সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৪:৪৭
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।

 

ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
মিশরে উদ্ধার হলো রাজা রামেসিসের বিশাল মূর্তির অংশ
সাধারণ পাথরের সূত্র ধরে মিশরে মিলল রাজা দ্বিতীয় রামেসিসের বিশাল দুটি প্রাচীন মূর্তি

মিশরের একটি গ্রামে বাড়ির বাইরে রহস্যময় খোদাই করা পাথর খুঁজে পাওয়ার পর উন্মোচিত হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিদর্শন। ওই পাথরের সূত্র ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খনন চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর আগের মিশরীয় শাসক দ্বিতীয় রামেসিসের দুটি বিশাল মূর্তির সন্ধান পেয়েছেন। মূর্তিগুলোর অবস্থা বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে গোলাপি গ্রানাইট পাথরের একটি খণ্ড, যাতে প্রাচীন মিশরের হায়ারোগ্লিফিক লিপি ও রাজকীয় শিলালিপি রয়েছে।   মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলের ওই গ্রামে এক বাসিন্দা প্রথমে শিলালিপিযুক্ত একটি পাথরের খণ্ড দেখতে পান। বিষয়টি সামনে আসার পর কর্মকর্তারা প্রত্নতাত্ত্বিক দলের সঙ্গে সেখানে খননকাজ শুরু করেন। সেই অনুসন্ধানেই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মূর্তিগুলোর সন্ধান মেলে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ভাস্কর্য ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা প্রথম মূর্তিটির অবস্থা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মূর্তিটির মাথা আলাদা করে তোলার পর সেটিকে শরীরের ওপরের পেছনের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এসব অংশের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সম্পূর্ণ অবস্থায় মূর্তিটির উচ্চতা ২৭ ফুটেরও বেশি হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য উচ্চতা; মূর্তিটির সম্পূর্ণ কাঠামো উদ্ধার ও পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। দ্বিতীয় মূর্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক দল সাত ফুটের বেশি লম্বা একটি মাথার অংশ উদ্ধার করেছে। এতে রাজকীয় হেডড্রেসের মতো পরিচিত ‘নেমেস’ দেখা যায়। প্রাচীন মিশরের রাজাদের ভাস্কর্যে এ ধরনের মাথার আবরণ ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার করা অংশটির কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুপস্থিত থাকলেও মুখের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মাথার অংশে দ্বিতীয় রামেসিসের মুখাবয়বের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাথাটির মুখের বৈশিষ্ট্য এখনো স্পষ্ট এবং সামগ্রিক অবস্থা ভালো। এর চেহারার সঙ্গে একই স্থানে পাওয়া প্রথম মূর্তির বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। এই মিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই শাসকের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ভাস্কর্যের নকশা ও নির্মাণশৈলী তুলনা করে সেগুলোর পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মূর্তিগুলোর কাছাকাছি স্থান থেকেই উদ্ধার হয়েছে গোলাপি গ্রানাইটের আরেকটি পাথরের খণ্ড। এটি মূর্তি থেকে প্রায় তিন ফুট দূরে পাওয়া যায়। পাথরটির দৈর্ঘ্য চার ফুটের কিছু বেশি। এর গায়ে হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে লেখা রয়েছে বিভিন্ন চিহ্ন ও রাজকীয় পরিচয়। শিলালিপিতে দ্বিতীয় রামেসিসের নামের পাশাপাশি ‘নেসু বেটি’ শব্দবন্ধ রয়েছে, যার অর্থ উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজা। প্রাচীন মিশরে শাসকের উপাধি ও পরিচয় বোঝার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিলালিপি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দ্বিতীয় রামেসিস প্রাচীন মিশরের অন্যতম পরিচিত শাসক। তিনি প্রায় ৬৭ বছর রাজত্ব করেছিলেন, যা মিশরের দীর্ঘ রাজত্বগুলোর একটি। মিশরের সভ্যতা ও ইতিহাসসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তাঁর শাসনামলে নিজের স্মৃতি ও রাজকীয় ক্ষমতা তুলে ধরতে বহু মূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব ভাস্কর্য মন্দির, স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হতো। রামেসিসের মূর্তি নির্মাণের ইতিহাসের আরেকটি দিকও উল্লেখযোগ্য। তাঁর নিজের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য কখনো কখনো আগের শাসকদের মূর্তি সরিয়ে ফেলা হতো বা সেগুলোর পরিবর্তে নতুন ভাস্কর্য বসানো হতো। ফলে প্রাচীন মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণের সময় শুধু মূর্তির আকৃতি নয়, তার ওপর থাকা নাম, চিহ্ন, খোদাই এবং নির্মাণের ধরনও খতিয়ে দেখা হয়। সদ্য আবিষ্কৃত মূর্তি ও শিলালিপিগুলোও এ ধরনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয় রামেসিসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তাঁর রাজত্বকালেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মমি সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করার জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে প্যারিসের মিউজে দ্য লোমে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তাঁর দেহের অবস্থা খারাপ ছিল এবং সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তাঁর ভ্রমণসংক্রান্ত নথিতে পেশার ঘরে ‘মৃত রাজা’ লেখা ছিল বলে জানা যায়। নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে মূর্তি ও পাথরের খণ্ডগুলোর বিস্তারিত পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ। বিশেষ করে শিলালিপির পাঠ, মূর্তির নির্মাণশৈলী এবং উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও তথ্য পেতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মূর্তিগুলোর সম্ভাব্য উচ্চতা ও পরিচয় সম্পর্কে কিছু বিষয় প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। একজন সাধারণ গ্রামবাসীর চোখে পড়া একটি পাথর থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান এভাবেই প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সামনে এনেছে। প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর ধরে টিকে থাকা এসব ভাস্কর্য ও শিলালিপি অতীতের শিল্পকলা, রাজকীয় প্রতীক এবং সভ্যতার ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৯:৫৪
মহাকাশে বিরল সবুজ আভাযুক্ত শ্বেত বামন

পৃথিবী থেকে ২৮০ আলোকবর্ষ দূরে মিলল সবুজ শ্বেত বামন, রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

ইরানের সাহার তাবার সম্পাদিত ছবির মাধ্যমে ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে ভাইরাল, আসল চেহারা প্রকাশ্যে আসতেই জানা গেল ভিন্ন গল্প

খরা ও দারিদ্র্যে বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারগুলো ঋণ শোধ এবং খাবারের খরচ জোগাতে শিশু কন্যাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আফগানিস্তানে খরায় নিঃস্ব পরিবার, ঋণ ও খাবারের জন্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু কন্যাদের

অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সরকারের পতন চাই, তবে বাংলাদেশ-নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তন চান অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন রাজপথের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তাবিত পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ ও নেপালের ২০২৫ সালের সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টানেন।   ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উপায়েই ঘটাতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ভারতের সংবিধান, ভোটাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন এই অভিনেতা।   দিল্লিতে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য আসে। পদযাত্রার আগে কক্‌রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   প্রকাশ রাজের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। তাঁর মতে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের দমনের চেষ্টা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নৈরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।   নিজের বক্তব্যে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নামেননি; তাঁদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদের অধিকার। মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শের কথাও উল্লেখ করে তিনি জোর দেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে হবে গণতান্ত্রিক।   জাতীয় পতাকা নিয়ে পদযাত্রার আগে আন্দোলনকারীদের আটকের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ রাজ। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চান। অথচ সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   বিক্ষোভকারীদের ওপর, বিশেষ করে নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে আরও বেশি মানুষ রাজপথে নামতে পারেন।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:৩২
১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি এক যুবক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

জাপানের টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন আলোচনায় অংশ নেয় মার্কিন প্রতিনিধিদল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, নেপথ্যে কী?

চোখের ওপরের পাতায় ফোলা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে অস্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া দাঁত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

চোখের ওপর ফোলা, পরীক্ষা করতেই মিলল চোখের ভেতর গজাচ্ছে আস্ত দাঁত

স্বচ্ছ কালো রেশমের পাতায় সোনা ও রুপার কালি দিয়ে লেখা পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
স্বচ্ছ কালো রেশমি কাপড়ে সোনা-রুপার কালি দিয়ে পুরো কোরআন লিখেছেন আজারবাইজানের শিল্পী

পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রঙের রেশমি বা সিল্ক কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তার এই অসাধারণ শৈল্পিক কাজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিখুঁত নিষ্ঠার অপূর্ব এক নিদর্শন হয়ে উঠেছে তার এই সৃষ্টি।   এই অসামান্য প্রকল্পটি শেষ করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তার প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ধৈর্য কাজে লাগিয়েছেন। লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।   রেশমি কাপড়ের ওপর কোরআন লেখার এই অভিনব ধারণার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের গভীর গবেষণা। কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে আগে চামড়া বা কাগজের ওপর কোরআন লেখা হলেও সম্পূর্ণ কোরআন রেশমি কাপড়ের ওপর লেখার কোনো পূর্বনজির সেভাবে নেই। সিল্ক বা রেশম কাপড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর আভিজাত্য তাকে এই বিশেষ উপাদানটি বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।   মেমেদজাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও শৈল্পিক একাগ্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার তৈরি রেশমি কাপড়ের এই কোরআনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী এবং শিল্প সমালোচকরা এই অসাধারণ শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই কাজটি কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থের অনুলিপি নয় বরং এটি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্য, শিল্পীর অসীম ধৈর্য এবং পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্যের প্রতি গভীর উপলব্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন।   ইসলামী শিল্পকলায় ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন। যুগে যুগে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন। আজারবাইজানের এই শিল্পীর কাজটি সেই ঐতিহাসিক পরম্পরারই একটি আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ। সোনা ও রুপার কালিতে কালো সিল্কের ওপর ফুটে ওঠা প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এমন একটি মাস্টারপিস তৈরি করার মাধ্যমে তুনজালে মেমেদজাদে ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে নিলেন।   সংবাদ সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট এবং প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২৩:৪
ফিলিস্তিন ইস্যুকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় অবিচার বলে মন্তব্য করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিল চীন

বেলজিয়ামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার কারণে চাকরিচ্যুত মুসলিম শিক্ষিকা খাদিজা আমাজুদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বেলজিয়ামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরায় চাকরি হারালেন মুসলিম শিক্ষিকা

আট বছর পর আবারও বড় লটারি জিতলেন কানাডীয় দম্পতি

২০১৮ সালে জিতেছিলেন ২৫ লাখ ডলার, এবার লটারিতে আরও ৬ লাখ ৭৫ হাজার পেলেন দম্পতি

0 Comments