গাজায় জানাজারত অবস্থায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় অবস্থিত আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ বহন করছিলেন শোকাহত স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।
হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেলকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দাবি থাকা সত্ত্বেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গত মাসে ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ।
এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় অন্তত ২৭৪ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান শুধুমাত্র হামাসের সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলায় প্রায় ৩৫ কেজি পেরেক বসানো একটি বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিশা কুমারী। তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। নিশার পরিবারের দাবি, হিন্দুধর্মের পূজিত দেবী মা কালীর সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পেরেকের ওপর শুয়ে থাকলেও নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং তার শরীরে কোনো ক্ষতও দেখা যায়নি। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি বিহারের বৈশালী জেলার সহদেই বুজুর্গ এলাকার বাজিতপুর চকস্তুড়ি গ্রামের। নবরাত্রি উপলক্ষে নিশা এই ধর্মীয় আচার শুরু করে। কাঠের একটি পাটাতনে প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা পেরেক বসিয়ে বিছানাটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, পেরেকের বিছানাটি প্রস্তুত করতে কয়েকজনের চার দিন সময় লেগেছিল। নিশাকে দেবী কালীর সাজে ওই বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এই অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। নিশার ভাষ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শ্রাবণ মাসের পর এক রাতে স্বপ্নে দেবী কালীর দর্শন পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। সেই স্বপ্নের পর দেবীর আরাধনায় এই কঠিন আচার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সে জানিয়েছে। তবে দেবীর আবির্ভাব বা অলৌকিক ক্ষমতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ নেই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং পেরেকের কারণে তার শরীরে ক্ষতও হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিশার বাবা প্রকাশ মল্লিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ছোটবেলা থেকেই নিশার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নিশার কথা বলার ক্ষমতা হারানোর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, কথা বলতে না পারার কারণ কিংবা পেরেকের বিছানায় দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। নিশাকে দেখতে ভিড় বাড়তে থাকায় গ্রামের সরু রাস্তায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিতে আলোচনা করছেন, আবার কেউ কিশোরীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নিশার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কি না, কিংবা চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। সূত্র: ইন্ডিয়া মিডিয়া, নিউজ৪নেশন।
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মার্কিন সাংবাদিক আহত, নেতানিয়াহুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ
মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়িতে ৫ রাউন্ড গুলি, আহত চালক ও অটোরিকশাচালক
মাদরাসায় না গিয়েই মাত্র ১ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করল আলজেরিয়ার ৩ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান ফারিহ
ইকুয়েডরের একটি গির্জায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের সময় বড় কাঠের ক্রুশ পড়ে এক ক্যাথলিক যাজকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যাজকের নাম ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেস মোলিনারি। শনিবার দেশটির গুয়ায়াকিল শহরের নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দেল পেরপেতুও সোকোরো গির্জায় প্রার্থনা পরিচালনার সময় তাঁর ওপর ক্রুশটি পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। ভিডিওতে ক্রুশটি পড়ে যাওয়ার পর উপাসকদের ছুটে আসতে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় যাজক বেদিতে দাঁড়িয়ে পবিত্র কমিউনিয়ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর পেছনে স্থাপিত বড় কাঠের ক্রুশটি হঠাৎ সামনের দিকে পড়ে তাঁকে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে গির্জার পরিবেশ বদলে যায়। উপস্থিত লোকজন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য চিৎকার করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যাজকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে তাঁকে পেরপেতুও সোকোরো গির্জার ধর্মযাজক এবং সেন্ট্রাল ভিকারিয়েটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে। যাজক সানচেস মোলিনারি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠন ‘রিডেম্পটরিস্ট’-এর সদস্য ছিলেন। ইকুয়েডরের সংবাদমাধ্যম প্রিমিসিয়াস জানিয়েছে, মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেই যাজক সানচেস মোলিনারির ধর্মযাজক হিসেবে অভিষেকের বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল আর্চডায়োসিস। এর আগে তিনি দেশটির লস রিওস প্রদেশের ভিনসেস এলাকার সান লোরেনজো গির্জায় কয়েক বছর ধর্মযাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তাঁর কাজ ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতিচারণ করে সাবেক গির্জার পক্ষ থেকেও শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার সময় গির্জার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল বলে দুর্ঘটনার দৃশ্য এবং উপস্থিত লোকজনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ভিডিওতে ধরা পড়ে। তবে বিশাল কাঠের ক্রুশটি কেন পড়ে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গির্জা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। ক্রুশটির স্থাপনব্যবস্থা বা কাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: ফক্স নিউজ, প্রিমিসিয়াস ও গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস।
বিমার ১৩ লাখ ডলার পেতে পা বরফে জমিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, শেষ পর্যন্ত দুই পা-ই হারালেন
‘মানব শয়তান’ নামে পরিচিত ব্রাজিলীয় ব্যক্তির নতুন রূপ, নখরের মতো হাত গড়তে বাদ দিলেন আরও আঙুল
১২ সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি, রাশিয়ার মুসলিম নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলেন পুতিন
বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া। যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
এআই চালিত সুপার স্পিড টর্পেডোর সফল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
পড়াশোনায় মন ফেরাতে ছেলেকে ব্যবসায় নামালেন মা, সাফল্যের পর স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত চিনা কিশোরের