বিশ্ব

আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২:৩৬
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচটি দেশ প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইইউর বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে ইউরোপের বাইরে কোনো দেশে রাখা হতে পারে।

 

জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশনকে ভিত্তি করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সদস্যদেশগুলো ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব স্থাপন করতে পারবে। সম্ভাব্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

 

এই উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে রিটার্ন হাব চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের এসব রিটার্ন হাবে রাখা হতে পারে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

 

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও প্রস্তাবটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর লক্ষ্য হলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করা।

 

বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। নতুন রেগুলেশন কার্যকর হলে নতুন আশ্রয় আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে এবং বাতিল হওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

 

ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যেসব অভিবাসীর বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়, তাদের বড় একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

 

তবে রিটার্ন হাব পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, আপিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার নির্যাতন বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন।

 

নতুন রিটার্ন হাব ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইউরোপে থাকা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইউরোপীয় আইন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের
আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপের পাঁচ দেশের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচটি দেশ প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইইউর বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে ইউরোপের বাইরে কোনো দেশে রাখা হতে পারে।   জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশনকে ভিত্তি করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সদস্যদেশগুলো ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব স্থাপন করতে পারবে। সম্ভাব্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।   এই উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে রিটার্ন হাব চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের এসব রিটার্ন হাবে রাখা হতে পারে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।   বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও প্রস্তাবটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর লক্ষ্য হলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করা।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। নতুন রেগুলেশন কার্যকর হলে নতুন আশ্রয় আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে এবং বাতিল হওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।   ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যেসব অভিবাসীর বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়, তাদের বড় একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।   তবে রিটার্ন হাব পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, আপিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার নির্যাতন বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন।   নতুন রিটার্ন হাব ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইউরোপে থাকা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইউরোপীয় আইন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২:৩৬
২ ইসরায়েলি নিহতের ঘটনায় দুই দিনে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

২ ইসরায়েলি নিহতের ঘটনায় দুই দিনে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে

সিরিয়া-ইসরায়েল নিরাপত্তা চুক্তির পথে? গোলান মালভূমির অধিকার ছাড়বে না দামেস্ক

মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করায় দণ্ডিত ব্রিটিশ নারী ইসাবেল রোজ। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ অভিযোগ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা! ব্রিটিশ নারীকে কারাগারে দিল হংকং আদালত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি জাহাজে হামলার জবাব দেওয়া হবে, ইউক্রেনকে কড়া বার্তা আরাগচির

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।   ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে।   রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২৩:৩৬
হামলার পর টিয়ারগার্টেন এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে জার্মান পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত

আল-আকসা সংলগ্ন নিজের বাড়ির সামনে ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। ছবি: সংগৃহীত

আল-আকসার পাশের ছোট্ট ঘরের জন্য ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব, ফিরিয়ে দিলেন ফিলিস্তিনি নারী

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাতে নির্মাণস্থলে ইট বহন করছে ইউয়ানইউয়ান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ জোটাতে মায়ের সাথে কড়া রোদে ইট টানছেন চিনা তরুণ

অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামাল দিতে নতুন পরিকল্পনা করছে বার্সেলোনা। ছবি: সংগৃহীত
'আর একজন পর্যটকও নয়’! পর্যটকের চাপে অতিষ্ঠ ইউরোপের জনপ্রিয় শহর

অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমাতে স্পেনের জনপ্রিয় শহর বার্সেলোনা নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। শহর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা, আবাসন ব্যবস্থা এবং নগর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ জাহাজে আসা পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন কর বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পর্যটনপ্রবণ এলাকায় চাপ কমানোর উদ্যোগ।   বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বার্সেলোনায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন। শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত, খাবার ও সংস্কৃতির আকর্ষণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, রাস্তায় ভিড়, শব্দদূষণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।   বিশেষ করে ক্রুজ পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ের জন্য হাজার হাজার পর্যটক শহরে প্রবেশ করলেও তারা একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় তৈরি করেন। ফলে অবকাঠামো ও স্থানীয় পরিষেবার ওপর চাপ পড়ে।   বার্সেলোনা এর আগেও পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়া বাসার সংখ্যা সীমিত করা, পর্যটন কর ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং কিছু এলাকায় পর্যটকের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২১:৩৭
গলার বিশেষ কলার খুলে বিড়ালটির তল্লাশি চালাচ্ছেন কারা কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কারাগারে ধরা পড়ল মাদক পাচারকারী বিড়াল, তদন্ত শুরু

ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো ফিলিস্তিনি মসজিদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

মোদির ইনস্টাগ্রাম রিলে ২৪ ঘণ্টায় ৩০ কোটির বেশি ভিউ, নতুন বিশ্বরেকর্ডের দাবি

0 Comments