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।   এই বিষয়ে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই বলেন, “আমরা একটি দ্বীপ দেশ, তাই পূর্ব বা পশ্চিম দিকে গুলি চালানো সম্ভব। তাই তারা পশ্চিম দিক বেছে নিয়েছে।” চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার অবস্থান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এইমার্স ব্যবহারের মাধ্যমে তাইওয়ান তার “অসম যুদ্ধ কৌশল” আরও শক্তিশালী করছে, যার লক্ষ্য বড় সামরিক শক্তির বিপরীতে দ্রুত, মোবাইল এবং নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা তৈরি করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য আরও ৮২টি এইমার্স সিস্টেম বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শীর্ষ বৈঠকের পর সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১১, ২০২৬ ৫:২৩
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতা, জলকামান ব্যবহার পুলিশের

আবের কাওয়াস। ছবি: এএফপি

নিউইয়র্ক সিনেটে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হওয়ার লড়াইয়ে আবের কাওয়াস

ভারতীয় নাবিক নিখোঁজের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জবাব চাইল নয়াদিল্লি

ভারতীয় নাবিক নিখোঁজের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জবাব চাইল নয়াদিল্লি

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাঙ্কার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য প্রণালীটি বন্ধ থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরের বরাতে জানা যায়, মার্কিন সামরিক অভিযানের জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, দেশটির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।   হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে।   ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে এই নৌপথে অস্থিরতা চললে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব অভিযান আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ এবং ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও সেন্টকম উল্লেখ করেছে।   মার্কিন হামলার পর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফার্স প্রদেশের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।   তবে হরমুজ প্রণালী বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বন্ধ হয়েছে, তা নিয়ে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। ইরান প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং নৌপথে কিছু জাহাজের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক নজর রাখছেন।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা একাধিকবার বেড়েছে। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়া, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।   আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং পাল্টাপাল্টি ঘোষণার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ২১:৩৬
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ

হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ

জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার

জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার

0 Comments