হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহি দাবি করেছে তেহরান।
শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং তাতে ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যু ‘সশস্ত্র ডাকাতি ও রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতার’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। নিহতদের পরিবার, স্বজন, ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাঘায়েই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা এখন গুরুতর হুমকির মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন। ওইদিন হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানা যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয় নাগরিক।
হামলার পরপরই তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। পরদিন বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ ওই তিনজনই নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা হামলার ঘটনা বৈশ্বিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের কড়া অবস্থানের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreরাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের। জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি। সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে। সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।
মায়ের কোলে থাকা নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
মালিকের মতোই খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল কুকুর, চিকিৎসায় ৪০০ ডলার খরচের পর মিলল মজার ব্যাখ্যা
হোটেলের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন চীনের একদল চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে ক্লান্তিতে অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে পড়েন তাঁদের কয়েকজন। তাঁদের একজন মেঝেতে শুয়েই ক্যামেরার দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান। চিকিৎসকদের এই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের জুনে, চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুঝৌ শহরের ফুজিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউনিয়ন হাসপাতালে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীর মস্তিষ্কে দুটি গুরুতর সমস্যা ছিল। একটি হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে অ্যানিউরিজম, অর্থাৎ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল হয়ে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা। অন্যটি ছিল ব্রেনস্টেমে হেমানজিওব্লাস্টোমা নামের বিরল ধরনের টিউমার। মস্তিষ্কের এই অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, একটি সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্যটির জটিলতা বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করতে হয়। অস্ত্রোপচারে অংশ নেন তিনজন সার্জন, ছয়জন অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এবং আটজন নার্স। প্রায় ৩২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মোট ছয়টি ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় মনোযোগ ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা কেবল অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে তাঁদের। অস্ত্রোপচার শেষে তোলা ছবিতে চিকিৎসকদের শারীরিক ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েকজন সার্জন অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁদের একজন ক্লান্ত অবস্থাতেও ক্যামেরার দিকে দুই আঙুল তুলে বিজয়চিহ্ন দেখান। ছবিটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরায়। তবে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর রোগী বেঁচে যান। তবে তাঁর পরবর্তী শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সহজলভ্য নয়। ঘটনাটি চিকিৎসকদের দক্ষতা, দলগত কাজ এবং জটিল চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে চিকিৎসাকর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে আনে। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সিএনটিভির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
২২ বছর মুখ থেকে মেকআপ না তোলায় জটিল ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন চিনা নারী
ফিলিস্তিনের গাজায় বিদ্যুৎ নেই, যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী কারিম
ভারত মহাসাগরে আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরত পাঠাল শ্রীলঙ্কা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রেসিডেন্ট অনিরবচ্ছিন্ন নয়, এমন চারটি মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন লুলা। নির্বাচনের প্রথম দফায় লুলার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। গত ৪ অক্টোবরের ভোটে তিনি ৪৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ভোট পান, আর লুলার পক্ষে ভোট পড়ে ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই নিয়মেই দুই নেতার মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ২৫ অক্টোবর। প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। লুলার এই জয়কে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং ডানপন্থী রাজনীতির পরিচিত মুখ। নির্বাচনী প্রচারে তিনি জননিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের ঋণের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে লুলা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা, ঋণের চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত লুলার পক্ষে ফল যায়। লুলা এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন তিনি এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় মেয়াদ শুরু করেন। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আরও চার বছরের জন্য দেশটির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে উঠে আসা লুলা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে নির্বাচনে জয় পেলেও পরবর্তী মেয়াদে লুলার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে। দেশটির কংগ্রেসে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল শক্তির প্রভাব বেড়েছে, যা তাঁর সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারে। সরকারি ঋণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সুদের হার নিয়েও চাপ সামলাতে হবে প্রশাসনকে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ কমানো এবং বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলাও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ফলে নির্বাচনী জয়কে প্রশাসনিক সাফল্যে রূপ দেওয়াই হবে লুলার নতুন মেয়াদের বড় পরীক্ষা। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে রাতভর ঝোপে লুকিয়ে থাকলেন চীনা পর্যটক, অভিযুক্তের কারাদণ্ড
সৌন্দর্য ও ভালো বিয়ের আশায় মেয়েদের পা বেঁধে ছোট রাখার প্রথা ছিল প্রাচীন চীনে