টোকিওতে সপ্তাহে ৪ দিন অফিস, অথচ প্রধানমন্ত্রীর ঘুম মাত্র ৩ ঘণ্টা!
কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বাড়াতে টোকিও যখন সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে, তখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ঘুম ও কাজের অভ্যাস নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাতে সাধারণত শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। দেশটির দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতি বদলানোর প্রচেষ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ।
২০২৫ সালের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাকাইচি। সম্প্রতি ‘সি ডে’ নামের একটি সরকারি ছুটিতে নিজের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে জানান, বহুদিন পর ওই দিন টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোই তার নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির ওই পোস্টটি তিন কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। পোস্টে তিনি জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি সপ্তাহান্তও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বসে আইন ও নীতিসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক নথি পড়েই কাটিয়েছেন।
ছুটির দিনে কিছুটা বেশি ঘুমানোর পাশাপাশি জমে থাকা ঘরের কাজও করেন বলে জানিয়েছেন তাকাইচি। কাপড় ইস্ত্রি করা থেকে শুরু করে পোশাকের ছেঁড়া অংশ সেলাই করার কথাও লিখেছেন তিনি। পরদিন থেকে আবার পূর্ণ উদ্যমে কাজে ফেরার প্রত্যয় জানিয়ে পোস্টটি শেষ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
তবে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং খুব অল্প ঘুমানোর বিষয়টি তাকাইচির জন্য নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, নিজের ক্ষেত্রে ‘কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য’ শব্দটি বাদ দিতে চান। একই বক্তব্যে তিনি একাধিকবার ‘কাজ’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন সরকারকে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পর ভোর তিনটায় কর্মকর্তাদের বৈঠকে ডাকার ঘটনায়ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তাকাইচি। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাসার ফ্যাক্সযন্ত্র নষ্ট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথি দেখতে তাকে কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে হয়েছিল। সকালে একটি বৈঠকের প্রস্তুতির জন্যই এত ভোরে তাদের ডাকা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি মানুষের বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দেশের নিরাপত্তা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানের এমন জীবনযাপন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও মত দেন তিনি। আরেক রাজনীতিক মন্তব্য করেছেন, যথাযথ বিশ্রাম নেওয়াও একজন নেতার দায়িত্বের অংশ।
তাকাইচির কাজের রুটিন নিয়ে বিতর্কটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে জাপানের সামাজিক বাস্তবতার কারণে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং চাকরিজনিত মানসিক চাপ দেশটিতে বহু বছর ধরে গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুকে জাপানি ভাষায় ‘কারোশি’ বলা হয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ কমাতে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নমনীয় কর্মঘণ্টা, বাধ্যতামূলক ছুটি এবং দূর থেকে কাজ করার মতো ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে।
এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে টোকিও মহানগর সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যোগ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে চার দিন কাজ করার সুযোগ চালু করে। ব্যবস্থাটির লক্ষ্য ছিল কর্মীদের পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাড়ানো, সন্তান লালন-পালনে সহায়তা করা এবং বিশেষ করে নারীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানো। টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেছিলেন, নারী ও পুরুষ উভয়েই যাতে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের ধরন বেছে নিতে পারেন, সে জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থা জরুরি।
জাপানের নিম্ন জন্মহারও চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সন্তান পালনের ব্যয় এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারাকে দেশটির জনসংখ্যা সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। ফলে টোকিওর উদ্যোগটি শুধু কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার বিষয় নয়; পরিবারবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২০১৯ সালে মাইক্রোসফট জাপান পরীক্ষামূলকভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, পরীক্ষার সময় কর্মীদের উৎপাদনশীলতা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছিল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও কাগজের ব্যবহার কমে এবং কর্মীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়। তবে সব শিল্প ও পেশায় একই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
তাকাইচির বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণ কর্মীরা চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন ও পদমর্যাদার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য পর্যাপ্ত সময়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে একজন সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত কাজকে গৌরবের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্কৃতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাকাইচির ঘুমের সময়সূচি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে তার বক্তব্য দেশটিতে একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—দীর্ঘ সময় কাজ করাই কি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়, নাকি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে সুস্থভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই একজন সরকারপ্রধানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
টোকিওর চার দিনের কর্মসপ্তাহ কর্মীদের কম সময় কাজ করে আরও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ দিচ্ছে। বিপরীতে, দেশের সরকারপ্রধানের শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস জাপানের পরিবর্তনশীল কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের সেম্পোরনায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে চীনা এক নারী পর্যটকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। ২৫ বছর বয়সী ওই পর্যটক পালিয়ে কাছের পাহাড়ি এলাকার ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেন এবং ভোর পর্যন্ত সেখানেই লুকিয়ে থাকেন। পরে অবকাশকেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ অক্টোবর তাঁকে অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াং পদবির ওই পর্যটক গত ১৯ সেপ্টেম্বর একা ভ্রমণের সময় সেম্পোরনার একটি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে রেখেছেন এবং পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালানোর সুযোগ পান তিনি। তবে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। পালানোর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। এরপর তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে কাছের পাহাড়ের ঢালে ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় পিঁপড়া ও মশার কামড়ে তাঁর শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। পরে অবকাশকেন্দ্রের এক কর্মী তাঁকে খুঁজে পান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ওই নারী জানান, পুরো সময়টিতে তিনি ভয়ে ছিলেন এবং বারবার প্রার্থনা করছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাতেই অবকাশকেন্দ্রের ভেতর থেকে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে। সেম্পোরনা জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট তান হিয়াপ ওয়াহ জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরে ৭ অক্টোবর সেম্পোরনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত তখনও শেষ হয়নি। পর্যটকটি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক এবং তাঁর বৈধ অভিবাসন নথি ছিল না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাঁকে অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর্যটকটির অভিযোগ, অবকাশকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বিষয়টি তিনি আইনজীবীর কাছে দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে চীনা দূতাবাসের হস্তক্ষেপের পর সাবাহ পর্যটন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ওই নারীর খোঁজখবর নিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবাহ সরকারও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দামি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ও এইচকে০১।
সৌন্দর্য ও ভালো বিয়ের আশায় মেয়েদের পা বেঁধে ছোট রাখার প্রথা ছিল প্রাচীন চীনে
ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ছয় মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ উপহার দেওয়ার অভিযোগ
ইউরোপের ৮৫৪টি শহর ও নগর এলাকায় ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এই হিসাব উঠে এসেছে। গবেষকদের অনুমান, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যু ঘটেছে মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিলেন। গবেষণার আওতায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নগর এলাকা। তাঁদের ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের তাপজনিত মৃত্যুর বিশ্লেষণ নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। একই সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম নিয়ে গবেষণাটিও। এই সংখ্যা প্রতিটি মৃত্যুসনদ থেকে সরাসরি গণনা করা হয়নি। তাপমাত্রার তথ্য, জনসংখ্যা এবং অতীতে গরমের সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক ব্যবহার করে গবেষকেরা সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যু হিসাব করেছেন। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বাড়তি উষ্ণায়নের প্রভাব নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুলোকে পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের বিপদ শুধু হিটস্ট্রোকে সীমিত নয়। শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। এতে হৃদ্রোগ, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ও ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে থাকা রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দিন ও রাতের উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে। তবে এবারের হিসাবকে গোটা ইউরোপের সব তাপজনিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি নির্দিষ্ট নগর এলাকার বিশ্লেষণ। আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই ভৌগোলিক এলাকা ও গবেষণাপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃত পৃথক গবেষণায় পুরো ইউরোপে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৬১ হাজার ৬৭২টি তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর অনুমান দেওয়া হয়েছিল। গবেষকেরা তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে শীতল পরিবেশে থাকার সুবিধা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও যথাসময়ে পদক্ষেপের মাধ্যমে গরমের কারণে বহু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো প্রয়োজন।
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, বিশাল পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক
ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের
বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় ফ্রান্সে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্রসহ প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মোহাম্মদ-সালেহ জোকার। ইরানের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কমিটির প্রধান জোকারের এই বক্তব্য দেশটির পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আহ্বান, ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়। টাইমস টুডের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোকারের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। তাঁর মতে, শত্রুপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। তবে এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। জোকার আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির আওতায় তেহরানের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এনপিটি হলো পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো, নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক চুক্তি। ইরান এই চুক্তির সদস্য। তবে জোকারের বক্তব্য থেকে দেশটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বা আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহারকে ইসলামে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা উচিত কি না, তা নিয়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। রয়টার্সের মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির কিছু প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতিতে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে জোকারের বক্তব্যকে ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলে চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ অক্টোবর ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জোকারের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আইনপ্রণেতার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে কি না, এনপিটিতে তার অবস্থান বদলাবে কি না, তা নির্ধারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত জোকারের আহ্বানকে ইরানের পারমাণবিক নীতির আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সূত্র: টাইমস টুডে, রয়টার্স, প্রেস টিভি।
ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝায় বাড়ছে সুদের খরচ
পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা