‘আমি শুধু মা হয়ে গিয়েছিলাম’- জ্বলন্ত আগুন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স
ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে।
গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ।
আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে।
নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি।
“আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন।
তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।
এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু।
সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে।
কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
“কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।”
নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন।
তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না।
“ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি।
আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন।
“ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি।
নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়।
সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন।
“আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি।
“আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।”
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না।
“আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি।
জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো।
“আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।”
মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে। গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ। আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে। নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। “আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন। তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে। কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। “কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।” নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না। “ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি। আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন। “ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি। নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়। সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন। “আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি। “আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।” প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না। “আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি। জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো। “আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।” মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা
প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল, অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ থেকে ৬৮ জন। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির কাছে হওয়ায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওই বাড়িতে আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছেন। হামলায় আহতদের কাছাকাছি মিনাব ও সিরিকের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। সিরিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাতগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সিরিকের অবস্থান হওয়ায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
গোপন ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ, গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!
অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব
মঙ্গলবার রাতে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইআরআইবি আরও নিশ্চিত করেছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আইআরআইবিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানান, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পাশাপাশি উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই মূলত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় তারা। কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরে শেখ ঈসা ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কাজে ব্যবহৃত হয়। খবরের সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না, মিথ্যা বলা তাদের ধর্মের অংশ: মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু