মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও
যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের জন্য তাদের মর্যাদাপূর্ণ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।   এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মেধাবীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অনন্য সুযোগ পাবেন। আবেদনের শেষ সময় নির্দিষ্ট না থাকায় পদ পূরণের আগেই আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই ইন্টার্নশিপটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ কাজের সুযোগ নয়, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও শিক্ষার পরিধি বিস্তারের একটি চমৎকার মাধ্যম। নির্বাচিত ইন্টার্নরা নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও শাণিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।   সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সিএসআইএস তাদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট হারে ভাতাও প্রদান করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্বস্তিদায়ক কাজের পরিবেশ ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।   আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত লিংকে (https://tinyurl.com/nhw84wm2) প্রবেশ করে সহজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এই দারুণ সুযোগের মূল কৃতিত্ব সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের।   শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম অপরচুনিটিজ সার্কেল এই তথ্যটি প্রকাশ করলেও তারা এর মালিকানা দাবি করে না। মূল কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই নিয়মনীতি বা তথ্যে পরিবর্তন আনতে পারে, তাই আগ্রহীদের অফিশিয়াল সোর্স থেকে নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ
সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় চলাচলকারী ১০ লাখেরও বেশি ক্রাইসলার (Chrysler) গাড়ি সম্প্রতি রিকল বা মেরামতের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA)। একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আমেরিকান ব্র্যান্ডটি তাদের র‍্যাম ১৫০০ (Ram 1500) মডেলের গাড়িগুলোর সিটবেল্ট বাকল অ্যাঙ্কর সঠিকভাবে সংযুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।   ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৈরি করা এই মডেলের গাড়িগুলোর দ্বিতীয় সারির সিটবেল্ট অ্যাঙ্করগুলোতে ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা কেন্দ্রীয় মোটরযান নিরাপত্তা মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, গাড়ি চালানোর নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বা দুর্ঘটনার সময় এই ত্রুটিপূর্ণ সিটবেল্টের কারণে যাত্রীরা মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। তবে সামনের সারির সিটবেল্টগুলোতে কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।   এই রিকল প্রক্রিয়ার আওতায় বিপুল সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২ লক্ষ ৭১ হাজার ২৯৪টি গাড়ি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া কানাডায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৩৮টি, মেক্সিকোতে ১৫ হাজার ৮৮টি এবং উত্তর আমেরিকার বাইরের দেশগুলোতে আরও ৭৪ হাজার ৮৪টি র‍্যাম গাড়ি এই ত্রুটির শিকার হয়েছে। র‍্যাম-এর মূল প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিস (Stellantis) জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ সিটবেল্টের কারণে এখন পর্যন্ত একজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১৮ আগস্ট, ২০২৬ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের কাছে চিঠির মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   রিকলের আওতাভুক্ত গাড়ির চালকদের তাদের নিকটস্থ ডিলারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে সিটবেল্ট বাকল অ্যাঙ্করটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বডির সাথে সঠিকভাবে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে। গ্রাহকরা চাইলে ক্রাইসলারের কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে (১-৮০০-৮৫৩-১৪০৩) যোগাযোগ করে ‘৬৭ডি’ (67D) রিকল নম্বরটি উল্লেখ করে বিস্তারিত জানতে পারবেন।   এছাড়া, ৬ আগস্ট, ২০২৬ থেকে NHTSA.gov ওয়েবসাইটে গিয়ে গাড়ির ইন্স্যুরেন্স কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কাগজ বা ড্যাশবোর্ডে থাকা ১৭-ডিজিটের ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (VIN) দিয়েও যাচাই করা যাবে গাড়িটি রিকলের অন্তর্ভুক্ত কি না। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ব্রেক লাইট ফেইলিউরের কারণেও প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি গাড়ি এবং ২ হাজারেরও বেশি টো-ট্রেইলার মডিউল রিকল করতে হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
জিরো প্রিমিয়ামের আড়ালে কমছে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের সুবিধা, বিপাকে মার্কিন প্রবীণরা
জিরো প্রিমিয়ামের আড়ালে কমছে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের সুবিধা, বিপাকে মার্কিন প্রবীণরা

২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ (এমএ) প্ল্যানগুলোতে এক নীরব পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। কাগজে-কলমে মাসিক প্রিমিয়াম শূন্য ডলার (০$) থাকলেও, নীরবে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রবীণদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্রোসারি কার্ড এবং ডেন্টাল ভাতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক সুবিধাগুলো। এর ফলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট আয়ে চলা লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিক চরম বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন। আগামী জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের কাছে নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে।   নতুন বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের বাজার প্রায় ৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ১৩ শতাংশ ব্যক্তিগত এমএ-পিডি গ্রাহক সরাসরি প্ল্যান বাতিলের শিকার হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সুবিধা কমার একটি বাস্তব উদাহরণ দেখা যায় ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ নাগরিকের ক্ষেত্রে; যার ত্রৈমাসিক গ্রোসারি কার্ডের ভাতা ১২৫ ডলার থেকে কমিয়ে ৭৫ ডলার করা হয়েছে এবং ডেন্টাল ভাতা ৩,০০০ ডলার থেকে এক ধাক্কায় নেমে এসেছে মাত্র ১,৫০০ ডলারে। বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিজেদের ওপর আর্থিক চাপের অজুহাতে এসব সুবিধা কাটছাঁট করছে। জিরো প্রিমিয়াম বা পার্ট বি (Part B) প্রিমিয়াম কমানোর মতো চটকদার অফারগুলো বহাল থাকলেও এর পেছনের আসল সুবিধাগুলো অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।   সুবিধা কমার কারণে অনেকেই বিরক্ত হয়ে 'অরিজিনাল মেডিকেয়ার'-এ ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, না বুঝে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা একটি ভয়াবহ ফাঁদ হতে পারে। অরিজিনাল মেডিকেয়ারে নিজস্ব খরচের (আউট-অফ-পকেট) কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না, তাই সাধারণত মেডিক্যাপ (Medigap) পলিসির মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ওপেন-এনরোলমেন্ট সময়ের বাইরে মেডিক্যাপ কিনতে গেলে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের স্বাস্থ্যগত ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে কভারেজ দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে অথবা অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করতে পারে। ফলে অনেককেই বাধ্য হয়ে আনক্যাপড ২০ শতাংশ কো-ইন্স্যুরেন্সের বিশাল ব্যয়ের বোঝা টানতে হতে পারে।   এই জটিল পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য এমএ প্ল্যানগুলোতে আউট-অফ-পকেট সর্বোচ্চ সীমা সামান্য কমিয়ে ৯,২৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৭ ডিসেম্বরের (ওপেন এনরোলমেন্টের শেষ দিন) আগে গ্রাহকদের তাদের 'অ্যানুয়াল নোটিশ অফ চেঞ্জ' অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লাইন ধরে পড়তে হবে। অরিজিনাল মেডিকেয়ারে ফিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই লিখিতভাবে মেডিক্যাপ অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কোনো রকম তাড়াহুড়ো না করে বর্তমান এমএ প্ল্যানের ভেতরেই তুলনামূলক ভালো কোনো বিকল্প বেছে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বৈত নাগরিকদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দেশেরও নাগরিকত্ব রয়েছে) জন্য ভ্রমণ নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনোভাবেই বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করা যাবে না।   ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA)-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কেউ বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে এই আবেদন করলে তা নিয়মিতভাবেই বাতিল করে দেওয়া হবে। মূলত, মার্কিন নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা ইএসটিএ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।   এই কঠোর নিয়মটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো শিশুর পিতা-মাতা মার্কিন নাগরিক হলে, সেই শিশুটির মার্কিন নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা ডকুমেন্টেশন না থাকলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ত্যাগ করতে চাইলে অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুটির জন্য একটি মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।   এছাড়া, যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই তা নবায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশে প্রবেশের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা বাঞ্ছনীয়।   ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন দ্বৈত নাগরিকদের কর বিষয়ক আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাদের দেশটির কর আইন মেনে চলা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দ্বৈত নাগরিকদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে অভিজ্ঞ কোনো কর উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
অভিবাসী ট্রাক ড্রাইভারদের লাইসেন্স বাতিলের পর ট্রাকিং খাতে সামরিক সদস্যদের নিয়োগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাত ও সাপ্লাই চেইনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী ট্রাক চালকদের লাইসেন্স বাতিলের পর সৃষ্ট শূন্যস্থান পূরণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন "ফ্রিডম হলার্স" (Freedom Haulers) নামে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাবেক সামরিক সদস্যদের (ভেটেরান) কমার্শিয়াল ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় নিয়োগ দেওয়া। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স, যুদ্ধ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।   "ফ্রিডম হলার্স" প্রোগ্রামের অধীনে, যেসব ভেটেরানের সামরিক বাহিনীতে ভারী যানবাহন (২.৫ টনের বেশি) চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সরাসরি কমার্শিয়াল ড্রাইভিং লাইসেন্সের (CDL) জন্য স্কিল টেস্ট বা রোড টেস্ট ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন। আর যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তারা জিআই বিলের (GI Bill) মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে তারা আবাসন ভাতাও পেতে পারেন।   গত বছর থেকে মার্কিন পরিবহন মন্ত্রণালয় ট্রাক ড্রাইভারদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাই এবং লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে। অদক্ষ ও অবৈধভাবে ইস্যু করা লাইসেন্সধারী প্রায় হাজার হাজার অভিবাসী চালকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, "আমাদের রাস্তা থেকে বিপজ্জনক বিদেশি চালকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং আমেরিকার ট্রাকিং শিল্পে ভেটেরানদের যুক্ত করে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা হবে।"   এই উদ্যোগের ফলে ট্রাক ড্রাইভিং পেশায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেটেরানদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তা এই পেশার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও হরমুজ সংকটে ন্যাটো কি আরও সক্রিয় হবে? আঙ্কারা বৈঠকে বাড়ল জল্পনা

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এ বিষয়গুলো নিয়ে পৃথক আলোচনা করেছেন।   মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ন্যাটোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ন্যাটো সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক নজরদারি, আঞ্চলিক অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।   এদিকে জোটের সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।     হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।   হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।   মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বার্থরাইট সিটিজেনশিপ বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজেনশিপ’ আইনটি বর্তমানে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটিতে জন্মগ্রহণকারী বা প্রাকৃতীকৃত যেকোনো ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হন।   কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে এই নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়, চতুর্দশ সংশোধনী কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সবার জন্য সর্বজনীনভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেনি। মূলত অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করাই এই আদেশের লক্ষ্য, যার ফলে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু নাগরিকত্বহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চতুর্দশ সংশোধনীর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক পটভূমি। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আমান্ডা ফ্রস্ট জানান, ১৮৫৭ সালের কুখ্যাত ‘ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি কখনোই মার্কিন নাগরিক হতে পারবেন না। এই বৈষম্যমূলক ও কলঙ্কজনক রায়ের জবাব দিতেই ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চতুর্দশ সংশোধনী পাস করা হয়, যার মাধ্যমে সাবেক দাস এবং ক্রমবর্ধমান অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল।   পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে ‘ওং কিম আর্ক’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট চীনা বংশোদ্ভূত এক মার্কিনির পক্ষে রায় দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তবে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণ বর্তমানে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত; ৫০ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে এবং ৪৯ শতাংশ বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজার্স স্মিথের ১৯৮৫ সালের একটি গবেষণার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। স্মিথ বিশ্বাস করেন, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের থাকা উচিত, আদালতের নয়। তবে মজার বিষয় হলো, স্মিথ নিজেই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী। নিজের গবেষণাকে কট্টর অভিবাসীবিরোধী উদ্দেশ্যে এবং নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।   এদিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, আমেরিকার বাইরের বেশিরভাগ দেশই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতি থেকে ক্রমশ সরে আসছে। ইউরোপের সর্বশেষ দেশ হিসেবে আয়ারল্যান্ড ২০০৫ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে (৭৯ শতাংশ ভোটে) জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করে।   এর ফলে দেশটিতে অনেক শিশু রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার মতো জটিলতায় ভোগে, যেমনটি ঘটেছিল নাইজেরীয় অভিবাসীর সন্তান মরিয়ম সোবায়োর ক্ষেত্রে, যিনি আয়ারল্যান্ডে জন্মেও ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকত্বহীন ছিলেন। অধ্যাপক ফ্রস্ট মনে করেন, অভিবাসীদের আপন করে নেওয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী নীতিই আমেরিকাকে অনন্য করে তুলেছে। ফরচুন ৫০০ কোম্পানিগুলোর প্রায় অর্ধেকই আজ অভিবাসী বা তাদের সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সমতা নিশ্চিত করার এই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা কখনোই অভিবাসন সমস্যার সঠিক সমাধান হতে পারে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটে ফাটল ধরাতে ইরানের নতুন কৌশল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই পরম মিত্র দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে ইরান বর্তমান লেবানন পরিস্থিতিকে একটি মোক্ষম কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরান বর্তমানে লেবাননকে এমন একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা বলে মনে হলেও, এর পেছনের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।   তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও খুব ভালোভাবে জানেন যে, ইসরাইলি আক্রমণ রাতারাতি বা পুরোপুরি বন্ধ করা এই মুহূর্তে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাত এলে ইসরাইল নিশ্চিতভাবেই তার কড়া পাল্টা জবাব দেবে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করতে ইসরাইল হয়তো সাময়িকভাবে কিছুটা নমনীয় বা শান্ত আচরণ করতে পারে। তবে যেকোনো উসকানি বা হামলার মুখে তারা নিজেদের সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে সামান্যতম দ্বিধা করবে না।   ঠিক এই জটিল পরিস্থিতিটিকেই ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্ককে দুর্বল করার একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেহরানের প্রধান লক্ষ্যই হলো এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে চির ধরানো, আর সেই সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই তারা অত্যন্ত সুচারুভাবে তাদের বর্তমান কৌশলগুলো পরিচালনা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: পৃষ্ঠা ছয়
ইলন মাস্কের প্রস্তাবিত ৪০ মিলিয়ন ডলারের এনডিএ প্রত্যাখ্যান করলেন অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার

বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মাস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বহু-মিলিয়ন ডলারের নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাড়ি কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও বড় একটি প্রস্তাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়, শর্ত ছিল ব্যক্তিগত বিষয় ও সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে হবে।   সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ওই এনডিএ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, চুক্তিতে মাস্ক, তার কর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার শর্ত ছিল, যা তাকে নৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।   তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মূলত সিগন্যাল অ্যাপে গোপন বার্তা এবং ফোনকলের মাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট ক্লেয়ার প্রথম জানান, ইলন মাস্ক তার সন্তানের পিতা—যার নাম রোমুলাস। পরবর্তীতে মাস্কও বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে তার আরেকটি সন্তান রয়েছে।   সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, এনডিএ প্রত্যাখ্যানের পর থেকে তিনি মাস্কের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
হরমুজে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরছে, অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: শাহবাজ শরিফ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত বহুল আলোচিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খুব শিগগিরই কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা কার্যকর করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই জলপথে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।” তিনি বলেন, এই চুক্তিকে সামনে রেখে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।   পাকিস্তানের উদ্যোগে এবং কাতারের সহায়তায় অনুষ্ঠেয় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও মনে করা হচ্ছে।   শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তার ভাষায়, “এই সমঝোতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এই জলপথ স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত পরিস্থিতি প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতেও ভূমিকা রাখবে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সমঝোতার আগেই ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দাবি তেহরানের কূটনীতিকের
সমঝোতার আগেই ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দাবি তেহরানের কূটনীতিকের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগেই এই পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে।   ওই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত প্রায় দুই মাসের অবরোধ প্রত্যাহার ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি। তার ভাষায়, “আমরা শুরু থেকেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এখন তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।”   এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানান, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার পরও পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) সোমবার জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ শুক্রবার পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। ফলে বাস্তবে অবরোধ কতটা প্রত্যাহার হয়েছে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে।   এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সাম্প্রতিক আলোচনায় সেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।   বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ প্রত্যাহার কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

নীলুফা নিশাত জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ
ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা, মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল এল-সায়েদ তার প্রথম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। “ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াই” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিজ্ঞাপনটি এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন।   বিজ্ঞাপনে আবদুল এল-সায়েদ বলেন, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করতে চান যেখানে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে চাপা পড়বে না। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।   মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৮ সালে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত একটি মুখ।   ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে মিশিগানে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসনটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের প্রচারণা মূলত তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর সমর্থন অর্জনের দিকে কেন্দ্রীভূত। তার নতুন বিজ্ঞাপনেও সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি কতটা ভোটারের কাছে সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে, তার ওপর এই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতায় আবদুল এল-সায়েদের প্রথম প্রচার বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
চুক্তি চলমান থাকলেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার রাখবে ইরান
চুক্তি চলমান থাকলেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার রাখবে ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি শিথিল না করার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ইরান। বরং এই সময়েই সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   ওই মুখপাত্র বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সময়েও ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উঁচুতে ধরে রাখবে। একইসঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চললেও নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।   চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা স্মারকের শর্ত ভঙ্গ করা হলে ইরান কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না। এমন পরিস্থিতিতে খুব দ্রুতই আঞ্চলিক সামরিক বাস্তবতাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ এই চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা দ্রুত ও শক্তভাবে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় নিয়ে যাব।”   বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখলেও ইরান তার সামরিক কৌশলে কোনো শৈথিল্য আনছে না। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার পথেই হাঁটছে দেশটি।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরনের অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মার্কিন-ইরান সমঝোতা মানছে না ইসরায়েল, লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল বলেছেন, এই চুক্তির বাইরে থেকেই ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেটের প্রভাবশালী এই সদস্যের সাক্ষাৎকারের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল সেভেন এ তথ্য জানিয়েছে।   টেলিভিশনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে গামলিয়েল বলেন, “আমরা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নই। আমাদের দৃষ্টিতে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও তেল আবিব তার সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না।   তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাস্তবে লেবাননের ভেতরে বেশ গভীরভাবে অবস্থান নিয়েছি। লিতানি নদী থেকে শুরু করে বোফোর্ট দুর্গ পর্যন্ত যেসব এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই।”   এছাড়া গামলিয়েল ইঙ্গিত দেন, ওইসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘বাফার জোন’ তৈরির কৌশলের অংশ হতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের এমন কঠোর অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।   উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সংঘাত বারবার বড় ধরনের সামরিক মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও মাঠের বাস্তবতায় সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের একটি হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। ১ এপ্রিল ২০২৬। ছবি : রয়টার্স
ইরান: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবিটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন

ইরান স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দাবি যে ইরানের নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে, তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি। খবরের মধ্যে বলা ‘পাঁচ দফা প্রস্তাব’ শুধু অনুমান ছাড়া কিছু নয়।” তিনি আরও জানান, যতক্ষণ না আক্রমণকারী দেশকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে তাঁর তুলনা করেছেন পূর্ববর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে, এবং উল্লেখ করেছেন যে নতুন প্রেসিডেন্ট “অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান।”   ইরানের এই বক্তব্যের ফলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে এমন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল করে তুলতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : রয়টার্স
নির্দিষ্ট শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা প্রকাশ করল ইরান

ইরান জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ করার জন্য তাদের সদিচ্ছা রয়েছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপে এই মন্তব্য করেন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র সংবাদ প্রতিবেদক জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, খবর প্রকাশের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   তবে অনেক বিশ্লেষক ইরানের এই সদিচ্ছাকে পুরোপুরি আশার আলো হিসেবে দেখছেন না। জন সাডওয়ার্থ বলেন, যুদ্ধ বন্ধের ‘সদিচ্ছার’ সঙ্গে কঠোর শর্তও জড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না এ ধরনের নিশ্চয়তা ইরান চাচ্ছে।   এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানও একই ধরনের আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিল।   একই সময়ে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন হুমকি জারি করেছে। তারা পাল্টা আঘাতের পরিধি সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে, যেখানে ইরানের সদিচ্ছা ও শর্তের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান দাবি করছে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

ইরানের নৌবাহিনীর এক সিনিয়র কমান্ডার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর বর্তমানে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এলে “কঠোর প্রতিক্রিয়া” হতে পারে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কমান্ডার বলেন, ইরানের সামরিক মহড়ার কারণে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানি জলসীমা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও ওমান উপসাগর নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যা আন্তর্জাতিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল, যা সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখে, তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালা। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইইউ স্বাগত জানাল ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস তা স্বাগত জানিয়েছেন।   কালাস বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে অবকাঠামোতে হামলা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারত এবং যুদ্ধকে আরও উসকে দিত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি শিথিল করার দিকে সহায়ক হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে।   সূত্র: আল-জাজিরা

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি আল সাদের ও আল রুওয়াইস
ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তায় ২২ দেশের উদ্যোগ

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।   প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়।   যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০