চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা করার অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি।
১. ক্লিনিং ব্যবসা
বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা
বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে।
৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি
নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা
নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক
কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়।
৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস
চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।
৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না।
৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা
ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।
৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস
ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়।
ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত।
প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ৩১ বছর বয়সী অ্যামান্ডা থম্পসন স্থানীয় একটি ফেসবুক গ্রুপে কাস্টিংয়ের খবর দেখে তাঁর সাড়ে সাত মাস বয়সী ছেলে উইলিয়ামকে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ভার্জিন রিভার’-এর একটি চরিত্রের জন্য আবেদন করান। বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিই জায়গা করে নেয় জনপ্রিয় এই সিরিজের সেটে। অ্যামান্ডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উইলিয়াম মোট ১৩ দিন শুটিংয়ে অংশ নেয়। প্রতিদিন আট ঘণ্টার জন্য সে পেত ৩৬০ ডলারের কিছু বেশি বিশেষ ট্যালেন্ট রেট। এমনকি একদিন সেটে মাত্র দেড় ঘণ্টা থাকলেও পুরো দিনের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার আয় ৪ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি হয়েছে। অ্যামান্ডা জানান, ছেলের উপার্জনের পুরো অর্থই তাঁর নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে, ভবিষ্যতে কলেজের খরচে ব্যবহারের জন্য। নিজের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা ফি নেননি তিনি। শুটিংয়ের সময় শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিও কঠোরভাবে দেখা হতো বলে জানান অ্যামান্ডা। ক্যামেরার সামনে উইলিয়ামকে দেওয়ার সময় তিনি সবসময় ১০ ফুটের মধ্যে থাকতেন। প্রতিটি দৃশ্যের আগে তিনিই শিশুটিকে অভিনেতাদের হাতে তুলে দিতেন। সেটটিতে সার্বক্ষণিক একজন বিশেষ বেবি নার্সও ছিলেন। শিশুদের কীভাবে কোলে নেওয়া হচ্ছে, তাদের কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি দেওয়া হচ্ছে কি না, এসব বিষয় তিনি নজরে রাখতেন। শিশুদের অল্প সময়ের জন্য ক্যামেরার সামনে রাখা হতো, এরপর দীর্ঘ বিরতি দেওয়া হতো। ফলে উইলিয়ামের ঘুম ও খাওয়ার স্বাভাবিক রুটিনও বেশিরভাগ সময় ঠিক ছিল। অ্যামান্ডা পরে টিকটকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ১৩ লাখের বেশি ভিউ হয়। এতে শিশু অভিনেতাদের কাজ নিয়ে অনেকের আগ্রহ তৈরি হয়। অ্যামান্ডার ভাষ্য, বাইরে থেকে শিশুদের অভিনয় নিয়ে অনেকের যে ধারণা রয়েছে, বাস্তবে সেটের পরিবেশ তার চেয়ে অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। উইলিয়ামের এখন একজন এজেন্টও রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সে অভিনয় চালিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তার ওপরই ছেড়ে দিতে চান অ্যামান্ডা।
চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
২০ বছর পর কর্মস্থলে হঠাৎ মেয়ের দেখা, কিশোরী বয়সে দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেলেন মা
পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ
রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে। হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য। মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা। পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে। ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫
নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী
মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে। ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ