সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা, মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ০:১৮
মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ
মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল এল-সায়েদ তার প্রথম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। “ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াই” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিজ্ঞাপনটি এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন।

 

বিজ্ঞাপনে আবদুল এল-সায়েদ বলেন, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করতে চান যেখানে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে চাপা পড়বে না। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৮ সালে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত একটি মুখ।

 

২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে মিশিগানে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসনটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের প্রচারণা মূলত তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর সমর্থন অর্জনের দিকে কেন্দ্রীভূত। তার নতুন বিজ্ঞাপনেও সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি কতটা ভোটারের কাছে সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

 

মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে, তার ওপর এই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতায় আবদুল এল-সায়েদের প্রথম প্রচার বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
চীনের সবচেয়ে ধনী নারী ঝৌ ছুনফেই, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই

কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন ঝৌ ছুনফেই। দিনে মজুরি পেতেন মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই তিনিই এখন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝৌর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ১১ বছর পর আবারও চীনের শীর্ষ ধনী নারীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন।   ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬’ তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন ঝৌ। তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদের মালিক হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারী হয়েছিলেন ঝৌ। এবারের তালিকায় তাঁর সম্পদের হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।   ১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌর। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান শেনজেনে। সেখানে একটি কারখানায় ঘড়ির কাচ তৈরির কাজ নেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল প্রায় ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ছাপার প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে নিজের উদ্যোগে একটি ছোট কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।   পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লেন্স টেকনোলজি স্মার্টফোনের পর্দার কাচ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের আবরণ সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে শেনজেনের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি ঝৌর সম্পদ ও ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। সে বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পান তিনি।   তবে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লেন্স টেকনোলজির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং রোবট তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হয় তারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই উদ্যোগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।   ঝৌর ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে। প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলেও ঝৌ এখন পরিচিত নাম।   হুরুনের ২০২৬ সালের তালিকায় চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নিজ উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন, আর ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তালিকা প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানটির মতে, চীনের উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত নারীদের বড় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।   সূত্র: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ২২:৫৮
যুক্তরাজ্যে সরকারি ভাতা জালিয়াতির দায়ে ৪০ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া আতিখুর রহমান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নারী সেজে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুরের কারাদণ্ড

মেক্সিকোর হিদালগো অঙ্গরাজ্যের স্কুলে ডে অব দ্য ডেড উৎসবে পোশাকে আগুন লেগে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে ১২ বছরের ছাত্রী জাইরা ওসোরিও। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোমবাতি থেকে ছাত্রীর পোশাকে আগুন, শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ

ভিলা ভি ওডিসিতে দীর্ঘদিন বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে জাহাজে উঠেছিলেন জোয়েল গ্রেইফ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন

নকল মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি মদ পান করে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, গ্রেপ্তার ১১

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।   রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।   দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।   এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ২২:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করার পর কর্মস্থলে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন ডা. নাদিম ক্রো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের সমালোচনা করে পোস্ট, সাময়িক বরখাস্ত ব্রিটিশ চিকিৎসক

কানাডার ওন্টারিওতে আপত্তিকর পোশাক পরে বিতর্কে জড়ানো স্কুল বাসচালক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কানাডায় স্কুল বাসে আপত্তিকর পোশাক পরায় ট্রান্সজেন্ডার চালক বরখাস্ত

উটাহে প্রাচীন ডাইনোসরের জীবাশ্ম খনন

১৪ কোটি বছর আগের জীবাশ্মের সন্ধান, উটাহে নতুন ডাইনোসর প্রজাতি আবিষ্কারের সম্ভাবনা

৩৮ জনকে হত্যার অভিযোগে মোজেস মুজুরিজিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন উগান্ডার সেনাপ্রধান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা ও খেয়ে ফেলার অভিযোগে কথিত সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার

উগান্ডায় ১৫ বছরে ৩৮ জনকে হত্যা করে তাঁদের দেহ খেয়ে ফেলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। আটক ব্যক্তির নাম মোজেস মুজুরিজি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির মাসাকা, ইবান্দা ও কাজো জেলায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছেন সেনাপ্রধান। তবে ৩৮ জনকে হত্যার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   গত ২৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাইনেরুগাবা গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উগান্ডার ইতিহাসের ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার ও নরখাদক হিসেবে বর্ণনা করেন। একই পোস্টে তাঁকে প্রকাশ্যে বিচারের মুখোমুখি করার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথাও বলেন সেনাপ্রধান। তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৮টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ, ভুক্তভোগীদের পরিচয় কিংবা তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।   উগান্ডার সংবাদমাধ্যম ডেইলি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসাকা ও আশপাশের এলাকায় ২০১২ ও ২০১৩ সালে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা তাঁকে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। অতীতে তাঁকে একাধিকবার আটক করা হলেও হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে পুরোনো মামলায় আলোচিত ফ্রেড মুজুলিজি এবং সেনাপ্রধানের ঘোষণায় উল্লেখ করা মোজেস মুজুরিজি একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরেও মাসাকা অঞ্চলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উগান্ডা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয় এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এই মামলার আসামিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের ঘোষণায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়ের সম্পর্ক পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   পুলিশ পুরোনো হত্যাকাণ্ডের নথি আবার পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি আগে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতাও যাচাই করছেন। তবে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর সঙ্গে আটক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সেনাপ্রধানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণার বিষয়টিও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তাঁর অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। ফলে ৩৮ জনকে হত্যা ও তাঁদের দেহ খেয়ে ফেলার অভিযোগটি আপাতত সেনাপ্রধানের বক্তব্য এবং তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: ডেইলি মনিটর, উগান্ডা পুলিশ, পালস উগান্ডা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২৩:৫৬
২০২৭ সালে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সরকারি কাজে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার

ফরাসি ভাষায় দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এক্সপ্রেস এন্ট্রিতে বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে কানাডা সরকার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফরাসি ভাষা শিখে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরা

নিলামে বিক্রি হওয়া ন্যানোটাইর‍্যানাসের কঙ্কাল ‘জোডি’

ক্ষুদ্রাকৃতির টি-রেক্সের আত্মীয় ডাইনোসরের কঙ্কাল নিলামে বিক্রি হলো ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে

0 Comments