বিমানবন্দরে নবজাতককে নিয়ে আটকে বাবা, অপরিচিত বৃদ্ধার ঘরে মিলল আশ্রয়
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে মাত্র চার দিনের নবজাতক মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন রুবিন সুইফট। মেয়ের হেফাজত পাওয়ার পর তাকে নিয়ে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, সাত দিনের কম বয়সী শিশু বিমানে ভ্রমণ করতে পারে না। ফলে হাসপাতালের ভ্রমণ উপযোগী ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে তাকে ও তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
হঠাৎ করেই ফিনিক্সে নবজাতক মেয়েকে নিয়ে আটকে যান সুইফট। হোটেলে থাকার বা গাড়ি ভাড়া করার মতো পর্যাপ্ত অর্থও তার হাতে ছিল না। কী করবেন বুঝতে না পেরে তার মনে পড়ে হাসপাতালে পরিচিত হওয়া ৭৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবী জয় রিংহোফারের কথা।
রিংহোফার ব্যানার ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এনআইসিইউতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। সুইফটের মেয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। বিপদের কথা জানিয়ে ফোন করতেই রিংহোফার তাকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি নিজেই বিমানবন্দরে গিয়ে সুইফট ও তার নবজাতক মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরবর্তী কয়েক দিন নিজের বাড়িতেই বাবা-মেয়েকে থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। শিশুটির বয়স সাত দিন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খাবার, থাকার জায়গা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেন। রিংহোফার পরে জানান, সুইফটকে সাহায্য করার তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন।
সুইফটের কাছেও ঘটনাটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। তাদের বয়স ও বর্ণের পার্থক্য কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি বলেও তিনি জানান। বরং রিংহোফারের আন্তরিকতায় তিনি তাকে নিজের মেয়ের ‘দাদি’ হিসেবেই ভাবতে শুরু করেন।
সাত দিন বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সুইফট ও তার মেয়ে আবার ফ্লাইটে করে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে পারেন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্স তাদের নতুন ফ্লাইটে পুনরায় বুক করে এবং এ জন্য পরিবর্তন ফি নেয়নি।
বিমানযাত্রার একটি নিয়মের কারণে শুরু হওয়া এই বিপদ শেষ পর্যন্ত রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক স্মরণীয় গল্প হয়ে ওঠে। অপরিচিত একজন বাবা ও তার নবজাতক মেয়ের জন্য নিজের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন একজন বৃদ্ধা, আর সেই মানবিকতা তাদের জীবনে তৈরি করেছিল এক অপ্রত্যাশিত পারিবারিক বন্ধন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreকানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি। এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ যাকে ‘দানব’ বলত, পর্তুগালের সেই হোসে যুক্তরাষ্ট্রে চার মাসের চিকিৎসায় স্বাভাবিক চেহারায় ফিরলেন
সামাজিক মাধ্যমে ‘নবীকে অবমাননা’র অভিযোগে ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড
ইরানের অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত অস্ত্র, নতুন হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি
জার্মানির কোলন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে কিশোরীটির কাছে গিয়ে রোবটটি তার নিতম্বে স্পর্শ করে এবং অশালীন ভঙ্গিতে শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী রোবটটির মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে পামস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিং সড়কের সংযোগস্থলে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে ওই কিশোরী তাঁর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটি পেছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির আচরণকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ম্যাগনুসস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিংয়ের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন দুজনকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক সেটিকে একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখেছিলেন। সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজনদের দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। পুলিশের দেওয়া ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাকে দেখা যায়। এর সাজসজ্জায় জনপ্রিয় কমিক চরিত্র আয়রন ম্যানের পোশাকের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে রোবটটিকে চীনে তৈরি ইউনিট্রি আর১ এয়ার মডেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে মডেলটির পরিচয় এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। রোবটটির আচরণ পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কেউ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে এমন নড়াচড়া করিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্ভাব্য যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালানোর সময় তাঁরা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু, সেটি কোথায় প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। মানবসদৃশ রোবট এখন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রোবটের কিছু মডেল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আবার কিছু মডেল দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও পরিচালনা করা যায়। ফলে কোনো রোবটের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যারের নির্দেশনা নাকি মানুষের ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের ফল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোলনের ঘটনাতেও পুলিশ ঠিক এই বিষয়গুলো যাচাই করছে। এ ঘটনায় রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বা রোবটটি নিজে থেকে এমন আচরণ করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ করতে হলে যন্ত্রটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী পিপল জার্মান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখা, পিপল ও দ্য টাইমস।
মিশরে কৃষকের জমিতে মিলল নবী মুসার আমলের ফারাও রাজার বিশাল মূর্তি
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, প্রথম চেষ্টাতেই আইনজীবী হলেন ব্রাজিলের মারিয়া
গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ায় সন্তান ‘অভিশপ্ত’ ভেবেছিলেন মা, চিকিৎসকেরা জানালেন বিরল রোগ
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৩ লাখ রুপি প্রতারণা, পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রীর মৃত্যু
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান