সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৩২
১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত
১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বড় পর্বতারোহণ রহস্য হয়ে থাকা স্যান্ডি আরভাইনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন সূত্র মিলেছে। ১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্রিটিশ পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কমিন ‘স্যান্ডি’ আরভাইনের বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন একটি জুতা ও পায়ের অংশ ২০২৪ সালে এভারেস্টে পাওয়া যায়। জুতার ভেতরের মোজায় লাল অক্ষরে ‘A.C. IRVINE’ লেখা নামের ফিতা ছিল।

 

ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেখক জুলি সামার্স ও পর্বতারোহণ ইতিহাসবিদ ইয়োখেন হেমলেবের নতুন বই ‘দ্য এভারেস্ট মিস্ট্রি: স্যান্ডি আরভাইন, জর্জ ম্যালরি অ্যান্ড দ্য ট্রুথ স্টিল বারিড অন এভারেস্ট’ প্রকাশের আগে। বইটিতে আরভাইনের জীবন, ১৯২৪ সালের সেই অভিযানের শেষ মুহূর্ত এবং ম্যালরি-আরভাইন আদৌ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন কি না এসব প্রশ্ন নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশের কথা রয়েছে।

 

স্যান্ডি আরভাইন ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে ম্যালরির তুলনায় তিনি অনেকটাই নবীন ছিলেন। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতি নিয়ে দক্ষতার কারণে ম্যালরি তাকে শেষ অভিযানের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বলে গবেষকেরা মনে করেন। আরভাইন অক্সফোর্ডের নৌকাবাইচ দলেরও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। একই সঙ্গে ১৯২৪ সালের অভিযানে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরঞ্জামকে হালকা ও কার্যকর করার কাজেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

 

১৯২৪ সালের ৮ জুন ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টের চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানের আরেক সদস্য নোয়েল ওডেল দূর থেকে দুজনকে শেষবারের মতো দেখতে পান। কুয়াশা নেমে আসার আগে তারা পাহাড়ের ওপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তারা আর ফিরে আসেননি।

 

তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল ঠিক কী ঘটেছিল তাদের সঙ্গে?

১৯৯৯ সালে ম্যালরির দেহ এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় খুঁজে পাওয়া যায়। তার দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দড়ির দাগ ছিল। এসব আলামত থেকে গবেষকদের ধারণা, ম্যালরি ও আরভাইন সম্ভবত দড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন এবং কোনো এক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে যান। তবে আরভাইনের কোনো চিহ্ন তখনও পাওয়া যায়নি।

 

আরভাইনকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্ব শুধু তার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে একটি ছোট কোডাক ভেস্ট পকেট ক্যামেরা থাকার কথা ছিল। যদি সেই ক্যামেরাটি উদ্ধার করা যায় এবং তাতে কোনো ছবি বা ফিল্ম পাওয়া যায়, তাহলে ১৯২৪ সালের ওই অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ম্যালরি ও আরভাইন কি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন?

কারণ ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানোর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় তিন দশক আগে ম্যালরি ও আরভাইন সেখানে পৌঁছে থাকলে পর্বতারোহণের ইতিহাসই বদলে যাবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি দল এভারেস্টের উত্তর দিকের সেন্ট্রাল রংবুক হিমবাহ এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় পুরোনো একটি জুতা দেখতে পায়। জুতাটি বরফ থেকে বেরিয়ে ছিল। পরে সেটির ভেতরে মানুষের পায়ের অংশ এবং নাম লেখা মোজা পাওয়া যায়। নামটি ছিল ‘A.C. IRVINE’।

 

দলটির নেতৃত্বে ছিলেন পর্বতারোহী, আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জিমি চিন। পরে চীনের তিব্বত পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জুতা ও পায়ের অংশটি এভারেস্ট থেকে সরিয়ে নেন। আরও শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেটি নিয়ে কাজ করা হয়।

আরভাইনের নাম লেখা মোজাটি আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি। গবেষকদের মতে, এটি শত বছর পর তার দেহাবশেষ যে এখনো এভারেস্টে রয়েছে, সে বিষয়ে শক্ত প্রমাণ দেয়। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষ মুহূর্তে তিনি ও ম্যালরি কোথায় ছিলেন—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

 

আরভাইনের পায়ের অংশ যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ম্যালরির দেহ পাওয়ার স্থান থেকে অনেক নিচে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে তার দেহাবশেষ এতটা নিচে চলে গেল।

এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, দুর্ঘটনার সময় ম্যালরি ও আরভাইনকে যুক্ত করা দড়ি ছিঁড়ে গেলে আরভাইন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে হিমবাহে পৌঁছাতে পারেন। এরপর শত বছর ধরে বরফের ধীর গতির প্রবাহ তার দেহাবশেষ আরও নিচের দিকে সরিয়ে নিতে পারে।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু পুরোনো রহস্যও রয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭৫ সালের চীনা এভারেস্ট অভিযানে পুরোনো পোশাক পরা একজন ইউরোপীয় ব্যক্তির দেহ দেখতে পাওয়ার দাবি উঠেছিল। এসব বিবরণ নিয়ে পরবর্তীতে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে সেগুলোর কোনোটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

১৯৩৩ সালের একটি ব্রিটিশ অভিযানে আরভাইনের ব্যবহৃত বরফকুঠারও এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব শৈলশিরায় পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তার দেহ কোথায় থাকতে পারে, সে বিষয়ে পরবর্তী অনুসন্ধানকারীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।

 

নতুন আবিষ্কার সেই অনুসন্ধানের পরিধিও সংকুচিত করেছে। গবেষকদের ধারণা, আরভাইনের অন্যান্য সরঞ্জাম বিশেষ করে সেই হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরা এখনো আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্যামেরাটি উদ্ধার হয়নি। ফলে ম্যালরি ও আরভাইন ১৯২৪ সালেই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

এক শতাব্দী পর আরভাইনের জুতা ও পায়ের অংশের সন্ধান তাই শুধু একজন নিখোঁজ পর্বতারোহীর পরিচয় নিশ্চিত করার ঘটনা নয়; এটি এভারেস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে।

 

তবে আরভাইনের নাতনি জুলি সামার্সের কাছে গল্পটির গুরুত্ব শুধু মৃত্যুর রহস্যে নয়। তার মতে, ১৯২৪ সালের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটিই ছিল অসাধারণ অর্জন। এক শতাব্দী পরও তাদের সেই সাহসিকতা ও অভিযানের গল্পই মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নিজের ছেলের জন্য কৃত্রিম হাত বানানোর পর কিয়েরার জন্যও ৩ডি প্রিন্টারে হাত তৈরি করেন ক্যালাম মিলার। ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত

নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।   কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে।   নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।   শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে।   তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা।   একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে।   কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ২৩:৫৪
১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত

১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

চাঁদে শুধু নভোচারী নয়, সাধারণ মানুষও যেতে পারবে, ইলন মাস্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা

ফিলাডেলফিয়ায় ‘চাকি’ চরিত্রের আদলের মুখোশ পরে পথচারীদের ভয় দেখানো ও হামলার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী জাইমির হিউজকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশের আশঙ্কা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তিনি পেনসিলভানিয়া ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ভোরে সেন্টার সিটি এলাকায় একাধিক ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাদের ভয় দেখানো, ধাওয়া করা এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে হিউজের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই সময় অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জনকে লক্ষ্য করা হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।    এক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক নারী দৌড়ানোর সময় হিউজ তার পিছু নেন বলে অভিযোগ। তার হাতে থাকা একটি হাত পেছনে রাখা ছিল এবং তিনি ওই নারীকে মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর সময় ওই নারী গুরুতরভাবে পায়ে আহত হন এবং চিকিৎসা নিতে হয়।    পুলিশের দাবি, হিউজ নিজের মুঠোফোনে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা এ ধরনের ভিডিও থেকে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেও তিনি ঘটনাগুলো ধারণ করে থাকতে পারেন। তবে তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।  হিউজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পুলিশ বলছে, তার লস অ্যাঞ্জেলেস ও লাস ভেগাসে যাতায়াতের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি প্রায়ই এসব এলাকায় যাতায়াত করতেন। ফলে তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।    তার সঠিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার বিভিন্ন পরিবহনকেন্দ্র এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে।   পুলিশের পক্ষ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার বাসিন্দাদের তাকে দেখলে কাছে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৪:৪৯
নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’

নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’

কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি

কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি

গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ

গাজায় নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ ,পণ্য পৌঁছাতে প্রতিটি ধাপেই অর্থ দিতে হয় ইসরায়েলি সেনাদের

শিশু হিন্দ রাজাব নিহতের ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন তার মা উইসাম হামাদা। ছবি: সংগৃহীত
হিন্দ রাজাব হত্যার তদন্ত করবে ইসরায়েল, ‘ইসরায়েলের কোনো বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা নেই’: শিশু হিন্দের মা

গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শুরু করা ফৌজদারি তদন্তে আস্থা নেই তার মা ওয়েসাম হামাদার। তার আশঙ্কা, এই তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে।   এ সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালানোর ঘটনায় সামরিক পুলিশের মাধ্যমে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। এর আগে ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল আইডিএফ।   শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিন্দের মা ওয়েসাম হামাদা বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, সরকার কিংবা দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর তার কোনো আস্থা নেই। তিনি এমন কোনো তদন্ত চান না, যার উদ্দেশ্য হবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায় এড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা।   হামাদা বলেন, তার দাবি করা তদন্ত কোনো ‘বন্ধ সামরিক তদন্ত’ হওয়া উচিত নয়। তিনি চান স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক। তার ভাষায়, হিন্দ শুধু একটি সংবাদঘটনা নয়, সে তার সন্তান।   হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে। গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে ছিল পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ। গাড়িটিতে থাকা অন্য কয়েকজন স্বজন নিহত হওয়ার পরও হিন্দ কিছু সময় জীবিত ছিল। পরে সে জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। সেই ফোনালাপের রেকর্ডিং পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   হিন্দকে উদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রমাণে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সামরিক যান ও সেনাদের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সামনে আসে। চলতি সপ্তাহে আইডিএফ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল।   আইডিএফের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যালোচনার পর ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তটি সামরিক পুলিশ পরিচালনা করবে।   এই তদন্তকে হিন্দের পরিবারের পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীরাও যথেষ্ট মনে করছেন না। তাদের প্রশ্ন, দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইসরায়েলি বাহিনী কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তদন্ত শুরু করল এবং এই তদন্ত আদৌ স্বাধীনভাবে দায় নির্ধারণ করতে পারবে কি না।   হিন্দের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির দাবি উঠেছে। তার মৃত্যুর আগে জরুরি সেবাকর্মীদের কাছে করা ফোনকলের রেকর্ডিং ঘটনাটিকে গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত করে। ঘটনাটি নিয়ে পরে নির্মিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পায় এবং অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে।   আইডিএফ একই সময়ে গাজায় আরও একটি বহুল আলোচিত ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহ এলাকায় ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।   হিন্দের মায়ের দাবি, তার পরিবারের জন্য শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্ত যথেষ্ট নয়। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া চান, যেখানে তদন্তকারীরা স্বাধীনভাবে প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এখন আইডিএফের সামরিক পুলিশের তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর ভিত্তিতে কোনো সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হিন্দের পরিবার অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছে, তারা শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, ঘটনার পূর্ণ সত্য ও দায়ীদের জবাবদিহি দেখতে চায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ২৩:৩৬
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে পরিবেশবাদী রাজনীতিক মারিনা সিলভা। ছবি: সংগৃহীত

রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন

কিমের সঙ্গে কথা বলতে চান ট্রাম্প, কিন্তু সাড়া মিলছে না পিয়ংইয়ং থেকে। ছবি: সংগৃহীত

কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

0 Comments