চাঁদ ও মঙ্গলে ভবিষ্যতের মানব অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করতে এক বছরব্যাপী বিশেষ গবেষণা কর্মসূচির জন্য স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে পৃথিবীতেই তৈরি করা চাঁদ ও মঙ্গলের মতো পরিবেশে এক বছর বসবাস ও কাজ করবেন।
নাসা জানিয়েছে, এই কর্মসূচির নাম ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’। এটি ২০২৭ সালের আগস্টের আগে শুরু হবে না। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা, কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। এ তথ্য ভবিষ্যতে আর্টেমিস কর্মসূচি এবং মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হবে।
মিশনে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি বিশেষ আবাসে থাকতে হবে। প্রথম ধাপে তারা প্রায় ১০ মাস একটি সীমিত আয়তনের মহাকাশযানসদৃশ পরিবেশে বসবাস করবেন। এরপর আরও প্রায় দুই মাস মঙ্গলের আবাসস্থলের আদলে তৈরি আরেকটি স্থাপনায় অবস্থান করবেন। পুরো সময় চারজনের একটি দল একসঙ্গে বসবাস ও কাজ করবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগও থাকবে সীমিত, যাতে বাস্তব মহাকাশ অভিযানের অভিজ্ঞতা যতটা সম্ভব অনুকরণ করা যায়।
এই সময় অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশচারীদের মতো নানা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে কৃত্রিম চন্দ্র ও মঙ্গলপৃষ্ঠে হাঁটার অনুশীলন, রোভার পরিচালনা, আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা। গবেষকেরা পুরো সময়জুড়ে তাদের স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা এবং কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন।
নাসার তথ্যমতে, আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি এবং মহাকাশ গবেষণায় অবদান রাখার আগ্রহ থাকতে হবে। নির্বাচিতদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিভিন্ন পরীক্ষাও পাস করতে হবে।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পারিশ্রমিকও পাবেন। যদিও নাসা নির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি, সংস্থাটি এটিকে বেতনভিত্তিক গবেষণা কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে পরিচালিত এ ধরনের সিমুলেশন ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং প্রথম মানববাহী মঙ্গল অভিযানের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পরিবেশে মানুষের আচরণ, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনা আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ফোর্ড ব্রঙ্কো ও ব্রঙ্কো র্যাপটার এসইউভি জরুরি ভিত্তিতে রিকল করেছে ফোর্ড মোটর কোম্পানি। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর ইঞ্জিনের তারের ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৬ মডেলের মোট ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯১টি ফোর্ড ব্রঙ্কো ও ব্রঙ্কো র্যাপটার। ইঞ্জিন কক্ষে থাকা ওয়্যারিং হারনেসে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকায় তা অন্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে ঘষা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শর্ট সার্কিট তৈরি হয়ে তাপ বা স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আগুনের কারণ হতে পারে। ফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটিটি সব গাড়িতে নেই; প্রায় ১ শতাংশ গাড়ি এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এনএইচটিএসএর ভাষ্য, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে সতর্কবার্তা দেখা যাওয়া, এয়ার ভেন্ট দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়া অথবা ইঞ্জিনের যাত্রীর পাশের অংশ থেকে ধোঁয়া বা আগুনের লক্ষণ দেখা দিলে চালকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানে ফোর্ডের অনুমোদিত ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ওয়্যারিং হারনেসে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক আবরণ ও বিশেষ টেপ লাগিয়ে দেবে। এই মেরামত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের কাছে ডাকযোগে রিকল নোটিশ পাঠানো শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক বড় রিকলের মুখে পড়েছে ফোর্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির মালিকদের উচিত রিকল নোটিশ পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিজেদের গাড়ির ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যাচাই করে প্রয়োজনে দ্রুত ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-সমর্থিত প্রশাসন। হুথি-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হোদাইদাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। তাদের ভাষ্য, এই হামলার মাধ্যমে রিয়াদ সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। হুথিদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি হামলায় হোদাইদাহ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হোদাইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জোটের দাবি, তাদের হামলা ছিল হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোদাইদাহ, রাস ইসা ও সালিফ—ইয়েমেনের প্রধান বন্দরগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। হুথিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নৌপথ সংকট। চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে এতদিন অনাগ্রহী ছিল সৌদি আরব। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ, সৌদি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সংশোধনী অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার শিগগিরই সংশোধনী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে রয়টার্স ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সরকার এ দাবিতে সাড়া দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। কেন্দ্রের অবস্থান হলো, কেবল একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার আনাই সরকারের অগ্রাধিকার। সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা আলোচনা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। লাদাখভিত্তিক সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর চলমান অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সঙ্গে নিট আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একসূত্রে দেখানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগ ওঠায় দেশটির পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এবার সেই আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কঠোর আইন অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শুধু শাস্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হবে। রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।