বিশ্ব

ইরানে বাড়ছে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ২২:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। 

 

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। 

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সর্বশেষ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। 

 

উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলী আল সালেম ঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

 

চলমান সংঘাতের মধ্যে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান ম্যামদানি নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, আন্তর্জাতিক আদালত তার আসল ঠিকানা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান ম্যামদানি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী।” তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ব্যবহার করে কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানকে আটক করার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।    ম্যামদানি বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। আইন যতটুকু অনুমতি দেবে, তার প্রশাসন ততটুকুই করবে। এ জন্য নতুন কোনো আইন তৈরি করার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।  আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ম্যামদানির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ২৩:৩৫
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বাড়ছে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার হিড়িক, ইউরোপমুখী হাজারো মার্কিনি

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় জানাজারত অবস্থায় ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৪

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় ড্রোন হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতাল।   স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় অবস্থিত আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর মরদেহ বহন করছিলেন শোকাহত স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে একটি ইসরাইলি ড্রোন থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।   হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী সেলকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।   এদিন গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এছাড়া নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে গোলাবর্ষণে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই দিনে খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দাবি থাকা সত্ত্বেও মে মাস থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গত মাসে ৪০টিরও বেশি বিমান হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় অন্তত ২৭৪ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।   অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান শুধুমাত্র হামাসের সশস্ত্র সদস্য ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ২২:৩২
দক্ষিণ ওয়েলসে শিশু যৌন নিপীড়নের মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়নের মামলায় ৩ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ আটজন অভিযুক্ত

জর্ডানে হামলার পর ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন দফায় অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু

Gov. Bob Ferguson ছবি: সংগৃহীত

গভর্নরের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে কর্মবিরতির ডাক ৫০ হাজার সরকারি কর্মচারীর

Vikram-1 rocket
৮ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ বাজার থেকে ৪৪ বিলিয়নের লক্ষ্য, ভারতের বেসরকারি রকেটের সফল যাত্রা

মহাকাশ অর্থনীতিতে বড় অংশীদার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। সেই পথে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে দেশটির বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস।   শনিবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে দেশটির প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’।   ‘মিশন আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে রকেটটি কয়েকটি বাণিজ্যিক ও গবেষণামূলক পেলোড বহন করে। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর এগুলোকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে স্থাপন করতে সক্ষম হয় রকেটটি।   স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে রকেটের ইঞ্জিন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সেবা চালু করা।   প্রায় ২২ মিটার উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি সলিড ফুয়েল স্টেজ এবং একটি তরল জ্বালানি চালিত অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল।   ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের নতুন প্রজন্মের মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর অন্যতম। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ভারতের প্রথম মহাকাশ খাতের কোম্পানি হয়ে আলোচনায় আসে।   ভারত ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করে। এর আগে রকেট, স্যাটেলাইট ও উৎক্ষেপণ সেবার বড় অংশই পরিচালনা করত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসরো।   সরকারের লক্ষ্য, বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।   বিশ্বের ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশও নিজস্ব বেসরকারি মহাকাশ শিল্প গড়ে তুলছে।   স্কাইরুটের এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক মহাকাশ বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ৫:১
Noelia Castillo with her mother, Yolanda Ramos.

মেয়ের ডায়েরি হাতে ধর্ষকদের খুঁজছেন মা, মৃত্যুর আগে লেখা তথ্যেই ন্যায়বিচারের আশা

পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ওয়াংচুককে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়

ভারতে ২১ দিন অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিল দিল্লি পুলিশ, আমরণ অনশনের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের এআই ডেটা সেন্টার ধ্বংস করলো ইরান

0 Comments