অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত শনিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন কি?”—এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পোস্টটিতে হালকা ও রসাত্মক মন্তব্য করলেও সাধারণ মানুষের একাংশ এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহ হাসির প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব।” শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখারেল লেখেন, “আমি কি তাঁকে মেসেজ করব?” সংসদ সদস্য টিকা সাংগ্রৌলা কৌতুক করে বলেন, “আমার কাছে আছে, কিন্তু আপনাকে দেব না।” এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে যখন সরকার চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের ‘ডিজিটাল নাটকীয়তা’ জনআলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। জেন-জি প্রজন্মের নেত্রী তনুজা পান্ডে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কূটনৈতিক পদ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে রসিকতা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।” সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী যাদব দেবকোটা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ নির্বাহী পদের মর্যাদাকে খাটো করছে। একইভাবে সারিতা তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েও। এ বিতর্কের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সচিব কৃষ্ণ হরি পুষ্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলারা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে প্রশাসনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে। এর আগে ২৭ এপ্রিল বিতর্কিত অধ্যাদেশ পাশ করাতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময়ও জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে আড়াল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। মানবাধিকারকর্মী মজিদ আনসারি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নয়।” সমালোচকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারত প্রথমবারের মতো তার পারমাণবিক অস্ত্রকে সরাসরি মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসআইপিআরআই বলছে, এটি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতদিন ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থাকে আলাদা করে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এখন সেই নীতি থেকে সরে এসে অস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে মোতায়েনযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১২টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো বহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা—পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এসআইপিআরআইয়ের তথ্য বলছে, গত বছর ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করে এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা করে। একই সঙ্গে দেশটির মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিনভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো’র অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল জোরদার করার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, শান্তিকালেও কিছু পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হতে পারে। এটি দেশটির পূর্বের সতর্ক ও বিচ্ছিন্ন সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ভারতের সরকারি অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আগে ব্যবহার নয়’ (নো ফার্স্ট ইউজ) নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেবলমাত্র নিজ ভূখণ্ডে বা বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা মূলত প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়া নয়। তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বিমানযাত্রীর কাছে ‘রিয়েল আইডি’ বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র নেই, তাদের ওপর ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আরোপিত নতুন ৪৫ ডলার ফি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। এই ফি আদায় রুখতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বার্ষিক বাজেট বিলের খসড়ায় বিশেষ ধারা যুক্ত করেছেন। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ২০২৭ অর্থবছরের এই বাজেট বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিলে পরিষ্কার বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের সময় গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র ছাড়া আসা যাত্রীদের পরিচয় যাচাইকরণ কর্মসূচির জন্য টিএসএ কোনো ধরনের ফি ধার্য বা আদায় করতে পারবে না। কমিটির প্রতিবেদনে হাউস রিপাবলিকানরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া ‘কনফার্মআইডি’ নামের এই নতুন ফি আদায়ের জন্য টিএসএ-এর কোনো বৈধ আইনি কর্তৃত্ব নেই। এর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চুরির কারণে কোনো যাত্রী আইডি ছাড়া এলে টিএসএ বিনামূল্যে এই পরিচয় যাচাইয়ের কাজটি করত। কিন্তু বর্তমানের এই নতুন ব্যবস্থা আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। তবে টিএসএ-এর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অ্যাডাম স্টাল গত ডিসেম্বরে এই ফির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, অধিকাংশ যাত্রীর কাছেই রিয়েল আইডি বা পাসপোর্ট থাকে। কিন্তু যারা পর্যাপ্ত আইডি ছাড়া আসবেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার খরচ সাধারণ করদাতাদের ওপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর কাছ থেকেই নেওয়া উচিত। সংস্থাটির দাবি, ৯৪ শতাংশের বেশি যাত্রীর কাছেই সঠিক পরিচয়পত্র থাকে। নতুন এই বাজেটে হাউস জিপিউ টিএসএ-এর জন্য মোট ১১.২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার কম। তবে এই বাজেটে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ফেডারেল এয়ার মার্শালদের বাজেট ২৯০.৪ মিলিয়ন ডলার কমানো হলেও স্ক্রিনিং প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১৯২ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়েছে।