সবুজ মাঠে প্রবাসীদের মিলনমেলা, নিউইয়র্কে “বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল” জমকালো আয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো “বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল”। গত ৭ জুন দক্ষিণ জামাইকার আর্চি স্প্রিগনার পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসে খোলা মাঠে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মিলনমেলার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে।
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেলা, উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অধিকাংশ আয়োজন ইনডোর ভেন্যু বা শহরের কংক্রিটঘেরা পরিবেশে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই বাস্তবতায় সবুজ মাঠে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যাল প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের খোলা মাঠের অনুভূতি ফিরিয়ে আনে।
আয়োজক সংগঠন পালস এবং এর মূল কর্ণধার সৈয়দ হাসান আল বান্না’র উদ্যোগে এই ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উৎসব গ্রুপের রায়হান জামান। অনুষ্ঠানে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল উৎসব গ্রুপ, হিলসাইড হোন্ডা এবং সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই হিসেবে ছিল আশা হোম কেয়ার এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার।
বিকেল ৪টায় ফিতা কেটে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান এবং আশা গ্রুপের প্রধান আকাশ রহমান। তবে দুপুর থেকেই পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলের আলো নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
সবুজ ঘাসে ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে কেউ পরিবার নিয়ে বসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। শিশুরা মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ করে সময় কাটায়। দূর থেকে ভেসে আসা সংগীতের সুর, হাতে ঝালমুড়ি ও চায়ের কাপ মিলিয়ে পরিবেশটি রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। আয়োজনে অনেকের কাছে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে, নিউইয়র্ক নয়, যেন বাংলাদেশের কোনো বৈশাখী মেলা।
মাঠের একপাশে স্থাপন করা হয় মূল মঞ্চ। পাশাপাশি তিন পাশে সারিবদ্ধভাবে ছিল ৭০টিরও বেশি স্টল। পোশাক, গহনা, খাবার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।
বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে টানা ছয় ঘণ্টা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। এতে ব্যান্ড সংগীত, ফ্যাশন ওয়াক এবং দেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেন কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ, তৃণীয়া হাসান, রেশমী মির্জা, নাজু আখন্দ, প্রতীক হাসান, পারভেজ সাজ্জাদ এবং ব্যান্ড ইওগ। ফ্যাশন ওয়াকের পরিকল্পনায় ছিলেন ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনি।
আয়োজনে বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সৈয়দ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান অ্যালিসিয়া এল. হাইন্ডম্যান, কমিউনিটি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ক্লাবের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং মেয়র অফিসের ডেপুটি চিফ বিজনেস ডাইভারসিটি অফিসার ও সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহানসহ অনেকে।
প্রতি ঘণ্টায় র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় উৎসব গ্রুপের উদ্যোগে। গ্র্যান্ড র্যাফেল ড্রতে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান টিকিট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়, যা পান তানিয়া রহমান।
পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। ডিজে রাহাতের ইভেন্ট পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি ছিল সুসংগঠিত ও গতিশীল। উপস্থাপক সাদিয়া খন্দকার তার সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্তভাবে পরিচালনা করেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না। এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত। ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে। তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে। প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের
বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই
ভাইকে বিয়ে করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন। মুলিন বলেন, তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে মুলিন একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিবাসন আবেদনের সময় ওমর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার তাঁর শুরু থেকেই ছিল না, তাহলে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। মুলিনের বক্তব্যের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি চলমান তদন্ত, তদন্তের নির্দিষ্ট কৌশল বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ইলহান ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভাইকে বিয়ের অভিযোগ বহু বছর ধরে অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি তাঁর ভাই, এমন ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর। ওমর ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালে তিনি আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওমর তাঁর এলমির সঙ্গে সম্পর্ককে স্বল্পস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সময় তারা আলাদা ছিলেন। ওমরকে ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ প্রথমে কয়েক বছর আগে অনলাইন আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ওমর কোনো সময়ই এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য বিয়ে করেছিলেন, এমন দাবি স্বীকার করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভ্যান্স মার্চে দাবি করেছিলেন, ওমর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। ট্রাম্পও মে মাসে একই ধরনের অভিযোগ করেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টিকে শুধু পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে নয়, চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইলহান ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। ফলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে সরকার প্রমাণ করতে চাইলে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ থাকতে হয় এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিবাসন আইন এড়ানোর উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো আদালতের রায় এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমরের বিরুদ্ধে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা
অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে নতুন বিল
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর কাপ্রি ডিরামাস। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন আর করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি ও তাঁর বাগদত্তা তায়াসিয়া থমাস। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডার অল্টামন্টে স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তায়াসিয়া। ঠিক সেই সময় খবর আসে, বিয়ের পথে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কাপ্রি। হারমিটস ট্রেইল ও স্টেট রোড ৪৩৬ এলাকার কাছে গাড়ি চালানোর সময় কাপ্রির গাড়ির সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর তায়াসিয়া বিয়ের পোশাক পরেই গাড়িতে করে অ্যাম্বুলেন্সের পিছু নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কাপ্রিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখেন। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তায়াসিয়া বলেন, তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে বিষয়টি খুবই ভীতিকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল। গাড়িতে বসে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, তিনি যেন কাপ্রিকে হারিয়ে না ফেলেন। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর কাপ্রি কিছু সময় অচেতন ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরও তাঁর কাছে বিয়েটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাসপাতালেই বিয়ে করার বিষয়ে দুজন সম্মত হন। পরে হাসপাতালেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিবেশেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তাঁরা। তায়াসিয়া বলেন, সেই সময় কাপ্রির পাশে থাকতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিয়ের ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য তাঁদের চারপাশের সব উদ্বেগ ও অস্থিরতা যেন থেমে গিয়েছিল। দুর্ঘটনায় কাপ্রির দুই হাত, পাঁজর ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে। এসব আঘাতের চিকিৎসায় তাঁকে তিনটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কাপ্রি বিয়ের আংটিটিকে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ছয় বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি এখন সারাজীবনের বন্ধনে নিয়ে যেতে চান। দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও দুজনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে বিয়ে না হলেও হাসপাতালেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন। এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীরা দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, সিএনএন নিউজসোর্স
২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, গ্রিন কার্ডের আবেদন চলাকালে আইসের হাতে আটক
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব